Posts

Showing posts from August, 2025

সূরা ফাতিহার অনুবাদ এবং সংশ্লিষ্ট সংক্ষিপ্ত আলোচনা।

Image
সূরা ফাতিহার অনুবাদ এবং সংশ্লিষ্ট সংক্ষিপ্ত আলোচনা। সূরা আল ফাতিহা মক্কী সুরা। আয়াত সংখ্যা: ৭, রুকু সংখ্যা: ১। সূরা ফাতিহা সম্পর্কে: সূরা ফাতিহা সূরা নং (১), ওহীর ক্রমানুসারে এটি পঞ্চম (৫) নং সূরা। আল-ফাতিহা এর অর্থ: শুরু, আরম্ভ। فاتحة الكتاب: কিতাবের সূচনা। আর কুরআনের সূচনা সূরা ‘ফাতিহা’ থেকে। সূরা ফাতিহা মাক্কী সূরা, হিজরতের পূর্বে মক্কায় এবং মক্কার আশেপাশে অবতীর্ণ সূরা কে মাক্কী সূরা বলা হয়। সূরা ফাতিহার মধ্যে (৭) টি আয়াত এবং (১) টি রুকু রয়েছে। সূরা ফাতিহার বিভিন্ন নাম রয়েছে, তন্মধ্যে কিছু নাম খুবই প্রসিদ্ধ যেমন: (১) السبع المثاني (আস সাবউল মাসানী) সাত বার বার পাঠ্যআয়াত।  (২) " القرآن العظيم " আল কুরআনুল আযীম " মহান কুরআন।  (৩) " الرقية "আর রুক্বিয়াহ " দম ও ঝাড়ফুঁক।  (৪) " ام القرآن " (উম্মুল-কুরআন) কুরআনের মা।  সূরা ফাতিহার ফজিলত: (১) সুরা আল-ফাতিহা ও সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করলে উভয় সূরায় যা চাওয়া হয়েছে তা পাঠকারীকে দেওয়া হবে। عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ بَيْنَمَا جِبْرِيلُ قَاعِدٌ عِنْدَ النَّبِي...

ফতোয়া (তালাক দেওয়ার পর ইদ্দতের মধ্যেই ফিরিয়ে নিতে চায়)।

মোঃ শামীম হুসেন পিতা মোঃ সাবু রাগ বসত তার স্ত্রী সায়েমা খাতুন পিতা মোবাশশির কে তুহুর অবস্থায়  এক তালাক দেয়, তিন দিন পরে ভুল বুঝতে পেরে সে স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে চায়, ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে এর হুকুম এবং পদ্ধতি কি হবে? জানিয়ে উপকৃত করবেন। الحمدلله رب العالمين والصلاة والسلام على رسوله الأمين وعلى آله وصحبه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين أما بعد: উক্ত প্রশ্ন দ্বারা বুঝা যায় যে মোঃ শামীম হুসেন রাগ বসত তার স্ত্রী সায়েমা খাতুনকে তুহুর অবস্থায় এক তালাক দিয়েছে, এবং তিন দিন পরে অর্থাৎ ইদ্দতের মধ্যেই সে তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে চায়। এটা হচ্ছে তালাকে রাজঈ, মাসয়ালা হল তালাকে রাজঈতে স্বামী তার স্ত্রীকে ইদ্দতের মধ্যে যদি ফিরিয়ে নিতে চায় তাহলে ফিরিয়ে নিতে পারে, কোনো সমস্যা নেই। আল্লাহ রব্বুল আলামীন বলেন: وَبُعولَتُهُنَّ أَحَقُّ بِرَدِّهِنَّ فى ذٰلِكَ إِن أَرادوا إِصلٰحًا অর্থ: যদি তারা আপোষ-নিষ্পত্তি করতে চায়, তবে এতে তাদের পুনঃ গ্রহণে তাদের স্বামীরা বেশি হকদার। (সূরা বাকারার আয়াত নং ২২৮)। সারমর্ম: মোঃ শামীম হুসেন যেহেতু তার স্ত্রী সায়েমা খাতুনকে তালাকে রাজঈ দিয়েছে, আর ইদ্দতের...

