বড়দিন বা ক্রিসমাস উদযাপন। আব্দুর রাকিব নাদভী
বড়দিন বা ক্রিসমাস উদযাপন।
আব্দুর রাকিব নাদভী
বড়দিন বা খ্রিস্টমাস বা ক্রিসমাস একটি বাৎসরিক খ্রিস্টীয় উৎসব। ২৫ ডিসেম্বর তারিখে ঈসা আলাইহিমুস সালাম এর জন্মদিন উপলক্ষে এই উৎসব পালিত হয়। এই দিনটিই ঈসা আলাইহিমুস সালাম এ প্রকৃত জন্মদিন কিনা তা কারো সঠিক জানা নেই। খ্রিস্টানদের মতে এই তারিখের ঠিক নয় মাস পূর্বে মারিয়াম আলাইহাস সালাম এর গর্ভে প্রবেশ করেন ঈসা আলাইহিমুস সালাম। সম্ভবত, এই হিসাব অনুসারেই ২৫ ডিসেম্বর তারিখটিকে ঈসা আলাইহিমুস সালাম এর জন্মতারিখ ধরা হয়। অন্যমতে একটি খ্রিস্টানদের ধর্মীয় উৎসব নয় বরং ঐতিহাসিক রোমান উৎসব। আবার কেউ কেউ বলেছে: উত্তর গোলার্ধের দক্ষিণ অয়নান্ত দিবসের অনুষঙ্গেই ২৫ ডিসেম্বর তারিখে ঈসা আলাইহিমুস সালাম এর জন্মজয়ন্তী পালনের প্রথাটির সূত্রপাত হয়।
এককথায় বলি: ক্রিসমাস(Christmas) বলতে মূলত ঈসা আলাইহিমুস্ সালাম এর জন্মদিন উদযাপন কে বোঝায়। Christmas শব্দটি গ্রীক Christos ও লাতিন missa থেকে উদগত। গ্রীক ভাষায় Christos শব্দের অর্থ উদ্ধারকর্তা ,মাসীহা ইত্যাদি অর্থবোধক উপাধি, আর missa শব্দের অর্থ উৎসব। একখানে Christmas বলতে ঈসা আলাইহিমুস্ সালাম এর জন্মজয়ন্তী বঝানো হয়।
উক্ত বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট যে, ক্রিসমাস ডে বা বড়দিন খ্রিস্টান ধর্মের উৎসব। তাদের মতে: ঈসা আলাইহিমুস্ সালাম ২৫ ডিসেম্বর জন্ম গ্রহণ করেছিলেন। তারা আরো বিশ্বাস করে যে, ঈসা আলাইহিমুস্ সালাম আল্লাহর পুত্র। অথচ আল্লাহ তায়ালা কোনও সন্তান জন্ম দেননি, এবং তাঁর কোনোই শারীক নেই। পবিত্র আল কোরআন স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করে:
قُل هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ،اللَّهُ الصَّمَدُ، لَم يَلِد وَلَم يولَد، وَلَم يَكُن لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ.
(হে নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলুন, তিনি আল্লাহ, এক, আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি, এবং তার সমতুল্য কেউ নেই। (সুরা ইখলাস আয়াত নং ১-৪)।
খ্রীস্টানদের মিথ্যাচার ও শিরকী নীতি সম্পর্কে পবিত্র আল কুরআন স্পষ্ট ভাষায় বলে:
وَقَالَتِ الْيَهُودُ عُزَيْرٌ ابْنُ اللّهِ وَقَالَتْ النَّصَارَى الْمَسِيحُ ابْنُ اللّهِ ذَلِكَ قَوْلُهُم بِأَفْوَاهِهِمْ يُضَاهِؤُونَ قَوْلَ الَّذِينَ كَفَرُواْ مِن قَبْلُ قَاتَلَهُمُ اللّهُ أَنَّى يُؤْفَكُونَ
ইয়াহুদীরা বলে ওযাইর আল্লাহর পুত্র এবং নাসারারা বলে মসীহ আল্লাহর পুত্র'। এ হচ্ছে তাদের মুখের কথা। এরা পূর্ববর্তী কাফেরদের মত কথা বলে। আল্লাহ এদের ধ্বংস করুন, এরা কোন উল্টা পথে চলে যাচ্ছে ( সুরা তাওবা আয়াত নং ৩০)।
খ্রীস্টানদের কিছু সম্প্রদায়ের বিশ্বাস ঈসা আলাইহিমুস্ সালামই আল্লাহ। পবিত্র আল কুরআন তাদের ভূল ধারনা খন্ডন করে বলেন:
لَقَدْ كَفَرَ الَّذِينَ قَالُواْ إِنَّ اللّهَ هُوَ الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ وَقَالَ الْمَسِيحُ يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ اعْبُدُواْ اللّهَ رَبِّي وَرَبَّكُمْ إِنَّهُ مَن يُشْرِكْ بِاللّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللّهُ عَلَيهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنصَارٍ
তারা কাফের, যারা বলে যে, মরিময়-তনয় মসীহ-ই আল্লাহ; অথচ মসীহ বলেন, হে বণী-ইসরাঈল, তোমরা আল্লাহর এবাদত কর, যিনি আমার পালন কর্তা এবং তোমাদেরও পালনকর্তা। নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থির করে, আল্লাহ তার জন্যে জান্নাত হারাম করে দেন। এবং তার বাসস্থান হয় জাহান্নাম। অত্যাচারীদের কোন সাহায্যকারী নেই (সুরা মায়েদা আয়াত নং ৭২)।
সারমর্ম: বড়দিন বা ক্রিসমাস_ডে খ্রিস্টানদের ধর্মীয় উৎসব। তাদের উৎসবে অংশ গ্রহণ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করা, তাদের ভ্রান্ত আকীদার প্রতি শ্রদ্ধা ও সহমত পেশ করার নামান্তর। এটি একেবারেই হারাম ও অবৈধ এবং তাদের সাদৃশ্য। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন
مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ
যে ব্যক্তি বিজাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদের দলভুক্ত গণ্য হবে। (সুনান আবু দাউদ হাদীস নং ৪০৩১ হাদীসের মান: হাসান)।
আমাদের করণীয় অমুসলিমদের কর্ম কান্ড, আচার আচরণ, বৈশিষ্ট্য ও সাদৃশ্য থেকে নিজেকে দূরে রাখা। হে আল্লাহ তুমি আমাদেরকে ইসলামের বিধি-বিধানের উপর অটল ও অবিচল থেকে জীবন যাপন করার তৌফিক প্রদান কর। আমীন।
Comments
Post a Comment