সুরা আল বাকারাহ (আয়াত নং ১ থেকে ১০) অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা। আব্দুর রাকিব নাদভী
(১) সুরা বাকারাহ মাদানী সুরা, আয়াত: ২৮৬, রুকু: ৪০
সুরা বাকারাহ সম্পর্কে:
সুরা " বাকারাহ" সুরা নং (২), ওহীর ক্রম অনুসারে এটি (৮৭) নং সুরা। البقرة : গাভী, এর বর্ণনা আয়াত নং (৬৭) তে আছে, সুরার (আয়াত নং ৬৭ থেকে আয়াত নং ৭৩) সাত আয়াত এর মধ্যে " গাভী " র বর্ণনা হয়েছে, তাই সুরা টির নাম: আল বাকারাহ অর্থাৎ"গাভী " নামকরণ করা হয়েছে।
সুরা বাকারাহ, এটি হচ্ছে মাদানী সুরা, হিজরতের পর মদীনা এবং তার আসে পাশের এলাকায় নাযিল হয়েছে।
সুরা বাকারাহ বেশি ভাগ আয়াতে " ইহুদি দেরকে সম্বোধন করা হয়েছে।
সুরা বাকারাহর মধ্যে কিছু সংখ্যক আলেমদের মতে: (১) এক হাজার খবর (২) এক হাজার হুকুম (৩) এক হাজার"منهيات" (নিষেধাজ্ঞা) আছে। (তাফসীর ইবনে কাসীর)।
সুরা বাকারাহ র ফজিলত:
(১) যে ঘরে সূরা বাকারাহ তেলাওয়াত করা হয়, সে ঘর থেকে শয়তান পালিয়ে যায়।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ مَقَابِرَ إِنَّ الشَّيْطَانَ يَنْفِرُ مِنَ الْبَيْتِ الَّذِي تُقْرَأُ فِيهِ سُورَةُ الْبَقَرَةِ
আবূ হুরায়রাহ্ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: তোমাদের ঘরসমূহকে ক্ববর করে রেখো না কারণ যে ঘরে সূরাহ্ বাক্বারাহ্ পাঠ করা হয় শয়তান সে ঘর থেকে পালিয়ে যায়)। (সহিহ মুসলিম, কিতাব সালাতুল মুসাফির, অধ্যায়: নফল নামাজ বাড়িতে পড়া মুস্তাহাব, হাদিস নং ৭৮০)
(২) সূরা বাকারাহ এবং সুরা আল ইমরান দুটি ফুল, দুটি সুন্দর উদ্ভিদ, দুটি উজ্জ্বল ও চকচকে সূরা। (সহিহ মুসলিম: ৮০৪)।
(৩) সুরা বাকারাহ আর সুরা আল ইমরান আপন পাঠ কারী (যারা তেলাওয়াত করবে এবং আমল করবে) দের জন্য কিয়ামতের দিন দু'টি মেঘ, দুটি ঘন ছায়া অথবা সারিবদ্ধ পাখী, ঝাঁক পাখীর ন্যায়। (সহিহ মুসলিম: ৮০৪)।
(৪) সুরা আল বাকারাহ এবং সুরা আল ইমরান কেয়ামতের দিন এর পাঠক ও আমলকারী দের পক্ষে যুক্তি দিতে থাকবে।
(৫) সুরা বাকারাহ পাঠ করা বরকত, এবং তেলাওয়াত না করা আফসোস এর মাধ্যম। জাদুকররা এর মোকাবেলায় সক্ষম নয়।
عن أَبُي أُمَامَةَ، الْبَاهِلِيُّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " اقْرَءُوا الْقُرْآنَ فَإِنَّهُ يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ شَفِيعًا لأَصْحَابِهِ اقْرَءُوا الزَّهْرَاوَيْنِ الْبَقَرَةَ وَسُورَةَ آلِ عِمْرَانَ فَإِنَّهُمَا تَأْتِيَانِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَأَنَّهُمَا غَمَامَتَانِ أَوْ كَأَنَّهُمَا غَيَايَتَانِ أَوْ كَأَنَّهُمَا فِرْقَانِ مِنْ طَيْرٍ صَوَافَّ تُحَاجَّانِ عَنْ أَصْحَابِهِمَا اقْرَءُوا سُورَةَ الْبَقَرَةِ فَإِنَّ أَخْذَهَا بَرَكَةٌ وَتَرْكَهَا حَسْرَةٌ وَلاَ تَسْتَطِيعُهَا الْبَطَلَةُ " . قَالَ مُعَاوِيَةُ بَلَغَنِي أَنَّ الْبَطَلَةَ السَّحَرَةُ .
