ছোটদের বক্তব্য পর্ব (৪) , বিষয় : বিদ্যা

 বিদ্যা



السلام عليكم ورحمة الله و بركاته

الحمد لله رب العالمين والعاقبة للمتقين والصلاة والسلام على رسوله الامين وعلى اله وصحبه اجمعين ومن تبعهم باحسان الى يوم الدين اما بعد:

اعوذ بالله من الشيطان الرجيم بسم الله الرحمن الرحيم

اقرا باسم ربك الذي خلق خلق الانسان من علق اقرا وربك الاكرم الذي علم بالقلم علم الانسان ما لم يعلم 

( العلق: 1-5)

قال النبي الكريم صلى الله عليه و سلم  " طلب العلم فريضه على كل مسلم"  

( رواه ابن ماجه برقم: 229 ) 

মাননীয় সভাপতি মহাশয়,  বিচারকমণ্ডলী , প্রিয় শ্রোতা ! 

আজকের এই মোহিত ইসলামিক সভায় আমি যে বিষয় নিয়ে দন্ডায়মান হয়েছি তা হলো বিদ্যা। আশা করি আপনারা মনোযোগ সহকারে শ্রোবণ করবেন।  সম্মানিত উপস্থিতি! 

বিদ্যা হলো জ্যোতী, বিদ্যাহীন  ব্যাক্তি চক্ষু থাকা সত্ত্বেও অন্ধ । বিদ্যাইলক্ষ্য  মানুষকে পথ প্রদর্শন করে।  প্রিয় শ্রোতা !

ইসলাম এমন এক ধর্ম , যে বিদ্যাকে সর্বাধিক মর্যাদা প্রদান করেছে।  ইসলামের প্রথম আদেশ অবতরণ হয়  বিদ্যা সম্পর্কে । আল্লাহ রব্বুল আলামীন বলেন:اقرا باسم ربك الذي خلق خلق الانسان من علق اقرا وربك الاكرم الذي علم بالقلم علم الانسان ما لم يعلم

(العلق: 1-5 )

অর্থাৎ হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পড়ো তোমার প্রতিপালকের নামে যিনি মানবজাতিকে জমাট রক্ত থেকে সৃষ্টি করেছেন । পড় প্রতিপালকের নামে , যিনি কলমের মাধ্যমে শিক্ষা দিয়েছেন । মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন ,  যা সে জানতো না। 

 জ্ঞানী বিদ্যমান ও শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তিদের মর্যাদা সম্পর্কে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন: 

 قل هل يستوي الذين يعلمون والذين لا يعلمون

الزمر: 9 

হে নবী সাঃ মানব জাতিকে বল : যারা শিক্ষিত এবং যারা অজ্ঞ ও অশিক্ষিত,  এই দুই দল সমান হতে পারে কি?

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আরো বলেন: 

يرفع الله الذين امنوا منكم والذين اوتوا العلم درجات

( المجادلة : 11 )

তোমাদের মধ্যে যারা ঈমানদার এবং জ্ঞানপ্রাপ্ত আল্লাহ তাদের মর্যাদা উঁচু করে দেন।

প্রিয় শ্রোতা ! 

কারণ বিদ্যা ছাড়া মানুষ প্রতিপালক সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করতে পারে না । জ্ঞানপ্রাপ্ত মানুষেরাই আল্লাহকে ভয় করে এবং সর্বাধিক তার কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে।  এই মর্মে স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন: 

انما يخشى الله من عباده العلماء

( الفاطر : 28) 

সম্মানীয় ভাত্রী মন্ডলী ! 

 বিদ্যার গুরুত্ব ও মর্যাদা সম্পর্কে বহু কথা আছে।  এমনকি যারা বিদ্যার সন্ধানে বের হন তাদের জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেওয়া হয় । এই মর্মে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: 

من سلك طريقا يطلب فيه علما سهل الله له طريقا الى الجنه

صحيح بخاري كتاب العلم

অর্থাৎ যে ব্যক্তি বিদ্যা অর্জনে বের হন বা পথ অবলম্বন করেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার জন্য জান্নাতের রাস্তা সহজ করে দেন।

প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন : 

ان الملائكه لتضع اجنحتها رضا لطالب العلم وان العالم ليستغفر له من في السماوات ومن في الارض والحيتان في جوف الماء 

 ( سنن ابي داود رقم : 3643 ) 

অর্থাৎ নিশ্চয় ফেরেশতা বর্গ বিদ্যা অর্জনকারী ব্যক্তির  সন্তুষ্টর উদ্দেশ্যে তাদের ডানাগুলো বিছিয়ে দেন।  আকাশ সমূহ এবং জমিনের মধ্যে যা কিছু আছে,  সবাই আলেম ( সুশিক্ষায় শিক্ষিত ) ব্যক্তির জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমাপ্রার্থী হয় । এমনকি পানির ভিতরে বসবাসকারী মাছগুলো ও আলেমদের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমাপ্রার্থী হন। 

 প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু ইসলাম আরও বলেন:

فضل العالم على العابد كفضل القمر ليله ليلة البدر على سائر الكواكب

 ( سنن ابي داود رقم: 3643)

একজন জ্ঞানপ্রাপ্ত ব্যক্তির মর্যাদা আবেদ ব্যক্তির উপর ঐরূপ,  যেমন পূর্ণিমার চাঁদের মর্যাদা সমস্ত নক্ষত্রর প্রতি রয়েছে । বিদ্যার এত গুরুত্ব ও মর্যাদা,  কিন্তু দুঃখের বিষয়  আজকে মুসলিম সমাজ বিদ্যার ক্ষেত্রে অন্যান্য জাতি থেকে অনেক পিছিয়ে পড়েছে। যে জাতির ধর্মগ্রন্থের যথেষ্ট পরিমাণ বিদ্যার চর্চা নেই,  আজকে তারাই আমাদের থেকে অনেক অনেক আগে। মুসলিম জাতির ক্ষেত্রে এটি দুঃখজনক এবং শোচনীয় ব্যাপার ।বিদ্যার হার আমাদের সমাজে বাড়িয়ে তুলতে হবে । 

আল্লাহ যেন আমাদেরকে সঠিক রূপে যথেষ্ট পরিমাণে বিদ্যাচর্চার তৌফিক দান  করেন। আমিন

وصلى الله على خير خلقه محمد واله وصحبه اجمعين

السلام عليكم ورحمه الله وبركاته



Comments

Post a Comment

Popular posts from this blog

ভারত বর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে শেরশাহবাদি সম্প্রদায়ের অবদান। আব্দুর রাকিব নাদভী

ওয়াকফ আইন ও মুসলিম ঐক্য

শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ্বনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভূমিকা।