ছোটদের বক্তব্য পর্ব(৩) বিষয়: যাকাত
যাকাত
حامد ومصليا اما بعد:
اعوذ بالله من الشيطان الرجيم، بسم الله الرحمن الرحيم
والذين يكنزون الذهب والفضه ولا ينفقونها في سبيل الله فبشرهم بعذاب اليم ( التوبة : 34)
قال النبي الكريم صلى الله عليه و سلم: فان هم اطاعوا لذلك فاعلمهم ان الله افترض عليهم صدقة في اموالهم تؤخذ من اغنيائهم وترد على فقرائهم
( صحيح البخاري كتاب الزكاة : رقم 1395 )
মাননীয় সভাপতি মহোদয়, শ্রোদ্ধেয় শিক্ষক মন্ডলী, প্রিয় সহপাঠী এবং ভাত্রী মন্ডলী!
আজকে এই বাৎসরিক অনুষ্ঠানে আমার নির্ধারিত বিষয়বস্তু হলো " যাকাত " ।
আশা করি আপনারা মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করবেন।
মুসলিম ভাই সকল!
যাকাত হলো আরবি শব্দ , যার আভিধানিক অর্থ হলো বৃদ্ধি। যাকাত আদায় করলে মাল বৃদ্ধি হয়, আর যাকাত না বের করলে , মাল থেকে বরকত উঠে যায় ।
প্রিয় শ্রোতা যাকাত ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ। প্রত্যেক ব্যক্তির উপর ফরয। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন:
اقيموا الصلاه واتوا الزكاه واركعوا مع الراكعين ( البقرة: 43)
আর তোমরা স্বলাত প্রতিষ্ঠা করো , যাকাত দাও এবং তাদের সাথে অবনত হও যারা স্বলাতে অবনত হয়। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
فاعلمهم ان الله افترض عليهم صدقة في اموالهم تؤخذ من اغنيائهم وترد على فقرائهم
( صحيح البخاري كتاب الزكاة رقم : 1395)
তাদেরকে বলে দাও আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাদের ধন-সম্পদে যাকাত ফরয করেছে যা তোমাদের ধনার্থ ব্যক্তির নিকট থেকে নিয়ে, সমাজের অসহায় , দরিদ্র ও মিসকীন মানুষদের মাঝে বন্টন করা হবে।
সম্মানীয় ভাত্রী মন্ডলী ।
যারা নেসাব পরিমাণ রাখা সত্ত্বেও যাকাত প্রদান করেনা। ইসলাম তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং ভয়াবহ শাস্তির সুসংবাদ দিয়েছে। এই মর্মে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন:
فان تابوا واقاموا الصلاه واتوا الزكاه فخلوا سبيلهم
( التوبة : 5 )
কিন্তু যদি তারা তওবা করে, স্বলাত প্রতিষ্ঠা করে এবং যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও ।
অন্য স্থানে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন:
فان تابوا واقاموا الصلاه واتوا الزكاه فاخوانكم في الدين (التوبة : 11 )
অবশ্যই তারা যদি তওবা করে , স্বলাত কায়েম করে আর যাকাত আদায় করে , তবে তারা তোমাদের দ্বীনি ভাই ।
প্রিয় শ্রোতা মন্ডলী !
যে মাল ধন-সম্পদ থেকে নিসাব পরিমাণ যাকাত না বের করা হয়, সেই মাল কে পবিত্র আল কুরআনের ভাষায় " কানয " বলা হয় । এই মর্মে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন:
والذين يكنزون الذهب والفضة ولا ينفقونها في سبيل الله فبشرهم بعذاب اليم يوم يحمى عليها في نار جهنم فتكوى بها جباههم وجنوبهم وظهورهم هذا ما كنزتم لانفسكم فذوقوا ما كنتم تكنزون
( التوبة: 34-35)
অর্থাৎ যারা স্বর্ণ-রুপা জমা করে রাখে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না । তাদেরকে কঠোর শাস্তির সুসংবাদ শুনিয়ে দাও । সেদিন জাহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে এবং তার দ্বারা তাদের কপাল , পার্শ ও পৃষ্ঠ দগ্ধ করা হবে । এবং বলা হবে এগুলো তোমাদের জমা সম্পদ । এখন তার স্বাদ তোমরা গ্রহণ করো।
প্রিয় ভাই সকল !
এই মর্মে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
من اعطاه الله مالا فلم يؤد زكاتة مثل له يوم القيامه شجاعا اقرع له زبيبتان يطوقه يوم القيامه ثم ياخذ بلهزمتيه ثم يقول انا مالك انا كنزك
( صحيح بخاري كتاب الزكاة رقم: 1403)
অর্থাৎ আল্লাহ যাকে ধন সম্পদ দান করল এবং ঐ ধনের যাকাত বের করল না। ঐ ধন-সম্পদকে কেয়ামতের দিন গান্জা বিষাক্ত সাপের আকৃতিতে আনা হবে এবং মালার মতো গলায় পরিধান করানো হবে । ঐ সাপ তাকে দংশন করতে থাকবে এবং বলবে: আমি তমার ধন - সম্পদ । আমি তোমার কানয। প্রিয় শ্রোতা!
যাকাত যদি সঠিক রূপে বের করে উপযুক্ত স্থানে বন্টন করা হয় । তবে মুসলিম বিশ্বে কোন দারিদ্র ও মিসকীন ব্যক্তি থাকবে না। সমাজের সকল সদস্য দারিদ্র্যমুক্ত হয়ে উঠবে। পঞ্চম খলিফা ওমর বিন আব্দুল আজিজ এর রাজত্বকালে এই দৃশ্য দেখা যায়। অবশেষে আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, আল্লাহ যেন আমাদেরকে সঠিক নিয়ম অনুযায়ী যাকাত বের করে, উপযুক্ত স্থানে বন্টন করার তৌফিক দান করেন। আল্লাহুম আমিন
وصلى الله على خير خلقه محمد واله واصحابه اجمعين
والسلام عليكم ورحمه الله وبركاته

Comments
Post a Comment