আব্দুর রাকিব নাদভী, সংক্ষিপ্ত জীবনী।

Image
আব্দুর রাকিব নাদভী জন্ম ও শৈশব: আব্দুর রাকিব নাদভী ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৯০ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার ভূলকি গ্রামে (পোস্ট: ডোমোহনা, থানা: করণদিঘি) এক ধর্মপ্রাণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই তিনি ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি গভীর অনুরাগী ছিলেন। শিক্ষা জীবন: তিনি প্রখ্যাত দারুল উলূম নাদওয়াতুল উলামা, লখনউ থেকে আলিমিয়াত সম্পন্ন করেন।পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন— * এম.এ. (মডার্ন অ্যারাবিক) – মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়, চেন্নাই। * এম.এ. (ইসলামিক থিওলজি (কালাম) – আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতা। * এম.এ. (হাদিস) – আল জামিয়া আল ইসলামিয়া, সান্তাপুরম, কেরালা। বি এড. The West Bengal University of Teachers' Training, Education Planning and Administration (WBUTTEPA). কর্মজীবন: তিনি শিক্ষকতা ও দাওয়াতের অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। একাধিক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন: * জামিয়া ইসলামিয়া তিলকাহানা, সিদ্ধার্থ নগর (উ.প্র.) * আল জামিয়া আল ইসলামিয়া, সান্তাপুরম (কেরালা) * আল ফুরকান আরবিক কলেজ, নাদাপুরম ...

সমসাময়িক যুগে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সিরাত পাঠের গুরুত্ব, মর্যাদা ও তাৎপর্য।আব্দুর রাকিব নাদভী

Image
সমসাময়িক যুগে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সিরাত পাঠের গুরুত্ব, মর্যাদা ও তাৎপর্য। আব্দুর রাকিব নাদভী  নিঃসন্দেহে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন শেষ রাসূল। আল্লাহ তায়ালা তিনাকে সমগ্র মানবজাতির মধ্যে সর্বোত্তম এবং সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেছেন এবং তিনাকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এমন কিছু গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্য দান করেছেন যা তিনাকে অন্যান্য নবী ও রসূলগণের মধ্যে বিশিষ্ট করে তোলে। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হচ্ছেন সকল নবী ও রাসূলগণের সর্দার। তিনার পূর্ণ অনুসরণ ও অনুকরণ করা বিশ্বের সমগ্র মানবজাতির জন্য বাধ্যতামূলক।  তিনার পূর্ণ অনুকরণ ও অনুসরণের সংযুক্ত রয়েছে দুনিয়া ও আখেরাতের উন্নতি, সমৃদ্ধি এবং শান্তি। তাই তিনার জীবনী গভীরভাবে অধ্যয়ন ও অনুধাবন করা শুধু মুসলমানদের জন্যই নয়, বরং বিশ্বের সকল মানুষের জন্যে অপরিহার্য। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন মানবজাতির মধ্যে একজন পরিপূর্ণ মানুষের একমাত্র উদাহরণ, কেউ স্বীকার করুক বা না করুক, এটি একটি অনস্বীকার্য সত্য। এই মর্মে  বিশ্ব সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন স্বয়ং সাক্...

বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাওয়াতের পদ্ধতি ও বৈশিষ্ট্য।

বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাওয়াতের পদ্ধতি ও বৈশিষ্ট্য।  আব্দুল রাকিব নদভী, নায়েবে আমির জেলা জমিয়ত আহলে হাদীস উত্তর দিনাজপুর, পশ্চিমবঙ্গ, সম্পাদক দ্বিমাসিক পত্রিকা" তারজুমান আহলে হাদীস (বাংলা), কলকাতা।  পৃথিবীতে জীবন যাপন করতে গেলে মানুষকে মূলত দুটি জিনিসের প্রয়োজন। যা থেকে তাকে এক মুহুর্তের জন্যও আলাদা করা যায় না, (1) বস্তুগত প্রয়োজন: যা মানুষের গঠন এবং শরীরের সাথে সম্পর্কিত। যার আলোকে মানুষ তার নৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবন গঠন করে এবং তার প্রকৃত ও মূল লক্ষ্যে পৌঁছাতে সফলতা অর্জন করে থাকে।  আল্লাহ তায়ালা সমস্ত জগতের পালনকর্তা, সারা বিশ্বের রব, তাঁর প্রভুত্বের জন্য তিনি মানুষের বস্তুগত ও আধ্যাত্মিক উভয় চাহিদাই পূরণ করেন। জমিনের বুকে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন এমন খনিজ-ভান্ডার জমা রেখেছেন যার শেষ নেই, যাতে মানুষ তার বস্তুগত চাহিদা নিখুঁত উপায়ে পূরণ করতে পারে।  মানুষের দ্বিতীয় মৌলিক চাহিদা, যা আত্মা ও বিবেকের সাথে সম্পৃক্ত, তা পূরণ করার জন্য, আল্লাহতায়ালা পৃথিবীতে অসংখ্য নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন, তাদের কাছে আসমানী কিতাব ও গ্রন্থ অবতীর্ণ করেছেন...

সুরা আল বাকারাহ (আয়াত নং ১ থেকে ১০) অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা। আব্দুর রাকিব নাদভী

Image
(১) সুরা বাকারাহ  মাদানী সুরা,  আয়াত: ২৮৬, রুকু: ৪০ সুরা বাকারাহ সম্পর্কে: সুরা " বাকারাহ" সুরা নং (২), ওহীর ক্রম অনুসারে এটি (৮৭) নং সুরা। البقرة : গাভী, এর বর্ণনা আয়াত নং (৬৭) তে আছে, সুরার (আয়াত নং ৬৭ থেকে আয়াত নং ৭৩) সাত আয়াত এর মধ্যে "  গাভী " র বর্ণনা হয়েছে, তাই সুরা টির নাম: আল বাকারাহ অর্থাৎ"গাভী " নামকরণ করা হয়েছে। সুরা বাকারাহ, এটি হচ্ছে মাদানী সুরা, হিজরতের পর মদীনা এবং তার আসে পাশের এলাকায় নাযিল হয়েছে। সুরা বাকারাহ বেশি ভাগ আয়াতে " ইহুদি দেরকে সম্বোধন করা হয়েছে। সুরা বাকারাহর মধ্যে কিছু সংখ্যক আলেমদের মতে: (১) এক হাজার খবর (২) এক হাজার হুকুম (৩) এক হাজার"منهيات" (নিষেধাজ্ঞা) আছে। (তাফসীর ইবনে কাসীর)। সুরা বাকারাহ র ফজিলত: (১) যে ঘরে সূরা বাকারাহ তেলাওয়াত করা হয়,  সে ঘর থেকে শয়তান পালিয়ে যায়। عَنْ  أَبِي  هُرَيْرَةَ،  أَنَّ  رَسُولَ  اللَّهِ  صلى  الله  عليه  وسلم  قَالَ  ‏  "‏  لاَ  تَجْعَلُوا  بُيُوتَكُمْ  مَقَابِرَ  إِنَّ  الشَّيْطَانَ ي...

ভারত বর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে শেরশাহবাদি সম্প্রদায়ের অবদান। আব্দুর রাকিব নাদভী

Image
ভারত বর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে শেরশাহবাদি সম্প্রদায়ের অবদান  আব্দুর রাকিব নাদভী  শেরশাহবাদি সম্প্রদায় উপমহাদেশের সেইসব দেশপ্রেমিক ও গর্বিত সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি যাঁরা তাঁদের জীবন, সম্পত্তি এমনকি তাঁদের ঘরবাড়িও উৎসর্গ করে স্বাধীনতার মোমবাতি জ্বালিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এ সম্প্রদায় মূলত ভারতের বিভিন্ন রাজ্য যেমন বাঙ্গাল-বিহার এবং ঝাড়খণ্ড, উড়িষ্যা, আসাম বসবাস করে। (বিশেষ করে পশ্চিম বঙ্গের মালদা, মুর্শিদাবাদ, উঃ দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, এবং বিহারের কাটিহার, পূর্ণিয়া, আরারিয়া এবং কিষাণগঞ্জ এবং ঝাড়খন্ডে পাকুর, সাহেবগঞ্জ ইত্যাদি জেলা এবং এর আশেপাশের অঞ্চলে বসবাস করে। এবং ভারতের বাহিরে এদের বসবাস বাংলাদেশ, নেপাল ও মালদ্বীপ ইত্যাদিতেও রয়েছে। এদের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক কেবল তাঁদের স্থানীয় অঞ্চলে সীমাবদ্ধ ছিল না বরং দেশের বিভিন্ন প্রদেশেও ছিল, এর কারণেই স্বাধীনতা আন্দোলনে তাঁদের প্রভাব ও অনুভূত সারা দেশে বিস্তৃত হয়েছিল। শেরশাহবাদি জাতির ঐতিহাসিক পটভূমি সাক্ষ্য বহন করে যে এ জাতি শতাব্দী ধরে জ্ঞান, বাণিজ্য এবং কৃষিক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমি...