যাকাত বইয়ের ভূমিকা

অনুবাদকের কথা 
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على رسوله الأمين وعلى آله وأصحابه أجمعين ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين أما بعد:
যাকাত ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত,। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি। নিসাব পরিমাণ নগদ অর্থ, সোনা এবং রূপা অবথা নিসাব সমপরিমাণ সম্পদ,ব্যবসায়িক পণ্য থাকে, আর বছর অতিবাহিত হয়, তাহলে তাতে যাকাত ফরজ। 
যে সম্পদ থেকে যাকাত প্রদান করা হয় না, সেই সম্পদ কিয়ামতের দিন বিষধর সাপের আকৃতি ধারণ করবে এবং তার মালিককে কামড়ে ধরে বলবে, আমি তোমার সম্পদ, আমি তোমার জমাকৃত মাল। এ মর্মে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
شُجَاعًا  أَقْرَعَ،  لَهُ  
আর সম্পদের যাকাত বের করে না তাদের কে জাহান্নামের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।
فبشرهم بعذاب اليم
যাকাত ফরজ ধনীদের উপর, যাদের কাছে নিসাব পরিমাণ নগদ অর্থ, সোনা এবং রূপা অবথা নিসাব সমপরিমাণ সম্পদ,ব্যবসায়িক পণ্য ইত্যাদি রয়েছে। এবং যাকাত বন্টন হবে সমাজের দরিদ্র ব্যক্তিদের মাঝে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
فَأَعْلِمْهُمْ  أَنَّ  اللَّهَ  افْتَرَضَ  عَلَيْهِمْ  صَدَقَةً  فِي  أَمْوَالِهِمْ،  تُؤْخَذُ مِنْ أَغْنِيَائِهِمْ  وَتُرَدُّ  عَلَى  فُقَرَائِهِمْ  ‏
তাদেরকে অবগত কর যে, আল্লাহ তা’আলা তাদের উপর তাদের সম্পদের মধ্য থেকে সদকা (যাকাত) ফরয করেছেন। যেটা ধনীদের নিকট থেকে গৃহীত হবে আর দরিদ্রদের মাঝে প্রদান করা হবে। (সহীহ আল বুখারী হাদীস নং ১৩৯৫)।
যাকাতে খাত সম্পর্কে পবিত্র আল কুরআনে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। আল্লাহ রব্বুল আলামীন বলেন:
إِنَّمَا الصَّدَقٰتُ لِلفُقَراءِ وَالمَسٰكينِ وَالعٰمِلينَ عَلَيها وَالمُؤَلَّفَةِ قُلوبُهُم وَفِى الرِّقابِ وَالغٰرِمينَ وَفى سَبيلِ اللَّهِ وَابنِ السَّبيلِ ۖ فَريضَةً مِنَ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ عَليمٌ حَكيمٌ
যাকাত হল কেবল ফকির, মিসকীন, যাকাত আদায় কারী ও যাদের চিত্ত আকর্ষণ প্রয়োজন তাদে হক এবং তা দাস-মুক্তির জন্যে-ঋণ গ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে জেহাদকারীদের জন্যে এবং মুসাফিরদের জন্যে, এই হল আল্লাহর নির্ধারিত বিধান। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। (সূরা তাওবা আয়াত নং ৬০)।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
مَا نَقَصَتْ صَدَقَةٌ  مِنْ  مَالٍ  
সদাকাহ করাতে সম্পদের হ্রাস হয় না। (সহীহ মুসলিম হাদীস নং ৬৪৮৬)।
বরং যাকাত প্রদান করলে সম্পদে বরকত হয়। আল্লাহ রব্বুল আলামীন বলেন:
 وَما ءاتَيتُم مِن رِبًا لِيَربُوَا۟ فى أَموٰلِ النّاسِ فَلا يَربوا عِندَ اللَّهِ ۖ وَما ءاتَيتُم مِن زَكوٰةٍ تُريدونَ وَجهَ اللَّهِ فَأُولٰئِكَ هُمُ المُضعِفونَ
মানুষের ধন-সম্পদে তোমাদের ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পাবে, এই আশায় তোমরা সুদে যা কিছু দাও, আল্লাহর কাছে তা বৃদ্ধি পায় না। পক্ষান্তরে, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পবিত্র অন্তরে যারা দিয়ে থাকে, অতএব, তারাই দ্বিগুণ লাভ করে। (সূরা রূম আয়াত নং ৩৯)।
মনে রাখবেন: ইসলাম ভিক্ষাবৃত্তি কে কখনো সমর্থন করে না, বরং নিষিদ্ধ। অতএব পেশাদার ভিক্ষুকদের কখনো উৎসাহিত করা যাবে না। যাকাতের মাধ্যমে ইসলাম চাই মানুষকে সাবলম্বী করতে, এবং সমাজ থেকে দারিদ্রতা কে দূর ভিত করতে। যদি সঠিক ভাবে যাকাতের আইন বাস্তবায়ন করা হয়, তাহলে ইন-শা-আল্লাহ সমাজ থেকে দুর্ভিক্ষ উঠে যাবে, কেউ দরিদ্র অবস্থায় থাকবে না, সকলেই সাবলম্বী হয়ে দাঁড়াবে। যেমনটি পৃথিবীর মানুষ হযরত উমার বিন আব্দুল আজিজ রহ. এর সময়কালে বাস্তব চিত্রে দৃষ্টিপাত করেছে। আমাদের উচিত ইসলামী বিধিবিধান কে মান্য করে যাকাত প্রদান করা এবং নির্ধারিত খাতে তা বন্টন করা। হে আল্লাহ! তুমি আদের তাওফিক দাও। আমীন।
উক্ত পুস্তিকাটি মূলত উর্দু ভাষায় লিখিত, সংকলক হলেন বিশ্ব বিখ্যাত সালাফী মতাদর্শের কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামিয়া সালাফিয়া বানারাস এর সেক্রেটারি জনাব মাওলানা আব্দুল্লাহ সাউদ সাহেব। বইটি আকারে ছোট কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ, বিষয়বস্তু কে বিস্তারিত আকারে তুলে ধরা হয়েছে। আমি আল্লাহর অশেষ রহমতে বইটির অনুবাদের কাজ সম্পন্ন করলাম। আশাবাদী বাংলাভাষী ভাই সকল উপকৃত হবেন। 
অবশেষে দোয়া করি, হে আল্লাহ! আমাদের রব, তুমি আমার এই ক্ষুদ্রতম প্রচেষ্টাকে কবুল কর এবং এটিকে আমার জন্য এবং আমার পিতা মাতা এবং শিক্ষকমন্ডলীদের জন্য নাজাত ও কল্যাণের মাধ্যম বানিয়ে দাও। আমীন।
وصلى الله على خير خلقه محمد وآله وصحبه اجمعين 
অনুবাদক 
আব্দুর রাকিব নাদভী 
সহ সভাপতি জেলা জমিয়তে আহলে হাদীস উঃ দিনাজপুর 
তারিখ: ১২/১০/২০২৫ রোজ: রবিবার।

Comments

Popular posts from this blog

ভারত বর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে শেরশাহবাদি সম্প্রদায়ের অবদান। আব্দুর রাকিব নাদভী

শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ্বনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভূমিকা।

বাংলা ভাষায় ইসলামী সংস্কৃতির প্রভাব।