(দ্বিতীয় পারা)
(দ্বিতীয় পারা)
(দ্বিতীয় পারায় (16) রুকু এবং (111) আয়াত সমূহ আছে)
سَيَقولُ
السُّفَهاءُ مِنَ
النّاسِ ما
وَلّىٰهُم عَن
قِبلَتِهِمُ الَّتى
كانوا عَلَيها
ۚ قُل
لِلَّهِ المَشرِقُ
وَالمَغرِبُ ۚ
يَهدى مَن
يَشاءُ إِلىٰ
صِرٰطٍ مُستَقيمٍ (১৪২)
[142] " শীঘ্রই মূর্খ লোকেরা (ইহুদী এবং যারা সত্যকে অস্বীকার করে)
বলবে যে মুসলমানদেরকে কি জিনিস এই কিবলা (بيت
المقدس) বায়তুল মাকদিস থেকে ফিরিয়ে দিয়েছে?
যে ক্বিবলার দিকে তাঁরা আগে নামায পড়ত,
আপনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলে দিন:
"পূর্ব" ও " পশ্চিম"
আল্লাহরই, তিনি যাকে ইচ্ছা সোজা পথ দেখান"।
* নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম "16"
বা "17" মাস
ধরে بيت
المقدس (বায়তুল মাকদিস) এর দিকে
মুখ করে নামাজ আদায় করতেন এবং ইচ্ছা প্রকাশ করেন যেন কাবা ঘরের দিকে মুখ ফিরে
দেওয়া হয়, যেটি
ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম এর কিবলা ছিল, আল্লাহ আশা পূরণ করেন, এবং কাবা ঘরের দিকে মুখ করার আদেশ দিলেন। (সহীহ বুখারী
কিতাবুল ঈমান, নামাজ
ঈমানের অঙ্গ অধ্যায় - হাদিস - নং (40)।
[143]
وَكَذٰلِكَ جَعَلنٰكُم
أُمَّةً وَسَطًا
لِتَكونوا شُهَداءَ
عَلَى النّاسِ
وَيَكونَ الرَّسولُ
عَلَيكُم شَهيدًا
ۗ وَما
جَعَلنَا القِبلَةَ
الَّتى كُنتَ
عَلَيها إِلّا
لِنَعلَمَ مَن
يَتَّبِعُ الرَّسولَ
مِمَّن يَنقَلِبُ
عَلىٰ عَقِبَيهِ
ۚ وَإِن
كانَت لَكَبيرَةً
إِلّا عَلَى
الَّذينَ هَدَى
اللَّهُ ۗ
وَما كانَ
اللَّهُ لِيُضيعَ
إيمٰنَكُم ۚ
إِنَّ اللَّهَ
بِالنّاسِ لَرَءوفٌ
رَحيمٌ
(143)" আর (মুসলিমগণ!) একইভাবে আমি তোমাদেরকে "أمت
وسط" মধ্যম জাতি (মধ্যম, মধ্যপন্থী ও সর্বোত্তম জাতি) বানিয়েছি,
যাতে তোমরা সকল মানুষের ওপর সাক্ষী হতে পার এবং রাসূল
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তোমাদের ওপর সাক্ষী রয়েছেন,
এবং আমি আপনার জন্য প্রথম কিবলা (বায়তুল মাকদিস) এ জানর
জন্য বানিয়েছিলাম যে দেখি কে আমার রাসূলের আদেশ মান্য করে?,
আর কে উল্টো পা পিছনে ফিরে যায়?
(অর্থাৎ কে ইসলাম ত্যাগ করে?),
এবং কিবলার এই পরিবর্তন (বাইতুল মাকদিস থেকে বাইত আল্লাহ
কাবার দিকে) একটি কঠিন বিষয় ছিল, কিন্তু সেই লোকদের জন্য (এটি মোটেই কঠিন ছিল না) যাদেরকে
আল্লাহ সরল পথ দেখিয়েছেন এবং আল্লাহ তোমাদের ঈমান (নামাজ)কখনই বাতিল করবেন না, নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের প্রতি পরম মেহেরবান(সহানুভূতিশীল,
করুনাময় ) অনেক রহম কারী"।
* সূরা বাকারায় মোট 186 টি আয়াত আছে, উম্মতে মোহাম্মদীয়া মধ্য পন্থী উম্মত,
ইত্তেফাক দেখুন যে এই আদেশটিও আয়াত 143
এর মধ্যে রয়েছে।
* মধ্যপন্থী এবং "মধ্য উম্মত" এর ব্যাখ্যা:
দুনিয়ার জাতিগুলির জন্য, উম্মতে মুহাম্মাদিয়া
"সদর" এর অবস্থান রাখে, যেমন রয়েছে উম্মতে মোহাম্মদীয়ার কাছে সর্বোত্তম কিবলা
"কাবা" তেমনি সর্বোত্তম এবং সহজ ধর্ম ইসলাম।
قَد نَرىٰ تَقَلُّبَ
وَجهِكَ فِى السَّماءِ ۖ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبلَةً تَرضىٰها ۚ فَوَلِّ وَجهَكَ
شَطرَ المَسجِدِ الحَرامِ ۚ وَحَيثُ ما كُنتُم فَوَلّوا وُجوهَكُم شَطرَهُ ۗ
وَإِنَّ الَّذينَ أوتُوا الكِتٰبَ لَيَعلَمونَ أَنَّهُ الحَقُّ مِن رَبِّهِم ۗ
وَمَا اللَّهُ بِغٰفِلٍ عَمّا يَعمَلونَ।(১৪৪)
[144] " (হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আমি লক্ষ্য করছি
যে আপনার মুখমন্ডল বারবার আকাশের দিকে উঠছে, তাই আমি অবশ্যই আপনাকে সেই কিবলার দিকে ঘুরিয়ে দেব যেটি আপনি
পছন্দ করেন, তাই
আপনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনার "চেহারা" মসজিদে হারাম (কাবা)
এরর দিকে ফিরিয়ে নিন, এবং (হে মুসলমানগণ!) তোমরা যেখানেই থাকো নামাজে নিজের
"চেহারা" মসজিদে হারাম (কাবা)র দিকে করে নামাজ আদায় কর, আর
যাদেরকে কিতাব (তাওরাত, যবুর, ইঞ্জিল ইত্যাদি) দেওয়া হয়েছে তারা তো খুব ভালোভাবেই জানেন
যে (কিবলা পরিবর্তন) তাদের রবের পক্ষ থেকে সত্য, আল্লাহ তাদের কাজকর্ম সম্পর্কে গাফিল (বেখবর) নন"।
وَلَئِن أَتَيتَ الَّذينَ أوتُوا الكِتٰبَ بِكُلِّ ءايَةٍ ما
تَبِعوا قِبلَتَكَ ۚ وَما أَنتَ بِتابِعٍ قِبلَتَهُم ۚ وَما بَعضُهُم بِتابِعٍ
قِبلَةَ بَعضٍ ۚ وَلَئِنِ اتَّبَعتَ أَهواءَهُم مِن بَعدِ ما جاءَكَ مِنَ العِلمِ
ۙ إِنَّكَ إِذًا لَمِنَ الظّٰلِمينَ (১৪৫)
[145] "আর যদি আপনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আহলে কিতাব
(ইহুদি ও নাসারা) দের কাছে কোনো নিদর্শন নিয়ে আসেন, তবুও তারা আপনার কেবলা (মসজিদ আল-হারাম,
কাবা) মেনে নেবে না, এবং আপনিও (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের কিবলা মেনে
নেবেন না, আর
নাহি তারা এক অপরের কিবলা কে মেনে নেবে, আর যদি আপনি আপনার কাছে ইলম এসে যাওয়ার পর তাদের অন্তরের কথাগুলো
মেনে নেন, তবে
নিশ্চয়ই আপনি জালেমদের অন্তর্ভুক্ত হবেন"।
* মুসলমানদের কেবলা হল "বায়তুল্লাহ" মসজিদ হারাম, কাবা।
*ইহুদীদের
কিবলা: صخرة
بيت المقدس (বাইতুল মাকদিস
এর শীলা)।
* আর ঈসায়ীদের কিবলা:
বায়তুল মাকদিস এর "পূর্ব" দিকের অংশ। সুতরাং যখন সবাই বনি ইসরাইল হওয়া সত্ত্বেও এক অপরের
কিবলার প্রতি একমত নয় তাহলে আপনার সাথে তারা কিভাবে একমত হতে পারে?
আপনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছ থেকে ভালো আশা
করবেন না।
[146]
الَّذينَ ءاتَينٰهُمُ الكِتٰبَ يَعرِفونَهُ كَما يَعرِفونَ
أَبناءَهُم ۖ وَإِنَّ فَريقًا مِنهُم لَيَكتُمونَ الحَقَّ وَهُم يَعلَمونَ
[146] " যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছি তারা তাকে (অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামকে) চেনে যেভাবে তারা তাদের সন্তানদেরকে চেনে,
তবুও তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক মানুষ সত্যকে জেনে শুনে গোপন করে"।
* আহলে কিতাব (ইহুদি এবং নাসারা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
কে নিজের পুত্রদের মত চেনে:
"পিতা" র মত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে চেনে
এটা বলা হয়নি, কারণ
ব্যক্তির পিতা কে এর মধ্যে "সন্দেহ" থাকতে পারে,
কিন্তু সন্তানদের সম্পর্কে "সন্দেহ" থাকে না, সন্তানদের সম্পর্কে পুরো বিশ্বাস থাকে যে এটা আমার সন্তান।
(তাইসিরুল কুরআন)।
الحَقُّ مِن رَبِّكَ ۖ فَلا تَكونَنَّ مِنَ المُمتَرينَ (১৪৭)
[147] " (হে নবী সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম!) নিশ্চয়ই আপনার রবের পক্ষ
থেকে (কুরআন, দ্বীন
এবং কিবলা) এটাই সত্য, কাজেই আপনি সন্দেহ কারীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।
وَلِكُلٍّ وِجهَةٌ هُوَ
مُوَلّيها ۖ فَاستَبِقُوا الخَيرٰتِ ۚ أَينَ ما تَكونوا يَأتِ بِكُمُ اللَّهُ
جَميعًا ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلىٰ كُلِّ شَيءٍ قَديرٌ
(১৪৮)
[148] " এবং প্রত্যেকের জন্য একটি দিক (একটি কিবলা) রয়েছে যার দিকে
সে (ইবাদতের সময়) মুখ করে থাকে, সুতরাং তোমরা যেখানেই থাক না কেন ভাল কাজে একে অপর থেকে এগিয়ে
যাওয়ার জন্য পুরো চেষ্টা কর, তোমরা যেখানে ই থাকো, আল্লাহ তোমাদের সবাইকে ( জমা করে নিজের কাছে) নিয়ে আসবেন,
নিশ্চয়ই আল্লাহ সব জিনিসের উপর পূর্ণ রূপে ক্ষমতাবান (আল্লাহ
প্রত্যেকটি জিনিসের উপর পূর্ণ ক্ষমতা ও শক্তি রাখেন)"।
وَمِن حَيثُ خَرَجتَ فَوَلِّ وَجهَكَ شَطرَ المَسجِدِ الحَرامِ ۖ
وَإِنَّهُ لَلحَقُّ مِن رَبِّكَ ۗ وَمَا اللَّهُ بِغٰفِلٍ عَمّا تَعمَلونَ (১৪৯)
[149] "এবং (হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!) আপনি যেখান থেকেই
(সফরে জন্য) বের হন, (নামাযের সময়) নিজের মুখ মসজিদে হারাম (কাবার) দিকে করুন, নিশ্চয়ই আপনার রবের পক্ষ থেকে এটি " হক" ( একেবারে
সঠিক),
আর (হে লোকেরা!) তোমাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে গাফিল (বেখবর)
নন "।
[150]
وَمِن حَيثُ خَرَجتَ فَوَلِّ وَجهَكَ شَطرَ المَسجِدِ الحَرامِ ۚ
وَحَيثُ ما كُنتُم فَوَلّوا وُجوهَكُم شَطرَهُ لِئَلّا يَكونَ لِلنّاسِ عَلَيكُم
حُجَّةٌ إِلَّا الَّذينَ ظَلَموا مِنهُم فَلا تَخشَوهُم وَاخشَونى وَلِأُتِمَّ
نِعمَتى عَلَيكُم وَلَعَلَّكُم تَهتَدونَ
[150] "আর আপনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যেখান থেকেই (সফরে)
যান,
(নামাজে) নিজের মুখ মসজিদুল হারাম
(কাবা) এর দিকে করুন, এবং (হে মুসলমান!) তোমরা যেখানেই থাকো (নামাজে) তোমাদের মুখ
মসজিদে হারাম (কাবার) দিকে ফেরাও, যাতে লোকেদের কাছে তোমাদের বিরুদ্ধে কোন প্রমাণ না থাকে,
কিন্তু যারা অন্যায় করেছে (তারা আপত্তি করতে থাকবে),
সুতরাং তোমরা তাদেরকে দেখে ভয় করো না আর শুধুমাত্র আমাকেই ভয়
কর,
আর এজন্যেও (আমাকে ভয় কর) যাতে আমি আমার নেয়ামত তোমাদের উপর
পূর্ণ করে দিই, আর
এজন্যেও যে তোমরা সোজা রাস্তার উপর চলে আসো (যাতে করে তোমরা হেদায়েত পেয়ে যাও)"।
[151]
كَما أَرسَلنا فيكُم رَسولًا مِنكُم يَتلوا عَلَيكُم ءايٰتِنا
وَيُزَكّيكُم وَيُعَلِّمُكُمُ الكِتٰبَ وَالحِكمَةَ وَيُعَلِّمُكُم ما لَم تَكونوا
تَعلَمونَ
[151] " " (হে মুসলমানগণ!) অন্যান্য
নিয়ামতের মতই একটি নিয়ামত এটাও) যে, আমি তোমাদের মধ্যে একজন রসূল (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
প্রেরণ করেছি, যিনি
তোমাদের সামনে আমার আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করেন ( পড়েন),
এবং তোমাদেরকে পবিত্র করেন, এবং তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত (কুরআন ও হাদিস) শিক্ষা দেন, এবং
তোমাকে তা শিক্ষা দেয় যা তোমরা জানতে না"।
فَاذكُرونى أَذكُركُم وَاشكُروا لى وَلا تَكفُرونِ (১৫২)
[152] " (হে লোকেরা!) তোমরা আমাকে স্মরণ কর,
আমিও তোমাদের স্মরণে রাখবো এবং আমার শুকরিয়া আদায় কর এবং
আমার নাশুকরি হয়ো না"।
يٰأَيُّهَا الَّذينَ ءامَنُوا استَعينوا بِالصَّبرِ وَالصَّلوٰةِ
ۚ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصّٰبِرينَ (১৫৩)
[153] " হে ঈমানদারগণ! তোমরা ধৈর্য্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য চাও।
নিশ্চিতই আল্লাহ ধৈর্য্যশীলদের সাথে রয়েছেন"।
وَلا تَقولوا لِمَن يُقتَلُ فى سَبيلِ اللَّهِ أَموٰتٌ ۚ بَل
أَحياءٌ وَلٰكِن لا تَشعُرون (১৫৪)
[154] " আর যারা আল্লাহর রাস্তায় হত্যা করা হয় (শহীদ হন),
তাদেরকে মৃত বল না, বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা (তাদের জীবন) বুঝতে পারবেন না"।
وَلَنَبلُوَنَّكُم بِشَيءٍ مِنَ الخَوفِ وَالجوعِ وَنَقصٍ مِنَ
الأَموٰلِ وَالأَنفُسِ وَالثَّمَرٰتِ ۗ وَبَشِّرِ الصّٰبِرينَ (১৫৫)
[155] " আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কখনও ভয়ে,
কখনও ক্ষুধা (এবং তৃষ্ণা) দিয়ে এবং কখও ধন-সম্পদ ও জীবন এবং
ফলের ক্ষয়ক্ষতির মাধ্যমে এবং (হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! ) ধৈর্যশীলদেরকে
সুসংবাদ শুনিয়ে দিন" ।
[156]
الَّذينَ إِذا أَصٰبَتهُم مُصيبَةٌ قالوا إِنّا لِلَّهِ وَإِنّا
إِلَيهِ رٰجِعونَ
[156] " ধৈর্যশীল তো তারাই যারা) যখন তাদের উপর কোন বিপদ আসে তখন বলে:
إنا لله و انا اليه راجعون (নিশ্চয়ই আমরা তো আল্লাহরই জন্য এবং নিশ্চয়ই আমাদেরকে তাঁর কাছে ফিরে যেতে হবে)"।
أُولٰئِكَ عَلَيهِم
صَلَوٰتٌ مِن رَبِّهِم وَرَحمَةٌ ۖ وَأُولٰئِكَ هُمُ المُهتَدونَ (১৫৭)
[157] " এই ধরনের ধৈর্যশীলদের উপর তাদের রবের পক্ষ থেকে অনুগ্রহ (মেহেরবান)
হয়,
এবং রহমত হয়, এবং এরাই সঠিক পথে পরিচালিত রয়েছে "।
إِنَّ الصَّفا
وَالمَروَةَ مِن شَعائِرِ اللَّهِ ۖ فَمَن حَجَّ البَيتَ أَوِ اعتَمَرَ فَلا
جُناحَ عَلَيهِ أَن يَطَّوَّفَ بِهِما ۚ وَمَن تَطَوَّعَ خَيرًا فَإِنَّ اللَّهَ
شاكِرٌ عَليمٌ (১৫৮)
[158] " নিশ্চয় সাফা ও মারওয়া (মক্কার দুই পাহাড়) আল্লাহর নিদর্শনসমূহের
মধ্যে রয়েছে, সুতরাং
যে কেউ হজ বা ওমরাহ করবে, তার কোনো গুনাহ নেই
যে সে ওই দুই (সাফা ও মারওয়া) মধ্যবর্তী স্থানে তাওয়াফ করবে (সায়ী করবে),
এবং যে ব্যক্তি নিজ থেকে কোনো নেক আমল করবে,
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে ভালো প্রতিদান দিবেন ( বড় কদরকারী),
তিনি সবকিছুই জানেন"।
إِنَّ الَّذينَ يَكتُمونَ
ما أَنزَلنا مِنَ البَيِّنٰتِ وَالهُدىٰ مِن بَعدِ ما بَيَّنّٰهُ لِلنّاسِ فِى
الكِتٰبِ ۙ أُولٰئِكَ يَلعَنُهُمُ اللَّهُ وَيَلعَنُهُمُ اللّٰعِنونَ (১৫৯)
[159] " নিশ্চয়ই যারা আমাদের নাযিলকৃত নিদর্শন (উজ্জল দলিল) ও হেদায়েত
গোপন করে,
অথচ আমি ওই বিষয়গুলোকে আমার কিতাবে বিস্তারিত আকারে বর্ণনা
করেছি,
অতএব এই ধরনের লোকদের উপর আল্লাহর লানত ( আল্লাহর রহমত থেকে
দূরত্ব এবং অভিশাপ) এবং সব লানতকারীদের লানতও (অভিশাপও)"।
إِلَّا الَّذينَ تابوا وَأَصلَحوا وَبَيَّنوا فَأُولٰئِكَ أَتوبُ
عَلَيهِم ۚ وَأَنَا التَّوّابُ الرَّحيمُ
(১৬০)
[160] " তবে সেসব লোকের উপর (লানত নয়) যারা (সত্যিকারে) তাওবা করে নিজেদেরকে
সংশোধন করেছে (সংস্কার করেছে), এবং সত্য প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছে,
আমি এমন লোকদের তওবা কবুল করি,
এবং আমি বড় তাওবা কবুলকারী, পরম মেহেরবান"।
إِنَّ الَّذينَ كَفَروا وَماتوا وَهُم كُفّارٌ أُولٰئِكَ
عَلَيهِم لَعنَةُ اللَّهِ وَالمَلٰئِكَةِ وَالنّاسِ أَجمَعينَ (১৬১)
[161] " নিশ্চয় যারা কুফরী করেছে (ইসলাম কবুল করেনি),
এবং কাফের অবস্থায়ই মৃত্যুবরণ করেছে, তবে
তাদের প্রতি আল্লাহর লানত (আল্লাহর রহমত থেকে দূরত্ব এবং অভিশাপ),
এবং
ফেরেশতাগনের এবং সমগ্র মানুষের লা’নত"।
* কাফের
শব্দ গালি নয়, কাফের
কাকে বল: কাফের শব্দের আভিধানিক অর্থ: গোপনকারী, তাই: (1) রাত কে "কাফের"
বলা হয়,
কারণ রাত সব কিছু অন্ধকারে লুকিয়ে রাখে,
(2) কৃষক কেও "কাফের" বলা
হয়,
কারণ সে মাটিতে শস্য লুকিয়ে রাখে,
দেয়, তাই কাফের আল্লাহর নূর লুকিয়ে রাখতে চায়,
অথবা তার অন্তরে কুফর-নিফাক এবং মুসলমান এবং ইসলামের বিরুদ্ধে
বিদ্বেষ,
ঘৃণা এবং শত্রুতা লুকিয়ে রাখে,
তাই তাকে "কাফের " বলা হয়"। (আহসানুল বায়ান,
দশম পারা সুরা তাওবা আয়াত নং 32 এর ব্যাখ্যা)।
خٰلِدينَ فيها ۖ لا يُخَفَّفُ عَنهُمُ العَذابُ وَلا هُم
يُنظَرونَ (১৬২)
[162] " সেই মানুষগুলো সর্বদা এই জাহান্নামেই (এই লানতে) থাকবে,
না তাদের উপর থেকে আযাব হালকা করা হবে,
আর নাহি তাদেরকে অবকাশ (ছাড়)দেয়া হবে"।
وَإِلٰهُكُم إِلٰهٌ
وٰحِدٌ ۖ لا إِلٰهَ إِلّا هُوَ الرَّحمٰنُ الرَّحيمُ
(১৬৩)
