কাটরা মসজিদ এবং আমাদের ব্যর্থতা

কাটরা মসজিদ 
আজ ০৪/০১/২০২৬ রোজ: রবিবার কাটরা মসজিদের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম, সেখানে গিয়ে নিজের অশ্রু ধরে রাখতে পারলাম না, অন্তর ফেটে পড়ল, কাটরা মসজিদ নির্মাণ করেন বাংলার নবাব মুর্শিদ কুলি খান ১১৭৩ হিজরি মোতাবেক ১৭২৩-১৭২৪ খ্রিস্টাব্দে, এটি ছিল তাতকালিন একটি ভারতীয় উপমহাদেশের প্রখ্যাত ও বৃহত্তর জুমা মসজিদ যেখানে একসাথে প্রায় ২০০০ এর বেশি মানুষ নামাজ আদায় করত। শুধু তাই নয় এটি ছিল ভারত উপমহাদেশের বৃহত্তর ও অন্যতম সরাইখানা (কাফেলায়) যেখানে একসাথে প্রায় ৭০০ মানুষ থাকতে পারতো। এটি শুধু একটি মসজিদ ও  কাফেলায় নয় বরং এটি ছিল একটি ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেখানে একসাথে ৭০০ জন ছাত্র থাকার ব্যবস্থা ছিল। 
কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এ মূল্যবান সম্পদ ও নেয়ামত) মসজিদ, কাফেলায় ও মাদ্রাসা)  আমরা - মুসলিমরা - হাড়িয়ে ফেলেছি। এর জন্য দায়ী কে? 
মসজিদটি  নামাযী এবং কুরআন ও সুন্নাহর ছাত্রদের জন্য অপেক্ষায় রয়েছে! ভারতীয় উপমহাদেশে এধরনের বহু মসজিদ রয়েছে, যেখানে তার নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য (ইবাদত) আদায় নয়, বরং ইতিহাসিক স্থল দর্শন হিসেবে হাজার হাজার মানুষ আসে, দর্শন করে, কিন্তু নামায আদায় করতে চাইলেও হিম্মত জোগাড় করতে পারে না। আমাদের পূর্বপুরুষরা আল্লাহর ইবাদত এবং দ্বীন প্রচার ও প্রসারের জন্য মসজিদ নির্মাণ করে গেছেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমরা এ পবিত্র স্থানে আল্লাহর ইবাদত এবং দ্বীনের দাওয়াত, প্রচার ও প্রসারে ব্যর্থ। শিক্ষিত সমাজ , বিশেষ করে মুসলিম ওয়াকাফ বোর্ডের নিকট আমার আবেদন, আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতা থেকে নিজেকে মুক্ত করতে এ বিষয়ে একটু ভাবুন, পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। হে আল্লাহ, আমাদের রব! তুমি মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধভাবে তোমার ঘরের (মসজিদের) হেফাজত করার তৌফিক দাও,   শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত নিয়মিত সালাত আদায় করার তৌফিক দান কর। আমীন।

Comments

Popular posts from this blog

ভারত বর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে শেরশাহবাদি সম্প্রদায়ের অবদান। আব্দুর রাকিব নাদভী

শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ্বনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভূমিকা।

বাংলা ভাষায় ইসলামী সংস্কৃতির প্রভাব।