আবূ উমামাহ্ আল বাহিলী রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি: তোমরা কুরআন পাঠ কর। কারন কুরআন ক্বিয়ামাতের দিন তার পাঠকারী (কোরআনের পাঠক, যারা কোরআন মুখস্ত করে এবং আমলকারী দের) জন্য সে শাফা’আতকারী হিসেবে আসবে। তোমরা দু’টি উজ্জল সূ্রা: সুরা আল বাক্বারাহ্ এবং সুরা আল ইমরান পড়। ক্বিয়ামতের দিন এ দু’টি সুরাহ্ এমনভাবে আসবে যেন তা দু’ খণ্ড মেঘ অথবা দু’টি ছায়াদানকারী অথবা দু’ ঝাঁক উড়ন্ত পাখি যা তার পাঠকারীর পক্ষ হয়ে কথা বলবে। আর তোমরা সুরা আল বাক্বারাহ পাঠ কর। এ সুরাটিকে পাঠ , কারণ এটিকে পাঠ করা বরকত এবং পাঠ না করা আফসোস এর মাধ্যম। এমনকি জাদুকররাও এর মোকাবেলা করতে পারে না। (সহিহ মুসলিম কিতাব ফাজায়িলে কুরআন, অধ্যায়: আল কোরআন ও সুরা বাকারার ফজিলত, হাদিস নং ৮০৪)।
সুরা বাকারাহ সারমর্ম:
(১) সুরা বাকারার শুরুতে মুমিনদের আলামত রয়েছে। (২) কাফের ও মুনাফিকদের বর্ণনা রয়েছে। (৩) আদম আলাইহিস সালাম এর জন্ম, ফেরেশতা বর্গ ও শয়তানের কাহিনী। (৫) ইহুদীদের উপর আল্লাহর নেয়ামত এর বিবরণ, من (মান ) এবং سلوى (সালওয়া) খেতে দেওয়া সত্ত্বেও তারা আল্লাহর নাশুকরী করে ছিল, (৫) গাভী দের গল্প (৬) ইহুদীদের সম্পর্কে বলা হয়েছে: তাদের হৃদয় পাথরের চেয়েও কঠিন। (৭) বানী ইসরাঈলদের সাথে কিছু চুক্তির কথা উল্লেখিত হয়েছে: এক আল্লাহর ইবাদত করা, পিতামাতার সাথে ভাল ব্যবহার, নামাজ কায়েম করা এবং যাকাত প্রদান করা। (৮) ইহুদীদের সম্পর্কে বলা হয়েছে: তারা ছিল জীবনের জন্য খুব লোভী। (৯) জিবরাঈল আলাইহিস সালাম কে ইহুদীরা তাদের শত্রু মনে করত। (১০) ইহুদীরা সোলায়মান আলাইহিস সালাম কে যাদুকর বলে অভিযুক্ত করেছিল, আল্লাহর না চাইলে জাদুকর দের জাদু কাজ করে না। (১১) যারা মসজিদে বাঁধা দেয় তারা সবচেয়ে বড় অত্যাচারী। (১২) কুরানের তেলাওয়াত তার হক আদায়ের সাথে করা উচিত। (13) ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম এর একাধিক দোয়া রয়েছে: শান্তির জন্য দোয়া, আমল কবুলের দোয়া, রসূল পাঠানোর দোয়া (১৪) মৃত্যুর সময় ইয়াকুব আলাইহিস সালাম তাঁর সন্তানদেরকে এক আল্লাহর ইবাদত করার ওসিয়ত করেছিলেন। (১৫) দ্বিতীয় পারার শুরুতে কিবলা পরিবর্তন ( মসজিদে আকসা থেকে মসজিদে হারাম পরিবর্তন) এর ঘটনা। (১৬) আল্লাহ ধৈর্য্য ধারণ কারীদের সাথে আছেন। (১৭) কিছু হালাল-হারামের বর্ণনা, মৃতদেহ, রক্ত, শুকরের মাংস এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে লেনদেন করা হারাম। (১৮) রোযার মসলা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। (১৯) হজের মসলা বর্ণনা করা হয়েছে (২০) তালাক ও খুলার বর্ণনা। (২১) মহিলাদের ইদ্দতের কথা বলা হয়েছে। (২২) দ্বিতীয় পারার শেষে তালুত, জালুত এবং দাউদ আলাইহিস সালাম-এর কাহিনী বর্ণিত রয়েছে। (২৩) তৃতীয় পারার শুরুতে কিছু রসূলের অন্যদের উপর শ্রেষ্ঠত্বের কথা উল্লেখ আছে। (২৪) এর পর আয়াতুল কুরসী রয়েছে। (২৫) ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম এর মুনাজেরা ও বিতর্ক আছে। (২৬) আল্লাহ ওযাইর আলাইহিস সালাম কে মৃত্যু দিয়ে ১০০ বছর পর পুনরায় জীবিত করেছেন। (২৭) সম্পদ ব্যয় করতে উত্সাহিত করা হয়েছে। (২৮) সূরা বাকারার শেষে সুদ (বিয়াজ) সম্পর্কে উল্লেখ আছে, যে ব্যক্তি সুদের ব্যবসা করবে সে যেন আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকে। (2
২৯) কুরআনের সব থেকে বড় আয়াত آيت دين ( ধার লেনদেন) এর বিবরণ। (৩০) সূরা বাকারার শেষে দোয়া রয়েছে।
بِسمِ اللَّهِ الرَّحمٰنِ الرَّحيمِ
শুরু করছি আল্লাহর নামে, যিনি বড় মেহেরবান, অতি দয়ালু।
الم (১)
(1) আলিফ লাম মীম।
* এটি হুরুফে মুকাত্তায়াত: এসব হরফ আলাদা আলাদাভাবে পাঠ করা হয়, তার সঠিক অর্থ ও মর্ম একমাত্র আল্লাহই জানেন। একটি উক্তি হল: এগুলো কুরআনের ইজাজ বর্ণনার জন্য এসেছে। এমন শব্দ সৃষ্টিতে সমগ্র বিশ্ব অক্ষম ও অসহায়।(আহসানুল বায়ান)।
(২) ذٰلِكَ الكِتٰبُ لا رَيبَ ۛ فيهِ ۛ هُدًى لِلمُتَّقينَ
এই কিতাব ( কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে) এর মধ্যে কোনো সন্দেহ নেই, (আল্লাহ কে) ভয় কারীদের জন্য হেদায়েত (নির্দেশিকা)।
[৩] الَّذينَ يُؤمِنونَ بِالغَيبِ وَيُقيمونَ الصَّلوٰةَ وَمِمّا رَزَقنٰهُم يُنفِقونَ
[3] (আল্লাহ কে ভয় কারী তাঁরা) যারা গাইব (অদেখা বিষয়) এর উপর ঈমান রাখে, এবং নামাজ কায়েম করে, আর আমি প্রদানকৃত (সম্পদ) থেকে (আল্লাহর পথে) খরচ করে।
গাইব (অদেখা বিষয়) এর উপর ঈমান:
এগুলো ছয় (৬) টি: (১) আল্লাহর প্রতি, (২) আল্লাহর ফেরেশতা বর্গদের প্রতি, (৩) আল্লাহর কিতাব সমূহের প্রতি, (৪) আল্লাহর রাসূল সমূহের প্রতি, (৫) আখেরাতের জীবনের প্রতি, (৬) আর ভাগ্যের ভালো ও মন্দের প্রতি ( প্রত্যেকটি ভালো ও মন্দ আল্লাহর পক্ষ থেকেই ভাগ্যে লেখা হয়) - (তাইসীরুল কুরআন).
* নামাজ কায়েম করার অর্থ:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মত করে নামাজ পড়া। একটি হাদিসে আছে: صلوا كما رأيتموني أصلي "তোমরা সেই মতো করে নামাজ পড় যেভাবে আমাকে নামাজ পড়তে দেখেছ"- ( সহিহ বুখারী, কিতাবুল আদব, হাদিস নং: ৬০০৮).
