আপনার উপকারী কে ? আপনি চিনুন।
মাদ্রাসা ও মসজিদগুলি ধর্মীয় দুর্গ , যতক্ষণ না তাদের আর্থিকভাবে যত্ন নেওয়া হবে, মানুষ আল্লাহর অগণন করুণা থেকে উপকৃত হতে ব্যর্থ হবে। আলেম সমাজ জনগণের সংস্কারের জন্য রাত দিন এক করে, তারা তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন, তাই জনগণেরও কর্তব্য ও দায়িত্ব , তাঁরা যেন তাদের আলেম সমাজের অর্থনীতির দিকে লক্ষ্য রাখে।
মাদ্রাসার ঐ আলেম সমাজ এবং মসজিদের ইমাম ও মুয়েজিনগণ আকাশপথে বাতাস খেয়ে জীবন যাপন করেন না, মানুষের মতো তাদেরও নিজস্ব চাহিদা রয়েছে, যা যত্ন নেওয়াই মানুষের ধর্মীয়, নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব।
আপনি মাসে পঁচিশ থেকে তিরিশ হাজার বা চল্লিশ হাজার টাকা খরচ করেন, কিন্তু আলেম সমাজ ও মসজিদের ইমাম যারা আমাদের এবং আমাদের সন্তানের ভবিষ্য সংস্কারের জন্য দিন রাত এক করে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁদের জন্য হাজার পাঁচশত টাকাও আপনার কাছে নেই? যদি আমাদের আচরণ এবং কর্ম এই হয় , তবে এই জাতি এবং সমাজের ভাগ্য কী হতে পারে ?
তারা আপনার কাছে ভিক্ষা চায় না, তারা তাদের অধিকার চায়, যা আল্লাহ আপনার উপর চাপিয়ে দিয়েছেন। আপনি যদি তাদের অধিকার দিতে না পারেন তবে এই ধর্মীয় দুর্গ মাদ্রাসাগুলির কি অবস্থা হতে পারে?
এটা কী দুঃখজনক বিষয় নয়? যে আমরা আমাদের আশেপাশের মাদ্রাসার শিক্ষক ও মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের বেতন সেই পরিমাণ না করে দিতে পারা, যা দ্বারা তারা নিজ পরিবার যথাযথ এবং সচ্ছলভাবে চালাতে পারে। মুসলমানের বিবেক কি এতটাই মরে গেছে , যে তারা তাদের উপকারকী কে ? তা চিনতে পারে না। আমাদের সমাজের ধনী লোকদের হৃদয় কি এত সংকীর্ণ ? যে তারা তাদের ইমাম, শিক্ষক ও মুহসিনীনদেরকে সঠিক পরিমাণ বেতন দিতে অক্ষম ।
মাদ্রাসা ও মসজিদ নির্মাণের ক্ষেত্রে খুব আগ্রহ দেখা যায়, কিন্তু শিক্ষক, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের বেতনের সময় হৃদয় সংকীর্ণ হয়ে ওঠে।
মনে রাখবেন ! আলেমসমাজ এবং মসজিদের ইমাম এরাই হল মুসলিম সমাজের প্রকৃত নেতা ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি, এরা যদি সঠিক স্থানে থাকে, তবে ইন- শা - আল্লাহ আমাদের সমাজ সচ্ছল, দুর্নীতিমুক্ত ও আদর্শবান হয়ে উঠবে।
আমাদের কর্তব্য হবে আলেম সমাজ ও ইমামদের কে যথাযথ মর্যাদা প্রদান করা।

Comments
Post a Comment