[163] " আর (হে লোকসকল!) তোমাদের সকলের মাবুদ যার এবাদত করা হয় তিনি
হলেন) একমাত্র মাবুদ, তিনি ছাড়া (বাস্তব এবং সত্য) মাবুদ নেই,
তিনি বড় মেহেরবান, বড় রহমকারী"।
إِنَّ فى خَلقِ
السَّمٰوٰتِ وَالأَرضِ وَاختِلٰفِ الَّيلِ وَالنَّهارِ وَالفُلكِ الَّتى تَجرى فِى
البَحرِ بِما يَنفَعُ النّاسَ وَما أَنزَلَ اللَّهُ مِنَ السَّماءِ مِن ماءٍ
فَأَحيا بِهِ الأَرضَ بَعدَ مَوتِها وَبَثَّ فيها مِن كُلِّ دابَّةٍ وَتَصريفِ
الرِّيٰحِ وَالسَّحابِ المُسَخَّرِ بَينَ السَّماءِ وَالأَرضِ لَءايٰتٍ لِقَومٍ
يَعقِلونَ (১৬৪)
[164] "নিঃসন্দেহে আসমান ও যমীনের সৃষ্টিতে,
রাত ও দিনের পর্যায়ক্রমে, এবং সমুদ্রে চলাচলকারী নৌকাসমূহ (ও জাহাজ সমূহ),
যা মানুষের কল্যাণের জিনিসপত্র বহন করে সুমদ্রে চলাচল করে,
এবং ওই বৃষ্টির পানিতে যা আল্লাহ আকাশ থেকে বর্ষণ করে, এবং
যা দ্বারা মৃত্যু জমিন জীবিত করে তুলে, আর যে জমিনে আল্লাহ সকল প্রকার জীবন্ত প্রাণী ছড়িয়ে দিয়েছেন,আর বাতাসের পরিবর্তনে এবং মেঘের মধ্যে যা আকাশ ও জমিনের মাঝখানে
ঘোরাফেরা করে, এগুলোর
মধ্যে বিবেকবান দের জন্য (আল্লাহর অনেক) নিদর্শন রয়েছে"।
وَمِنَ النّاسِ مَن يَتَّخِذُ مِن دونِ اللَّهِ أَندادًا
يُحِبّونَهُم كَحُبِّ اللَّهِ ۖ وَالَّذينَ ءامَنوا أَشَدُّ حُبًّا لِلَّهِ ۗ
وَلَو يَرَى الَّذينَ ظَلَموا إِذ يَرَونَ العَذابَ أَنَّ القُوَّةَ لِلَّهِ
جَميعًا وَأَنَّ اللَّهَ شَديدُ العَذابِ
(১৬৫)
[165] " আর (এসব নিদর্শন দেখার পরও) কিছু লোক এমন আছে যারা আল্লাহ ছাড়া
অন্যান্যকে তার শরীক (অংশীদার ) করে, এবং তাদেরকে আল্লাহ মত করে ভালোবাসে,
এবং যারা ঈমানদার তারা আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে,
আফসোস জালিমরা (হক অস্বীকারকারীরা) আজ এটা বুঝত,
যা তারা (আগামীকাল কিয়ামতের দিন) আযাব দেখার পর বুঝবে! (তখন
তারা জানবে যে) নিশ্চয়ই সমস্ত ক্ষমতা ও শক্তি একমাত্র আল্লাহরই কাছে আছে,
এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা"।
إِذ تَبَرَّأَ الَّذينَ اتُّبِعوا مِنَ الَّذينَ اتَّبَعوا
وَرَأَوُا العَذابَ وَتَقَطَّعَت بِهِمُ الأَسبابُ
(১৬৬)
[166] " যখন পেশওয়া (পীর, সর্দার, দায়িত্বশীল) মানুষ যাদের কথা (দুনিয়াতে) মানা হত,
আযাব যখন দেখবে, তখন তারা তাদের অনুসারীদের প্রতি (তাদের ভক্তদের প্রতি)
"বিতৃষ্ণ ও অসন্তুষ্ট" হয়ে উঠবে (তাদের ভক্তদের থেকে নিজেকে মুক্ত করবে),
এবং তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক শেষ হয়ে যাবে (সকল সম্পর্ক ছিন্ন
হয়ে যাবে)"।
[167]
وَقالَ الَّذينَ اتَّبَعوا لَو أَنَّ لَنا كَرَّةً فَنَتَبَرَّأَ
مِنهُم كَما تَبَرَّءوا مِنّا ۗ كَذٰلِكَ يُريهِمُ اللَّهُ أَعمٰلَهُم حَسَرٰتٍ
عَلَيهِم ۖ وَما هُم بِخٰرِجينَ مِنَ النّارِ
[167] " আর অনুসারীরা (মুরিদরা)
(তাদের পীরদের, দায়িত্বশীলদের, নেতাদের, সর্দারদের প্রতি আফসোস করে) বলবে: আফসোস! আমরা
(দুনিয়ায় যাবার) আরেকটা সুযোগ পেলে আমরাও তাদের (পীরদের) থেকে
নিজেদের কে তেমনি "অসন্তুষ্ট" হয়ে যেতাম ( সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন,
জীবনকে মুক্ত, দূর হয়ে যেতাম) যেমন তারা আজ আমাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছে,
এভাবেই আল্লাহ তাদেরকে
দেখাবেন তাদের আমল (কৃতকর্ম) তাদের জন্য আফসোস আর আফসোস হবে,
এখন এই লোকেরা জাহান্নাম থেকে বের হতে পারবে না"।
يٰأَيُّهَا النّاسُ كُلوا
مِمّا فِى الأَرضِ حَلٰلًا طَيِّبًا وَلا تَتَّبِعوا خُطُوٰتِ الشَّيطٰنِ ۚ
إِنَّهُ لَكُم عَدُوٌّ مُبينٌ (১৬৮)
[168] " হে লোকেরা! পৃথিবীতে
যা কিছু হালাল ও পবিত্র বস্তু আছে তা খাও (পান কর), এবং শয়তানের দেখানো পথ অনুসরণ করো না,
নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু"।
* শয়তানের পিছে চলার অর্থ:
আল্লাহ যে জিনিসগুলোকে হালাল করেছেন সেগুলোকে হারাম করবে না,
যেমন আরবের মুশরিকরা মূর্তির নামে গরু ছেড়ে দিত,
তারপর এসব পশুর গোশত খেত, বা তাদের থেকে কোনো প্রকার ফায়দা উঠানো হারাম মনে করত,
অথচ সেসব পশু ছিল হালাল, অথবা
আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা হালাল মনে করবেন না, যেমন ইহুদীরা সুদ (বিয়াজ) কে হালাল করেছে অথচ আল্লাহ সুদ (বিয়াজ)
হারাম করেছেন। (তাইসিরুল কুরআন)।
* "শয়তান" এর রাস্তা:
যেমন: কুফর ও শিরক, নিফাক, যিনা, মদ, হত্যা, চুরি, ডাকাতি, লুটপাট করা,গান বাজনা, মিউজিক শোনা, সুদ, এবং হারাম উপার্জন এবং এধরনের সমস্ত কর্ম শয়তানের রাস্তা,
তাই শয়তানের পথে চল
না।
[169]
إِنَّما يَأمُرُكُم بِالسّوءِ وَالفَحشاءِ وَأَن تَقولوا عَلَى
اللَّهِ ما لا تَعلَمونَ
[169] "সে (শয়তান) তোমাদেরকে শুধু মন্দ ও অশ্লীলতার (নির্লজ্জার) নির্দেশ
দেয় এবং সে (এও শিখায়) যে, তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে এমন কিছু বল যা সম্পর্কে তোমাদের কোন
জ্ঞান নেই"।
وَإِذا قيلَ لَهُمُ
اتَّبِعوا ما أَنزَلَ اللَّهُ قالوا بَل نَتَّبِعُ ما أَلفَينا عَلَيهِ ءاباءَنا ۗ
أَوَلَو كانَ ءاباؤُهُم لا يَعقِلونَ شَيـًٔا وَلا يَهتَدونَ
(১৭০)
[170] "আর যখন তাদের (হক অস্বীকারকারীদের) কে বলা হয় যে,
আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তার প্রতি চল,
তখন তারা বলে: (না) বরং আমরা তো সেই পথেই চলবো যে (পথে) আমরা
আমাদের বাপ-দাদাকে পেয়েছি, ( উত্তর দেওয়া হয়েছে) যদিও তাদের বাপ-দাদারা কিছুই না বুঝছেন?
এবং না সঠিক পথে হয়? (তবুও
কি এইসব লোকেরা তাদের পথ চলবে?)"।
* বাপ দাদাদের অন্ধ অন্ধ অনুকরণ এবং বুজরুগদের অন্ধ ভক্তির ক্ষতি:
বাবা দাদাদের অন্ধ অনুকরণের কারণেও মানুষ পথভ্রষ্ট হয়,
বুজরুগদের অন্ধ ভক্তি মাঝে মাঝে মানুষকে ডুবিয়ে দেয়,
বাপ-দাদাদের আমল শরিয়ত নয়, বাপ-দাদাদের পদ্ধতি ধর্ম নয়, কিয়ামতের দিন কেউ কারো কোনো কিছুই কাজে আসবে না।
(তাইসিরুল কুরআন)।
وَمَثَلُ الَّذينَ كَفَروا كَمَثَلِ الَّذى يَنعِقُ بِما لا
يَسمَعُ إِلّا دُعاءً وَنِداءً ۚ صُمٌّ بُكمٌ عُمىٌ فَهُم لا يَعقِلونَ (১৭১)
[171] " আর কাফেরদের (সত্য অস্বীকারকারী দের) দৃষ্টান্ত সেই "রাখালের" মত, যে পশুদেরকে জোরে জোরে ডাকে, কিন্তু ঐ পশুরা শুধু তার "ডাক" ও "আওয়াজ" শোনে, (কিন্তু বোঝে না), একইভাবে কাফের (সত্য শোনা থেকে) বধির,
(সত্য
বলা থেকে)বোবা, (সত্যের
পথ দেখা থেকে) অন্ধ, এরা কিছুই বোঝে না"।
* এরা বিবেকিনহীন পশুদের মত:
যে পশুরা শুধু রাখালের আওয়াজ শুনেই ঘুরে
দাঁড়ায়,
তারা কণ্ঠস্বর বোঝে না, কাফেরদের সামনে হক উপস্থিত, হেদায়েতের সব নিদর্শনসমূহ উপস্থিত রয়েছে,
স্বয়ং তাদের মধ্যে নিদর্শন রয়েছে,
আকাশ-জমিনে নিদর্শন রয়েছে, হাজার হাজার দলিল-প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও সত্য তাদের চোখের আড়ালে। (আহসানুল-বায়ান)।
يٰأَيُّهَا الَّذينَ ءامَنوا كُلوا مِن طَيِّبٰتِ ما رَزَقنٰكُم
وَاشكُروا لِلَّهِ إِن كُنتُم إِيّاهُ تَعبُدونَ
(১৭২)
[172] "হে ঈমানদারগণ! আমার দেওয়া পবিত্র বস্তুগুলো খাও,
এবং যদি তোমরা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত কর,
তবে তাঁর নেয়ামতের জন্য শুকরিয়া আদায় কর"।
إِنَّما حَرَّمَ عَلَيكُمُ المَيتَةَ وَالدَّمَ وَلَحمَ
الخِنزيرِ وَما أُهِلَّ بِهِ لِغَيرِ اللَّهِ ۖ فَمَنِ اضطُرَّ غَيرَ باغٍ وَلا
عادٍ فَلا إِثمَ عَلَيهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ غَفورٌ رَحيمٌ
(১৭৩)
[173] " নিশ্চয়ই তিনি (আল্লাহ) তোমাদের জন্য মরা এবং রক্ত এবং শূকরের মাংস এবং যে সব কিছু হারাম
করেছেন যা (আল্লাহ ছাড়া ) অন্যের নাম ডাকা হয়েছে ( আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে জবাই হয়েছে), কিন্তু কেউ যদি (হারাম কিছু খেতে) বাধ্য হয়,
সে না বিদ্রোহ, ( না নাফারমান), আর না সীমা অতিক্রমকারী হয়, (তখন যদি সে তার জীবন রক্ষার জন্য হারাম কিছু ব্যবহার করে) তাহলে
তার কোন পাপ নেই, নিশ্চয় আল্লাহ বড় ক্ষমাশীল এবং বড় মেহেরবান"।
* এ আয়াতে (4) হারাম জিনিসের কথা বলা হয়েছে। (তাইসিরুল কুরআন)।
(1) الميتة মৃত প্রাণী হারাম:
যে কোন প্রাণী জবাই ছাড়া বা শিকার করা ছাড়াই মারা গেছে,
দুই মৃত হালাল, "মাছ" ও "পঙ্গপাল"। হাদিসে আছে। (সুনান ইবনে মাজাহ কিতাবুল আত্বয়েমা
হাদিস নং 3314)।
(সহিহ)।
(2) الدم (রক্ত) হারাম রয়েছে:
যেকোনো রক্ত যা জবাই করার সময় পশুর শরীর থেকে দ্রুত বের হয়। "দুই ধরনের
রক্ত" হালাল আছে: "কলিজা" এবং
"প্লীহা"।(সুনান ইবনে মাজাহ কিতাবুল আত্বয়েমা হাদিস নং 3314)। (সহিহ)।
(3) لحم
الخنزير (শূকরের মাংস) হারাম:
তা গৃহপালিত হোক বা বন্য, এর মাংস হারাম, এর চর্বি এবং সব কিছুই হারাম।
(4) ما
أهل به لغير الله ( প্রত্যেক কিছু যার উপর আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নাম নেওয়া হয়েছে):
কারো নামে জবাই করা, বা কারো নামে দেওয়া, বা কোনো দেবি দেবতার নৈকট্য অর্জনের জন্য তার নামে দেওয়া,
জবাই করার সময়ে আল্লাহর নাম নেওয়া হলেও তা হারাম। এটি হুকুম
ঐ পশুর যেসব পশু নবী, ওলী, বুজুর্গ ও নেককার লোকদের জন্য জবাই করা হয়।
* হারাম বস্তু ব্যবহারের ক্ষেত্রে তিনটি শর্ত রয়েছে:
(1) ক্ষুধা বা রোগে মারা যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে খেতে পারেন।
(2) ভক্ষণকারী যেন আল্লাহর বিদ্রোহী বা আইন ভঙ্গকারী না হয়,
হারামকে হারাম মনে করেই জীবন বাঁচানোর জন্য তা খায়,
হালাল না ভাবে। (3)
"জীবন বাঁচানোর" জন্য খায়,
"জীবন গড়ার" জন্য না খায়,
অততা খায় যাতে তার জীবন বাঁচে।
* এ ধরনের আয়াত কুরআনে "4" জায়গায় আছে:
(1) সূরা বাকারার আয়াত নম্বর (173)।
(2) সূরা মায়েদা আয়াত নম্বর (3)।
(3) সূরা আনআম আয়াত নম্বর (145)।
(4) সূরা নাহাল আয়াত নম্বর (115)।
إِنَّ الَّذينَ يَكتُمونَ ما أَنزَلَ اللَّهُ مِنَ الكِتٰبِ
وَيَشتَرونَ بِهِ ثَمَنًا قَليلًا ۙ أُولٰئِكَ ما يَأكُلونَ فى بُطونِهِم إِلَّا
النّارَ وَلا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ يَومَ القِيٰمَةِ وَلا يُزَكّيهِم وَلَهُم
عَذابٌ أَليمٌ (১৭৪)
[174] " নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর নাযিলকৃত কিতাবের মধ্যে হইতে যে বিষয়গুলো
গোপন করে এবং এর বিনিময়ে সামান্য দুনিয়ার ফায়দা নেয়,
তারাই প্রকৃতপক্ষে তাদের পেটে (জাহান্নামের) আগুন ভরছে এবং কিয়ামতের
দিন আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না, এবং না তাদেরকে (তাদের পাপ থেকে) পবিত্র করবেন,
এবং তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব"।
أُولٰئِكَ الَّذينَ
اشتَرَوُا الضَّلٰلَةَ بِالهُدىٰ وَالعَذابَ بِالمَغفِرَةِ ۚ فَما أَصبَرَهُم
عَلَى النّارِ (১৭৫)
[175] " এরা সেসব লোক যারা "হেদায়েত" এর পরিবর্তে "গোমরাহী"
এবং "ক্ষমা" র পরিবর্তে "আযাব" কিনেছে ( ইসলামের পরিবর্তে কুফর,
শিরক ও নেফাক এর পথ অবলম্বন করেছে),
এরা
জাহান্নামের আগুনের উপর কততা সবর করবে! (জাহান্নাম এর আগুন কিভাবে সহ্য করবে?)"।
* জাহান্নামীদের ধৈর্য দেখে বিস্মিত দর্শকরা বলবেন যে,
এতো বেদানাদায়ক এবং যন্ত্রণাদায়কআযাব এরা কিভাবে সহ্য করছে। (তাইসিরুল রহমান)।
ذٰلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ
نَزَّلَ الكِتٰبَ بِالحَقِّ ۗ وَإِنَّ الَّذينَ اختَلَفوا فِى الكِتٰبِ لَفى
شِقاقٍ بَعيدٍ (১৭৬)
[176] " এই
(কঠোর শাস্তি তাদের) এ কারণে দেওয়া হবে যে আল্লাহ সত্য কিতাব নাজিল করেছেন (এবং কিন্তু
তারা এটি গোপন করেছে), এবং যারা এই কিতাবে মতভেদ করেছে,
নিশ্চয়ই তারাই (সত্যকে অস্বীকার করার ক্ষেত্রে) অনেক দূরে পৌঁছেছে
(তারা হক এর শত্রুতায় অনেক দূর এগিয়ে গেছে)"।
لَيسَ البِرَّ أَن
تُوَلّوا وُجوهَكُم قِبَلَ المَشرِقِ وَالمَغرِبِ وَلٰكِنَّ البِرَّ مَن ءامَنَ
بِاللَّهِ وَاليَومِ الءاخِرِ وَالمَلٰئِكَةِ وَالكِتٰبِ وَالنَّبِيّۦنَ وَءاتَى
المالَ عَلىٰ حُبِّهِ ذَوِى القُربىٰ وَاليَتٰمىٰ وَالمَسٰكينَ وَابنَ السَّبيلِ
وَالسّائِلينَ وَفِى الرِّقابِ وَأَقامَ الصَّلوٰةَ وَءاتَى الزَّكوٰةَ وَالموفونَ
بِعَهدِهِم إِذا عٰهَدوا ۖ وَالصّٰبِرينَ فِى البَأساءِ وَالضَّرّاءِ وَحينَ
البَأسِ ۗ أُولٰئِكَ الَّذينَ صَدَقوا ۖ وَأُولٰئِكَ هُمُ المُتَّقونَ (১৭৭)
[177] " (আসল ও প্রকৃত) নেকি
এটি নয় যে, তোমরা
পূর্ব ও পশ্চিম দিকে মুখ কর, বরং (আসল ও প্রকৃত) নেকি হল যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ও আখেরাতের
দিনের প্রতি এবং ফেরেশতাগণের প্রতি এবং (আল্লাহর)
কিতাবসমূহের প্রতি ও (সকল) নবীদের প্রতি ঈমান রাখে,
এবং যে ব্যক্তি সম্পদের মহব্বত থাকা সত্ত্বেও আত্মীয়-স্বজন
এবং এতিম এবং মিসকিন এবং মুসাফিরগণ এবং ভিক্ষুক, মুক্তিকামীদের (কারাগার এবং জেল থেকে মুক্তি করার) জন্যে খরচ
করে,
নামাজ প্রতিষ্ঠা করে, এবং যাকাত দেয়, ( এবং আসল নেকি এটাও যে) যখন ওয়াদা করে তখন তা পূরণ করে,
এবং দুর্দশা, দুঃখ কষ্ট এবং যুদ্ধের সময় ধৈর্য ধারণ করে,
এরাই সেই ব্যক্তিবর্গ যারা (ঈমান ও আমলে সত্য) এবং এরাই পরহেযগার (আল্লাহকে ভয় কারী)"।
يٰأَيُّهَا الَّذينَ ءامَنوا كُتِبَ عَلَيكُمُ القِصاصُ فِى
القَتلَى ۖ الحُرُّ بِالحُرِّ وَالعَبدُ بِالعَبدِ وَالأُنثىٰ بِالأُنثىٰ ۚ فَمَن
عُفِىَ لَهُ مِن أَخيهِ شَيءٌ فَاتِّباعٌ بِالمَعروفِ وَأَداءٌ إِلَيهِ بِإِحسٰنٍ
ۗ ذٰلِكَ تَخفيفٌ مِن رَبِّكُم وَرَحمَةٌ ۗ فَمَنِ اعتَدىٰ بَعدَ ذٰلِكَ فَلَهُ
عَذابٌ أَليمٌ (১৭৮)
[178] " হে ঈমানদারগণ! (যাদের অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে) তোমাদের উপর কিসাস (প্রতিশোধ) ফরজ করা হয়েছে,
স্বাধীনের পরিবর্তে (হত্যাকারী) স্বাধীনকে (হত্যা করা হবে),
ক্রীতদাসের পরিবর্তে (হত্যাকারী) দাসকে (হত্যা করা হবে ),
এবং নারীর পরিবর্তে (হত্যাকারী) নারীকে (হত্যা করা হবে),
তারপর যদি তাকে (অর্থাৎ হত্যাকারীকে) তার ভাই (অর্থাৎ নিহতের
ওয়ারিস) কিছু মাফ করে দেয়, (অর্থাৎ কিসাস ও দিয়াত উভয়ই মাফ করে দেয়),
তাহলে উত্তম উপায়ে (খুনের মূল্য) চাওয়া নিহতের ওয়ারিশ) এর
অধিকার রয়েছে , এবং
(হত্যাকারীর উপর খুনের মূল্য, নিহতের ওয়ারিশ কে) উত্তম উপায়ে আদায় করা ফরজ,
এই দিয়াত (মূল্য) আদায় তোমাদের রবের পক্ষ থেকে এক প্রকার সহজ
এবং মেহেরবানী, এখন
যে কেউ এরপর অত্যাচার করবে ( মাফ করার পর এবং দিয়াত " মূল্য" গ্রহণ করার
পর হত্যাকারী কে কতল করে) তাহলে তার জন্য রয়েছে বড় এবং বেদনাদায়ক আযাব"।
* কেসাস"قصاص " এর অর্থ:
জীবনের বিনিময়ে জীবন নেওয়া, কুরআন হত্যাকারীর কাছ থেকে নিহতের জীবন নেওয়ার কথা বলেছে,
যতই বড় পরিবারের খুনি হোক না কেন?
* কাতিল (হত্যাকারীর) জন্য তিনটি পথ রয়েছে:
(1) যাকাতুল (নিহত) এর ওয়ারিশ কেসাস এর উপর জন্য জোর দেবে।
(2) কেসাস মাফ করবে কিন্তু দিয়াত নিবে।
(3) সব কিছুই মাফ করে দেওয়া, নিহতের ওয়ারিশদের এসব টাই করার অধিকার আছে। (তাইসিরুল-কুরআন)।
*কুরআন " মাকতুল" এর ওয়ারিশ কে " কাতিল
" এর "ভাই" কেন বলেছে?
কুরআন " মাকতুল" এর ওয়ারিশ কে " কাতিল " এর "ভাই"
বলে তার সাথে নম্রতা করার সুপারিশ করেছে, সে " কেসাস" এবং " দিয়াত" উভয় মাফ করে
দেয় অথবা শুধু কেসাস মাফ করে গ্রহণ করে (তাইসিরুল-কুরআন)।
* জীবন এর দিয়াত: 100 টি উট:
অথবা এর মূল্যের পরিমাণ মুদ্রা (দিনার, দিরহাম, রিয়াল এবং টাকা ইত্যাদি) যা সে সময়ের সরকার তার জন্য নির্ধারণ
করবে। (সুনান ইবনে মাজাহ কিতাব আল-দিয়াত,
باب دية شبه العمد مغلظة হাদিস
নম্বর: 2627),
(সহীহ),
(তাইসিরুল কুরআন)।
وَلَكُم فِى القِصاصِ حَيوٰةٌ يٰأُولِى الأَلبٰبِ لَعَلَّكُم
تَتَّقونَ (১৭৯)
[179] " এবং হে বুদ্ধিমানগণ! কেসাসে (প্রতিশোধে) তোমাদের জন্য জীবন রয়েছে,
যাতে তোমরা (এর কারণে হত্যা থেকে) বাঁচতে পারো,
(যাতে তোমরা ভয়ভীত হও)"।
* কেসাস জীবন কেন?
যখন হত্যাকারীর ভয় পাবে যে আমিও কেসাসে (প্রতিশোধে) কতল হব,
তখন সে কাউকে হত্যা করার সাহস পাবে না,
তখন সমাজে শান্তি নেমে আসবে, এই আইন যে দেশেই আছে সেখানে শান্তি আর শান্তি এবং হত্যা নায়ের
সমান,
তাই কিসাসই জীবন। (আহসানুল
বায়ান)।
كُتِبَ عَلَيكُم إِذا حَضَرَ أَحَدَكُمُ المَوتُ إِن تَرَكَ
خَيرًا الوَصِيَّةُ لِلوٰلِدَينِ وَالأَقرَبينَ بِالمَعروفِ ۖ حَقًّا عَلَى
المُتَّقينَ (১৮০)
[180] " যখন তোমাদের কারো মৃত্যু ঘনিয়ে আসে এবং সে তার ধন-সম্পদ রেখে
দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়, তখন তোমাদের উপর পিতা-মাতা এবং নিকটাত্মীয়দের জন্য ওয়াসিয়ত
করা ফরজ,
এটা নেককার দের জন্য জরুরী "।
* এ আয়াত 180 র হুকুম" আয়াতে মিরাশ " সূরা নিসা সূরা নং 4
এর আয়াত নং (11) এবং (176) দ্বারা মানসুখ করা হয়েছে, পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের অংশ আল্লাহ নিজেই " আয়াত
মিরাশ" এর মধ্যে নির্ধারণ করে দিয়েছে এবং এখন শুধু "এক তৃতীয়াংশ"
অথবা এর কম অংশে "ওসিয়ত" বাকি রাখা হয়েছে,
এ আয়াতের " তেলাওয়াত " এখন বাকি আছে।
[181]
فَمَن بَدَّلَهُ بَعدَما سَمِعَهُ فَإِنَّما إِثمُهُ عَلَى
الَّذينَ يُبَدِّلونَهُ ۚ إِنَّ اللَّهَ سَميعٌ عَليمٌ
[181] " (হে ঈমানদারগণ!) অতঃপর যদি কেউ " অসিয়ত" শোনার পর তা পরিবর্তন করে,
তবে তার গুনাহ হবে পরিবর্তনকারীদের উপর,
নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু শ্রবণকারী এবং সর্বজ্ঞ"।
فَمَن خافَ مِن موصٍ
جَنَفًا أَو إِثمًا فَأَصلَحَ بَينَهُم فَلا إِثمَ عَلَيهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ غَفورٌ
رَحيمٌ (১৮২)
[182] " হ্যাঁ, যদি কোনো অসিয়তকারীর পক্ষ থেকে পক্ষপাতিত্ব (একতরফা কথা বলা)
বা গুনাহের ভয় থাকে, তাহলে কেউ যদি আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে সুলাহ (মিমাংসা) করে দেয়
তাহলে তার উপর কোনো পাপ নেই, নিশ্চয়ই আল্লাহ খুব ক্ষমাশীল,
বড় রহমকারী"।
يٰأَيُّهَا الَّذينَ ءامَنوا كُتِبَ عَلَيكُمُ الصِّيامُ كَما
كُتِبَ عَلَى الَّذينَ مِن قَبلِكُم لَعَلَّكُم تَتَّقونَ
(১৮৩)
[183] " “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর (রমজানের) রোজা ফরজ করা হয়েছে যেভাবে
তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা " মুত্তাকী" ( নেক) হও"।
* রোজা ফরজ:
ইসলামে রমযানের রোযা সন দুই হিজরী তে ফরজ করা হয়েছে।
[184]
أَيّامًا مَعدودٰتٍ ۚ فَمَن كانَ مِنكُم مَريضًا أَو عَلىٰ
سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِن أَيّامٍ أُخَرَ ۚ وَعَلَى الَّذينَ يُطيقونَهُ فِديَةٌ
طَعامُ مِسكينٍ ۖ فَمَن تَطَوَّعَ خَيرًا فَهُوَ خَيرٌ لَهُ ۚ وَأَن تَصوموا خَيرٌ
لَكُم ۖ إِن كُنتُم تَعلَمونَ
[184] " (রমজানের রোজা) গণনার মাত্র কয়েকদিন (২৯ বা ৩০ দিন),
যদি তোমাদের কেউ অসুস্থ থাকে বা সফরে থাকে,
তাহলে অন্য দিনগুলোতে ( রমযানের ছুটে যাওয়া রোজা) গণনা করে
পূরণ করবে, এবং
(এমন বৃদ্ধ পুরুষ ও বৃদ্ধা নারী) যাদের রোজা রাখার একেবারে সামর্থ্য নেই,
তাহলে এই রোজাগুলোর প্রত্যেক দিনের ফিদয়া (বিনিময়) এক মিসকিন
কে খাদ্যদান করবে, এবং যে কেউ নিজ খুশিতে বেশি রোজা রাখতে ইচ্ছুক,
তবে তার জন্য উত্তম, এবং ( কষ্ট সহ্য করে) রোজা রাখা তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা
জানতে "।
* আরবি মাসগুলি "চাঁদ" এর হিসেবে হয়,
সূর্যের হিসেবে নয় ইসলামে 29 বা 30 দিনের মাস হয়।
* ঋতূবতী ও নেফাসওয়ালী মহিলা: এর জন্য ছুট রয়েছে,
পরে রোজা রাখবে।
* এবং দূধপানকারী মহিলা: এর জন্য রুখসাত ও ছুট রয়েছে,
পরে রোজা রাখবে। হাদিসে আছে। ( إِنَّ اللَّهَ
تَعَالَى وَضَعَ عَنِ الْمُسَافِرِ
الصَّوْمَ وَشَطْرَ الصَّلاَةِ
وَعَنِ الْحَامِلِ أَوِ
الْمُرْضِعِ الصَّوْمَ أَوِ
الصِّيَامَ)। " নিশ্চয়ই আল্লাহ মুসাফিরকে রোজা না রাখার অনুমতি দিয়েছেন এবং
নমাজ সফরের সময় অর্ধেক কমিয়ে দিয়েছেন,
এবং গর্ভবতী ও দূধপানকারী মহিলার জন্য রমজানে রোজা না রাখার
অনুমতি দিয়েছেন ( পরে রোজা রাখবে)। (সুনান আত-তিরমিযী কিতাব আল-সাওম - হাদীস নং 715
- (সহীহ)।
* এমন রোগ যা থেকে সুস্থতার আশা না থাকে: তবে এ অবস্থায় কাফ্ফারা
দেওয়া যেতে পারে। (তাইসিরুল কুরআন)।
* এমন বয়স্ক, রোজা রাখার শক্তি না থাকে: তবে এ অবস্থাতেও কাফ্ফারা দেওয়া
যাবে। (তাইসিরুল কুরআন)।
* সফরে রোজা রাখাও যায় আবার ছাড়াও যায়। (তাইসিরুল কুরআন)।
* কাফফারা কি?: এক জন মিসকিন কে দুবেলা খাবার বা তার সমপরিমাণ নগদ দেওয়া ব্যক্তির
নিজের মান অনুযায়ী। পুরো রমজান মাসের কাফফারাও একবারে আদায় করা যায়।(তাইসিরুল কুরআন)।
شَهرُ رَمَضانَ الَّذى أُنزِلَ فيهِ القُرءانُ هُدًى لِلنّاسِ
وَبَيِّنٰتٍ مِنَ الهُدىٰ وَالفُرقانِ ۚ فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهرَ فَليَصُمهُ
ۖ وَمَن كانَ مَريضًا أَو عَلىٰ سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِن أَيّامٍ أُخَرَ ۗ يُريدُ
اللَّهُ بِكُمُ اليُسرَ وَلا يُريدُ بِكُمُ العُسرَ وَلِتُكمِلُوا العِدَّةَ
وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلىٰ ما هَدىٰكُم وَلَعَلَّكُم تَشكُرونَ (১৮৫)
[185] " রমজান হল সেই মাস যে মাসে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে,
যা সকল মানুষের জন্য "হেদায়েত" এবং এতে সঠিক পথ দেখাবার জন্য সুস্পষ্ট নিদর্শন রয়েছে,
এবং হক এবং বাতিল (সত্য ও মিথ্যা) র মধ্যে কুরআন সুস্পষ্ট ফায়সালাকারী। অতএব তোমাদের মধ্যে যে কেউ এই (রমজান মাস) পাবে,
সে যেন পুরো মাস রোজা রাখে, আর তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ বা সফরে থাকে, সে যেন অন্যান্য দিনে ( ছুটে যাওয়া রোজা) গণনা পূর্ণ করে,
আল্লাহ তোমাদের সাথে " সহজ" চান,
তিনি "কষ্ট" চান না ( "নম্রতা" চান
"কঠোরতা" চান না, পরে রোজা রাখার এই জন্যই
ছাড় দেয়া হয়েছে) তোমরা পুরো রমজানের গণনা পূরন কর (রমযানের রোজা পূর্ণ আদায় কর),
আল্লাহ তোমাদের কে হেদায়েত দিয়েছে যে তোমরা তার " বড়ত্ব"
বর্ণনা কর, এবং
এ জন্যেও যে তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় কর "।
وَإِذا سَأَلَكَ عِبادى عَنّى فَإِنّى قَريبٌ ۖ أُجيبُ دَعوَةَ
الدّاعِ إِذا دَعانِ ۖ فَليَستَجيبوا لى وَليُؤمِنوا بى لَعَلَّهُم يَرشُدونَ (১৮৬)
[186] " আর (হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!) যখন আমার বান্দারা
আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, তবে (আপনি বলুন) নিশ্চয়ই আমি খুবই নিকটে আছি,
আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দেই যখন সে আমাকে ডাকে,
তাই তাদের উচিত আমার আদেশ মান্য করা এবং আমার প্রতি ঈমান আনা
যাতে তারা সঠিক পথে পরিচালিত হয় "।
* দোয়ার বড় ফজিলত রয়েছে:
রমজানের আহকাম ও মাসায়েল এর মাঝে দোয়ার ফজিলতের বর্ণনা দ্বারা উদ্দেশ্য হল তার
ফজিলত সম্পর্কে অবগত করা, দোয়া ইবাদত, তাই বেশি বেশি দুআ করতে থাকুন। (আহসানুল-বায়ান)।
أُحِلَّ لَكُم لَيلَةَ الصِّيامِ الرَّفَثُ إِلىٰ نِسائِكُم ۚ
هُنَّ لِباسٌ لَكُم وَأَنتُم لِباسٌ لَهُنَّ ۗ عَلِمَ اللَّهُ أَنَّكُم كُنتُم
تَختانونَ أَنفُسَكُم فَتابَ عَلَيكُم وَعَفا عَنكُم ۖ فَالـٰٔنَ بٰشِروهُنَّ
وَابتَغوا ما كَتَبَ اللَّهُ لَكُم ۚ وَكُلوا وَاشرَبوا حَتّىٰ يَتَبَيَّنَ لَكُمُ
الخَيطُ الأَبيَضُ مِنَ الخَيطِ الأَسوَدِ مِنَ الفَجرِ ۖ ثُمَّ أَتِمُّوا
الصِّيامَ إِلَى الَّيلِ ۚ وَلا تُبٰشِروهُنَّ وَأَنتُم عٰكِفونَ فِى المَسٰجِدِ ۗ
تِلكَ حُدودُ اللَّهِ فَلا تَقرَبوها ۗ كَذٰلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ ءايٰتِهِ لِلنّاسِ
لَعَلَّهُم يَتَّقونَ (১৮৭)
[187] " (হে ঈমানদারগণ!) রোযার রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সাথে" মিলামিশা"
করা তোমাদের জন্য হালাল করা হল, তাঁরা তোমাদের পোশাক এবং তোমারা তাদের পোশাক,
আল্লাহ অবগত যে তোমরা নিজেদের মধ্যে খিয়ানত কর (রাতে স্বামী
স্ত্রী মিলন করে),তাই তোমাদের প্রতি আল্লাহ রহম করলেন, এবং তোমাদের মাফ করলেন, এখন তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের সাথে মিলামিশা করতে পারবে ( রাতে
স্বামী স্ত্রী মিলন করতে পারো), এবং আল্লাহর তোমাদের জন্য যা লিখেছেন তা অনুসন্ধান করে,
এবং (রমজানের রাতে) খাও পান কর যতক্ষণ না সাদা রেখা কালো রেখা
থেকে পৃথক হয় ( ফরজ হওয়া পর্যন্ত সেহেরী খেতে পারো),
এবং রোজা রাত পর্যন্ত ( সূর্য ডুবা পর্যন্ত) পূর্ণ কর,
(আর সূর্য ডুবার সাথ সাথেই রোজা ভঙ্গ
করে) এবং যখন তুমি মসজিদ এতেকাফ অবস্থায় থাকবে স্ত্রীদের সাথে সহবাস করো না,
এটি আল্লাহর সীমানা ( আইন ও আদেশ),
তাদের নিকটে যেওনা, আল্লাহ এমনভাবেই নিজের নিদর্শন সমূহ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন
যাতে করে লোকেরা নেক (আল্লাহ ভীরু) হতে পারে "।
* এতেকাফ এর অর্থ:
রমজান মাসের শেষ দশ দিন মসজিদে আল্লাহর ইবাদতের জন্য রুকে থাকাকে এতেকাফ বলা হয়।
وَلا تَأكُلوا أَموٰلَكُم
بَينَكُم بِالبٰطِلِ وَتُدلوا بِها إِلَى الحُكّامِ لِتَأكُلوا فَريقًا مِن
أَموٰلِ النّاسِ بِالإِثمِ وَأَنتُم تَعلَمونَ
(১৮৮)
[188] " আর (হে লোকসকল! হে ঈমানদারগণ!) একে অপরের সম্পদ বাতিল (হারাম)
উপায়ে ভক্ষণ করো না, আর নাহি লোকদের মামলা (কেস) শাসকদের (দায়িত্বশীলদের) কাছে এ
উদ্দেশ্যে পৌঁছে দিয়োনা যাতে করে লোকদের সম্পদের এক অংশ হারাম উপায়ে জেনে বুঝে ভক্ষণ
কর"।
* বাতিল (হারাম) উপায়ে খাওয়া:
চুরি,
আমানতের মধ্যে খিয়ানত, ডাকাতি, জুয়া, সুদ (ইন্টেরেসট, বিয়াজ), ঘুষ ইত্যাদি দ্বারা মাল ভক্ষণ করা,
দায়িত্বশীলদের কে ঘুষ দিয়ে ফায়সালা নিজের পক্ষে করা এবং অন্যের
সম্পদ কব্জা করে নেওয়া,এসব পদ্ধতি না জায়েজ, বাতিল এবং হারাম। (তাইসিরুল রহমান)।
يَسـَٔلونَكَ عَنِ الأَهِلَّةِ ۖ قُل هِىَ مَوٰقيتُ لِلنّاسِ
وَالحَجِّ ۗ وَلَيسَ البِرُّ بِأَن تَأتُوا البُيوتَ مِن ظُهورِها وَلٰكِنَّ
البِرَّ مَنِ اتَّقىٰ ۗ وَأتُوا البُيوتَ مِن أَبوٰبِها ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ
لَعَلَّكُم تُفلِحونَ (১৮৯)
189] "( হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!) 1)
লোকেরা আপনাকে "হিলাল" (নতুন চাঁদ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে (চাঁদ কীভাবে
ছোট এবং বড় হয়?) আপনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে বলে দিন: এটি
মানুষের (কাজের) জন্য এবং হজের সময় নির্ধারণের জন্য,
এবং বাড়ির পিছনের দরজা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করাতে কোনো নেকি নেই,
তবে নেকি এই যে ব্যক্তির নেক হয়ে যায় ( আল্লাহর অসন্তুষ্ট
থেকে বেঁচে যাওয়া), এবং তোমারা বাড়িতে তার দরজা দিয়েই প্রবেশ কর,
এবং আল্লাহ কে ভয় করতে থাকো যাতে করে তোমরা সফলকাম হও
"।
وَقٰتِلوا فى سَبيلِ اللَّهِ الَّذينَ يُقٰتِلونَكُم وَلا
تَعتَدوا ۚ إِنَّ اللَّهَ لا يُحِبُّ المُعتَدينَ
(১৯০)
[190]" আর তাদের সাথে আল্লাহর রাস্তায় লড়াই কর,
যারা তোমাদের সাথে লড়াই করে, এবং তোমরা অত্যাচার করোনা, নিশ্চয়ই আল্লাহ অত্যাচারীদের পছন্দ করেন না ( নিশ্চয়ই অত্যাচারীদের
ভালো বাসেনা)"।
وَاقتُلوهُم حَيثُ ثَقِفتُموهُم وَأَخرِجوهُم مِن حَيثُ
أَخرَجوكُم ۚ وَالفِتنَةُ أَشَدُّ مِنَ القَتلِ ۚ وَلا تُقٰتِلوهُم عِندَ
المَسجِدِ الحَرامِ حَتّىٰ يُقٰتِلوكُم فيهِ ۖ فَإِن قٰتَلوكُم فَاقتُلوهُم ۗ
كَذٰلِكَ جَزاءُ الكٰفِرينَ (১৯১)
[191] " আর তাদেরকে (যুদ্ধের ময়দানে যুদ্ধ কারীদের) যেখানেই পাও তাদেরকে
হত্যা কর এবং তাদেরকে এই শহর (মক্কা থেকে) তাড়িয়ে দাও,
যেমন তারা তোমাদেরকে (মক্কা থেকে) বের করে দিয়েছিল,
এবং (প্রত্যেক প্রকার ফিতনা) হত্যার চেয়েও জঘন্য,
এবং মসজিদুল হারাম (কাবার) কাছে তাদের সাথে যুদ্ধ করো না যতক্ষণ
না তারা নিজেরাই তোমাদের সাথে যুদ্ধ করতে শুরু করে, এবং যদি তারা তোমাদের সাথে লড়াই করে,
তাহলে তোমরাও তাদের সাথে লড়াই কর,
এ প্রকার কাফেরদের (সত্যকে অস্বীকারকারীদের ) এটাই শাস্তি"।
* ফেতনা" হত্যা থেকেও বড় জঘন্য,
এর অর্থ:
" ফেতনা" শব্দটি আরবী ভাষায় বহু অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে,
মক্কার মুশরিকরা আল্লাহর ঘরের মুতাওললী হওয়া,
আল্লাহর ঘরে মূর্তি স্থাপন করা,
মুসলমানদেরকে আল্লাহর ঘরে নামাজ পড়তে বাধা দেওয়া,
এমনকি সেখানে প্রবেশে বাধা দেওয়া,
এসবই ফিতনার কাজ, অতএব এখানে ফিতনার অর্থ: মক্কার মুশরিকদের ঐ সব কর্ম কান্ড যা
তারা মুসলমানদেরকে ইসলাম থেকে রুকে রাখার জন্য করেছিল,
যেমন: মুসলমানদের উপর অত্যাচার,
ইসলাম ছাড়তে বাধ্য করা, যদি তারা হিজরত করে তবুও তাদের পিছা না ছাড়া,
পরে তাদের মাল সম্পদ কব্জা করে নেওয়া ইত্যাদি " ফিতনার"
অন্তর্ভুক্ত, তাই
জিহাদের হুকুম দেওয়া হয়েছে। (তাইসিরুল কুরআন)।
فَإِنِ انتَهوا فَإِنَّ اللَّهَ غَفورٌ رَحيمٌ (১৯২)
[192] "অতঃপর যদি তারা (লড়াই থেকে) রুকে যায়,
তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ বড় ক্ষমাশীল,
বড় রহমকারী"।
وَقٰتِلوهُم حَتّىٰ لا
تَكونَ فِتنَةٌ وَيَكونَ الدّينُ لِلَّهِ ۖ فَإِنِ انتَهَوا فَلا عُدوٰنَ إِلّا
عَلَى الظّٰلِمينَ (১৯৩)
[193] " এবং তাদের (যারা যুদ্ধ করে) পক্ষ থেকে ফিতনা শেষ হওয়া এবং দ্বীন
শুধু আল্লাহর জন্য প্রতিষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত লড়াই করতে থাকো,
এবং যদি তারা লড়াই (ফেতনা ফাসাদ) থেকে থেমে যায় ( তবে তোমরাও
থেমে যাও), অত্যাচারীদের
ছাড়া কারো উপর কোনো অত্যাচার (জুলুম) জায়েজ নয়"।
*
আয়াত 190 থেকে 193 এর আসল অর্থ: ইসলাম ওই অমুসলিমদের প্রতি ভাল আচরণের উপর জোর
দেয় যারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে নয়, যারা শান্তিপ্রিয়।
সূরা মুমতাহনা, সূরা নং 60 এর আয়াত নং 8 বিবেচনা করুন: ( لا
يَنهىٰكُمُ اللَّهُ عَنِ الَّذينَ لَم يُقٰتِلوكُم فِى الدّينِ وَلَم يُخرِجوكُم
مِن دِيٰرِكُم أَن ( تَبَرّوهُم وَتُقسِطوا إِلَيهِم ۚ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ
المُقسِطينَ (হে ঈমানদারগণ!)
যারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের সাথে লড়াই করেনি এবং তোমাদেরকে তোমাদের বাড়িঘর থেকে
বের করে দেয়নি, তাদের সাথে ভালো ব্যবহার এবং ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদের
কে বাধা দেন না, নিশ্চয়ই আল্লাহ ইনসাফ কারীদের মহব্বত করেন। (তাইসিরুল কুরআন)।
الشَّهرُ الحَرامُ
بِالشَّهرِ الحَرامِ وَالحُرُمٰتُ قِصاصٌ ۚ فَمَنِ اعتَدىٰ عَلَيكُم فَاعتَدوا
عَلَيهِ بِمِثلِ مَا اعتَدىٰ عَلَيكُم ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعلَموا أَنَّ
اللَّهَ مَعَ المُتَّقينَ (১৯৪)
[194] "সম্মানিত মাস, সম্মানিত মাসের বিনিময়ে, এবং হুরমত একে অপরের পরিবর্তে হয়,
সুতরাং যে কেউ তোমাদের প্রতি জুলুম করবে,
তোমরা তার প্রতি ততটা জুলুম করতে পারো যতটা সে তোমাদের প্রতি
করেছে এবং আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রাখ যে আল্লাহ নেককারদের সাথে আছেন"।
* হারাম মাসের অর্থঃ
সেসব মাস যেগুলোতে যুদ্ধ করা হারাম, আরবীতে চারটি মাস আছে, যুল-ক্বাদহ, যুল-হিজ্জাহ মুহাররম ও রজব, এই মাসগুলোতে যুদ্ধ করা নিষেধ,
কিন্তু শত্রু লড়াই করলে ছেড়ে দেওয়া যায় না। (আহসানুল বায়ান)।
وَأَنفِقوا فى سَبيلِ
اللَّهِ وَلا تُلقوا بِأَيديكُم إِلَى التَّهلُكَةِ ۛ وَأَحسِنوا ۛ إِنَّ اللَّهَ
يُحِبُّ المُحسِنينَ (১৯৫)
[195] " এবং (হে ঈমানদারগণ!) আল্লাহর রাস্তায় তোমরা (তোমাদের ধন-সম্পদ)
খরচ করতে থাকো, এবং
নিজেদেরকে ধ্বংস (ক্ষতির) মধ্যে ঠেলে দেওনা, এবং নেকি করতে থাকো, নিশ্চয়ই আল্লাহ নেকিকারীদের মহব্বত করেন
( উপকার কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ উপকার কারীদের পছন্দ করেন)"।
* নিজেকে ধ্বংসে ঠেলে দিওনা:
যেমন: মদ, ড্রাগ,
তামাক, সিগারেট, তামাক মিশ্রী, নেশাজাতীয় দ্রব্য ব্যবহার করে নিজেকে ধ্বংস করোনা,
এসব জীবন ধংসের কারণ।
* ইসলামে আত্মহত্যা(Suicide )হারাম:
" নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়োনা" এর অর্থ: ডেপরেশনে পরে
আত্মহত্যা (Suicide ) করোনা, কারণ
আত্মহত্যা (Suicide) সমস্যার সমাধান নয়, এক আল্লাহকে স্মরণ করা, কুরআন তিলাওয়াত করা, ধৈর্যশীল হওয়া, নামাজ পড়া, একাকীত্ব থেকে দূরে থাকা এবং হিম্মত ও সাহসের সাথে সমস্যার মোকাবিলা
করা,
আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া, টেনশন না পাওয়া, ভাগ্যের ফয়সালায় রাজি হওয়া,
সমস্যার সমাধানে পরামর্শ করা সমস্যার সমাধান,
ইসলামে আত্মহত্যা (Suicide ) কারীর শাস্তি হল জাহান্নাম, আমাদের জীবন আল্লাহর আমানত, এবং জীবন নেওয়ার অধিকার শুধুমাত্র আল্লাহরই রয়েছে।
وَأَتِمُّوا الحَجَّ
وَالعُمرَةَ لِلَّهِ ۚ فَإِن أُحصِرتُم فَمَا استَيسَرَ مِنَ الهَدىِ ۖ وَلا
تَحلِقوا رُءوسَكُم حَتّىٰ يَبلُغَ الهَدىُ مَحِلَّهُ ۚ فَمَن كانَ مِنكُم مَريضًا
أَو بِهِ أَذًى مِن رَأسِهِ فَفِديَةٌ مِن صِيامٍ أَو صَدَقَةٍ أَو نُسُكٍ ۚ
فَإِذا أَمِنتُم فَمَن تَمَتَّعَ بِالعُمرَةِ إِلَى الحَجِّ فَمَا استَيسَرَ مِنَ
الهَدىِ ۚ فَمَن لَم يَجِد فَصِيامُ ثَلٰثَةِ أَيّامٍ فِى الحَجِّ وَسَبعَةٍ إِذا
رَجَعتُم ۗ تِلكَ عَشَرَةٌ كامِلَةٌ ۗ ذٰلِكَ لِمَن لَم يَكُن أَهلُهُ حاضِرِى
المَسجِدِ الحَرامِ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعلَموا أَنَّ اللَّهَ شَديدُ العِقابِ (১৯৬)
[196] "আর হজ এবং উমরাহ আল্লাহর জন্যই আদায় কর,
যদি তোমরা (অসুখ ইত্যাদির কারণে) থামিয়ে দিয়ে যাও,
তাহলে যা কোরবানি সহজে পাও (কোরবানি কর) এবং মাথা মুণ্ডন কারো
না যতক্ষণ না কোরবানির পশু তার স্থানে পৌঁছায়, তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ অথবা মাথায় কিছু সমস্যা থাকে (তবে
মাথা মমুণ্ডন কর এবং) ফিদয়া দিয়ে দাও, চাও তো (তিন) রোজা রাখবে বা সাদকা দাও ( ছয়টি মিসকিন কে খাবার
দেবে),
অথবা কোরবানি করবে ( একটি উট বা একটি গরু বা একটি ছাগল ইত্যাদি
জবাই করবে), যদি
রাস্তা শান্তি পূর্ন হয় তাহলে যে কেউ " হজ তামাত্তু " করবে ( উমরাহ করার
পর ইহরাম খুলে দেয় অতঃপর হজের সময় হজের ইহরাম বাঁধা),
কোরবানির যে পশু সহজে পাবে কোরবানি করবে,
যদি পশু না পায় তাহলে সে " রোজা" রাখবে তিন দিন হজের
দিনগুলোতে রাখবে এবং সাত ( রোজা) বাড়ি ফিরে যাওয়ার পর রাখবে,
(পুরো 10 টি রোজা কোরবানির পরিবর্তে), এ হুকুম (ছাড়) তাদের জন্য যাদের বাড়ির লোকজন মসজিদে হারামের
বাসিন্দাদের (মক্কায় বসবাসকারী) জন্য নয়, ( কোরবানি অথবা দশটি রোজা মক্কা বাসিন্দাদের জন্য নয়),
এবং আল্লাহ কে ভয় করতে থাকো, এবং জেনে রেখো আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা "।
الحَجُّ أَشهُرٌ مَعلومٰتٌ ۚ فَمَن فَرَضَ فيهِنَّ الحَجَّ فَلا
رَفَثَ وَلا فُسوقَ وَلا جِدالَ فِى الحَجِّ ۗ وَما تَفعَلوا مِن خَيرٍ يَعلَمهُ
اللَّهُ ۗ وَتَزَوَّدوا فَإِنَّ خَيرَ الزّادِ التَّقوىٰ ۚ وَاتَّقونِ يٰأُولِى
الأَلبٰبِ (১৯৭)
[197] " হজের "মাসগুলো"
পরিচিত (শাওয়াল, জুল-ক্বাদাহ এবং জুল-হিজ্জাহ এর তেরো দিন),
সুতরাং যে ব্যক্তি এই মাসগুলোতে হজ করার ইচ্ছা করবে (সে জেনে
রাখবে) হজের দিনগুলোতে অশ্লীল (নোংরা) কথাবার্তা
না বলে,
এবং আল্লাহর নাফরমানি না করে এবং কারো সাথে ঝগড়া না করে,
এবং যা কিছু নেকির কাজ তোমারা করবে,
আল্লাহ তা ভালোভাবে
জানেন,
আর তোমরা হজের সফরে সফরে খরচ নিয়ে নাও,
নিশ্চয়ই সব থেকে উত্তম যাদ (সফরের খরচ) হচ্ছে তাকওয়া ( ভিক্ষা
থেকে দূরে থাকা), এবং হে বুদ্ধিজীবী গণ! আমাকেই ভয় করতে থাকো ( আমার নাফারমানি
করা থেকে বেঁচে থাকো)"।
* হজের সফর কবে শুরু হয়?: শাওয়াল মাস থেকে শুরু করে যুল-কাদাহ সহ 7ই যুল-হিজ্জাহ পর্যন্ত, তারপর 8ই যুল-হিজ্জাহ থেকে 13ই তারিখ পর্যন্ত হজের বিশেষ দিন রয়েছে।
لَيسَ عَلَيكُم جُناحٌ أَن تَبتَغوا فَضلًا مِن رَبِّكُم ۚ
فَإِذا أَفَضتُم مِن عَرَفٰتٍ فَاذكُرُوا اللَّهَ عِندَ المَشعَرِ الحَرامِ ۖ
وَاذكُروهُ كَما هَدىٰكُم وَإِن كُنتُم مِن قَبلِهِ لَمِنَ الضّالّينَ (১৯৮)
[198] " (হজ্জের সময়) তোমাদের উপর রবের ফজল অনুসন্ধানে (বাণিজ্য বা শ্রম
করে জীবিকা অর্জনে) কোনো পাপ নেই, তারপর যখন তোমরা " আরাফাত" থেকে ফিরে আসবে, তখন "মাশআরে হারাহ" (মুযদালিফা) পৌঁছে আল্লাহকে স্মরণ
কর,
এবং তাকে স্মরণ এভাবে কর যেভাবে তিনি তোমাদেরকে সরল পথ দেখিয়েছেন,
অন্যথায় এর আগে তোমরা রাস্তা ভুলে ছিলে(তোমরা কিছুই জানতেন
না)"।
* হজের দিনগুলোতেও ব্যবসা করা যাবে: ব্যবসা করলে হজ্জের উপর কোনো
প্রভাব পরবে না, জাহেলি
যুগে " মিনা" এলাকায় উকায, মাজাননা, এবং যুল মাজায " বাজার " লাগতো,
হজের দিনগুলোতে লোকেরা ব্যবসা গুনাহ মনে করল,
তখন আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করেন। (সহিহ বুখারী কিতাবুত তাফসীর
হাদিস নং 4519)।
(তাইসিরুল রহমান)।
* আরাফাতে অবস্থান করা হজ্জের বড় রুকন,
যে কেউ আরাফাত হয়ে না আসে তবে তার হজ হবে না:
হাদিসে আছে: হজ " আরাফাতে উপস্থিতি, তিন বার বলেন, এবং ফজর উদয় হওয়ার পূর্বে আরাফাত পৌঁছাল সে হজ পেয়ে গেল"
( সুনান তিরমিযী কিতাবুল তাফসীর হাদিস নং 2975) , (সহিহ)।
* আরাফাত:
মক্কা থেকে প্রায় 20 কিলোমিটার দূরে "জাবালে রহমত" এ অবস্থিত,
এখানে হাজীরা জোহর এবং আসরের নামাজ কাসর ও এক সঙ্গে জোহরের সময়
পড়ে,
এবং সূর্য ডুবার সাথে সাথেই মাগরিবের নামাজ না পড়েই "আরাফাত" থেকে
বেরিয়ে পরে।
* মুযদালিফাই হচ্ছে মাশআরে হারাম:
মুযদালিফাঃ আরাফাত ও মিনার মাঝখানে একটি স্থান, যেখানে হাজীরা মাগরিব ও এশার নামাজ একসাথে আদায় করে ঘুমিয়ে
পরে,
এবং সকালে মিনা র উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পরে।
* মুযদালিফা ও মিনার মাঝখানে ওয়াদি মুফাসসির অবস্থিত,
সেখানে রাত রাত থাকার প্রয়োজন নেই,
" আবরাহার" বাহিনী
এখানেই ধ্বংস হয়েছিল।
ثُمَّ أَفيضوا مِن حَيثُ أَفاضَ النّاسُ وَاستَغفِرُوا اللَّهَ ۚ
إِنَّ اللَّهَ غَفورٌ رَحيمٌ (১৯৯)
[199] " অতঃপর (হে লোকসকল!) তোমরা সেখান থেকে ফিরে এসো যেখান লোকেরা
থেকে ফিরে আসে, এবং
আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকো, নিশ্চয়ই আল্লাহ খুব ক্ষমাশীল,
বড় রহমকারী"।
فَإِذا قَضَيتُم مَنٰسِكَكُم فَاذكُرُوا اللَّهَ كَذِكرِكُم
ءاباءَكُم أَو أَشَدَّ ذِكرًا ۗ فَمِنَ النّاسِ مَن يَقولُ رَبَّنا ءاتِنا فِى
الدُّنيا وَما لَهُ فِى الءاخِرَةِ مِن خَلٰقٍ
(২০০)
[200] "যখন তুমি তোমার হজের রুকুনগুলো শেষ করে ফেলো, তখন আল্লাহকে স্মরণ করো যেভাবে তুমি তোমার বাপ-দাদাকে স্মরণ
করতে,
অথবা তার চেয়েও বেশি আল্লাহকে স্মরণ কর,
যখন লোকদের মধ্যে কেউ বলে: হে আমাদের রব! আমাদেরকে সবকিছু দুনিয়াতেই দান করুন,
তাদের জন্য আখেরাতে কোন অংশ নেই"।
وَمِنهُم مَن يَقولُ رَبَّنا ءاتِنا فِى الدُّنيا حَسَنَةً وَفِى
الءاخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنا عَذابَ النّارِ(২০১)
[201] " আর তাদের মধ্যে কেউ একজন বলে: হে আমাদের রব! আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান কর,
এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান কর এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে বাঁচাও"।
* দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণের সর্বোত্তম দোয়া?:
(رَبَّنا
ءاتِنا فِى الدُّنيا حَسَنَةً وَفِى الءاخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنا عَذابَ النّارِ)
أُولٰئِكَ لَهُم نَصيبٌ
مِمّا كَسَبوا ۚ وَاللَّهُ سَريعُ الحِسابِ
(২০২)
[202] " এইভাবেই নেককার লোকদের জন্য তাদের উপার্জন অনুসারে (নিজ নিজ
কর্মের অনুসারে দুনিয়া ও আখিরাত উভয় স্থানে) অংশ রয়েছে এবং আল্লাহ খুব তাড়াতাড়ি হিসাব গ্রহনকারী"।
وَاذكُرُوا اللَّهَ فى أَيّامٍ مَعدودٰتٍ ۚ فَمَن تَعَجَّلَ فى
يَومَينِ فَلا إِثمَ عَلَيهِ وَمَن تَأَخَّرَ فَلا إِثمَ عَلَيهِ ۚ لِمَنِ اتَّقىٰ
ۗ وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعلَموا أَنَّكُم إِلَيهِ تُحشَرونَ
(২০৩)
[203] " আর গণনার কিছু দিন আল্লাহ কে স্মরণ করতে থাকো (যুল হিজ্জা মাসের 11,12,13
তারিখে মিনায় তাকবীর
পাঠ করতে থাকো), অতঃপর
যে ব্যক্তি দুই দিনে (অর্থাৎ মিনা থেকে যুল হিজ্জা মাসের 12
তারিখ সূর্যাস্তের পূর্বে) চলে যাবে,
তার উপর কোনো গুনাহ নেই, এবং যে কেউ ( একদিন আরো বেশি করে 13
যুলহিজজা) যায়, তার উপরও কোনো গুনাহ নেই, এটি পরহেজগার (নেক ব্যক্তির) জন্য,
এবং তোমারা আল্লাহ কে ভয় করতে থাকো,
এবং জেনে রাখ যে নিশ্চয়ই তোমরা সবাই তার (আল্লাহর) কাছে জমায়েত করা হবে "।
* গণনার কিছু দিন ( أياما
معدودات ) এর অর্থ: أيام
تشريق ( তাশরীকের দিনগুলো)
এবং যুলহিজজার 11,12,13 তারিখ
أيام تشريق বলা হয়,
হাদিসে আছে: " أيام
تشريق أيام أكل وشرب وذكر الله " আয়য়ামে
তাশরীক হল খাওয়া দাওয়া এবং আল্লাহকে স্মরণ করার দিন",
( সহীহ মুসলিম কিতাবুস সিয়াম হাদিস
নম্বর: 1141)।
وَمِنَ النّاسِ مَن
يُعجِبُكَ قَولُهُ فِى الحَيوٰةِ الدُّنيا وَيُشهِدُ اللَّهَ عَلىٰ ما فى قَلبِهِ
وَهُوَ أَلَدُّ الخِصامِ (২০৪)
[204] " আর লোকদের ( মুনাফিকদের) মধ্যে কেউ এমন আছে যার কথা আপনাকে
(সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুনিয়ার জীবনে
"খুব পছন্দ " মনে হয় এবং সে তার অন্তরের কথার উপর আল্লাহকে সাক্ষীও করে,
এবং অথচ সে বড় ঝগড়াকারী (কট্টর শত্রু)"।
وَإِذا تَوَلّىٰ سَعىٰ
فِى الأَرضِ لِيُفسِدَ فيها وَيُهلِكَ الحَرثَ وَالنَّسلَ ۗ وَاللَّهُ لا يُحِبُّ
الفَسادَ (২০৫)
[205] " আর যখন ঐ ( মুনাফিক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর
নিকট হইতে) ফিরে আসে তখন জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি করার এবং চাষাবাদ এবং (মানুষ এবং পশুদের)
বংশধর ধ্বংস করার জন্য চেষ্টাই লেগে থাকে, এবং আল্লাহ তাআলা ফ্যাসাদ (বিগার) কে পছন্দ করেন না"।
এ আয়াতের শানে নযুল:
যয়ীফ রেওয়ায়েত অনুসারে, এ আয়াত একজন মুনাফিক আখনাস বিন শুরাঈক আস সাকাফী সম্পর্কে অবতীর্ণ
হয়েছে,
কিন্তু সঠিক মত হল যে এটি সমস্ত মুনাফিক ও অহংকারী লোকদেরকে
নির্দেশ করে, যাদের
মধ্যে এই খারাপ গুণাবলী রয়েছে, যা কুরআন বর্ণনা করেছে।
(আহসানুল বায়ান)।
[206]
وَإِذا قيلَ لَهُ اتَّقِ اللَّهَ أَخَذَتهُ العِزَّةُ بِالإِثمِ
ۚ فَحَسبُهُ جَهَنَّمُ ۚ وَلَبِئسَ المِهادُ
(২০৬)
[206] " আর যখন তাকে (মুনাফিককে) বলা হয় আল্লাহকে ভয় কর,
তখন তার অহংকার তাকে গুনাহ করতে বাধ্য করে (সে উপদেশ গ্রহণ করে
না),
তাই তার কুফর, শিরক, নিফাক এবং অহংকারের
পরিবর্তে) জাহান্নামই তার জন্য যথেষ্ট এবং তা খুবই খারাপ আবাস"।
وَمِنَ النّاسِ مَن يَشرى نَفسَهُ ابتِغاءَ مَرضاتِ اللَّهِ ۗ
وَاللَّهُ رَءوفٌ بِالعِبادِ (২০৭)
[207] "আর মানুষের মধ্যে এমন (খোদাভীরু) আছে যে আল্লাহর সন্তুষ্টির
জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করে দেয় এবং আল্লাহ (তাঁর) বান্দাদের প্রতি বড় দয়ালু"।
* এ আয়াতটি সুহাইব বিন সিনান রুমী রাযিয়াল্লাহু আনহু এবং তার
মত লোকদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে: হিজরতের সময় সুহাইব রাযিয়াল্লাহু আনহু মক্কাবাসীদের বলেছিলেন:
ارايتم إن اعطيتكم مالي اتخلون سبيلي وقالوا نعم فقال اشهدكم اني
قد جعلت لهم مالي فبلغ ذلك النبي صلى الله عليه وسلم فقال ربح صهيب ربح صهيب
" যদি আমি তোমাদেরকে নিজের পুরো মাল
দিয় তোমরা কি আমাকে "মদিনা" যেতে
দিবে?
তারা বলল: অবশ্যই, তখন তিনি বললেন: তোমরা সাক্ষী থাকো,
আমি আমার পুরো মাল তোমাদেরকে দিয়ে দিলাম,
যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম কে এই খবর পৌঁছালো তখন তিনি
বললেন: শোয়েব খুব ভালো ব্যবসা করেছে, সাহেব খুব ভালো ব্যবসা করেছে"। ( সহিহ ইবনে হিব্বান কিতাব
মানাকিবিস সাহাবা সাহাইব বিন সিনান এর বর্ণনা হাদিস নং 7082
(সহিহ),
(আহসানুল বায়ান)।
يٰأَيُّهَا الَّذينَ
ءامَنُوا ادخُلوا فِى السِّلمِ كافَّةً وَلا تَتَّبِعوا خُطُوٰتِ الشَّيطٰنِ ۚ
إِنَّهُ لَكُم عَدُوٌّ مُبينٌ (২০৮)
[208] " হে ঈমানদারগণ! ইসলামে পরিপূর্ণভাবে প্রবেশ কর,
এবং শয়তানের দেখানো পথে চলো না,
নিশ্চয়ই সে শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য দুশমন "।
*শয়তানে পিছনে চলা এর অর্থ:
আল্লাহর হালাল করা জিনিসগুলিকে হারাম করো
না,
যেমন আরবের মুশরিকরা মূর্তির নামে ষাঁড় ছেড়ে দিত,
তার পর ঐ পশুর মাংস খাওয়া , অথবা তা থেকে কোনো প্রকার ফায়দা উঠানো হারাম মনে করত,
অথচ এই পশু ছিল হালাল, অথবা আল্লাহর হারাম করা জিনিসগুলোকে হালাল মনে করোনা,
যেমন ইহুদীরা সুদ (বিয়াজ) কে হালাল করে নিয়ে ছিল,
অথচ আল্লাহ সুদ (বিয়াজ) কে হারাম করেছেন। ( তাইসিরুল কুরআন)।
*শয়তান এর রাস্তা:
যেমন: কুফর, শিরক,
নিফাক, যিনা, মদ, হত্যা করা, চুরি ডাকাতি, লুট মার, গান বাজনা, মিউজিক শোনা, সুদ এবং হারাম উপার্জন এবং এধরনের সব কাজ শয়তান এর রাস্তা,
তাই শয়তানের রাস্তায় চলোনা।
فَإِن زَلَلتُم مِن بَعدِ ما جاءَتكُمُ البَيِّنٰتُ فَاعلَموا
أَنَّ اللَّهَ عَزيزٌ حَكيمٌ (২০৯)
[209] " অতঃপর তোমাদের কাছে "সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ" আসার পরও যদি তোমরা (সরল পথ থেকে) পিছলে যাও,
তবে জেনে রাখ! নিশ্চয়ই আল্লাহ বড় পরাক্রমশালী,
বড় হিকমত ওয়ালা"।
هَل يَنظُرونَ إِلّا أَن يَأتِيَهُمُ اللَّهُ فى ظُلَلٍ مِنَ
الغَمامِ وَالمَلٰئِكَةُ وَقُضِىَ الأَمرُ ۚ وَإِلَى اللَّهِ تُرجَعُ الأُمورُ (২১০)
[210] " তারা (সত্য অস্বীকারকারীরা) কি অপেক্ষা করছে যে আল্লাহ তাদের
কাছে মেঘের ছায়ায় ( আযাব নিয়ে) আসবেন, এবং ফেরেশতারাও (আল্লাহর সাথে আসবেন) এবং বিচার হবে?
এবং আল্লাহরই দিকে সমস্ত কাজ কর্ম ফিরানো হবে
سَل بَنى إِسرٰءيلَ كَم ءاتَينٰهُم مِن ءايَةٍ بَيِّنَةٍ ۗ وَمَن
يُبَدِّل نِعمَةَ اللَّهِ مِن بَعدِ ما جاءَتهُ فَإِنَّ اللَّهَ شَديدُ العِقابِ (২১১)
[211] " (হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি বনী ইসরাঈল
(ইয়াকুবের বংশধরদের) জিজ্ঞেস করুনঃ আমি তাদেরকে অনেক সুস্পষ্ট নিদর্শন দিয়েছি,
আর যে কেউ আল্লাহর রহমত পাওয়ার পর সেগুলো পরিবর্তন করে,
তাহলে (তার জেনে রাখা উচিত যে) আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা"।
زُيِّنَ لِلَّذينَ كَفَرُوا الحَيوٰةُ الدُّنيا وَيَسخَرونَ مِنَ
الَّذينَ ءامَنوا ۘ وَالَّذينَ اتَّقَوا فَوقَهُم يَومَ القِيٰمَةِ ۗ وَاللَّهُ
يَرزُقُ مَن يَشاءُ بِغَيرِ حِسابٍ (২১২)
[212] "কাফেরদের (যারা সত্য অস্বীকার করে) জন্য পার্থিব জীবনকে
"সুন্দর" (ভালো) করা হয়েছে এবং তারা ঈমানদারদেরকে নিয়ে ঠাট্টা করে,
(কিন্তু) কেয়ামতের দিন আল্লাহকে
বেশি ভয় কারীরাই তাদের (কাফেরদের) থেকে উপরে (জান্নাতে), এবং
আল্লাহ যাকে চান তাকে বিনা হিসেবে রিজিক দেন"।
كانَ النّاسُ أُمَّةً
وٰحِدَةً فَبَعَثَ اللَّهُ النَّبِيّۦنَ مُبَشِّرينَ وَمُنذِرينَ وَأَنزَلَ
مَعَهُمُ الكِتٰبَ بِالحَقِّ لِيَحكُمَ بَينَ النّاسِ فيمَا اختَلَفوا فيهِ ۚ
وَمَا اختَلَفَ فيهِ إِلَّا الَّذينَ أوتوهُ مِن بَعدِ ما جاءَتهُمُ البَيِّنٰتُ
بَغيًا بَينَهُم ۖ فَهَدَى اللَّهُ الَّذينَ ءامَنوا لِمَا اختَلَفوا فيهِ مِنَ
الحَقِّ بِإِذنِهِ ۗ وَاللَّهُ يَهدى مَن يَشاءُ إِلىٰ صِرٰطٍ مُستَقيمٍ (২১৩)
[213] "প্রথমে সকল মানুষ একই ধর্ম (ইসলাম) এর উপর ছিল, (তারপরে তাদের মধ্যে যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে মতভেদ হয়) তাই
আল্লাহ (একের পর এক) নবীগণ কে পাঠান, যারা ছিলেন (জান্নাতের সুসংবাদদাতা এবং (জাহান্নাম থেকে) সতর্ককারী
এবং তাদের সাথে সত্য কিতাবসমূহও নাযিল করেন, যাতে আল্লাহ মানুষের মধ্যে ঐ বিষয়াদি সম্পর্কে ফয়সালা করেন
যে বিষয়ে তারা নিজেদের মধ্যে মতভেদ করেছিল এবং যাদেরকে কিতাবে দেওয়া হয়েছিল তাদের
মধ্যে মতভেদ ছিল, এবং ( আফসোসের কথা হল যে) তাদের মধ্যে মতভেদ তারাই করেছিল যাদেরকে
কিতাব দেওয়া হয়েছিল, এবং সুস্পষ্ট নিদর্শন (উজ্জ্বল দলিল সমূহ) আসার পর,
নিজেদের পরস্পর শত্রুতা ও জিদ এর কারণে তারা মতবিরোধ (ঝগড়া
) করেছিল,
তারপর আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহ ও রহমতে মুমিনদেরকে হক পথ দেখান যে
বিষয়ে লোকেরা মতবিরোধ করেছিল এবং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সরল পথ দেখান"।
أَم حَسِبتُم أَن تَدخُلُوا الجَنَّةَ وَلَمّا يَأتِكُم مَثَلُ
الَّذينَ خَلَوا مِن قَبلِكُم ۖ مَسَّتهُمُ البَأساءُ وَالضَّرّاءُ وَزُلزِلوا
حَتّىٰ يَقولَ الرَّسولُ وَالَّذينَ ءامَنوا مَعَهُ مَتىٰ نَصرُ اللَّهِ ۗ أَلا
إِنَّ نَصرَ اللَّهِ قَريبٌ (২১৪)
[214] " (মুমিনগণ!) তোমরা কি ধারণা কর যে (এমনিতেই) তোমরা জান্নাতে চলে
যাবে?
অথচ এখন পর্যন্ত তোমাদের
নিকট তাদের মতো (দুঃখ-কষ্ট) আসেনি যারা তোমাদের
পূর্বে ছিল, তাদের
উপর (বড় বড়) কঠিন অবস্থা ও কষ্ট এসেছিল, এবং তাঁরা কেঁপে উঠেছিল, এমনকি কি রাসূল এবং ঈমানদারগণ বলে উঠেন: আল্লাহর মদদ কখন আসবে?
শোনো! নিশ্চয়ই আল্লাহর সাহায্য খুব নিকটে রয়েছে "।
يَسـَٔلونَكَ ماذا
يُنفِقونَ ۖ قُل ما أَنفَقتُم مِن خَيرٍ فَلِلوٰلِدَينِ وَالأَقرَبينَ وَاليَتٰمىٰ
وَالمَسٰكينِ وَابنِ السَّبيلِ ۗ وَما تَفعَلوا مِن خَيرٍ فَإِنَّ اللَّهَ بِهِ
عَليمٌ (২১৫)
[215] "( হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!) লোকেরা আপনাকে জিজ্ঞেস
করে (আল্লাহর পথে) কী খরচ করবে?
আপনি বলুন: যে ধন-সম্পদ ইচ্ছা তোমরা ব্যয় কর,
সেগুলো (প্রথমে) পিতা-মাতা, নিকটাত্মীয়, এতিম, মিসকিনদের ও মুসাফিরদের প্রতি খরচ কর,
এবং তোমরা যে কোনো নেকি করবে আল্লাহ তা খুব ভালোভাবেই জানেন)"।
كُتِبَ عَلَيكُمُ القِتالُ وَهُوَ كُرهٌ لَكُم ۖ وَعَسىٰ أَن
تَكرَهوا شَيـًٔا وَهُوَ خَيرٌ لَكُم ۖ وَعَسىٰ أَن تُحِبّوا شَيـًٔا وَهُوَ شَرٌّ
لَكُم ۗ وَاللَّهُ يَعلَمُ وَأَنتُم لا تَعلَمونَ
(২১৬)
[216] " (হে ঈমানদারগণ!) জিহাদ তোমাদের উপর ফরয করা হয়েছে,
যদিও তা তোমরা অপছন্দ কর, এবং হয়তো তোমরা কোনো কিছুকে অপছন্দ কর অথচ তা তোমাদের জন্য
উত্তম,
এবং (এমনও) হতে পারে যে তোমরা কোন কিছুকে পছন্দ কর,
অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর,
এবং (এটা) আল্লাহই খুব ভালো জানেন,
কিন্তু তোমরা জান না"।
يَسـَٔلونَكَ عَنِ الشَّهرِ الحَرامِ قِتالٍ فيهِ ۖ قُل قِتالٌ
فيهِ كَبيرٌ ۖ وَصَدٌّ عَن سَبيلِ اللَّهِ وَكُفرٌ بِهِ وَالمَسجِدِ الحَرامِ
وَإِخراجُ أَهلِهِ مِنهُ أَكبَرُ عِندَ اللَّهِ ۚ وَالفِتنَةُ أَكبَرُ مِنَ
القَتلِ ۗ وَلا يَزالونَ يُقٰتِلونَكُم حَتّىٰ يَرُدّوكُم عَن دينِكُم إِنِ
استَطٰعوا ۚ وَمَن يَرتَدِد مِنكُم عَن دينِهِ فَيَمُت وَهُوَ كافِرٌ فَأُولٰئِكَ
حَبِطَت أَعمٰلُهُم فِى الدُّنيا وَالءاخِرَةِ ۖ وَأُولٰئِكَ أَصحٰبُ النّارِ ۖ
هُم فيها خٰلِدونَ (২১৭)
[217] " (হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!) লোকেরা আপনাকে "সম্মানিত" মাস সমূহে (যুল-কায়দাহ,
যুল হিজ্জাহ, মুহাররম এবং রজবে) যুদ্ধ করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে,
আপনি বলুন: এতে যুদ্ধ করা বড় গুনাহ,
আল্লাহর রাস্তা থেকে (লোকদের) বাঁধা দেওয়া,
এবং আল্লাহর সাথে কুফর করা (আল্লাহ কে অস্বীকার করা),
এবং মসজিদে হারাম (কাবা) হইতে বাঁধা দেওয়া,
এবং " হারাম এর সীমানায়" বসবাসকারীদের সেখান থেকে
বের করা,
আল্লাহর নিকট বড় গুনাহ, এবং " ফিতনা" (কুফর,
শিরক, হক অস্বীকার এবং নিফাক) হত্যা থেকেও বড় পাপ,
এবং ( হে ঈমানদারগণ!) এ কাফের তোমাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকবে,
এমনকি তারা যদি সুযোগ পায় তাহলে তোমাদেরকে দ্বীন ত্যাগ করতে
বাধ্য করবে, এবং
তোমাদের মধ্যে যে কেউ দ্বীন ত্যাগ করবে এবং কাফের হয়ে মৃত্যুবরণ করবে,
তাহলে এদের নেকিসমূহ দুনিয়া এবং আখেরাতে ধ্বংস করে দেওয়া হবে,
এবং এরাই হচ্ছে জাহান্নামী, যাতে তারা সর্বদা থাকবে "।
* "ফিতনা" হত্যার চেয়ে বড় পাপ,
এর অর্থ:
ফিতনা শব্দটি আরবী ভাষায় বহু অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে,
মক্কার মুশরিকদের আল্লাহর ঘরের রক্ষক,
আল্লাহর ঘরে মূর্তি রাখা, মুসলমানদেরকে আল্লাহর ঘরে নামাজ পড়তে,
এমনকি মুসলমানদের তাতে প্রবেশে বাধা দেওয়া,
এসব ফিতনার অন্তর্ভুক্ত কাজকর্ম।
এখানে ফিতনার অর্থ: মক্কার মুশরিকদের ঐ সকল কর্মকাণ্ড যা তারা ইসলাম কে বাঁধা দেওয়ার
জন্য করেছিল, যেমন:
মুসলমানদের উপর অত্যাচার, তাদেরকে ইসলাম ছাড়তে বাধ্য করা,
যদি হিজরত করে তবুও তাদের পিছা না ছাড়া,
এবং তাদের মাল ও সম্পদ কব্জা করে নেওয়া ইত্যাদি "ফিতনার"
অন্তর্ভুক্ত, তাই
জিহাদের হুকুম দেওয়া হয়েছে।
* * কাফের শব্দ "গালি" নয়,
কাফের কাকে বলে?
কাফের এর "শাব্দিক" অর্থ গোপন কর্তা, তাই (১) রাত কেও " কাফের" বলা হয়,
কারণ রাত সব কিছুকেই আঁধারে লুকিয়ে দেই। (২) চাষী কেও
" কাফের" বলে, কারণ সে ফসলের দানাগুলো কে জমিনের মধ্যে লুকিয়ে দেই। কাফির ব্যক্তিও আল্লাহর নূরকে গোপন করতে চাই অথবা
নিজের অন্তরে কুফর ও নেফাক এবং মুসলমান ও ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ এবং শত্রুতা লুকিয়ে
রাখে,
তাই তাকে "কাফের" বলা হয়। (আহসানুল বায়ান,দশ নম্বর পারা, সূরা তওবা, আয়াত নং ৩২ এর ব্যাখ্যা)।
إِنَّ الَّذينَ ءامَنوا
وَالَّذينَ هاجَروا وَجٰهَدوا فى سَبيلِ اللَّهِ أُولٰئِكَ يَرجونَ رَحمَتَ
اللَّهِ ۚ وَاللَّهُ غَفورٌ رَحيمٌ (২১৮)
[218] " নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং হিজরত করেছে (আল্লাহর জন্য ঘরবাড়ি
ত্যাগ করেছে), এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে, সত্যিকারে এরাই আল্লাহর রহমতের আশাবাদী এবং আল্লাহ বড় ক্ষমাশীল,
বড় দয়ালু"।
يَسـَٔلونَكَ عَنِ
الخَمرِ وَالمَيسِرِ ۖ قُل فيهِما إِثمٌ كَبيرٌ وَمَنٰفِعُ لِلنّاسِ وَإِثمُهُما
أَكبَرُ مِن نَفعِهِما ۗ وَيَسـَٔلونَكَ ماذا يُنفِقونَ قُلِ العَفوَ ۗ كَذٰلِكَ
يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمُ الءايٰتِ لَعَلَّكُم تَتَفَكَّرونَ
(২১৯)
[219] " (হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!) লোকেরা আপনাকে "মদ" এবং " জুয়া"
সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে,
আপনি বলুন: উভয়ের মধ্যে (মদ এবং জুয়া) বড় পাপ রয়েছে এবং
মানুষের জন্য কিছু (দুনিয়ার) উপকারও রয়েছে, তবে গুনাহ তাদের উপকারের চেয়েও বেশি এবং তারা আপনাকে (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞাসা করে, আমরা (আল্লাহর পথে) কী খরচ করব?