রিযিক এর মর্ম:
শুধু মাল ও সম্পদই নয় বরং প্রত্যেকটি নেয়ামত যা শরীর অথবা আত্মার লালন পালনে সাহায্য করে। ( তাইসীরুল কুরআন).
[৪] وَالَّذينَ يُؤمِنونَ بِما أُنزِلَ إِلَيكَ وَما أُنزِلَ مِن قَبلِكَ وَبِالءاخِرَةِ هُم يوقِنونَ
[4] "এবং (আল্লাহ কে ভয় কারী তাঁরা) যারা এই " কিতাব" এর প্রতি ঈমান আনয়ন করেছে, যা আপনার (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর নাযিল করা হয়েছে, আর ঐসব কিতাব সমূহের প্রতিও (ঈমান এনেছে) যেগুলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পূর্বে (নবী গণ এর প্রতি) নাযিল করা হয়েছিল, এবং আখেরাতের (দিন) এর প্রতি "বিশ্বাস" রাখে"।
* পূর্বের কিতাব সমূহের উপর ঈমান আনয়নের ব্যাখ্যা:
তাওরাত, ইঞ্জিল আর যাবুর ইত্যাদি, যতগুলো আসমানী কিতা সমূহ নবীদের প্রতি নাযিল হয়েছে, তাদের সম্পর্কে আকীদা রাখা যে ঐসব সত্য, কিন্তু সেগুলো বর্তমানে নিজের আসল অবস্থায় পৃথিবীতে নেই, এবং ওইসব কিতাব সমূহের প্রতি আমলও করা সম্ভব নয়, এখন বর্তমানে আমল হবে শুধু কোরআন এবং হাদিসের ওপর। ( আহসানুল বায়ান)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর ওহি এবং নবুওয়াতের ধারাবাহিকতা শেষ করে দেওয়া হয়েছে:
এই আয়াত থেকে বুঝা যায় যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর ওহী এবং নবুওয়াতের সিলসিলা শেষ করে দেওয়া হয়েছে, যদি এমনতা না হতো, তবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পর নাযিলকৃত ওহী এবং রেসালাত এর উপরও ঈমান আনার জন্য আল্লাহ আদেশ করতেন, এবং আয়তের মধ্যে এটাও লেখা থাকতো (وما انزل من بعدك) "যা আপনার পরে নাযিল করা হবে", কিন্তু এমন হয়নি, তাই কেয়ামত পর্যন্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর ওহী এবং রেসালাতের ধারাবাহিকতা শেষ করে দেওয়া হয়েছে। (আহসানুল বায়ান)।
আখেরাতের প্রতি ঈমান আনার অর্থ:
মৃত্যুর পর জান্নাত এবং জাহান্নাম পর্যন্ত ঘটনাবলীর প্রতি ঈমান রাখা।
(৫] أُولٰئِكَ عَلىٰ هُدًى مِن رَبِّهِم ۖ وَأُولٰئِكَ هُمُ المُفلِحونَ
[5] এঁরাই (আল্লাহ কে ভয় করে) নিজেদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে সোজা পথে রয়েছে, আর এঁরাই (দুনিয়া ও আখেরাতে) সফল।
[৬] إِنَّ الَّذينَ كَفَروا سَواءٌ عَلَيهِم ءَأَنذَرتَهُم أَم لَم تُنذِرهُم لا يُؤمِنونَ
[6] নিশ্চিয় কাফেরদের (ইসলামের সত্যতা প্রকাশ হওয়ার পরেও সত্য অস্বীকার কারীদের) কে আপনার (সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম) ভয় দেখানো, অথবা ভয় না দেখানো উভয় সমান, তারা ঈমান আনবে না।
[৭] خَتَمَ اللَّهُ عَلىٰ قُلوبِهِم وَعَلىٰ سَمعِهِم ۖ وَعَلىٰ أَبصٰرِهِم غِشٰوَةٌ ۖ وَلَهُم عَذابٌ عَظيمٌ
[7] আল্লাহ তাদের(কাফেরদের) অন্তরে এবং তাদের কানসমূহ "সিল" করে দেওয়া হয়েছে, আর তাদের চোখসমূহে "পর্দা" পরে আছে, আর তাদের জন্য রয়েছে "কঠোর শাস্তি"।
* আয়াত নং ৬ এবং ৭ এ " কাফের" এর অর্থ:
ইসলামের সত্যতা প্রকাশ হওয়ার পরেও হক অস্বীকারকারী এবং শেষ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে অমান্য কারী কট্টর ধরনের ব্যাক্তিবর্গ, যেমন আবু জেহেল এবং আবু লাহাব এবং এ ধরনের মানুষ (আহসানুল বায়ান)।
* কাফের শব্দ "গালি" নয়, কাফের কাকে বলে?
