নিপীড়ন বড় ভয়ঙ্কর অপরাধ।

নিপীড়ন  বড় ভয়ঙ্কর অপরাধ




ডাক্তার জিল্লুর রহমান তাইমী 

অনুবাদক: আব্দুর রাকিব নাদভী

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
اتقوا الظلم فان الظلم ظلمات يوم القيامة
অবিচার থেকে সাবধান হও, কেননা কেয়ামতের দিন অন্যায় হবে অন্ধকার (সহীহ মুসলিম : ২৫৭৮)
নিপীড়ন বড়  ভয়ঙ্কর অপরাধ একজন অত্যাচারকারী যখন অত্যাচার করে তখন তার মুখমন্ডল হইতে জ্যোতি   উজ্জ্বলতা কমে যায় এবং তার হৃদয়ে কালো দাগ পড়ে যায় এবং শরীরে দুর্বলতা সৃষ্টি হয়এবং রিজিক থেকে বরকত  হ্রাস পেতে থাকে মানুষের অন্তর বিদ্বেষে ভরে যায় তাই ইসলাম মানুষ তো দূরের কথাপশুদের উপরও অত্যাচার করা হারাম করেছে
ইসলাম সকল প্রকার অত্যাচারকে হারাম করেছে, ব্যাপারে ইসলাম ধর্ম অত্যন্ত স্পষ্ট রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
اتقوا الظلم فان الظلم ظلمات يوم القيامة
তোমরা জুলুম থেকে সাবধান, কারণ পরলয়ের দিন নিপীড়ন অত্যাচার অন্ধকারে বড় মাধ্যম হয়ে দাঁড়াবে (সহীহ মুসলিম: ১৭৫৫)
নিপীড়িতদের দূআ আল্লাহ রব্বুল আলামিনের দরবারে ফেরত হয় না
তাই প্রত্যেক অত্যাচারকারীর উচিত এই পাপের গুরুতরতা উপলব্ধি করে অত্যাচারকে সম্পূর্ণরূপে পরিহার করা, যাতে সে মজলুমের অভিশাপের শিকার না হয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
ثلاث دعوات مستجابات لا شك فيهن: دعوة المظلوم  ودعوة المسافر، ودعوة الوالد على ولده
তিনজন ব্যক্তির দূআ কবুল হওয়ার ব্যাপারে  কোনো সন্দেহ নেই
- পিতা মাতার দূয়া
-মুসাফির ব্যক্তির দূআ
- নির্যাতিত ব্যাক্তির দূআ
এই মর্মে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
واتق دعوة المظلوم فانه ليس بينه وبين الله حجاب
র্থাৎ অত্যাচারিত ব্যাক্তির দুআ থেকে সতর্ক থাকো, কারণ আল্লাহ অত্যাচারিত ব্যাক্তির দূআর মধ্যে কোন পর্দা থাকে না অর্থাৎ অত্যাচারিত ব্যাক্তির দুআ অতিশীঘ্রই আল্লাহর দরবারে কবুল হয়   (সহীহ বুখারীঃ ১৪৯৬ সহীহ মুসলিম ১৯)
ইসলাম কোনো প্রকার নিপীড়নকে অনুমোদন করে না, মানুষ যেই ধর্মের অনুসারী হোক না কেন , কারো ওপর জুলুম অত্যাচার  করা বৈধ নয়
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
اتقوا دعوة المظلوم وان  كان كافرا ليس دونها حجاب
র্থাৎ অত্যাচারিত ব্যাক্তির দুআ থেকে সতর্ক থাকো, যদিও সে কাফের অথবা বেধর্মী হয় কারণ আল্লাহ অত্যাচারিত ব্যাক্তির দূআর মধ্যে কোন পর্দা থাকে না
মানবজাতি তো দূরের কথা , ইসলাম পশুদের ক্ষেত্রেও নিষ্ঠুরতা অত্যাচার নিষিদ্ধ করেছে এই মর্মে প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
دخلت امرأة النار في هرة ربطتها فلم تطعمها ولم تدعها تاكل من خشاش الارض
অর্থাৎ একজন  মহিলা বিড়ালের প্রতি নিষ্ঠুরতার কারণে জাহান্নামে প্রবেশ করেছে কারণ, সে বিড়ালকে  বেঁধে রেখেছিল, তাঁকে কোনো রকম খাদ্য দেইনি , বা তাকে মুক্তও করেনি যে ,সে জগতের ঘাস ফূসইত্যাদি ভক্ষন করে যিবীকা অর্জন করে জিবীত থাকতো
(সহি আল বুখারি হাদিস নং ৩০৭১)
