খোশবাগ মসজিদ সংক্ষিপ্ত পরিচয়।আব্দুর রাকিব নাদভী।

খোশবাগ মসজিদ সংক্ষিপ্ত পরিচয়।
আব্দুর রাকিব নাদভী।
সহকারী শিক্ষক সুলতানপুর খুনিয়া পুকুর সিনিয়র মাদ্রাসা মুর্শিদাবাদ।
নবাবি ঐতিহ্যের নীরব সাক্ষী
বাংলার ইতিহাসে মুর্শিদাবাদ একটি বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন জনপদ। নবাবি আমলের রাজধানী হিসেবে এই শহর শুধু রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকেই নয়, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক দিক থেকেও সমৃদ্ধ ছিল। মুর্শিদাবাদের বহু ঐতিহাসিক নিদর্শনের মধ্যে খোশবাগ মসজিদ একটি উল্লেখযোগ্য ও গৌরবময় স্থাপনা।
খোশবাগ মসজিদ মুর্শিদাবাদ শহর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে, ভাগীরথী নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত। ‘খোশবাগ’ শব্দের অর্থ ‘আনন্দের বাগান’। প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল নবাব পরিবারের একটি নিরিবিলি ও মনোরম এলাকা, যা পরবর্তীতে নবাবদের সমাধিক্ষেত্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
এই মসজিদটি নির্মিত হয় অষ্টাদশ শতাব্দীতে, নবাব আলীবর্দী খান-এর শাসনামলে। আলীবর্দী খান ছিলেন বাংলার একজন প্রখ্যাত ও দূরদর্শী শাসক। তাঁর আমলেই বাংলার প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ও সাংস্কৃতিক উৎকর্ষ চূড়ান্ত রূপ লাভ করে। খোশবাগ মসজিদ সেই সময়ের ধর্মীয় অনুরাগ ও স্থাপত্যরুচির প্রতিফলন।
স্থাপত্যের দিক থেকে খোশবাগ মসজিদ অত্যন্ত নান্দনিক। এটি মূলত ইট দ্বারা নির্মিত এবং মুঘল স্থাপত্যশৈলীর প্রভাব এতে সুস্পষ্ট। মসজিদটির প্রধান নামাজকক্ষ এক গম্বুজবিশিষ্ট। খিলানযুক্ত দরজা, সুসজ্জিত মিহরাব এবং পুরু দেয়াল মসজিদটিকে দৃঢ়তা ও সৌন্দর্য প্রদান করেছে। অতীতে এখানে নিয়মিত নামাজ আদায় করা হতো। 
কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেখানে নিয়মিত নামাজ হয় না। মসজিদ আল্লাহর ঘর, নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য হল আল্লাহর ইবাদত করা। আমাদের উচিত এধরনের যেসব মসজিদ বন্ধ ও বালবিহীন হয়ে পড়ে আছে, আবাদ করার পদক্ষেপ ও উপায় গ্রহণ করা। হে আল্লাহ! তুমি আমাদের তৌফিক দাও। আমীন।


Comments

Popular posts from this blog

ভারত বর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে শেরশাহবাদি সম্প্রদায়ের অবদান। আব্দুর রাকিব নাদভী

শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ্বনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভূমিকা।

বাংলা ভাষায় ইসলামী সংস্কৃতির প্রভাব।