আরবি ভাষার শ্রেষ্ঠত্ব। আব্দুর রাকিব নাদভী


আরবি ভাষার শ্রেষ্ঠত্ব
আব্দুর রাকিব নাদভী 
সহ সভাপতি জেলা জমিয়তে আহলে হাদীস উঃ দিনাজপুর 
আরবি ভাষা পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং প্রাচীন ভাষা। সর্বোপরি, এটি পবিত্র কুরআনের ভাষা, যা মানবতার জন্য হেদায়েত এবং জ্ঞানার্জনের উৎস হিসেবে শেষ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর অবতীর্ণ হয়েছে। এটি আরবি ভাষার পবিত্রতা এবং উচ্চ মর্যাদার স্পষ্ট দলিল, যা অন্য ভাষার কপালে জুটেনি।
আরবি ভাষা কেবলমাত্র ভাব প্রকাশের মাধ্যম নয়, বরং এটি একটি পবিত্র সাংস্কৃতিক ও সভ্যতার ভান্ডার। এই ভাষা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিজ্ঞান, শিল্পকলা এবং জ্ঞান সংরক্ষণ করে এসেছে। ইসলামী সভ্যতার স্বর্ণযুগে, আরবি ভাষা ছিল জ্ঞানের ভাষা, যেখানে মুসলমানরা চিকিৎসা, জ্যোতির্বিদ্যা, প্রকৌশল, দর্শন, আইনশাস্ত্র এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে বই লিখেছিলেন এবং এর মাধ্যমে জ্ঞান ইউরোপ এবং বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে প্রবেশ করেছিল।
আরবি ভাষার একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এর ভাষাগত সৌন্দর্য এবং প্রচুর শব্দভাণ্ডার। এই ভাষাটি অত্যন্ত সুস্পষ্ট এবং স্পষ্টভাষী, এবং এর বিভিন্ন ধরণের সংমিশ্রণ এবং অর্থ রয়েছে। প্রতিটি শব্দের একাধিক অর্থ রয়েছে, যা মানুষের অনুভূতি এবং চিন্তাভাবনাকে অত্যন্ত গভীরতা এবং নির্ভুলতার সাথে প্রকাশ করে।
 উল্লেখ থাকে যে আরবি ভাষার সংরক্ষণ আসলে আমাদের (মুসলমানদের) পরিচয় এবং সভ্যতার সংরক্ষণ। এই ভাষা নতুন প্রজন্মকে আমাদের অতীত, ইতিহাস এবং সংস্কৃতির সাথে সংযুক্ত করে। অতএব, আমাদের সকলের উপর আরবি ভাষাকে ভালোবাসা, এটি শেখা, সঠিক উচ্চারণ এবং লেখার মাধ্যমে এটি ব্যবহার করা এবং আমাদের শিশুদের হৃদয়ে এর গুরুত্ব তুলে ধরা দায়িত্ব ও কর্তব্য।
মূল কথা: আরবি ভাষা এমন একটি সূর্য যার কখনও অস্ত নেই। যত বেশি আমরা এই ভাষা গ্রহণ এবং প্রচার করব, তত বেশি আমরা উন্নতি,  অগ্রগতি এবং মহত্ত্বের পথে এগিয়ে যাব এবং আমরা আমাদের গৌরবময় অতীতের ন্যায় স্বর্ণ এবং যোগ্য ভবিষ্যত গড়ে তুলতে সক্ষম হব ইন-শা-আল্লাহ।

Comments

Popular posts from this blog

ভারত বর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে শেরশাহবাদি সম্প্রদায়ের অবদান। আব্দুর রাকিব নাদভী

শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ্বনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভূমিকা।

বাংলা ভাষায় ইসলামী সংস্কৃতির প্রভাব।