পবিত্র রমযান মাসে সিয়াম পালনের ক্ষেত্রে গর্ভবতী ও দুধ পান কারীনি মহিলার করণীয় কি ?
পবিত্র রমযান মাসে সিয়াম পালনের ক্ষেত্রে গর্ভবতী ও দুধপান করীনি মহিলার হুকুম হলো সাধারণ অসুস্থ ব্যক্তির মত। তাদের ক্ষেত্রে যদি সিয়াম পালন করা কষ্টকর হয়, তবে তারা সিয়াম পালন না করে, পরে কাযা আদায় করবে। এটি হলো রাযেহ ( সঠিক ) মত । আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন:
فمن شهد منكم الشهر فليصمه، ومن كان مريضا أو على سفر
فعدة من أيام أخر يريد الله بكم اليسر ولا يريد بكم العسر
অর্থাৎ যে ব্যক্তি পবিত্র রমযান মাস পেল, সে যেনো অবশ্যই সিয়াম পালন করে ,আর যারা অসুস্থ বা ভ্রমণকারী ব্যক্তি, তারা অন্য দিনে ( সিয়ামের ) গণনা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের ক্ষেত্রে সহজ ও সুবিধা চান । তোমাদের জন্য কষ্টকর অবস্থা চান না।
( সূরা আল- বাকারা আয়াত নং ১৮৫ )
বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: ا
ان الله عن المسافر نصف الصلاة والصوم وعن الحبلىى والمرضع
অর্থাৎ নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা ভ্রমণকারীকে অর্ধ নামাজের অনুমতি দিয়েছেন এবং সিয়াম পালনের ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছে । গর্ভবতী ও দুধ- পালনকারীনি মহিলাদের ক্ষেত্রেও আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সিয়াম পালনের ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছে ।
( সূনান আন্ নাসায়ী, কিতাবুস্ সিয়াম হাদিস নং ২২৮৬ , সূনান আত্ তিরমিযী হাদিস নং ৭১৯ , সূনান আবূ দাউদ হাদিস নং ২৪১০, সূনান ইবনে মাযাহ হাদিস নং ১৭৩৬ )
কিছুসংখ্যক ইসলামিক পন্ডিতের মতে, সিয়াম কাযা করা লাগবে না, গর্ভবতী ও দুধ পানকরীনি মহিলার হুকুম হবে বৃদ্ধ বয়স্ক ব্যক্তির মত, তারা প্রত্যেক দিন সিয়ামের পরিবর্তে ফিদিয়া অর্থাৎ দরিদ্রকে অন্ন প্রদান করবে।
সারসংক্ষেপ:
যদি কোনো গর্ভবতী মহিলা আশঙ্কা করে, যে সিয়াম পালন করলে, তার গর্ভে প্রজন্ম সন্তানের জন্য ক্ষতিকারক হবে বা দুধ- পানকারিনী মহিলা আশঙ্কা করে যে, সিয়াম পালন করলে নিজের কিংবা সন্তানের জন্য কষ্টকর হবে। তার ক্ষেত্রে ইসলামের আদেশ হলো :
সে যেন সিয়াম পালন না করে , ছুটে যাওয়া সিয়াম গুলো পরে কাযা করবে।


Comments
Post a Comment