উসুলে হাদীস (৪পর্ব) আব্দুর রাকিব নাদভী
উসুলে হাদীস (৪পর্ব)
আব্দুর
রাকিব নাদভী
৭২. প্রশ্ন: মুনকার এবং শায এর মধ্যে পার্থক্য কি?
উত্তর: মুনকার ও শাষ-এর পার্থক্য:-
গ্রহণীয় রাবী যদি তার চেয়েও অধিক শক্তিশালী রাবীর বিপরীত রিওয়ায়াত করে,
তবে তাকে শায বলা হয়। আর সিকাহ্ রাবীর বিপরীতে যঈফ রাবীর
রিওয়ায়াতকে বলা হয় মুনকার। সুতরাং বোঝা যাচ্ছে সিকাহ রাবীর বৈপরীত্যের ক্ষেত্রে
উভয়ের মধ্যে মিল রয়েছে। উভয়ের মধ্যে পার্থক্য হলো: শাষ রিওয়ায়াত এর রাবী গ্রহণীয়
আর মুনকার রিওয়ায়াতের রাবী দুর্বল।
৭৩. প্রশ্ন: মুআল্লাল (المعلل) কাকে বলে?
উত্তরঃ মুআল্লাল হাদীস: যে হাদীসের মধ্যে গোপন দোষ রয়েছে,
কিন্তু উপর দোষমুক্ত। তাকে মুআল্লাল বলা হয়।
৭৪. প্রশ্ন: মুদরাজ (المدرج) দ্বারা কি বুঝায়?
উত্তরঃহাদীস এর সনদ অথবা মতনে বিনা কোনো পার্থক্যে রাবীর পক্ষ থেকে বৃদ্ধিকে
মুদরাজ বলে।
৭৫. প্রশ্ন: যঈফ
(দুর্বল) হাদীস কাকে বলে?
উত্তরঃ যঈফ (দুর্বল) ওই হাদীসকে বলা হয়,
যে হাদীসটি সহীহ হাদীস এবং হাসান পর্যায়ের হাদীসের গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্য থেকে নিম্ন স্তরে।
৭৬. প্রশ্ন: যঈফ
(দুর্বল) হাদীসের উপর আমল করার হুকুম কি?
উত্তরঃ যঈফ (দুর্বল) হাদীসের উপর আমল করা উচিত নয়।
৭৭. প্রশ্ন: কোন
হাদীস সহীহ লি যাতিহি (الصحيح لذاته) হওয়ার জন্য কয়টি শর্ত থাকা জরুরি?
উত্তরঃকোন হাদীস সহীহ হওয়ার জন্য মূলত পাঁচটি শর্ত থাকা জরুরী,
যথা:
১) إتصال السند সনদ মুত্তাসিল (পরস্পর সম্পৃক্ত) হওয়া
২) عدالة الرواة রাবির আদিল (ন্যায়পরায়ণ) হওয়া।
৩) ضبط الرواة রাবি পূর্ণ সংরক্ষণ শক্তি সম্পন্ন হওয়া।
৪) عدم
العلة মুআল্লাল না
হওয়া।
৫) عدم الشذوذ শায না হওয়া।
উল্লিখিত পাঁচটি শর্তের মধ্যে কোন একটি শর্ত যদি কোন হাদীসে অনুপস্থিত থাকে,
তবে তাকে সহীহ লি যাতিহিহাদীস বলা যাবে না।
৭৮. প্রশ্ন: যাবত
ضبط কত প্রকার ও কি কি?
উঃ যাবত মূলতঃ দু প্রকার হয়, যথা- ১) ضبط بالصدر স্মৃতি শক্তির যাবত ২) ضبط
بالكتابة খাতায় লিখে
যাবত।
৭৯. প্রশ্ন: মুতাবে
(المتابع) কাকে বলে?
উত্তরঃ এক রাবির হাদিসের অনুরূপ (শব্দ ও অর্থ উভয়ে অথবা শুধু অর্থে) যদি অপর
রাবীর কোন হাদিস পাওয়া যায়, তবে
দ্বিতীয় রাবীর হাদিসকে প্রথম রাবীর হাদিসের মুতাবি বলা হয়,
যদি উভয় হাদিসের মূল রাবী অর্থাৎ সাহাবী একই ব্যক্তি হন।
৮০. প্রশ্ন: শাহিদ
(الشاهد ) কাকে বলে?
উত্তরঃ এক রাবির হাদিসের অনুরূপ (শব্দ ও অর্থ উভয়ে অথবা শুধু অর্থে) যদি অপর
রাবীর কোন হাদিস পাওয়া যায়, তবে
দ্বিতীয় রাবীর হাদিসকে প্রথম রাবীর হাদিসের শাহিদ বলা হয়,
যদি উভয় হাদিসের মূল রাবী অর্থাৎ সাহাবী একই ব্যক্তি না
হন।
৮১. প্রশ্ন: মুহকাম (المحكم) হাদীস এর সংজ্ঞা কি?