আপনি বলুন: যা তোমাদের
প্রয়োজনের চেয়ে বেশি রয়েছে ( আল্লাহর রাস্তায় খরচ কর),
এভাবে আল্লাহ তোমাদের
জন্য নিদর্শনগুলো প্রকাশ্যে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা চিন্তা করতে পারো"।
*ইসলামে আল-খামর - (মদ) হারাম:
ইসলামে মদের নিষিদ্ধ ঘোষণা কুরআনে তিনটি
স্থানে রয়েছে। (1)
প্রথম আয়াত সূরা বাকারার সূরা নং 2 আয়াত নম্বর:(219)। (2) দ্বিতীয় আয়াত সূরা নিসা সুরা নং 4 আয়াত নম্বর: (43)। (3)
এবং শেষ আয়াত সূরা আল মায়েদা সুরা নং 5 আয়াত নম্বর: (90)।
* ইসলামে আল খামর (মদ) কেন হারাম?:
ইসলামে মদ এ কারণে হারাম করা হয়েছে যে মদ
হল সমস্ত মন্দের মূল, এটি পান করার পর ব্যক্তির বিবেক কাম করা বন্ধ করে দেয়,
মানুষ হালাল এবং হারামের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না,
যার ফলে ধর্ষণ, চুরি, মারধর, গালিগালাজ এবং একাধিক অন্যায় সমাজে ছড়ায়,
মদ পান করে গাড়ি ড্রাইভিং করার কারণে এক্সিডেন্ট হচ্ছে,
মদ পান করার পর মা বাবা, স্ত্রী, মেয়ে এবং প্রতিবেশীর পার্থক্য শেষ হয়ে যায়,
ব্যক্তি তার পিতা-মাতা, স্ত্রী সন্তান সন্ততি, বন্ধু এবং প্রতিবেশী কে মারধর করে,
স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেই, কাউকে হত্যা করে, মদ পান করে রাস্তায় এবং নোংরা ড্রেনে বেহুশ অবস্থায় পড়ে থাকে,
তাই ইসলামে মদ হারাম।
* ইসলামে আল মাইসার (জুয়া) কেন হারাম?:
ইসলামী জুয়া এ জন্য হারাম যে জুয়ার কারণে সমাজে অনেক অপকর্ম ছড়িয়ে পড়ে,
জুয়া খেলার জন্য টাকা প্রয়োজন,
এর জন্য জুয়াড়ি চুরি করে, ডাকাতি করে, কখনো কখনো জুয়াতে ঘরবাড়ি, স্ত্রী সন্তান-সন্ততি পর্যন্ত বাজি লাগিয়ে দেয়,
এবং হেরে যায়, তাই ইসলামে জুয়া হারাম। (তাইসিরুল কুরআন)।
فِى الدُّنيا وَالءاخِرَةِ ۗ وَيَسـَٔلونَكَ عَنِ اليَتٰمىٰ ۖ
قُل إِصلاحٌ لَهُم خَيرٌ ۖ وَإِن تُخالِطوهُم فَإِخوٰنُكُم ۚ وَاللَّهُ يَعلَمُ
المُفسِدَ مِنَ المُصلِحِ ۚ وَلَو شاءَ اللَّهُ لَأَعنَتَكُم ۚ إِنَّ اللَّهَ
عَزيزٌ حَكيمٌ (২২০)
[220] " (হে লোকসকল!) দুনিয়া ও আখেরাতের বিষয়ে (চিন্তা কর),
এবং লোকেরা আপনাকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এতিমদের
সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, আপনি তাদের বলুন: এতিমদের
কল্যাণ কামনা নেকির কাজ, এবং যদি তোমরা তাদের (এতিমদের) সাথে মিলে জুলে থাকো তাহলে (কোনো
হরজ নেই কারণ) তারা তোমাদের (দ্বীনি) ভাই, এবং আল্লাহ কল্যাণ কারীদের এবং ফ্যাসাদ কারীদের (ধোকা দিয়ে
এতিমদের মাল ভক্ষণ কারীদের) উভয়কে খুব ভালোভাবে জানেন,
এবং আল্লাহ যদি ইচ্ছা করত তাহলে তোমাদেরকে অবশ্যই বিপদে লিপ্ত
করত,
আল্লাহ বড় পরাক্রমশালী, বড় বড় হিকমত ওয়ালা "।
وَلا تَنكِحُوا المُشرِكٰتِ حَتّىٰ يُؤمِنَّ ۚ وَلَأَمَةٌ
مُؤمِنَةٌ خَيرٌ مِن مُشرِكَةٍ وَلَو أَعجَبَتكُم ۗ وَلا تُنكِحُوا المُشرِكينَ
حَتّىٰ يُؤمِنوا ۚ وَلَعَبدٌ مُؤمِنٌ خَيرٌ مِن مُشرِكٍ وَلَو أَعجَبَكُم ۗ
أُولٰئِكَ يَدعونَ إِلَى النّارِ ۖ وَاللَّهُ يَدعوا إِلَى الجَنَّةِ
وَالمَغفِرَةِ بِإِذنِهِ ۖ وَيُبَيِّنُ ءايٰتِهِ لِلنّاسِ لَعَلَّهُم
يَتَذَكَّرونَ (২২১)
[221] " আর ( হে মুসলমানগণ!) তোমরা মুশরিকরা( আল্লাহর সাথে অংশীদার কারী)
নারীদেরকে বিয়ে করোনা, যতক্ষণ না তারা ঈমান গ্রহণ করে (মুসলমান না হয়) নিশ্চয়ই একজন
ঈমানদার মহিলা "ক্রীতদাসী " মুশরেক নারীর চেয়ে উত্তম,
যদিও ঐ ( মুশরিকরা নারী) তোমাদের কাছে ভালো লাগে, এবং
তোমরা ( তোমাদের নারীদের বিয়ে) কোন মুশরিক (আল্লাহর সাথে অংশীদার কারী) পুরুষের
সাথে দিয়োনা, যতক্ষণ
না সে পর্যন্ত সে ঈমান না আনে ( মুসলমান না হয়ে যায়),
নিশ্চয়ই একজন ঈমানদার "ক্রীতদাস" মুশরিক পুরুষ থেকে
উত্তম,
যদিও সে (মুশরিক) তোমাদের ভালো লাগে,
মুশরিকরা ( আল্লাহর সাথে অংশীদার কারীরা) তোমাদের কে জাহান্নামের
দিকে ডাকে, এবং
আল্লাহ তাঁর হুকুম দ্বারা জান্নাত এবং ক্ষমা (মাফ) র দিকে ডাক দেয়,
এবং মানুষদের জন্য তার নিদর্শন সমূহ ( তার আদেশ সমূহ) খুলে খুলে
বর্ণনা করে, যাতে
তারা নসিহত গ্রহণ করে"।
* বিয়ের জন্য পুরুষ নারী উভয়কে মুসলিম হওয়া জরুরি,
অন্যথায় শরীয়তী নিকাহ হবে না:
এই আয়াত থেকে জানা যায় যে বিবাহের জন্য পুরুষ এবং মহিলা উভয়কেই মুসলিম হতে হবে,
অন্যথায় এটি শরয়ী বিবাহ হবে না,
আফসোস এর বিষয় এই যে আজ কিছু মুসলিম ভাই এবং কিছু মুসলমান নারী
ইত্যাদি অবৈধ প্রেম করে শরীয়ত বিরোধী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন,
আর নিজের দুনিয়া এবং আখেরাত উভয় বরবাদ করে।
وَيَسـَٔلونَكَ
عَنِ المَحيضِ ۖ قُل هُوَ أَذًى فَاعتَزِلُوا النِّساءَ فِى المَحيضِ ۖ وَلا
تَقرَبوهُنَّ حَتّىٰ يَطهُرنَ ۖ فَإِذا تَطَهَّرنَ فَأتوهُنَّ مِن حَيثُ
أَمَرَكُمُ اللَّهُ ۚ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوّٰبينَ وَيُحِبُّ
المُتَطَهِّرينَ (২২২)
[222] " এবং (হে নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম!) এই লোকেরা আপনাকে "হাইয" (মাসিকের রক্ত) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা
করে, আপনি বলুন: এটি অপবিত্র, সুতরাং হাইয অবস্থায় তোমাদের নারীদের (স্ত্রীদের) থেকে আলাদা থাকো ( সাথে
উঠোবস, খাও পান কর, শুধু সহবাস না কর) এবং
যতক্ষণ না ( মাসিকের রক্ত) থেকে পবিত্র ও পরিষ্কার তাদের নিকটে না যাও ( তাদের সাথে
সহবাস না কর), হ্যাঁ যখন তারা (মাসিকের রক্ত) থেকে পবিত্র হবে তখন তাদের নিকটে যাও ( তাদের সাথে
সহবাস কর), যেখান থেকে আল্লাহ তোমাকে অনুমতি দিয়েছে (অর্থাৎ
আগের স্থানে সহবাস কর, পিছনের স্থানে সহবাস কর না), নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবা কারীদের ভালো বাসেন, এবং খুব পরিস্কার
ও পবিত্র কারীদের ভালো বাসেন "।
نِساؤُكُم
حَرثٌ لَكُم فَأتوا حَرثَكُم أَنّىٰ شِئتُم ۖ وَقَدِّموا لِأَنفُسِكُم ۚ
وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعلَموا أَنَّكُم مُلٰقوهُ ۗ وَبَشِّرِ المُؤمِنينَ (২২৩)
[223]" (হে ঈমানদারগণ!) তোমাদের স্ত্রীরা (তোমাদের সন্তানদের জন্মের জন্য)
ক্ষেত্র, তোমরা যেখান থেকে খুশি তোমাদের চাষের জায়গায়
আসো এবং নিজেদের জন্য (নেক আমল আল্লাহর নিকট) পাঠাতে থাকো, এবং
আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রাখো! যে তোমরা শীঘ্রই আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে এবং (হে
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!) মুমিনদেরকে সুসংবাদ শুনিয়ে দাও"।
* তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের ক্ষেত্র,
এর অর্থ:
এই আয়াতে স্ত্রীকে একটি ক্ষেত্রের সাথে "তুলনা " করে স্পষ্ট করা হয়েছে
যে, "নুতফা" (বীর্য) যা "বীজ"
এর মতো, তা কেবল সামনের (লজ্জা স্থান) দ্বারা ঢালা উচিত,
কারণ সন্তান সেখান থেকেই অর্জন হয় পিছনে থেকে নয়, যেমন একজন চাষী খেতীর দেখরেখ করে সেইমত স্ত্রীর দেখভাল ও যত্ন নিন।
* স্ত্রীর (পশু বা কোনো মানুষ) পিছনের অংশ ব্যবহার করা হারাম:
স্ত্রীর (বা পশু বা কোনো মানুষ) পিছনের অংশ ব্যবহার কারীর উপর আল্লাহর লানত এবং অভিশপ্ত এবং আল্লাহর রহমত থেকে
দূর। হাদিসে আছে: ( ملعون
من أتى امرأته في دبرها) যে ব্যক্তি তার
স্ত্রীর পিছনের অংশ ব্যবহার করল সে অভিশপ্ত" ( সুনান আবু দাউদ কিতাবুন নিকাহ হাদিস
নং 2162( হাসান)।
* ইসলামে লাওয়াতাত ( Homesexuality) হারাম:
অর্থাৎ পুরুষের সাথে পুরুষের দৈহিক ইচ্ছা পূরণ করা বা শিশুদের ব্যবহার করা ইসলামে
হারাম। হাদিসে আছে: লাওয়াতাত কারী উভয়কেই হত্যা কর। (সুনান তিরমিযী, কিতাবুল হুদুদ, হাদীস নং: 1456)। (সহিহ)।
* লাওয়াতাত (Homesexuality) এর অনেক ক্ষতি:
লুত আলাইহিস সালাম এর জাতিকে আল্লাহ ধ্বংস করেছে, অতএব যারাই এই নোংরা কর্মে লিপ্ত রয়েছে যে
কোনো সময় তাদের উপর আল্লাহর আযাব আসতে পারে, এই নোংরা কর্মের
কারণে শরীর দূর্বল হয়ে পড়ে, মানুষ বিবাহের অযোগ্য হয়ে পড়ে,
এবং এই নোংরা কর্মের অনেক অসুবিধা রয়েছে, তাই
এই মন্দ কাজ থেকে দূরে থাকা উচিত। (তাইসিরুল
রহমান)।
وَلا
تَجعَلُوا اللَّهَ عُرضَةً لِأَيمٰنِكُم أَن تَبَرّوا وَتَتَّقوا وَتُصلِحوا بَينَ
النّاسِ ۗ وَاللَّهُ سَميعٌ عَليمٌ (২২৪)
[224] " আর (হে ঈমানদারগণ!) তোমরা তোমাদের "শপথ"কে নেকি , তাকওয়া ( পরহেযগারী ) এবং লোকদের মাঝে ইসলাহ
( মীমাংসা ও পরিচ্ছন্নতা) এ বাঁধা সৃষ্টি না কর, এবং আল্লাহ সব
কিছু শ্রবণকারী, সবকিছুই জানেন"।
* কসম এর কাফফারা: (1) 10 জন মিসকীনকে খাওয়ানো, (2) অথবা 10 জন মিসকীনকে পোশাক পড়ানো, (3) অথবা একজন ক্রীতদাস মুক্ত করা, (4) অথবা 3 দিন রোজা
রাখা।
لا
يُؤاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغوِ فى أَيمٰنِكُم وَلٰكِن يُؤاخِذُكُم بِما كَسَبَت
قُلوبُكُم ۗ وَاللَّهُ غَفورٌ حَليمٌ (২২৫)
[225] "(হে ঈমানদারগণ!) আল্লাহ তোমাদের " لغو " (নিরর্থক) শপথের জন্য পাকড়াও করবেন না, কিন্তু মনের " (পাকা পোক্তা) ইরাদা
দ্বারা গৃহীত "কসমসমূহ " এর
জন্য তিনি অবশ্যই তোমাদের পাকড়াও করবেন, এবং আল্লাহ বড় ক্ষমাশীল, সহনশীল (বড় দয়ালু
এবং বড় ধৈর্য্যশীল)"।
226] لِلَّذينَ يُؤلونَ مِن نِسائِهِم
تَرَبُّصُ أَربَعَةِ أَشهُرٍ ۖ فَإِن فاءو فَإِنَّ اللَّهَ غَفورٌ رَحيمٌ
[226] " যারা তাদের স্ত্রীদের কাছে
" ইলা" করে (সহবাস না করার কসম নেয়), তাদের জন্য চার মাসের ছাড় রয়েছে, তার পর যদি সে ( চার মাসের সময় পূর্ণ করার পর পুনরায় স্ত্রীদের নিকট) ফিরে
আসে, তবে নিশ্চয়ই (কসম নিয়ে যে পাপ করেছিল তা থেকে ফিরে আসার
কারণে) আল্লাহ বড় ক্ষমাশীল এবং বড় মেহেরবান"।
* "ঈলা": (স্ত্রীদের সাথে সহবাস না করার কসম খাওয়া) এর তিনটি পথ রয়েছে:
(1) স্ত্রীদের সাথে সহজ না করার কসম যদি "চার মাসের চেয়ে কম" সময়ের
জন্য হয় তবে এটি সাধারণ কসম।
(2) যদি "চার মাসের" জন্য কসম নেয়, এবং তার পূর্বে নিজ স্ত্রীর সাথে সহবাস করে থাকে, তবে তাকে "কাফফারা" দিতে
হবে, এবং যদি "চার মাসের সময়" পূর্ণ করে নেয় তবে
তার উপর কোন "কাফারা" নেই
(3) এবং যদি সে ব্যক্তি "সর্বদার" জন্য অথবা "চার মাসের চেয়ে বেশি
সময়ের" জন্য কসম খেয়ে থাকে,
তবে তাকে স্ত্রীর অনুরোধ অনুসারে চার মাসের সময় দেওয়া হবে,
যদি সময় পূর্ণ করার পর সহবাস করে নেয় তাহলে তার ওপর কাফফারা ওয়াজিব,
আর যদি সহবাস না করে তবে তাকে তালাক দেওয়ার এর জন্য বাধ্য করা হবে,
এবং যদি তালাক না দেয় তবে শাসক ব্যবস্থা স্বামীর পক্ষ থেকে তালাক কার্যকর
করবে। (আহসানুল বায়ান)।
* * কসম এর কাফফারা: (1) 10 জন মিসকীনকে খাওয়ানো, (2) অথবা 10 জন মিসকীনকে পোশাক পড়ানো,
(3) অথবা একজন ক্রীতদাস মুক্ত করা, (4) অথবা 3
দিন রোজা রাখা।
وَإِن
عَزَمُوا الطَّلٰقَ فَإِنَّ اللَّهَ سَميعٌ عَليمٌ (২২৭)
[227] " আর যদি তারা (ঈলা দ্বারা স্ত্রীর সাথে সহবাস না করার কসম খেয়ে) তালাক
দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করে নেয়, তাহলে নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু শুনেন সবকিছু জানেন "।
وَالمُطَلَّقٰتُ
يَتَرَبَّصنَ بِأَنفُسِهِنَّ ثَلٰثَةَ قُروءٍ ۚ وَلا يَحِلُّ لَهُنَّ أَن يَكتُمنَ
ما خَلَقَ اللَّهُ فى أَرحامِهِنَّ إِن كُنَّ يُؤمِنَّ بِاللَّهِ وَاليَومِ
الءاخِرِ ۚ وَبُعولَتُهُنَّ أَحَقُّ بِرَدِّهِنَّ فى ذٰلِكَ إِن أَرادوا إِصلٰحًا
ۚ وَلَهُنَّ مِثلُ الَّذى عَلَيهِنَّ بِالمَعروفِ ۚ وَلِلرِّجالِ عَلَيهِنَّ
دَرَجَةٌ ۗ وَاللَّهُ عَزيزٌ حَكيمٌ (২২৮)
[228] " আর যে সকল নারীদেরকে তালাক দেওয়া হয়েছে, তাদের "তিন হাইয না হওয়া পর্যন্ত"
অপেক্ষা করা উচিত,এবং যদি তারা আল্লাহ ও আখেরাতের দিনের প্রতি
ঈমান রাখে, সুতরাং যে বাচ্চা আল্লাহ তাদের গর্ভে (পেটে) সৃষ্টি
করেছেন তা গোপন করা তাদের ( মহিলাদের) জন্য হালাল নয়, এবং যদি
তাদের স্বামীরা যদি সংশোধন করতে চায় তবে তাদের অধিকার রয়েছে এ নারীদেরকে (তাদের নিকাহে)
ফিরিয়ে নেওয়া এবং নারীদের (স্ত্রীদের) জন্যেও পুরুষদের (স্বামীদের) উপর অধিকার রয়েছে,
যেমনটি পুরুষের (স্বামীদের) অধিকার রয়েছে নারীদের (স্ত্রীদের) উপর,
তবে হ্যাঁ পুরুষদের কে নারীদের উপর এক গুন মর্যাদা রয়েছ, এবং আল্লাহ বড় শক্তিমান,বড় হিকমত ওয়ালা "।
* তালাকপ্রাপ্ত নারী:
(1) যদি ঋতুস্রাব হয়, তাহলে
মহিলাটি " তিন হাইয" (তিন মাস) "ইদ্দত" হিসেবে কাটাবে, উদ্দেশ্য পেটে
কি আছে? তা জানা, এবং মানুষের বংশতালিকা
মিশ্রণ না হয়, তিন হাইয এর সময় পূর্ণ হওয়ার ব্যাপারে মহিলার
কথা গ্রহণ হবে।
(2) যদি মহিলার ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যায় অথবা এখনও যৌবন অবস্থায় পৌঁছায়নি তবে
তার ইদ্দত হল " তিন মাস"।
(3) আর যদি তালাকপ্রাপ্তা মহিলা গর্ভবতী হয় (পেটে সন্তান রয়), তবে তার ইদ্দত হল গর্ভাবস্থা অর্থাৎ সন্তানের
জন্ম।
(4) আর যদি তালাকপ্রাপ্তা মহিলা এমন হয় যার সাথে স্বামী সহবাস করেনি, তাহলে তার উপর কোনো ইদ্দত নেই। (আহসানুল বায়ান)।
* নারীদের ফুটুক এর অর্থ:
সাধারণ প্রচলন অনুযায়ী রুটি, কাপড় ও ঘর ইত্যাদি।
الطَّلٰقُ
مَرَّتانِ ۖ فَإِمساكٌ بِمَعروفٍ أَو تَسريحٌ بِإِحسٰنٍ ۗ وَلا يَحِلُّ لَكُم أَن
تَأخُذوا مِمّا ءاتَيتُموهُنَّ شَيـًٔا إِلّا أَن يَخافا أَلّا يُقيما حُدودَ
اللَّهِ ۖ فَإِن خِفتُم أَلّا يُقيما حُدودَ اللَّهِ فَلا جُناحَ عَلَيهِما فيمَا
افتَدَت بِهِ ۗ تِلكَ حُدودُ اللَّهِ فَلا تَعتَدوها ۚ وَمَن يَتَعَدَّ حُدودَ
اللَّهِ فَأُولٰئِكَ هُمُ الظّٰلِمونَ (২২৯)
[229] " তালাক (রাজঈ) হল "দুবার", (দুটি
আলাদা আলাদা বৈঠকে তুহুর " পবিত্র" অবস্থায় সহবাস ছাড়াই তালাক দেওয়া),
তারপর (দুটি পৃথক বৈঠকে তালাক দেওয়ার পর স্বামীর জন্য দুটি পথ থাকে)
সরলভাবে স্ত্রীকে (ইদ্দত চলাকালীন) নিজের কাছে সরলভাবে রাখা, অথবা ভাল উপায়ে ছেড়ে দেওয়া, এবং (হে স্বামীগণ!) তোমরা
যা কিছু নারী (মোহর ইত্যাদি) দিয়েছ,
তন্মধ্যে কোনো কিছুই ফেরত নেওয়া তোমাদের জন্য হালাল নয়, হ্যাঁ তবে উভয় (স্বামী স্ত্রী) যদি ভয় করে যে আল্লাহর আইন বজায় রাখতে পারবে
না, যদি তোমরা ভয় কর যে আল্লাহ হুদুদ মানতে সক্ষম হবে না তাহলে
নারী মুক্তি পাওয়ার জন্য কিছু দেয়, তবে উভয়ের উপর কোনো গুনাহ
নেই ( অর্থাৎ স্ত্রী স্বামীকে " মোহর" ফেরত দিয়ে " খুলা" নিয়ে
আলাদা হয়ে যায়, তবে কোনো গুনাহ নেই)। এটি আল্লাহর " হুদুদ
" (আল্লাহর বিধান), তা লঙ্ঘন করোনা (আল্লাহর আইন ভঙ্গ করোনা),
আর যারাই আল্লাহর সীমানা অতিক্রম করে (আল্লাহর আইন ভঙ্গ করে) তারাই হচ্ছে
অত্যাচারী"।
* খুলা" স্ত্রীর হক:
লক্ষ্য চেষ্টার পরও স্বামী-স্ত্রী একসাথে না থাকতে পারে, তাহলে স্ত্রী যদি স্বামীকে " মোহর" ফেরত দেয় এবং আলাদা হয়ে যায়, তাকে "খুলা" বলে।
* খুলা" র ইদ্দত এক হাইয:
এর পর নারী যেখানে খুশি বিয়ে করতে পারে। (সুনান আবু দাউদ কিতাবুত তালাক হাদিস
নং 2229।(সহিহ)।
فَإِن
طَلَّقَها فَلا تَحِلُّ لَهُ مِن بَعدُ حَتّىٰ تَنكِحَ زَوجًا غَيرَهُ ۗ فَإِن
طَلَّقَها فَلا جُناحَ عَلَيهِما أَن يَتَراجَعا إِن ظَنّا أَن يُقيما حُدودَ
اللَّهِ ۗ وَتِلكَ حُدودُ اللَّهِ يُبَيِّنُها لِقَومٍ يَعلَمونَ (২৩০)
[230] "অতঃপর স্বামী যদি স্ত্রীকে (তৃতীয়বার) "তালাক" দিয়ে দেয়, তবে সে (তালাকপ্রাপ্তা মহিলা) তার জন্য (যে স্বামী তিন পৃথক বৈঠকে তালাক দিয়েছে)
হালাল হবে না, যতক্ষণ না সেই মহিলা অন্য স্বামীকে বিয়ে করে,
তারপর যদি দ্বিতীয় স্বামী
(সহবাসের পরে বিনা কোন সমঝোতা ছাড়াই )তাকে তালাক দেয়, তবে তাদের উভয়ের একত্র হওয়াতে (অর্থাৎ মহিলার প্রথম স্বামীর সাথে পুনরায়
বিয়ে করে) কোন দোষ নেই, এই শর্তের সাথে যে এখন উভয়েই আল্লাহর
"হুদুদ" কায়েম রাখবে (এখন তারা আল্লাহর আইন ভঙ্গ করবে না), এবং এগুলিই আল্লাহর "সীমানা" যারা জানে তাদের জন্য আল্লাহ স্পষ্টভাবে
বর্ণনা করেন"।
* " হালালা" ইসলামে হারাম:
হালাল বিয়ে নয় ব্যভিচার, এক রাতের জন্য বিয়ে করে স্বামীর জন্য হালাল
করা "ব্যভিচার", হালালাকারী " ভাড়ার ষাঁড়",
হালালা কারীদের উপর আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল এর লানত, হাদীসে আছে: (أَلَا أُخْبِرُكُمْ
بِالتَّيْسِ الْمُسْتَعَارِ قَالُوا
بَلَى يَا
رَسُولَ
اللهِ قَالَ هُوَ
الْمُحَلِّلُ لَعَنَ اللهُ
الْمُحَلِّلَ وَالْمُحَلَّلَ لَهُ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমি কি তোমাদেরকে " ভাড়াটে ষাঁড়"
সম্পর্কে বলবো না?, তখন
সাহাবা রাযিয়াল্লাহু আনহুম বললেন: অবশ্যই বলুন: রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বললেন: যে " হালালা" করে, আল্লাহর লানত তার উপর যে
হালালা করে এবং যার জন্য "হালালা " করা হয়। (সুনান ইবনে মাজাহ কিতাবুন নিকাহ
হাদিস নং -1936 (হাসান)- (আহসানুল বায়ান)।
وَإِذا
طَلَّقتُمُ النِّساءَ فَبَلَغنَ أَجَلَهُنَّ فَأَمسِكوهُنَّ بِمَعروفٍ أَو
سَرِّحوهُنَّ بِمَعروفٍ ۚ وَلا تُمسِكوهُنَّ ضِرارًا لِتَعتَدوا ۚ وَمَن يَفعَل
ذٰلِكَ فَقَد ظَلَمَ نَفسَهُ ۚ وَلا تَتَّخِذوا ءايٰتِ اللَّهِ هُزُوًا ۚ
وَاذكُروا نِعمَتَ اللَّهِ عَلَيكُم وَما أَنزَلَ عَلَيكُم مِنَ الكِتٰبِ
وَالحِكمَةِ يَعِظُكُم بِهِ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعلَموا أَنَّ اللَّهَ بِكُلِّ
شَيءٍ عَليمٌ(২৩১)
[231] " আর যদি তোমরা স্ত্রীদেরকে (প্রথম বা দ্বিতীয়) তালাক (রাজঈ) দাও এবং
