বিশ্ব নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে অপমান করা মানে , সারা বিশ্বের সমস্ত মানব জাতির অপমান।আব্দুর রাকিব নাদভী
বিশ্ব নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে অপমান করা মানে , সারা বিশ্বের সমস্ত মানব জাতির অপমান।
আব্দুর রাকিব নাদভী
ভারত আমাদের দেশ, একটি গণতান্ত্রিক দেশ, জাতী, ধর্ম, বর্ন নির্বিশেষে দেশের প্রত্যেক নাগরিককে সমতুল্য মৌলিক অধিকার দেওয়া হয়েছে। নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলা সংবিধানিক অপরাধ। কিন্তু দুঃখের বিষয় দেশের বর্তমান পরিস্থিতি খুব দুঃখজনক । বিভিন্ন কৌশল ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের সাথে নিপীড়ন অত্যাচার চলছে । এবং সবকিছু হচ্ছে বর্তমান সরকারের তত্ত্বাবধানে। দেশের আর্থিক ও সামাজিক উন্নতি ও অগ্রগতিজন্য সরকারের কাছে কোন ঠোস প্ল্যানিং নেই । আস্তে আস্তে দেশ অশান্তি , বিশৃঙ্খলা, সম্প্রদায়িকতা, ফেতনা-ফাসাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এমনকি দেশের সংখ্যালঘুরা নিরাপদ নয়। তাঁদের জান, মাল, ধন, সম্পদ, বিশ্বাস ও ধর্মস্থল নিয়ে খেলাধুলা আরম্ভ হয়েছে।
প্রিয় পাঠক! গত ২৭ মে ২০২২ আমরা শোসাল মিডিয়া ( Social Media) র মাধ্যমে দেখেছি বা জানতে পেরেছি যে, বর্তমান কেন্দ্র সরকারের মূখ্যপাত্র নপূর শর্মা টিভি
(TV) চ্যানেলের পর্দায় এসে বিশ্ব নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর স্ত্রীদের কে নিয়ে কটুক্তি ও আপত্তি কর মন্তব্য করেছে। আমি নপূর শর্মা, নবীন জিন্দাল ও তাদের মত মানসিকতা ও মন্তব্য পোষণ কারী সমস্ত ব্যাক্তিদেরকে কোটি কোটি বার ধিক্কার ও নিন্দা জানাই।
প্রিয়
পাঠক। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চরিত্র ছিল পবিত্র এবং বিশ্বের
সমগ্র মানবজাতির চরিত্র থেকে উত্তম এই মর্মে স্বয়ং বিশ্ব সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে Certify করে বলেন :
انك
لعلى خلق
عظيمহে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ! আপনি অবশ্যই একজন মহান চরিত্রের অধিকারী । (সূরা আল কালম আয়াত নং ৪ )
একদা আম্মা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা কে জিজ্ঞাসা করা হল , আম্মাজান! বলেনতো , বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চরিত্র কেমন ছিল ? তিনি রাদিয়াল্লাহু আনহা উত্তরে বলেন:
فإن خلق نبي الله صلى الله عليه وسلم كان القرآن
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর চরিত্র ছিল স্বয়ং পবিত্র আল-কোরআনের চরিত্র।
(সহীহ মুসলিম হাদীস নং ১৭৭৩)
অর্থাৎ পবিত্র আল-কোরআন যে সব কর্ম ও চরিত্রের শিক্ষা দেয়, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন ঐসব কর্ম ও চরিত্রের বাস্তব নমুনা। তোমরা যদি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চরিত্র জানতে চাও, পবিত্র আল-কোরআন অনুধাবন কর, পবিত্র আল-কোরআন তোমাদের জন্য যথেষ্ট।
প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এই মর্মে স্বয়ং বলেন:
انما بعثت لأتمم صالح الاخلاق
অর্থ: হে বিশ্ববাসী আমি উত্তম চরিত্র কে পূর্ণতা দান করার জন্য প্রেরিত হয়েছি।
(আল আদাব আল্ মুফরাদ লিল ঈমাম বুখারী, মূসনাদে আহমাদ, সুনান আল কুবরা লিল বাইহাকী, আল মুসতাদরাক লিল হাকিম, মূসনাদ আল বাযযার, আল্লামা নাসিরুদ্দিন আলবানী উক্ত হাদীস টিকে সহীহ বলেছেন।)
তাই সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রব্বুল আলামীন বিশ্ববাসীকে সম্বোধন করে বলেন
لقد كان
لكم في
رسول الله
اسوة حسنة
হে বিশ্ববাসী ! নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মধ্যে উত্তম নমুনা রয়েছে। (সুরা আল আহযাব আয়াত নং ২১)
তারই জীবন কে অনুসরণ ও অনুধাবন করে তোমরা জীবন গড়ো। তাঁর জীবনই হচ্ছে তোমাদের জন্য আদর্শ।