উঃ মুহকাম হাদীস এর আভিধানিক অর্থ: মযবুত। আর এর পারিভাষিক অর্থ: ওই মাকবুল
(গ্রহণযোগ্য) হাদীস কে মুহকাম বলা হয়, যা অনুরূপ হাদীস এর বিরোধিতা থেকে মুক্ত।
৮২. প্রশ্ন: মুখতালাফুল
হাদীস (مختلف الحديث) এর সংজ্ঞা কি?
উঃ ঐ মাকবুল হাদীস কে মুখতালাফুল হাদীস বলা হয়,
যা অনুরূপ হাদীস এর সাথে শব্দ অথবা মর্মার্থের নিরিখে
পারস্পরিক দ্বন্দ্বযুক্ত। তবে হাদিসের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা সম্ভব।
৮৩. প্রশ্ন: মাকলুব
(المقلوب) কাকে বলে?
মাকলুব কত প্রকার ও কি কি?
উত্তর: মাকলুব এর আভিধানিক অর্থ: উলটো।মাকলুব হাদীস মূলত দু প্রকার হয়। ১)
সনদ এর মধ্যে কালব (উল্টো)। যদি সনদ এর মধ্যে উলট-পালট হয়ে থাকে তবে থাকে মাকলুবুস
সনদ (مقلوب السند) বলে। ২) মতন এর মধ্যে কালব (উল্টো)। যদি হাদীস এর মতন এর মধ্যে
উলট-পালট হয়ে থাকে তবে থাকে মাকলুবুল মতন (مقلوب المتن) বলে।
৮৪. প্রশ্ন: মুযতারিব (المضطرب) হাদীস কাকে বলে?
উত্তর: ইযতিরাব এর আভিধানিক অর্থ: অমিল ও ইখতিলাফ। আর পারিভাষিক অর্থে: সমান
শক্তিশালী একাধিক সনদ অথবা মতন এর বৈপরীত্য বা অমিল কে উসুলে হাদীস এর পরিভাষায়
ইযতিরাব বলা হয়। যেগুলোর মাঝে সমন্বয় করা কিংবা কোন একটিকে প্রাধান্য দেওয়া সম্ভব নয়।
৮৫. প্রশ্ন: মুহাদ্দিস (المحدث) কাকে বলে?
উত্তরঃ যে ব্যক্তি হাদীস চর্চা করেন এবং বহু সংখ্যক হাদীসের সনদ ও মতন
সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন তাকে মুহাদ্দিস বলে।
৮৬. প্রশ্ন: হাফিজ (الحافظ) কাকে বলে?
উত্তরঃ যিনি সনদ ও মতনের বৃত্তান্ত সহ ১ লাখ হাদিস আয়ত্ত করেছেন তাকে হাফেজ
বলা হয়।
৮৭. প্রশ্ন: হুজ্জাত (الحجة) কাকে বলে?
উত্তরঃ যিনি সনদ ও মতনের বৃত্তান্ত সহ ৩ লক্ষ্য হাদিস আয়ত্ত করেছেন তাকে
হুজ্জাত বলা হয়।
৮৮. প্রশ্ন: হাকিম (الحاكم) কাকে বলে?
উত্তরঃ যিনি সনদ ও মতনের বৃত্তান্ত সহ সকল হাদীস আয়ত্ত করেছেন।
৮৯. প্রশ্ন: সাহাবা
রাযিয়াল্লাহু আনহুম দের মাঝে مكثرين في الحديث অধিক হাদীস রিওয়ায়াতকারী কয়জন সাহাবী
ছিলেন এবং তাদের নাম কি?
উত্তরঃ সাহাবা রাযিয়াল্লাহু আনহুম দের মাঝে مكثرين
في الحديث অধিক হাদীস
রিওয়ায়াতকারী সাহাবীদের সংখ্যা ছিল ৬জন। তাদের নাম নিম্নরূপ:
১) আবু হুরাইরাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু
২) আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা
৩)আনাস ইবনে মালিক রাযিয়াল্লাহু আনহু
৪) আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা
৫) আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা
৬) জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাযিয়াল্লাহু আনহুমা
৯০. প্রশ্ন: পুরুষদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী হাদীস বর্ণনাকারী কে?
উত্তরঃ হযরত আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু।
৯১. প্রশ্ন: মহিলাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী হাদীস বর্ণনা কে
করেছেন ?
উত্তরঃ হযরত আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা।
৯২. প্রশ্ন: হযরত আবু হুরাইরাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে
বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা কত?
উত্তরঃ ৫৩৭৪টি
৯৩. প্রশ্ন: আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে
বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা কত?
উত্তরঃ ২৬৩০টি
৯৪. প্রশ্ন: হযরত আনাস ইবনে মালিক রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে
বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা কত?
উত্তরঃ ২২৮৬টি
৯৫. প্রশ্ন: হযরত আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত
হাদীসের সংখ্যা কত? উত্তরঃ
২২১০টি
Comments
Post a Comment