শবে বরাত সহীহ হাদীসের আলোকে।

 শবে বরাত সহীহ হাদীসের আলোকে।







শবে বরাত বা মধ্য শাবানের রাত এর মর্যাদা সম্পর্কে অনেক কথা সমাজে প্রচলিত। মুসলিম বিশ্বের কিছু সংখ্যক মানুষ এই রাতে বিশেষ এবাদতে মগ্ন হয়ে পড়েন। যেমন বিশেষ মাহফিল, বিশেষ মোনাজাত, তাবারুক বিতরণ, কবর জিয়ারত ও বিশেষ সালাত ইত্যাদি। এ রাতের ফজিলত ও মর্যাদা সম্পর্কে কথিত সকল বক্তব্য কতটুকু শরীয়ত সম্মত এবং এ রাতের বিশেষ এবাদত পবিত্র আল কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে কতটুকু গ্রহণযোগ্য এই বিষয়কে কেন্দ্র করে মুসলিম জাতি বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। আসুন, মতভেদ ও মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে পবিত্র আল কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে এ রাতের মর্যাদা, ফজিলত, গুরুত্ব ও করণীয় সম্পর্কে অবগত হই।

বিশুদ্ধ, নির্ভেজাল ও সহীহ হাদীসের বর্ণনা অনুযায়ী    শাবান মাসে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হইতে সহীহ সূত্রে যে এবাদত গুলো প্রমাণিত সেটি হল বেশি বেশি সিয়াম পালন করা। সহীহ আল বুখারী এবং সহীহ মুসলিম উভয়ই গ্রন্থে বর্ণিত রয়েছে প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাবান মাসে বেশি বেশি করে সিয়াম পালন করতেন। 

عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ لاَ يُفْطِرُ وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ لاَ يَصُومُ فَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم اسْتَكْمَلَ صِيَامَ شَهْرٍ إِلاَّ رَمَضَانَ وَمَا رَأَيْتُهُ أَكْثَرَ صِيَامًا مِنْهُ فِي شَعْبَانَ

আম্মা আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাধারে (এত অধিক) সওম পালন করতেন যে, আমরা বলাবলি করতাম, তিনি আর সওম পরিত্যাগ করবেন না। (আবার কখনো এত বেশি) সওম পালন না করা অবস্থায় একাধারে কাটাতেন যে, আমরা বলাবলি করতাম, তিনি আর (নফল) সওম পালন করবেন না। আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে রমাযান ব্যতীত কোন পুরা মাসের সওম পালন করতে দেখিনি এবং শা‘বান মাসের চেয়ে কোন মাসে অধিক (নফল) সওম পালন করতে দেখিনি। (সহীহ আল বুখারী হাদীস নং ১৯৬৯, সহীহ মুসলিম হাদীস নং ২৭৭৭ )

এছাড়া ইমাম আহমাদ,নাসাঈ প্রমুখ মুহাদ্দিস সংকলিত মোটামুটি গ্রহণযোগ্য বা হাসান পর্যায়ের হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে যে,

عن أسامة بن زيد ، قال : قلت : يا رسول الله ، لم أرك تصوم شهرا من الشهور ما تصوم من شعبان ، قال : " ذلك شهر يغفل الناس عنه بين رجب ورمضان ، وهو شهر ترفع فيه الأعمال إلى رب العالمين ، فأحب أن يرفع عملي وأنا صائم


হযরত ওসামা বিন জেদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সালামকে জিজ্ঞাসা পাঠ করলাম হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম: আপনি যেভাবে একটানা সাবান মাসে সিয়াম পালন করছেন এমত অন্য কোন মাসে সিয়াম পালন করতে আপনাকে দেখা যায়নি, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বললেন: রজব ও রমজানের মধ্যে এই মাসটিকে অনেকেই অবহেলা করে থাকে, এই মাসে বান্দার আমল আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে পেশ করা হয়। তাই আমি পছন্দ করি আমার যখন আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হবে তখন যেন আমি সিয়াম পালন অবস্থায় থাকি। (মুসনাদে আহমাদ হাদীস নং ১০০৭৯, সুনান নাসাঈ হাদীস নং ২৩২৯ , শাইখ আলবানী রহঃ হাদীস টিকে হাসান বলে আখ্যায়িত করেছেন দেখুন: সহীহ সুনান নাসাঈ হাদীস নং ২৩৫৬)

মূল কথা: সিয়াম ব্যতীত শাবান মাসে বিশেষ কোন আমল রাসূল সাল্লাল্লাহু ইসলাম থেকে প্রমাণিত নেই। শবে বরাতের ফজিলত মর্যাদা প্রমাণিত করার জন্য কিছু কিছু আলেম সূরা দুখান আয়াত নং তিন ও চার  নিয়ে টানাটানি ও অপব্যাখ্যা করে থাকেন। তাদের এই অপব্যাখ্যা পবিত্র আল কুরআনের সূরা বাকারাহ আয়াত নম্বর ১৮৫ প্রকাশ্য বিরোধিতা। সূরা দুখানে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন: রমযান মাসই হল সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে পবিত্র আল-কুরআন (সুরা আল বাকারাহ আয়াত নং ১৮৫)

শা’বান মাসের প্রথম রজনীতে, অথবা মধ্য-শাবানের 

রাত্রিতে বিশেষ পদ্ধতিতে বিশেষ এবাদত, বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত, বিশেষ সুরা পাঠের মাধ্যমে নির্দ্দিষ্ট সংখ্যক রাকআত সালাত আদায়, নির্ধারিত পরিমাণ দরূদ পাঠ, বিশেষ মাহফিল ও জিকির। এগুলো সবই ভিত্তিহীন বানোয়াট কথা। শা’বান মাসে নফল সিয়াম পালন ব্যতীত অন্য কোনো প্রকারের বিশেষ ইবাদতের কথা সহীহ সূত্রে প্রমাণীত নেই।

Comments

Popular posts from this blog

ভারত বর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে শেরশাহবাদি সম্প্রদায়ের অবদান। আব্দুর রাকিব নাদভী

ওয়াকফ আইন ও মুসলিম ঐক্য

শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ্বনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভূমিকা।