(৮) নামমাত্র শাসন ও কোম্পানি-নিয়ন্ত্রিত প্রশাসন এবং বাংলায় নবাবি ক্ষমতার অবসানের প্রতীক: নাজমুদ্দৌলা (১৭৬৫–১৭৬৬খ্রি.)।

(৮) নামমাত্র শাসন ও কোম্পানি-নিয়ন্ত্রিত প্রশাসন এবং বাংলায় নবাবি ক্ষমতার অবসানের প্রতীক: নাজমুদ্দৌলা (১৭৬৫–১৭৬৬খ্রি.)।

সংক্ষিপ্ত পরিচয়: নাজমুদ্দৌলা ছিলেন মীর জাফরের পুত্র। ১৭৬৫ সালে পিতার মৃত্যুর পর তিনি বাংলার নবাব পদে অধিষ্ঠিত হন। কিন্তু তাঁর শাসনকাল (১৭৬৫–১৭৬৬) ছিল কার্যত নামমাত্র, কারণ প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা তখন ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে সরে গিয়েছিল।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: দেওয়ানি লাভের পর
১৭৬৪ সালের বক্সারের যুদ্ধে কোম্পানির জয়ের পর ১৭৬৫ সালে মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে কোম্পানি বাংলার দেওয়ানি (রাজস্ব আদায়ের অধিকার) লাভ করে। এই সময়ই নাজমুদ্দৌলা নবাব হন। ফলে—নবাব কেবল ফৌজদারি ও আনুষ্ঠানিক ক্ষমতার প্রতীক রয়ে যান, প্রকৃত অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ কোম্পানির হাতে যায়,
“দ্বৈত শাসন” (Dual Government) ব্যবস্থা চালু হয়।

প্রশাসনিক বাস্তবতা: 
🔹 রাজস্ব আদায় ও আর্থিক সিদ্ধান্ত কোম্পানি নিয়ন্ত্রণ করত।
🔹 নবাবের সেনাবাহিনী ও ব্যয় ব্যাপকভাবে সীমিত করা হয়।
🔹 নবাবকে নির্দিষ্ট ভাতা প্রদান করা হতো—যা রাজনৈতিক অধীনতার ইঙ্গিত।

ঐতিহাসিক তাৎপর্য: নাজমুদ্দৌলার শাসনকাল ছিল বাংলায় নবাবি ক্ষমতার অবসানের প্রতীক।
পলাশীর (১৭৫৭) পর যে প্রক্রিয়া শুরু হয়,
বক্সারের (১৭৬৪) পর তা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়,
নাজমুদ্দৌলার সময় নবাবি শাসন কার্যত কোম্পানির ছায়ায় পরিণত হয়।

মূল্যায়ন: ইতিহাসে নাজমুদ্দৌলাকে শক্তিশালী শাসক হিসেবে নয়, বরং এক সংকটকালীন প্রতীকী নবাব হিসেবে দেখা হয়। তাঁর শাসন বাংলায় ব্রিটিশ উপনিবেশিক প্রশাসনের পূর্ণ প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্ন নির্দেশ করে।

মৃত্যু: নাজমুদ্দৌলা ১৭৬৫ সালে নবাব হন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ১৭৬৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যু সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো যুদ্ধ বা হত্যাকাণ্ডের উল্লেখ ঐতিহাসিক সূত্রে পাওয়া যায় না, সাধারণভাবে ধারণা করা হয়, তিনি স্বাভাবিক কারণে মৃত্যুবরণ করেন।

Comments

Popular posts from this blog

ভারত বর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে শেরশাহবাদি সম্প্রদায়ের অবদান। আব্দুর রাকিব নাদভী

শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ্বনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভূমিকা।

বাংলা ভাষায় ইসলামী সংস্কৃতির প্রভাব।