তাদের ইদ্দত পূর্ণ হতে শুরু হয়, তবে ঐ (তালাকপ্রাপ্ত) স্ত্রীদেরকে নেক নিয়তের সহিত নিজের নিকাহে থাকতে দাও,
অথবা তাদের ভালোভাবে ছেড়ে দাও (তালাক দিয়ে দাও), এবং তাদের ক্ষতির উদ্দেশ্যে তাদের আটকে রাখোনা (অর্থাৎ ফিরিয়ে নাও) এবং যে
এটি করবে সে নিজেরই প্রতি যুলুম করবে এবং আল্লাহর " আয়াতসমূহ" (আহকাম) এর
ঠাট্টা করোনা, এবং আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত সমূহ স্মরণ কর,
এবং স্মরণ কর সে কিতাব ও হিকমত (কুরআন ও হাদিস) যা তিনি তোমাদের প্রতি
নাযিল করেছেন, যার দ্বারা তোমাদেরকে নসিহত করেন এবং আল্লাহকে
ভয় করতে থাকো, এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু জানেন"।
وَإِذا
طَلَّقتُمُ النِّساءَ فَبَلَغنَ أَجَلَهُنَّ فَلا تَعضُلوهُنَّ أَن يَنكِحنَ
أَزوٰجَهُنَّ إِذا تَرٰضَوا بَينَهُم بِالمَعروفِ ۗ ذٰلِكَ يوعَظُ بِهِ مَن كانَ
مِنكُم يُؤمِنُ بِاللَّهِ وَاليَومِ الءاخِرِ ۗ ذٰلِكُم أَزكىٰ لَكُم وَأَطهَرُ ۗ
وَاللَّهُ يَعلَمُ وَأَنتُم لا تَعلَمونَ (২৩২)
[232] "যখন তোমরা স্ত্রীদেরকে তালাক (রাজঈ) দেবে এবং তারা তাদের ইদ্দত পূর্ণ
করে নেয়, তখন (হে স্ত্রীর পিতার পক্ষের লোকেরা!) তোমরা
তাদেরকে বাঁধা দিয়োনা সে নিজের (প্রথম) স্বামীর সাথে (দ্বিতীয়বার) বিয়ে করে,
যখন তারা সৎ পন্থায় একে অপরকে বিয়ে করতে রাজি হয়, তোমাদের মধ্যে যে কেউ আল্লাহ ও আখেরাতের দিনের প্রতি ঈমান রাখে তাদেরকে এই
কথার নসিহত করা হচ্ছে, এটাই তোমাদের জন্য বেশি বিশুদ্ধতর ও পবিত্রতার
পথ, এবং আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না"।
وَالوٰلِدٰتُ
يُرضِعنَ أَولٰدَهُنَّ حَولَينِ كامِلَينِ ۖ لِمَن أَرادَ أَن يُتِمَّ الرَّضاعَةَ
ۚ وَعَلَى المَولودِ لَهُ رِزقُهُنَّ وَكِسوَتُهُنَّ بِالمَعروفِ ۚ لا تُكَلَّفُ
نَفسٌ إِلّا وُسعَها ۚ لا تُضارَّ وٰلِدَةٌ بِوَلَدِها وَلا مَولودٌ لَهُ
بِوَلَدِهِ ۚ وَعَلَى الوارِثِ مِثلُ ذٰلِكَ ۗ فَإِن أَرادا فِصالًا عَن تَراضٍ
مِنهُما وَتَشاوُرٍ فَلا جُناحَ عَلَيهِما ۗ وَإِن أَرَدتُم أَن تَستَرضِعوا
أَولٰدَكُم فَلا جُناحَ عَلَيكُم إِذا سَلَّمتُم ما ءاتَيتُم بِالمَعروفِ ۗ
وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعلَموا أَنَّ اللَّهَ بِما تَعمَلونَ بَصيرٌ (২৩৩)
[233] " এবং মায়েদের উচিত তাদের সন্তানদের "দুই বছর" পর্যন্ত বুকের দুধ পান করানো, এই হুকুম হল তার জন্য যে দুধ খাওয়ানোর সময়কাল
সম্পূর্ণ করতে চান এবং ওই সন্তানের পিতার উপর ওয়াজিব আইন অনুযায়ী ( উরফে আম অর্থাৎ
প্রচলিত রীতি অনুযায়ী) ঐ "মায়েদের" "খাবার পানাহার" ও কাপড়
চোপড় এর খরচ বহন করা, কাউকে তার ক্ষমতার বাইরে দায়িত্ব চাপানো
হয়নি ( শক্তির চেয়ে বেশি কারো উপর দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হয়নি), না মাকে তার সন্তানের জন্য কষ্ট দেওয়া হবে, আর না বাবাকে
তার সন্তানের কারণে কষ্ট দেওয়া হবে, আর (যদি বাবার মৃত্যু হয়ে
থাকে) তবে ওয়ারিশদের ওপর এই দায়িত্ব থাকবে, অতঃপর যদি উভয়
(মা এবং বাবা) পরস্পর রাজি এবং পরামর্শের ভিত্তিতে দুই বছরের পূর্বেই দুধ ছাড়ানো চাই,
তবে এতে তাদের প্রতি কোন গুনাহ নেই, কিন্তু শর্ত
রয়েছে যে স্তন্যদানকারী "ধাত্রী" কে আইন অনুযায়ী (উরফে আম অর্থাৎ প্রচলিত
রীতি অনুযায়ী) যা দেওয়া নির্ধারিত রয়েছে, তা দিতে থাকো এবং
আল্লাহকে ভয় কর, এবং জেনে রাখ আল্লাহ তোমাদের কাজকর্ম খুব ভালোভাবে
দেখছেন"।
وَالَّذينَ
يُتَوَفَّونَ مِنكُم وَيَذَرونَ أَزوٰجًا يَتَرَبَّصنَ بِأَنفُسِهِنَّ أَربَعَةَ
أَشهُرٍ وَعَشرًا ۖ فَإِذا بَلَغنَ أَجَلَهُنَّ فَلا جُناحَ عَلَيكُم فيما فَعَلنَ
فى أَنفُسِهِنَّ بِالمَعروفِ ۗ وَاللَّهُ بِما تَعمَلونَ خَبيرٌ (২৩৪)
[234] " আর তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যু হয় বরণ করেছে এবং স্ত্রীদের ছেড়ে
গেছে, তাহলে এই স্ত্রীদের ইদ্দত হল চার মাস দশ দিন
(স্ত্রীরা তাদের ইদ্দত চার মাস দশ দিন স্বামীর বাড়িতে পূরন করবে) এবং যখন তারা তাদের
ইদ্দত (চার মাস দশ দিন) পুর্ন করে নিবে, এবং নিজের (দ্বিতীয়
নিকাহ) সম্পর্কে যথাযথ ভাবে কিছু প্রচেষ্টা করবে, তবে (হে নারীর
অভিভাবকগণ!) তোমাদের প্রতি কোন গুনাহ নেই, এবং যা কিছু তোমরা
করছ আল্লাহ সেগুলো খুব ভালোভাবে জানেন"।
[235] وَلا جُناحَ عَلَيكُم فيما عَرَّضتُم بِهِ
مِن خِطبَةِ النِّساءِ أَو أَكنَنتُم فى أَنفُسِكُم ۚ عَلِمَ اللَّهُ أَنَّكُم
سَتَذكُرونَهُنَّ وَلٰكِن لا تُواعِدوهُنَّ سِرًّا إِلّا أَن تَقولوا قَولًا
مَعروفًا ۚ وَلا تَعزِموا عُقدَةَ النِّكاحِ حَتّىٰ يَبلُغَ الكِتٰبُ أَجَلَهُ ۚ
وَاعلَموا أَنَّ اللَّهَ يَعلَمُ ما فى أَنفُسِكُم فَاحذَروهُ ۚ وَاعلَموا أَنَّ
اللَّهَ غَفورٌ حَليمٌ
[235] "আর যদি (ইদ্দত চার মাস দশ দিনের মধ্যে) তোমরা এই নারীদেরকে ইঙ্গিতেই
বিয়ের বার্তা দিয়ে দাও বা (তাদের সাথে বিয়ের ইচ্ছা) অন্তরে লুকিয়ে রাখো, তাহলে তোমাদের উপর কোনো গুনাহ নেই, আল্লাহ জানেন যে তোমরা ( তাদের সাথে বিয়ের) কল্পনা অবশ্যই ( নিজের অন্তরে) করবে, কিন্তু তোমরা তাদের সাথে গোপনে বিবাহ করার জন্য দৃঢ় ওয়াদা না কর,
কিন্তু সৎ উপায়ে (বিয়ের জন্য) কিছু কথা বলে দাও, আর যতক্ষণ না ইদ্দত পূর্ণ হয় পাকাপোক্তা বিয়ের ইচ্ছা করো না, আর জেনে রাখো! যা কিছু তোমাদের অন্তরে আছে আল্লাহ সেগুলো খুব ভালোভাবে জানেন,
তাই তোমরা তাঁকে ভয় কর এবং জেনে রাখো! নিশ্চয়ই আল্লাহ বড় ক্ষমাশীল
এবং বড় সহনশীল"।
لا
جُناحَ عَلَيكُم إِن طَلَّقتُمُ النِّساءَ ما لَم تَمَسّوهُنَّ أَو تَفرِضوا
لَهُنَّ فَريضَةً ۚ وَمَتِّعوهُنَّ عَلَى الموسِعِ قَدَرُهُ وَعَلَى المُقتِرِ
قَدَرُهُ مَتٰعًا بِالمَعروفِ ۖ حَقًّا عَلَى المُحسِنينَ (২৩৬)
[236] " যদি তোমরা নারীদেরকে বিনা স্পর্শ (সহবাস না করে) এবং মোহর না করে
তালাক দিয়ে দাও, তবে
তাতে তোমাদের উপর কোন পাপ নেই, হ্যাঁ তবে তাদেরকে কিছু সম্পদ
(মাল) দিয়ে বিদায় কর, ধনী ব্যক্তির উপর তার ক্ষমতা অনুসারে,
এবং একজন দরিদ্র ব্যক্তির উপর তার ক্ষমতা অনুসারে, সম্পদ (মাল) উত্তম উপায়ে প্রদান করা, সৎকর্মশীলদের এটি
দায়িত্ব (অবশ্যই, জরুরী)"।
237] وَإِن طَلَّقتُموهُنَّ مِن قَبلِ أَن
تَمَسّوهُنَّ وَقَد فَرَضتُم لَهُنَّ فَريضَةً فَنِصفُ ما فَرَضتُم إِلّا أَن
يَعفونَ أَو يَعفُوَا۟ الَّذى بِيَدِهِ عُقدَةُ النِّكاحِ ۚ وَأَن تَعفوا أَقرَبُ
لِلتَّقوىٰ ۚ وَلا تَنسَوُا الفَضلَ بَينَكُم ۚ إِنَّ اللَّهَ بِما تَعمَلونَ
بَصيرٌ (২৩৭)
[237] " আর যদি তোমরা ওই নারীদেরকে স্পর্শ করার আগেই (সহবাস করার আগেই) তালাক
দিয়ে দাও, এবং তাদের মোহর
নির্ধারিত ছিল, তাহলে যা মোহর নির্ধারিত ছিল তার অর্ধেক দিয়ে
দাও, হ্যাঁ, যদি সে মহিলারা (অর্ধেক মোহর)
মাফ করে দেয়, (তবে সে তা করতে পারবে), অথবা স্বামী (তার অধিকার) ছেড়ে দেয় (এবং যদি
স্ত্রীকে পূর্ণ মোহর দিয়ে দেয় তবে স্বামী
তা দিতে পারে, অনুমতি রয়েছে),
এবং তোমাদের ক্ষমা করে দেওয়া তাকওয়া (নেকি) বেশি নিকটবর্তী,
আর তোমাদের পরস্পর এক অপরের সাথে ভালো ব্যবহার করতে ভুলে যেওনা,
নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের কাজকর্ম খুব ভালোভাবে দেখছেন"।
حٰفِظوا
عَلَى الصَّلَوٰتِ وَالصَّلوٰةِ الوُسطىٰ وَقوموا لِلَّهِ قٰنِتينَ (১৩৮)
[238] " (হে মুসলমানগণ!) তোমরা নামাজের হেফাজত কর, এবং (বিশেষ করে) মধ্যবর্তী (আসরের) নামাজ (এর
হেফাজত কর) এবং আল্লাহর আনুগত্যে দাঁড়াও"।
* নামাজের হেফাজত এর অর্থ:
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ তার সময়ে আদায় কর,
প্রতিটি নামাজকে জীবনের শেষ নামাজ হিসেবে আদায় কর।
عَنْ أَبِي
أَيُّوبَ، قَالَ جَاءَ
رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ
ـ صلى الله
عليه وسلم ـ
فَقَالَ يَا رَسُولَ
اللَّهِ عَلِّمْنِي وَأَوْجِزْ
. قَالَ
" إِذَا قُمْتَ
فِي صَلاَتِكَ فَصَلِّ صَلاَةَ مُوَدِّعٍ وَلاَ
تَكَلَّمْ بِكَلاَمٍ تَعْتَذِرُ
مِنْهُ وَأَجْمِعِ الْيَأْسَ
عَمَّا فِي أَيْدِي
النَّاسِ
আবূ আয়্যূব রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন : একজন ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম -এর নিকট এসে বললো, হে
আল্লাহর রাসূল! আমাকে সংক্ষেপে শিখিয়ে দিন, তিনি সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: (1) যখন তুমি নামাজে দাঁড়াবে, তখন এমনভাবে
নামাজ পড়ো, যেন এটাই তোমার শেষ নামায, (2) এবং তুমি এমন কথা বলো না, যার জন্য তোমাকে ভবিষ্যতে
কৈফিয়ত দিতে হয়, (3) আর মানুষের হাতে যা আছে তা থেকে নিরাশ হয়ে
যাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতজ্ঞ হও। (সুনান ইবনে মাজাহ কিতাবুয যুহুদ হাদিস নং
3503)-(হাসান)।
[239] فَإِن خِفتُم فَرِجالًا أَو رُكبانًا ۖ
فَإِذا أَمِنتُم فَاذكُرُوا اللَّهَ كَما عَلَّمَكُم ما لَم تَكونوا تَعلَمونَ
[239] " (হে মুসলমানগণ!) আর যদি তোমরা (শত্রু বা পশুর ভয়) এর মধ্যে থাকো, তাহলে হাঁটতে হাঁটতে বা অথবা সওয়ারীর উপরেই
নামায পড়ো (কারণ নামাজ কোনো অবস্থায় মাফ নাই) তারপর যখন তুমি শান্তিতে থাকো,
তখন আল্লাহকে স্মরণ করো যেভাবে তিনি তোমাদের শিখিয়েছেন যা তোমরা জানতে
না"।
* ভয়ের নামাজ " صلاة الخوف" এর পদ্ধতি:
ইমামের সামনে থাকবে, কিছু
লোক তার সাথে সালাত আদায় করবে, ইমাম তাদের এক রাকাত ইমামতি করবে,
বাকী লোকেরা তাদের এবং শত্রুদের মাঝে দাঁড়াবে, সালাত পড়বে না, যখন এই লোকেরা ইমামের সাথে এক রাকাআত
সালাত আদায় করনিবে তখন তারা পিছনে যাবে, এবং যারা সালাত আদায়
করেননি তারা এখন এগিয়ে এসে ইমামের সাথে এক রাকাত সালাত আদায় করবে, ইমামের দুরাকাত পড়া হয়েছে, এখন উভয় দলকে এক এক করে
অবশিষ্ট রাকাত পূর্ণ করবে। (সহীহ বুখারী,
কিতাবুত তাফসির, হাদীস নং: 4535)।
وَالَّذينَ
يُتَوَفَّونَ مِنكُم وَيَذَرونَ أَزوٰجًا وَصِيَّةً لِأَزوٰجِهِم مَتٰعًا إِلَى
الحَولِ غَيرَ إِخراجٍ ۚ فَإِن خَرَجنَ فَلا جُناحَ عَلَيكُم فى ما فَعَلنَ فى
أَنفُسِهِنَّ مِن مَعروفٍ ۗ وَاللَّهُ عَزيزٌ حَكيمٌ (২৪০)
[240] " আর তোমাদের মধ্যে যারা মারা গেছেন এবং তাদের স্ত্রীরা জীবিত আছে , তারা যেন তাদের স্ত্রীদের (বিধবাদের) পক্ষে
অসিয়ত করে যে, তাদের পুরো এক বছরের জন্য "খোরপোষ"
দেওয়া যেন হয় এবং এক বছর পর্যন্ত তাদেরকে যেন (স্বামীর) ঘর থেকে বের করা না হয়,
আর তারা (স্বয়ং স্বামীর ঘর থেকে) বের না হয়, তাঁরা তাঁদের নিকাহের ব্যাপারে যথাযথ উপায়ে কিছু যদি করে, তাহলে তোমাদের উপর কোনো গুনাহ নেই, এবং আল্লাহ বড় শক্তিমান,
বড় হিকমত ওয়ালা "।
* কিন্তু এ আয়াত (240) এর হুকুম একই সূরা বাকারার আয়াত নম্বর (234) দ্বারা মানসুখ
(রহিত) , স্বামীর মৃত্যুর পর ইদ্দত হল (4 মাস 10 দিন),
এই আয়াতের তিলাওয়াত বাকি আছে।
وَلِلمُطَلَّقٰتِ
مَتٰعٌ بِالمَعروفِ ۖ حَقًّا عَلَى المُتَّقينَ(২৪১)
[241] "আর "তালাকপ্রাপ্ত নারীদেরকে" আইন অনুযায়ী (উরফে আম অর্থাৎ
প্রচলিত রীতি অনুযায়ী)খরচ দেওয়া হবে,
আল্লাহ কে ভয় কারীদের উপর এটি হক (অবশ্যই, জরুরী)"।
كَذٰلِكَ
يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُم ءايٰتِهِ لَعَلَّكُم تَعقِلونَ (২৪২)
[242] " একইভাবে, আল্লাহ
তোমাদের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ (তাঁর আদেশসমূহ) সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা বুঝতে পার"।
أَلَم
تَرَ إِلَى الَّذينَ خَرَجوا مِن دِيٰرِهِم وَهُم أُلوفٌ حَذَرَ المَوتِ فَقالَ
لَهُمُ اللَّهُ موتوا ثُمَّ أَحيٰهُم ۚ إِنَّ اللَّهَ لَذو فَضلٍ عَلَى النّاسِ
وَلٰكِنَّ أَكثَرَ النّاسِ لا يَشكُرونَ (২৪৩)
[243] " (হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!) আপনি কি তাদেরকে দেখেননি
যারা বাড়ি ছেড়ে "হাজার হাজার"
সংখ্যায় মৃত্যুর ভয়ে পালিয়েছে? তখন আল্লাহ তাদেরকে বললেন: তোমরা
মরে যাও (অতএব ঐসব লোক পথেই মারা গেছিল), তারপর আল্লাহ তাদেরকে
পুনরুজ্জীবিত করেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের প্রতি বড় দয়ালু
(বড় মেহেরবান) কিন্তু অধিকাংশ মানুষই অকৃতজ্ঞ)"।
* আল্লাহ মৃত্যু দেহকে দুনিয়াতেই জীবিত করে দেখিয়েছেন:
একইভাবে তিনি কেয়ামতের দিন সবাইকে পুনরুজ্জীবিত করবেন। সূরা বাকারায় "পাঁচ
স্থানে" মৃতকে জীবিত করার ঘটনা রয়েছে,
সূরা বাকারার এই 243 নম্বর আয়াতে মৃতকে জীবিত করার ঘটনা রয়েছে। এ ছাড়া সূরা বাকারার ৪টি আয়াতে (1) আয়াত নম্বর:
56, (2) আয়াত নম্বর: 73, (3) আয়াত নম্বর:
259 এবং (4) আয়াত নম্বর: 260 এ ঘটনাটি উল্লেখ করা হয়েছে।
وَقٰتِلوا
فى سَبيلِ اللَّهِ وَاعلَموا أَنَّ اللَّهَ سَميعٌ عَليمٌ (২৪৪)
[244] " আর তোমরা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ কর (মৃত্যুকে ভয় পাওয়ার দরকার
নেই) এবং জেনে রাখ যে নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু শোনেন, সবকিছু জানেন"।
مَن
ذَا الَّذى يُقرِضُ اللَّهَ قَرضًا حَسَنًا فَيُضٰعِفَهُ لَهُ أَضعافًا كَثيرَةً ۚ
وَاللَّهُ يَقبِضُ وَيَبصُۜطُ وَإِلَيهِ تُرجَعونَ (২৪৫)
[245] "কে আছে যে আল্লাহকেقرض
حسنة (উত্তম ঋণ) দিবে? সুতরাং
আল্লাহ তার জন্য তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবেন এবং আল্লাহ (যার জন্য ইচ্ছা রিযিক (সংকীর্ণ
করে দেন) এবং (যার জন্য ইচ্ছা রিযিক) প্রশস্ত করে (বৃদ্ধি করেন), এবং তোমাদের সবাইকে আল্লাহরই দিকেই
প্রত্যাবর্তন করতে হবে"।
*উত্তম ঋণ" قرْض حسنة" এর অর্থ:
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং অন্তরের আনন্দের
সহিত আত্মীয়-স্বজন, এতিম,
ফকির, গরীব-মিসকিন ইত্যাদির জন্য খরচ করা,
এতে সম্পদ কমে না বরং বৃদ্ধি
পায়, আল্লাহ বরকত দেন।
*উত্তম ঋণ" قرْض حسنة" এর অর্থ এতাও হতে পারে:
কাউকে ঋণ দিলে তাকে তা পরিশোধে বিরক্ত না করা এবং ঋণগ্রহীতা পরিশোধে অক্ষম হলে
তাকে মাফ করে দেওয়া। আল্লাহকে উত্তম ঋণ প্রদানের মধ্যে সব ধরনের নেক আমলের অন্তর্ভুক্ত,আল্লাহর রাস্তায় সব ধরনের ব্যয় এর অন্তর্ভুক্ত। (তাইসিরুল কুরআন)।
أَلَم
تَرَ إِلَى المَلَإِ مِن بَنى إِسرٰءيلَ مِن بَعدِ موسىٰ إِذ قالوا لِنَبِىٍّ
لَهُمُ ابعَث لَنا مَلِكًا نُقٰتِل فى سَبيلِ اللَّهِ ۖ قالَ هَل عَسَيتُم إِن
كُتِبَ عَلَيكُمُ القِتالُ أَلّا تُقٰتِلوا ۖ قالوا وَما لَنا أَلّا نُقٰتِلَ فى
سَبيلِ اللَّهِ وَقَد أُخرِجنا مِن دِيٰرِنا وَأَبنائِنا ۖ فَلَمّا كُتِبَ
عَلَيهِمُ القِتالُ تَوَلَّوا إِلّا قَليلًا مِنهُم ۗ وَاللَّهُ عَليمٌ
بِالظّٰلِمينَ (২৪৬)
[246] " আপনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর
পর বনী ইসরাঈলের (সর্দারদের) একটি দলকে দেখেছেন? যখন তারা তাদের নবী (سموئیل সামবেল আলাইহিস সালাম) কে বলল: আপনি আমাদের জন্য একজন রাজা বানিয়ে দিন, যাতে করে আমরা (ওই রাজার সাথে হয়ে ) আল্লাহর
পথে জিহাদ করতে পারি, তখন নবী (সামবেল আলাইহিস সালাম) বললেন:
যদি তোমাদের উপর জিহাদ ফরজ করে দেওয়া হয়, হতেপারে তখন তোমরা
জিহাদ না করো, তাঁরা
বলল: আমরা আল্লাহর রাস্তায় কেন জিহাদ করব না, অথচ আমাদেরকে আমাদের
বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে, এবং সন্তান-সন্ততি থেকে দূর
করে দেওয়া হয়েছে, অতঃপর যখন তাদেরকে জিহাদের হুকুম দেয়া হলো
তখন তাদের মধ্যে থেকে অল্প সংখ্যক লোক ব্যতীত বাকি সবাই মুখ ফিরিয়ে নি, এবং আল্লাহ জুলুম কারীদের খুব ভালো করে জানেন"।
وَقالَ
لَهُم نَبِيُّهُم إِنَّ اللَّهَ قَد بَعَثَ لَكُم طالوتَ مَلِكًا ۚ قالوا أَنّىٰ
يَكونُ لَهُ المُلكُ عَلَينا وَنَحنُ أَحَقُّ بِالمُلكِ مِنهُ وَلَم يُؤتَ سَعَةً
مِنَ المالِ ۚ قالَ إِنَّ اللَّهَ اصطَفىٰهُ عَلَيكُم وَزادَهُ بَسطَةً فِى
العِلمِ وَالجِسمِ ۖ وَاللَّهُ يُؤتى مُلكَهُ مَن يَشاءُ ۚ وَاللَّهُ وٰسِعٌ
عَليمٌ (২৪৭)
[247] " আর তাদের (বনী ইসরাঈল) নবী
( সামবেল আলাইহিস সালাম) তাদেরকে বললেন:
নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের জন্য "তালুত" কে বাদশাহ হিসেবে পাঠিয়েছেন, তারা
বলল: সে কিভাবে আমাদের রাজা হবে? (তাকে বাদশাহ হওয়ার অধিকার কে দিয়েছে?), তার চেয়েও
বেশি আমারা নিজে "শাসন" করার অধিকারী,
এবং তার কাছে মাল এবং সম্পদও নেই, নবী (সামবেল
আলাইহিস সালাম) বললেন: আল্লাহ তাকে (তালুত) আপনার উপর নির্বাচন করেছেন এবং তালুতকে
"জ্ঞান" ও "শরীর" (উভয়ে) সর্বোচ্চ "যোগ্যতা" দিয়েছেন, এবং আল্লাহ যাকে
চান তার "দেশ" দান করেন ( হুকুমত
দান করেন) এবং আল্লাহ বড় প্রশস্ত ওয়ালা (খুব বড় দাতা), সর্বজ্ঞ"।
وَقالَ
لَهُم نَبِيُّهُم إِنَّ ءايَةَ مُلكِهِ أَن يَأتِيَكُمُ التّابوتُ فيهِ سَكينَةٌ
مِن رَبِّكُم وَبَقِيَّةٌ مِمّا تَرَكَ ءالُ موسىٰ وَءالُ هٰرونَ تَحمِلُهُ
المَلٰئِكَةُ ۚ إِنَّ فى ذٰلِكَ لَءايَةً لَكُم إِن كُنتُم مُؤمِنينَ (২৪৮)
[248] " আর তাদের (বনি ইসরাঈল) নবী (সামবেল আলাইহিস সালাম) বললেন: নিশ্চয়ই
তালুত এর বাদশাহ হওয়ার "সুস্পষ্ট নিদর্শন" এই যে, তোমাদের কাছে একটি "তাঁবুত" আসবে
(বাক্সটি ফিরে আসবে), তাতে তোমাদের রব এর পক্ষ থেকে "শান্তি"
(র বস্তু ) থাকবে, এবং বাকি জিনিস যা মুসা (আলাইহিস সালাম) এর
আওলাদ এবং হারুন (আলাইহিস সালাম) এর সন্তানরা রেখে গেছেন, ওই
বাক্সটি ফেরেস্তারা বয়ে নিয়ে আসবে, যদি তোমরা বিশ্বাসী হও তাহলে
নিশ্চয়ই এর মধ্যে তোমাদের জন্য একটি বড় নিদর্শন রয়েছে"।
* তাঁবুত" কি?
বানী ইসরাইলের সময়ের "বাক্স",
যার মধ্যে মুসা আলাই সালাম এবং হারুন আলাইহিস সালাম এর " তাবাররুতাক"
রাখা ছিল, যেমন পাথরের সিলেট যা তুর পর্বতে আল্লাহ মুসা আল ইসলামকে দিয়েছিলেন, তাওরাতের আসল নুসখা (সংস্করণ) যা মুসা আলাইহিস সালাম নিজের হাতে লিখেছিলেন,
যেই লাঠিটি সাপে পরিণত হয়ে
যেত, শত্রুরা এই "বাক্স" তাদের কাছ থেকে
ছিনিয়ে নিয়েছিল, আল্লাহ
নিদর্শন হিসাবে সেই "তাঁবুত" বাক্স
ফেরেশতা বর্গের মাধ্যমে তালুতের দরজা পর্যন্ত পৌঁছে দেয়, যা দেখে বনী ইসরাঈল আনন্দিত হয়ে ওঠে, এবং "তালুত"কে
নিজের বাদশা হিসেবে মেনে নেয়।
* ঐসব "তাবাররুকাত" সহিহ যা দলিল থেকে প্রমাণিত, আজকে বাজারে "জাল তাবাররুকাত" রয়েছে,
এগুলোর প্রমাণ কি? " বরকতময় চুল" হোক
বা " সম্মানিত জুতো"(আহসানুল বায়ান)।
فَلَمّا
فَصَلَ طالوتُ بِالجُنودِ قالَ إِنَّ اللَّهَ مُبتَليكُم بِنَهَرٍ فَمَن شَرِبَ
مِنهُ فَلَيسَ مِنّى وَمَن لَم يَطعَمهُ فَإِنَّهُ مِنّى إِلّا مَنِ اغتَرَفَ
غُرفَةً بِيَدِهِ ۚ فَشَرِبوا مِنهُ إِلّا قَليلًا مِنهُم ۚ فَلَمّا جاوَزَهُ هُوَ
وَالَّذينَ ءامَنوا مَعَهُ قالوا لا طاقَةَ لَنَا اليَومَ بِجالوتَ وَجُنودِهِ ۚ
قالَ الَّذينَ يَظُنّونَ أَنَّهُم مُلٰقُوا اللَّهِ كَم مِن فِئَةٍ قَليلَةٍ
غَلَبَت فِئَةً كَثيرَةً بِإِذنِ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ مَعَ الصّٰبِرينَ (২৪৯)
[249] " অতঃপর যখন "তালুত"
তার সৈন্যবাহিনী নিয়ে (" জালুত" এর সৈন্যবাহিনী " আমালিকা"
র সাথে যুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে) বের হলো,
তখন তিনি (সৈন্যদেরকে) বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ একটি "নদী"র
মাধ্যমে তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে চলেছেন, সুতরাং যে কেউ এই নদীর
পানি পান করবে সে আমার সঙ্গী নয় এবং যে না পান করবে সে হবে আমার সঙ্গী, হ্যাঁ তবে যদি কেউ
"হাতের তালু ভরে" সামান্য পানি পান করবে (তাহলে কোন সমস্যা নেই), অতঃপর অল্প সংখ্যক লোক ছাড়া বাকি লোকেরা ওই
"নদী" থেকে খুব পানি পান করল, এরপর যখন তালুত এবং তার সৈন্যবাহিনী নদী পার করে নিল তখন (যারা "তালুত"
এর কথা মানেনি) বলতে লাগলো: আজ আমাদের "জালুত" এবং তার সৈন্যবাহিনীর বিরুদ্ধে
লড়াই করার ক্ষমতা নেই, আর যারা আল্লাহর সাক্ষাতের পুরো বিশ্বাসী
তারা বলেছিল:
কতবার একটি ছোট দল আল্লাহর নির্দেশে একটি
বড় দলের উপর জয় করেছে (ছোট দলটি আল্লাহর আদেশে
বড় দলের উপর জয়লাভ করেছে) এবং আল্লাহ সবরকারীদের সাথে আছেন"।
* "নহর" এবং"দারয়া" দ্বারা বুঝানো হয়েছে সেই নহর যা উর্দুন
এবং ফিলিস্তিনের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।
وَلَمّا
بَرَزوا لِجالوتَ وَجُنودِهِ قالوا رَبَّنا أَفرِغ عَلَينا صَبرًا وَثَبِّت
أَقدامَنا وَانصُرنا عَلَى القَومِ الكٰفِرينَ (২৫০)
[250] "আর যখন (মুমিনগণ) "জালুত" ও তার সৈন্যদের মুখোমুখি হয়েছিল, তখন (মুমিনরা) দোয়া করেছিল: হে আমাদের রব!
আমাদেরকে ধৈর্য দান কর (আমাদের সবর দান কর) এবং (যুদ্ধে) আমাদের পা শক্ত করে দাও এবং
কাফেরদের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য কর (আমাদের জয়ী কর)"।
* ধৈর্য্য, অবিচলতা,
এবং কাফেরদের বিরুদ্ধে সাহায্যের জন্য সব থেকে উত্তম দোয়া:
(رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا
وَثَيْتُ أَقْدَامَنَا وَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَفِرِينَ )
فَهَزَموهُم
بِإِذنِ اللَّهِ وَقَتَلَ داوۥدُ جالوتَ وَءاتىٰهُ اللَّهُ المُلكَ وَالحِكمَةَ
وَعَلَّمَهُ مِمّا يَشاءُ ۗ وَلَولا دَفعُ اللَّهِ النّاسَ بَعضَهُم بِبَعضٍ
لَفَسَدَتِ الأَرضُ وَلٰكِنَّ اللَّهَ ذو فَضلٍ عَلَى العٰلَمينَ (২৫১)
[251] "সুতরাং (তালুতের সেনাবাহিনী) আল্লাহর আদেশে (জালুতের সেনাবাহিনী) কে
পরাজিত করল, এবং দাউদ জালূতকে
হত্যা করল এবং আল্লাহ দাউদ (আলাইহিস সালাম) কে হুকুমত এবং রাজত্ব দান করেন (রাজত্ব
এবং নবুওয়াত দেন), এবং যা সে চেয়ে ছিল তা শিক্ষা দেন,
এবং আল্লাহ যদি তবে কিছু লোককে কিছু লোক দ্বারা "دفع" দূর না করলে (নিকৃষ্ট দলকে ভালো দল থেকে
না দূর করলে, খারাপ লোকদেরকে
ভালো লোকদের মাধ্যমে মেরে না তাড়ালে) তাহলে জমিনে ফাসাদ ছড়িয়ে পড়ত, কিন্তু আল্লাহ দুনিয়া বাসীর উপর বড় ফজল (অনুগ্রহ) কারী"।
*কথায় আছে যে, তালুতের
পর দাউদ আলাইহিস সালাম তার উত্তরাধিকারী হন, এভাবে আল্লাহ দাউদ
আলাইহিস সালাম কে "নবী" এবং "রাজা" উভয়েই বানিয়েছিলেন। (তাইসিরুল
কুরআন)।
تِلكَ
ءايٰتُ اللَّهِ نَتلوها عَلَيكَ بِالحَقِّ ۚ وَإِنَّكَ لَمِنَ المُرسَلينَ (২৫২)
[252] " (হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!) এগুলো আল্লাহর নিদর্শনসমূহ
যা আমি আপনার সামনে যথাযথভাবে পাঠ করি এবং নিশ্চয়ই আপনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
রাসুলদের (নবীদের) অন্তর্ভুক্ত"।
* এই বিষয়গুলো অবহিত করানো আপনার (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাসূল হওয়ার সুস্পষ্ট দলীল ও স্পষ্ট প্রমাণ।
(দ্বিতীয় পারা (2) - প্রশ্ন ও উত্তর)
(সূরা বাকারা: সূরা নং: 2)
প্রশ্ন নং 1: কিবলা পরিবর্তন করার হিকমত কি?উত্তরঃ যাতে করে জানা যায় যে কে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
এর কথা মান্য করে আর কে মানে না? (সূরা বাকারা : আয়াত: 143)।
প্রশ্ন নং 2: ইহুদিরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেমনে চিনে?
উত্তরঃ নিজের সন্তান (আওলাদ) এর মত। (সূরা বাকারা: আয়াত নং: 146)।
প্রশ্ন নং 3: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পাঠানোর উদ্দেশ্য কি?
উত্তর: যাতে আপনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের সামনে কুরআন তেলাওয়াত
করে শুনান এবং মানুষকে পবিত্র করেন এবং কিতাব
ও হিকমতের বিষয়গুলো শিক্ষা দেন এবং এমন বিষয়গুলো শিক্ষা দেন যেগুলো মানুষ জানে না।
(সূরা বাকারা: আয়াত নং: 151)।
প্রশ্ন নং 4: আল্লাহ কার সাথে রয়েছে?
উত্তরঃ যারা ধৈর্যশীল। (সূরা বাকারা: আয়াত নং: 153)।
প্রশ্ন নং 5: শহীদদের বারযাখী জীবন কেমন?উত্তর: শহীদরা বরজাখী জীবনে জীবিত কিন্তু আমরা তাদের জীবন বুঝতে পারি না।
(সূরা বাকারা: আয়াত নং: 154)।
প্রশ্ন নং 6: কষ্টের সময় কি পড়তে হবে?
উত্তর: বিপদের সময়: إنا لله و انا اليه
راجعون (নিশ্চয়ই আমরা
একমাত্র আল্লাহরই, এবং
নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই দিকে ফিরে যাবো)।(সূরা বাকারা: আয়াত নং: 156)।
প্রশ্ন নম্বর 7: দ্বীনের আদেশ গোপনকারী দের কি ধমক দেওয়া হয়েছে?
উত্তরঃ আল্লাহর অভিশাপ এবং অভিশাপকারীদের অভিশাপ। (সূরা বাকারা: আয়াত নং:
159)।
প্রশ্ন নং 8: কুফরী অবস্থায় মৃত্যুবরণ কারীদের জন্য কি ধমক দেওয়া হয়েছে?
উত্তরঃ আল্লাহর লানত, ফেরেশতাদের
লানত এবং সকল মানুষের অভিশাপ। (সূরা বাকারা: আয়াত নং: 161)।
প্রশ্ন নং 9 দ্বিতীয় পারার সূরা বাকারা আয়াত নং (164), তৌহিদ এর পক্ষে কি যুক্তিগুলি?
উত্তর: তৌহিদের (একেশ্বরবাদ) কিছু দলিল সমূহ: (1) আকাশ ও জমিনের সৃষ্টি (2) রাত
ও দিনের আগমন এবং যাওয়া (3) নৌকা সমূহের সমুদ্রে চলাফেরা (4) আকাশ থেকে পানি বর্ষন
করে মৃত জমিনকে জীবন দান করা (5) বায়ু চলাচল (6) এবং মেঘ আকাশ এবং জমিনের মাঝে ঝুলে
থাকা ।(সূরা বাকারা: আয়াত নং: 164)।
প্রশ্ন নম্বর 10: ঈমানদারগণ কাকে সবচেয়ে
বেশি ভালোবাসে?
উত্তরঃ আল্লাহরকে। (সূরা বাকারা: আয়াত নং: 165)।
প্রশ্ন নং 11: কিয়ামতের দিন পিশওয়া লোকেরা তাদের অনুসারীদের সাথে কী করবে?
উত্তর: তারা বিরক্তবোধ করবে, এবং তাদের থেকে দূরে সরে যাবে। (সূরা বাকারা: আয়াত নং: 166)।
প্রশ্ন নং 12: কার রাস্তায় চলতে হয় না?
উত্তরঃ শয়তানের পথে। (সূরা বাকারা: আয়াত নং: 168)।
প্রশ্ন নং 14: শয়তান কিসের দিকে ডাকে?
উত্তরঃ মন্দ ও অনৈতিকতার দিকে। (সূরা বাকারা: আয়াত নং: 169)।
প্রশ্ন নং 14: যাদের কাছে কোনো দলিল নেই তারা কি বলে?
উত্তর: আমরা আমাদের বাবা দাদাদের একই কাজ করতে দেখেছি। (সূরা বাকারা: আয়াত নং:
170)।
প্রশ্ন নম্বর 15: হারাম খাবার কার জন্য জায়েজ?উত্তর: অসহায় ও বাধ্যদের জন্য। (সূরা বাকারা: আয়াত নং: 173)।
হয়
প্রশ্ন নং 16: যারা দ্বীনের কথাবার্তা গোপনে রাখে এবং কম দামে বিক্রি করে তাদের
শাস্তি কি?
উত্তরঃ এ ধরনের লোকেরা তাদের পেটে আগুন ভরছে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না, তাদেরকে পবিত্রও করবেন না, বরং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক
শাস্তি। (সূরা বাকারা: আয়াত নং: 174)।
প্রশ্ন নং 17: কেসাস (প্রতিশোধ) নেওয়ার হিকমত কী?
উত্তর : মানুষের জীবন নিরাপদে রাখা। (সূরা বাকারা: আয়াত নং: 179)।
প্রশ্ন নং 18: রোজা কেন ফরজ করা হয়?
উত্তরঃ যাতে মানুষ মুত্তাকী হয়। (সূরা বাকারা: আয়াত নং: 183)।
প্রশ্ন নং 19: যাদের রোজা রাখার শক্তি নেই তাদের ফিদয়া কি?
উত্তরঃ একজন মিসকীন (গরিব) কে খাওয়ানো। (সূরা বাকারা: আয়াত নং: 184)।
প্রশ্ন নং 20: কোন মাসে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে?
উত্তর: রমজান - (সূরা বাকারা আয়াত নং: 185)।
প্রশ্ন নং: 21 এতেকাফ করার জায়গা কোনটি?
উত্তর: মসজিদ (সূরা বাকারা: আয়াত নং: 187)।প্রশ্ন নম্বর 22: নেকির ভিত্তি কি।
উত্তরঃ তাকওয়া (পরহেযগারী) র উপর। (সূরা বাকারা: আয়াত নং: 189)।
প্রশ্ন নং 23; কার
সাথে যুদ্ধ করতে হয়?
উত্তরঃ যারা যুদ্ধ করে, তাদের
সাথে। (সূরা বাকারা: আয়াত নং: 190)।
প্রশ্ন নং 24 অসুস্থতার কারণে ইহরাম অবস্থায় মাথা মুন্ডানোর ফিদয়া কি?
উত্তরঃ রোজা রাখা(অর্থাৎ 3 দিন রোজা রাখা) বা সাদকা করা (অর্থাৎ 6জন গরীবকে খাওয়ানো) বা কুরবানী করা (অর্থাৎ একটি ছাগল জবাই করা)। (সূরা
বাকারা: আয়াত নং: 196)।
প্রশ্ন নং 25 হজ্জের সময় কি ব্যবসা করা যায়?
উত্তরঃ হ্যাঁ। (সূরা বাকারা: আয়াত নং: 198)।
প্রশ্ন নং 26 শয়তান আমাদের কি ধরনের শত্রু?
উত্তর: খোলা শত্রু। (সূরা বাকারা: আয়াত নং: 208)।
প্রশ্ন নং 27: ঈমানদাররা কখন জান্নাত পায়?উত্তরঃ পরিক্ষার পর। (সূরা বাকারা: আয়াত নং: 214)।
প্রশ্ন নং: 28 মদ ও জুয়া নিষিদ্ধ সম্পর্কে প্রথম আয়াত কোনটি?
উত্তরঃ সূরা বাকারাঃ আয়াত নং 219।
প্রশ্ন নং 29: মুশরিক নারী-পুরুষের সাথে বিবাহ কেন হারাম?
উত্তরঃ কারণ ঐ লোকেরা জাহান্নামের দিকে ডাকে। (সূরা বাকারা আয়াত নং: 221)
প্রশ্ন নং 30: ঋতুস্রাবের সময় স্ত্রীর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার অর্থ কী?
উত্তরঃ স্ত্রীর সাথে সহবাস না করা। (সূরা বাকারা : আয়াত নং- 222)।
প্রশ্ন নং 31: ইলা ( স্ত্রীর সাথে সহবাস না করার কসম খাওয়া) র সময়সীমা কি?
উত্তরঃ চার মাস। (সূরা বাকারা: আয়াত নং: 226)।
প্রশ্ন নং 32 তালাকপ্রাপ্ত মহিলার ইদ্দা কত মাস?উত্তরঃ তিন হাইয (তিন মাস)। (সূরা বাকারা: আয়াত নং: 228)।
প্রশ্ন নং 33 স্ত্রীর স্বামীর থেকে আলাদা
হওয়ার ইসলামে পদ্ধতি কী?
উত্তরঃ স্বামীর কাছ থেকে খুলা তালাক নেওয়া। (সূরা বাকারা: আয়াত নং: 229)।
প্রশ্ন নং 34 কত বছর পর্যন্ত একটি শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত?
উত্তরঃ দুই বছর পর্যন্ত। (সূরা বাকারা: আয়াত নং: 233)।
প্রশ্ন নম্বর 35: যে মহিলার স্বামী মারা গেছে তার ইদ্দত কত মাস?
উত্তরঃ চার মাস দশ দিন। (সূরা বাকারা: আয়াত নং: 234)।
প্রশ্ন নং 36 قرض حسنة ভাল
ঋণ প্রদানের নেকি (প্রতিদান) কি?
উত্তরঃ আল্লাহ বহুগুন বাড়িয়ে দিবেন। (সূরা বাকারা: আয়াত নং: 245)।
প্রশ্ন নং 37 তালুতের রাজত্বের বাহ্যিক চিহ্ন কী ছিল?
উত্তরঃ বক্স। (সূরা বাকারা: আয়াত নং: 248)।
প্রশ্ন নং 38: আল্লাহ তালুত এর বাহিনীকে কিভাবে পরীক্ষা করেছিলেন?
উত্তর: একটি নদী থেকে পানি পান না করার মাধ্যমে পরীক্ষা করেছিলেন। (সূরা বাকারা:
আয়াত নং: 249)।
প্রশ্ন নং 39 জালুতকে কে হত্যা করেছিল?
উত্তরঃ দাউদ আলাইহিস সালাম। (সূরা বাকারা: আয়াত নং: 251)।
Comments
Post a Comment