কাফের এর "শাব্দিক" অর্থ গোপন কর্তা, তাই (১) রাত কেও " কাফের" বলা হয়, কারণ রাত সব কিছুকেই আঁধারে লুকিয়ে দেই। (২) চাষী কেও " কাফের" বলে, কারণ সে ফসলের দানাগুলো কে জমিনের মধ্যে লুকিয়ে দেই। কাফির ব্যক্তিও আল্লাহর নূরকে গোপন করতে চাই অথবা নিজের অন্তরে কুফর ও নেফাক এবং মুসলমান ও ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ এবং শত্রুতা লুকিয়ে রাখে, তাই তাকে "কাফের" বলা হয়। (আহসানুল বায়ান,দশ নম্বর পারা, সূরা তওবা, আয়াত নং ৩২ এর ব্যাখ্যা)।
[৮] وَمِنَ النّاسِ مَن يَقولُ ءامَنّا بِاللَّهِ وَبِاليَومِ الءاخِرِ وَما هُم بِمُؤمِنينَ
[8] আর মানুষের মধ্যে কিছু (মুনাফিক) এমন রয়েছে যারা ( জিহ্বা দ্বারা তো) বলে যে, আমরা "আল্লাহ "ও "আখেরাতের দিন" এর প্রতি ঈমান এনেছি অথচ (সত্যি কারে) আদৌ তারা ঈমানদার নয়।
[৯] يُخٰدِعونَ اللَّهَ وَالَّذينَ ءامَنوا وَما يَخدَعونَ إِلّا أَنفُسَهُم وَما يَشعُرونَ
[9] তারা ( মুনাফিকরা) আল্লাহ এবং ঈমানদারগণকে ধোঁকা দেয়, ( তারা আসলে) নিজেদেরকেই "ধোঁকা" দিচ্ছে, কিন্তু তারা তা "অনুভব" করতে পারে না (বুঝতে পারে না)"।
[১০] فى قُلوبِهِم مَرَضٌ فَزادَهُمُ اللَّهُ مَرَضًا ۖ وَلَهُم عَذابٌ أَليمٌ بِما كانوا يَكذِبونَ
[10] তাদের (মুনাফিকদের) অন্তরে একটি রোগ আছে, (কুফর ও নিফাক এর রোগ) যা আল্লাহ আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন, আর তাদের মিথ্যাচারের কারণে তাদের জন্য রয়েছে ভয়াবহ আযাব"।
* মিথ্যা বলা মুনাফিকের একটি চিহ্ন, মুনাফিকের চার আলামত রয়েছে:
হাদিসে আছে:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَرْبَعٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ كَانَ مُنَافِقًا خَالِصًا، وَمَنْ كَانَتْ فِيهِ خَصْلَةٌ مِنْهُنَّ كَانَتْ فِيهِ خَصْلَةٌ مِنَ النِّفَاقِ حَتَّى يَدَعَهَا إِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ وَإِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَإِذَا عَاهَدَ غَدَرَ، وَإِذَا خَاصَمَ فَجَرَ ".
আবদুল্লাহ ইব্নু আম্র রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলছেন : চারটি স্বভাব যার মধ্যে বিদ্যমান সে হচ্ছে খাঁটি মুনাফিক। যার মধ্যে চারটির কোন একটি স্বভাব থাকবে, সেও মুনাফিক, যতক্ষণ না তা পরিত্যাগ না করে, (সে গুলো:) (১) আমানত রাখা হলে (আমানতের মধ্যে)খিয়ানত করা, (২) কথা বলার সময় মিথ্যা বলা, (৩) যখন (কারো সাথে) অঙ্গীকার (ওয়াদা) করে, তো পূরণ না করা, (৪) যখন (কারো সাথে) ঝগড়ায় লিপ্ত হয় তখন গালাগালি করা"। (সহি বুখারী, কিতাবুল ঈমান, হাদিস নং ৩৪)।
Comments
Post a Comment