এক কথায়: বিশ্ব নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চরিত্র ছিল পবিত্র। তিনার মত উত্তম ও মহান চরিত্রের মানুষ পৃথিবীর ইতিহাসে কেউ জন্ম নেই নি, এবং কিয়ামত পর্যন্ত আর কেউ জন্ম নিবেও না। তিনিই সারা বিশ্বের সমগ্র মানুষের জন্য একমাত্র আদর্শ। যারাই তিনাকে প্রকৃত অর্থে ও পূর্ণ রূপে অনুধাবন, অনুকরণ ও অনুসরণ করবে, তারাই হচ্ছে এক মাত্র সফল। আর যারা তিনাকে অনুসরণ করে জীবন গড়বে না,তারাই হচ্ছে সত্তিকার রূপে ক্ষতিগ্রস্ত।
দলিল, ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে আমরা অবগত যে, বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন উত্তম চরিত্রের অধিকারী । এবং তিনার চরিত্র ও জীবনী হচ্ছে বিশ্বের সমগ্র মানুষের জন্য আদর্শ।
আজকে নুপুর শর্মা , নবীন জিন্দাল ও এই ধরনের মানসিকতা ও মন্তব্য পোষণকারী সমস্ত ব্যক্তিরা বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি কটূক্তি ও আপত্তিজনক মন্তব্য করে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদা কে আঘাত করেনি । বরং তারা নিজের অমানবিক চরিত্রকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছে। আজকে সারা বিশ্বজুড়ে তাদের অপমান এবং সারা বিশ্ববাসীর নিকট তারা অভিশাপ প্রাপ্ত।বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্পর্কে কটু কথা বলা , তাঁকে নিয়ে ব্যাঙ্গ করা বা তিনার সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করা, আর চাঁদের মুখে কাদা ছড়ানো সমতূল্য। এবং এই কাজ তারাই করতে পারে যাদেরকে পবিত্র আল-কোরআনের
ভাষায় (প্রমান:
সূরা আল আরাফ আয়াত নম্বর ১৭৯) নিকৃষ্ট প্রাণী বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
পৃথিবীর ইতিহাসে আমরা দেখেছি, যারাই বিশ্ব নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নিয়ে ব্যাঙ্গ করেছে, তাঁরা সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের গজবে ধ্বংস হয়েগেছে। আবু লাহাবের ঘটনা এই মর্মে উপদেশ গ্রহণের ক্ষেত্রে বিশ্ব বাসীদের জন্য যথেষ্ট। আবু লাহাব বিশ্ব নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সম্বোধন করে বলেছিল
فقال أبو لهب تبا لك أما جمعتنا إلا لهذا
অর্থ : العياذ
بالله সে বলেছিল : হে মুহাম্মাদ! তুমি ধ্বংস হোক, ছি এই উদ্দেশ্যে তুমি আমাদের কে একত্রিত করেছ। ( সহীহ মুসলিম হাদীস নং : ৫২৯)
আরশে আযীম থেকে আবু লাহাবের ধংসের বার্তা পৌঁছে গেল, স্বয়ং বিশ্ব সৃষ্টি কর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন:
﴿ تَبَّتْ
يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ * مَا أَغْنَى عَنْهُ
مَالُهُ وَمَاكَسَبَ * سَيَصْلَى نَارًا
ذَاتَ لَهَبٍ ﴾
অর্থ: আবু লাহাবের হস্তদ্বয় ধ্বংস হোক এবং ধ্বংস হোক সে নিজে,কোন কাজে আসেনি তার ধন-সম্পদ ও যা সে উপার্জন করেছে। সত্বরই সে প্রবেশ করবে লেলিহান অগ্নিতে।
( সুরা আল লাহাব আয়াত নং ১-৩)
পবিত্র আল-কোরআনের সুরা আল আহযাব আয়াত নং ৫৭ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন:
إِنَّ الَّذينَ يُؤذونَ اللَّهَ وَرَسولَهُ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فِى الدُّنيا وَالاخِرَةِ وَأَعَدَّ لَهُم عَذابًا مُهينًا
অর্থ: যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাদের প্রতি ইহকালে ও পরকালে অভিসম্পাত করেন এবং তাদের জন্যে প্রস্তুত রেখেছেন অবমাননাকর শাস্তি।
উক্ত আয়াত থেকে প্রমানিত যে, যারাই বিশ্ব নবী, মানব কুলের শ্রেষ্ঠ মানুষ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নিয়ে ব্যাঙ্গ বা আপত্তিকর মন্তব্য করেছে ان
شاء الله
তাদেরকে আল্লাহর গজব গ্রাস করবে ।
বিশ্ব নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে অপমান করা মানে , সারা বিশ্বের সমস্ত মানব জাতির অপমান। এটি বড় ধরনের অপরাধ। যদি দেশে ইসলামী আইন বাস্তবায়ন হয় , তবে তাদের শাস্তি হবে হত্যা। কারণ তাঁরা নিজ কর্ম দ্বারা পৃথিবীতে বেঁচে থাকার অধিকার হারিয়ে ফেলেছে।
Comments
Post a Comment