অত্যাচার কারী ব্যক্তি যদিও সে তার শক্তি প্রভাবের দ্বারা দুনিয়াতে  বেঁচে যায় কিন্তু পরলয়ের দিন আল্লাহর দরবারে সে পালাতে পারবে না , তাকে তার অত্যাচারের হিসাব দিতে হবে কারণ পরলয়ের দিন এমন একটি দিন সেখানে প্রত্যেক অত্যাচারীকে তার অত্যাচারের হিসাব পুঙ্খানুপুঙ্খ  দিতেই হবে স্থানে শক্তি, ক্ষমতা সম্পদ কোন কিছুই কাজে আসবে না প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
لتودن الحقوق الى اهلها يوم القيامة حتى يقاد للشاة الجلحاء من الشاة القرنا
কেয়ামতের দিন তোমরা তোমাদের প্রত্যেকের প্রাপ্য হক পরিশোধ করবে এমন কি, যদি কোনো শিংওয়ালা ছাগল কোন শিংবিহীন ছাগলের প্রতি অত্যাচার করে থাকে , শিংওয়ালা ছাগলের কাছ থেকে তার অত্যাচারের প্রতিশোধ নেয়া হবে ( সহিঃ মুসলিম হাদিস নং ২৫৮৬)
তাই অত্যাচার কারীর উচিত আল্লাহকে ভয় করা, কারণ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন অত্যাচার কারী কে অবসর দেন ছেড়ে দেন না এবং যখন তাকে ধরেন, কঠোর শাস্তি দেন এই মর্মে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেন:
ان الله عزوجل يملي للظالم ، فإذا اخذه لم يفتله وكذلك اخذ ربك اذا اخذ القرى وهي ظالمة ان اخذه اليم شديد
অর্থাৎ আল্লাহ জালিমদের ( অত্যাচার কারীদেরঅবকাশ দেন, কিন্তু যখন তিনি তাদের পাকড়াও করেন, তখন তিনি তাদের ছেড়ে দেন না অতঃপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আয়াতটি পাঠ করলেন অর্থাৎ আর তোমার পরওয়ারদেগার যখন কোন পাপপূর্ণ জনপদকে ধরেন, তখন এমনিভাবেই ধরে থাকেন নিশ্চয় তাঁর পাকড়াও খুবই মারাত্নক, বড়ই কঠোর
অত্যাচার এমনই এক বিপজ্জনক অপরাধ যে, অত্যাচারী আত্মসাৎকারী নবীর শাফায়াত থেকে বঞ্চিত হবে এবং এর ফলে সে মহান কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
صنفان من أمتي لا تنالهما شفاعتي يوم القيامة: إمام ظلوم غشوم وكل غالٍ مارقٍ"
(সহীহ আল জামে হাদীস নং ৩৮৯৮)
অত্যাচার এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অত্যাচার হচ্ছে আল্লাহর সাথে অংশীদার করা এই মর্মে পবিত্র আল কুরআনের ভাষা় স্পষ্ট :
ان الشرك لظلم عظيم
নিশ্চয় আল্লাহর সাথে শরীক করা মহা অন্যায়।
(সূরা লোকমান আয়াত নং 13)
যদি কোন সমাজে অত্যাচার হয়, আর মানুষ অত্যাচারকে রুখে দাড়ার পরিকল্পনা না করে তবে অত্যাচার পুরো সমাজকে নষ্ট করে দেয় ভিডিও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন
انصر اخاك ظالما أو مظلوما قالوا : يا رسول الله هذا ننصره مظلوما، فكيف ننصره ظالما؟ قال : تأخذ فوق يديه
অর্থাৎ তোমরা জালিম এবং মাজলুম উভয়েকে সাহায্য কর সাহাবাবর্গ রাঃ  বললেন হে আল্লাহর রাসূল মজলুম নির্যাতিতদের সাহায্য এটা বুঝলাম, কিন্তু যদি ব্যাক্তি অত্যাচারী হয়, আমি তাকে কিভাবে সাহায্য করব? নবী (সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম) উত্তরঃ দিলেন তাকে অত্যাচার থেকে বিরত রাখ এবং নিষেধ কর এটাই তার  সাহায্য
    (সহীহ বুখারী, কিতাব আস্ সুলাহ হাদীস নং ২৭০৭)


Comments

Popular posts from this blog

ভারত বর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে শেরশাহবাদি সম্প্রদায়ের অবদান। আব্দুর রাকিব নাদভী

ওয়াকফ আইন ও মুসলিম ঐক্য

শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ্বনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভূমিকা।