(পঞ্চম (5) পারা)

 

(পঞ্চম (5) পারা)

(চতুর্থ পারা, রুকু সংখ্যা: (17) এবং (124) আয়াত)

وَالمُحصَنٰتُ مِنَ النِّساءِ إِلّا ما مَلَكَت أَيمٰنُكُم ۖ كِتٰبَ اللَّهِ عَلَيكُم ۚ وَأُحِلَّ لَكُم ما وَراءَ ذٰلِكُم أَن تَبتَغوا بِأَموٰلِكُم مُحصِنينَ غَيرَ مُسٰفِحينَ ۚ فَمَا استَمتَعتُم بِهِ مِنهُنَّ فَـٔاتوهُنَّ أُجورَهُنَّ فَريضَةً ۚ وَلا جُناحَ عَلَيكُم فيما تَرٰضَيتُم بِهِ مِن بَعدِ الفَريضَةِ ۚ إِنَّ اللَّهَ كانَ عَليمًا حَكيمًا (২৪)

[24] "(তোমাদের জন্য হারাম, মাগণ, মেয়েরা, বোনগণ, ফুফুগণ, খালাগণ, ভাতিজিগণ, ভাগ্নিগণ, স্তন্যদানকারী মাগণ, দুধ শরিক বোনগণ, শাশুড়ি, সৎ কন্যাগণ, পুত্রবধূগণ, একইভাবে "দুই নিজস্ব বোন"কে বিয়ে একত্রিত করা হারাম), এবং বিবাহিত নারীগণও (তোমাদের জন্য হারাম), কিন্তু সেসব "নারীগণ" (উপপত্নীগণ) যারা (ইসলামী যুদ্ধের পর) তোমাদের তত্বাবধানে এসেছে (তারা হালাল), আল্লাহ তোমাদের জন্য এই " বিধানগুলো" ফরজ করেছে, এবং তোমাদের জন্য

(হারাম) নারীগণ ব্যতীত সকল নারীকে " মোহর" প্রদান করে বিয়ে করা হালাল করা হয়েছে, শর্ত হল: নিয়ত যেন "বিয়ের" হয়, যিনার না হয়, সুতরাং যেসব নারীদের (স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করে) তোমরা সুবিধা গ্রহণ করবে, তাদেরকে তাদের নির্ধারিত "মোহরানা" প্রদান করে দাও, আর মোহরানা নির্ধারিত হওয়ার পর যদি তোমরা (উভয় স্বামী-স্ত্রী) আপোষের মধ্যে "মোহর" কম অথবা অধিক এ রাজি হও, তাহলে কোন সমস্যা নেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, বড় হিকমত ওয়ালা"।

* ইসলামে نكاح متعة" মুতাহ বিবাহ" কেয়ামত পর্যন্ত হারাম:

*  মুতাহ বিবাহ نكاح متعة (কিছুদিনের জন্য বিয়ে করে তালাক দেওয়া) হচ্ছে যিনা:

عن الرَّبِيعُ  بْنُ  سَبْرَةَ  الْجُهَنِيُّ،  أَنَّ  أَبَاهُ،  حَدَّثَهُ  أَنَّهُ،  كَانَ  مَعَ  رَسُولِ  اللَّهِ  صلى  الله  عليه  وسلم  فَقَالَ    "  يَا  أَيُّهَا  النَّاسُ  إِنِّي  قَدْ  كُنْتُ  أَذِنْتُ  لَكُمْ  فِي الاِسْتِمْتَاعِ مِنَ النِّسَاءِ  وَإِنَّ  اللَّهَ  قَدْ  حَرَّمَ  ذَلِكَ  إِلَى  يَوْمِ  الْقِيَامَةِ  فَمَنْ  كَانَ  عِنْدَهُ  مِنْهُنَّ  شَىْءٌ  فَلْيُخَلِّ  سَبِيلَهُ  وَلاَ  تَأْخُذُوا  مِمَّا  آتَيْتُمُوهُنَّ  شَيْئًا

রাবী বিন সাবরাহ আল জুহানী রাযিয়াল্লাহু আনহু তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: হে লোক সকল! আমি তোমাদেরকে স্ত্রীলোকদের সাথে "মুতাহ্ বিবাহ" এর অনুমতি দিয়েছিলাম, কিন্তু এখন আল্লাহ তা কেয়ামত পর্যন্ত হারাম করে দিলেন, তাই যার কাছে মুতাহ বিবাহ সূত্রে কোন স্ত্রী থাকে, তার উচিত তাকে ছেড়ে দেওয়া, আর যা তোমরা তাদের দিয়েছ তা ফেরত নিওনা। (সহিহ মুসলিম, কিতাবুন নিকাহ বাব হিকাহ মুতাহ হাদিস নং 1406)

وَمَن لَم يَستَطِع مِنكُم طَولًا أَن يَنكِحَ المُحصَنٰتِ المُؤمِنٰتِ فَمِن ما مَلَكَت أَيمٰنُكُم مِن فَتَيٰتِكُمُ المُؤمِنٰتِ ۚ وَاللَّهُ أَعلَمُ بِإيمٰنِكُم ۚ بَعضُكُم مِن بَعضٍ ۚ فَانكِحوهُنَّ بِإِذنِ أَهلِهِنَّ وَءاتوهُنَّ أُجورَهُنَّ بِالمَعروفِ مُحصَنٰتٍ غَيرَ مُسٰفِحٰتٍ وَلا مُتَّخِذٰتِ أَخدانٍ ۚ فَإِذا أُحصِنَّ فَإِن أَتَينَ بِفٰحِشَةٍ فَعَلَيهِنَّ نِصفُ ما عَلَى المُحصَنٰتِ مِنَ العَذابِ ۚ ذٰلِكَ لِمَن خَشِىَ العَنَتَ مِنكُم ۚ وَأَن تَصبِروا خَيرٌ لَكُم ۗ وَاللَّهُ غَفورٌ رَحيمٌ (২৫)

[25] "আর তোমাদের মধ্যে যে ঈমানদার

স্বাধীন নারীদের বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে না, তাহলে সে ঈমানদার দাসীদের মধ্য থেকে বিয়ে করে, এবং আল্লাহ তোমাদের ঈমান ভালো করেই জানেন, (হে ঈমানদারগণ!) তোমরা সবাই পরস্পর এক, তাই ওই (দাসীদের) কে তাদের মালিকের অনুমতিক্রমে বিয়ে কর এবং তাদের মোহরানা আইন (কানুন) অনুযায়ী  পরিশোধ কর, তবে শর্ত হল: সেই নারীরা যেন সতীত্ব হয় (বিয়ে করে ইজ্জত ও আবরু হেফাজতকারী যেন হয়) যিনা কারী যেন না হয়, অতঃপর যখন তারা বিবাহ বন্ধনে এসে যায়, তারপর যদি ব্যভিচার করে, তখন তাদেরকে স্বাধীন নারীদের তুলনায় "অর্ধেক শাস্তি" দেওয়া হবে, (দাসীদের সাথে বিয়ের) এ হুকুম তাদের জন্য (যাদের বিয়ে না করলে) যিনাতে লিপ্ত হওয়ার ব্যাপারে ভয় করে, এবং সবর করা তোমাদের জন্য উত্তম, এবং আল্লাহ বড় ক্ষমাশীল, বড় রহমকারী "।

* দাসীর জন্য ৫০ বাতের আঘাত, রজম অর্ধেক হয় না তাই দাসীদের জন্য রজম এর হুকুম নেই। (তাইসিরুল রহমান)।

 يُريدُ اللَّهُ لِيُبَيِّنَ لَكُم وَيَهدِيَكُم سُنَنَ الَّذينَ مِن قَبلِكُم وَيَتوبَ عَلَيكُم ۗ وَاللَّهُ عَليمٌ حَكيمٌ (২৬)

[26] "আল্লাহ তোমাদের জন্য (বিধান) সুস্পষ্ট বর্ণনা করে দিতে চান এবং ওই সব (সৎ)লোকদের পথে পরিচালিত করতে চান যারা তোমাদের পূর্বে ছিলেন, এবং তোমাদের সাথে কল্যাণ করতে চান,  এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ, বড় হিকমত ওয়ালা"।

وَاللَّهُ يُريدُ أَن يَتوبَ عَلَيكُم وَيُريدُ الَّذينَ يَتَّبِعونَ الشَّهَوٰتِ أَن تَميلوا مَيلًا عَظيمًا(২৭)

[27] "আর আল্লাহ চান তোমাদের প্রতি মেহেরবানী করতে, (তোমাদের তওবা কবুল করতে) এবং (হে ঈমানদারগণ!) যারা দৈহিক কামনা-বাসনার অনুসরণ করে তারা চায় তোমরা (সঠিক পথ থেকে) সরে গুমরাহ হয়ে যাও"।

يُريدُ اللَّهُ أَن يُخَفِّفَ عَنكُم ۚ وَخُلِقَ الإِنسٰنُ ضَعيفًا (২৮)

[28] "আল্লাহ তোমাদের সাথে সহজ চান, আর মানুষ খুবই দুর্বল সৃষ্টি করা হয়েছে"।

 يٰأَيُّهَا الَّذينَ ءامَنوا لا تَأكُلوا أَموٰلَكُم بَينَكُم بِالبٰطِلِ إِلّا أَن تَكونَ تِجٰرَةً عَن تَراضٍ مِنكُم ۚ وَلا تَقتُلوا أَنفُسَكُم ۚ إِنَّ اللَّهَ كانَ بِكُم رَحيمًا (২৯)

[29] "হে ঈমানদারগণ! তোমরা তোমাদের সম্পদ নিজেদের মধ্যে বাতিল (হারাম) পন্থায় ভক্ষণ করো না, বরং পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যবসার মাধ্যমে তা খাও এবং নিজেদের হত্যা করো না (আত্মহত্যা করো না), নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি বড় রহমকারী"।

* বাতিল (হারাম) পন্থায় সম্পদ ভক্ষণ না, বাতিল উপায় কি কি?:

"বাতিল " (হারাম) উপায় সমূহ: আয়ের প্রতিটি মাধ্যম যা ইসলাম নিষিদ্ধ করেছে, এবং এর অনে রূপ রয়েছে:

(1) প্রত্যেক ঐকাজ যা অন্যের আর্থিক ক্ষতি করে, যেমন: চুরি, ডাকাতি, কারো সম্পত্তি হস্তগত করা ইত্যাদি। 

(2) সুদ (বিয়াজ) এবং এর সকল প্রকার বাতিল (হারাম)। 

(3) প্রত্যেক এমন কাজ যাতে অল্প পরিশ্রমেই বেশি সম্পদ হাতে আসে, যেমন: জুয়া, লটারি এবং বাজি খেলা ইত্যাদি। 

(4) অন্ধ ব্যাবসা বা ভাগ্য (পাশা) ব্যাবসা। 

(5) প্রতিটি এমন লেনদেনে যাতে এমন শর্ত থাকে যা একজন ব্যক্তির উপকার নিশ্চিত করে, আর অন্যের উপকার নিশ্চিত থাকেনা উপকার বা ক্ষতি উভয় আশঙ্কা থাকে। 

(6) অনুমান মূলক বাণিজ্য যাতে ধোঁকা রয়েছে, যেমন: পণ্য ক্রয় করে বিনা কব্জায় বিক্রয় করা ।

(7) যে ব্যবসায় বিক্রেতা প্রতারণা করে, যেমন:  ত্রুটিপূর্ণ পণ্যের ত্রুটি গোপন করা, পরিমাপ হ্রাস করা, অন্যকে প্রতারিত করার জন্য অতিরঞ্জিত দর করা ইত্যাদি। 

(8) নিষিদ্ধ জিনিস ক্রয়-বিক্রয়, যেমন: মদের ব্যবসা, চলচ্চিত্র (ফিল্মী দুনিয়ার) জগতের উপার্জন ইত্যাদি।

 (৯) লেনদেনের মিথ্যা মামলা করে মানুষের জমি হাতিয়ে নেওয়া। 

(10) আল্লাহর কিতাবকে বিকৃত ও ব্যাখ্যা করে ভ্রান্ত আকিদা থেকে ধন-সম্পদ হাতিয়ে নেওয়া।  এই সব বাতিল। (তাইসিরুল কুরআন)।

*আত্মহত্যা করো না: অ্যালকোহল, মাদক, তামাক, বিড়ি, সিগারেট, গুটকা, তামাক মিশ্রী ইত্যাদি নেশাজাতীয় যে কোনো দ্রব্য ব্যবহার করে আত্মহত্যা করো না, কারণ এগুলোর ব্যবহার আত্মহত্যার মাধ্যম।

* ইসলামে আত্মহত্যা(Suicide )হারাম:

" নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়োনা" এর অর্থ: ডেপরেশনে পরে আত্মহত্যা (Suicide ) করোনা, কারণ আত্মহত্যা (Suicide) সমস্যার সমাধান নয়, এক আল্লাহকে স্মরণ করা, কুরআন তিলাওয়াত করা, ধৈর্যশীল হওয়া, নামাজ পড়া, একাকীত্ব থেকে দূরে থাকা এবং হিম্মত ও সাহসের সাথে সমস্যার মোকাবিলা করা, আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া, টেনশন না পাওয়া, ভাগ্যের ফয়সালায় রাজি হওয়া, সমস্যার সমাধানে পরামর্শ করা সমস্যার সমাধান, ইসলামে আত্মহত্যা (Suicide ) কারীর শাস্তি হল জাহান্নাম, আমাদের জীবন আল্লাহর আমানত, এবং জীবন নেওয়ার অধিকার শুধুমাত্র আল্লাহরই রয়েছে। (আহসানুল বায়ান)।

 وَمَن يَفعَل ذٰلِكَ عُدوٰنًا وَظُلمًا فَسَوفَ نُصليهِ نارًا ۚ وَكانَ ذٰلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسيرًا (৩০)

[30] "আর যে ব্যক্তি জুলুম ও সীমালঙ্ঘন রূপে এটাকে করবে (অহংকার এবং ইচ্ছাকৃতভাবে আল্লাহর নিষেধাজ্ঞা কাজকর্ম করতে থাকবে, পাপ থেকে বিরত থাকবে না) খুব তাড়াতাড়ি আমি তাকে (জাহান্নামের) আগুনে প্রবেশ করাব এবং আল্লাহর জন্য এটা একেবারেই সহজ"।

إِن تَجتَنِبوا كَبائِرَ ما تُنهَونَ عَنهُ نُكَفِّر عَنكُم سَيِّـٔاتِكُم وَنُدخِلكُم مُدخَلًا كَريمًا (৩১)

[31] "(হে ঈমানদারগণ!) যদি তোমরা সেসব বড় বড় গুনাহ থেকে  বিরত থাকো যেগুলো থেকে তোমাদের কে বিরত থাকতে বলা হয়েছে, তাহলে তোমাদের ছোট-খাট গুনাহগুলো কে আমি এমনিতেই মুছে দেব (মাফ করে দেব) এবং তোমাদেরকে সম্মানিত স্থানে (জান্নাতে) প্রবেশ করাব"।

 وَلا تَتَمَنَّوا ما فَضَّلَ اللَّهُ بِهِ بَعضَكُم عَلىٰ بَعضٍ ۚ لِلرِّجالِ نَصيبٌ مِمَّا اكتَسَبوا ۖ وَلِلنِّساءِ نَصيبٌ مِمَّا اكتَسَبنَ ۚ وَسـَٔلُوا اللَّهَ مِن فَضلِهِ ۗ إِنَّ اللَّهَ كانَ بِكُلِّ شَيءٍ عَليمًا (৩২)

[32] "আর আল্লাহ যেসব বিষয়ে তোমাদের একজনকে অন্যের ওপর মর্যাদা দিয়েছেন, সেগুলোর লোভ করো না, (অর্থাৎ যা অন্যদের কাছে রয়েছে তা তোমাদেরকে দেওয়া হোক এবং অন্যরা তাদের নেয়ামত থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়, এরকম আকাঙ্ক্ষা করো না) পুরুষরা যা অর্জন করে সেটা তার অংশ এবং নারীরা যা অর্জন করে সেটা তাদের অংশ। আর আল্লাহরই কাছে তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু খুব ভালোভাবে জানেন"।

* হিংসা করো না, আল্লাহর কাছে চাও:

হিংসা করাতে হিংসুক ব্যক্তিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়, হিংসার অর্থ হল: অন্যের নেয়ামত সমাপ্তি কামনা করা,  দুনিয়াতে আল্লাহ সবাইকে অনুগ্রহ করেছেন, কেউ ধনী, কেউ গরীব, এভাবেই একে অপরের কাজ চলছে, যদি আল্লাহ কাউকে কিছু দিয়ে থাকেন তবে তার প্রতি হিংসা করো না, কারণ হিংসা করা আল্লাহর প্রতি আপত্তি করা, এই আয়াত থেকে স্পষ্ট যে আল্লাহরই কাছে তাঁর অনুরোধ চাও, হিংসা করো না। (তাইসিরুল কুরআন)।

وَلِكُلٍّ جَعَلنا مَوٰلِىَ مِمّا تَرَكَ الوٰلِدانِ وَالأَقرَبونَ ۚ وَالَّذينَ عَقَدَت أَيمٰنُكُم فَـٔاتوهُم نَصيبَهُم ۚ إِنَّ اللَّهَ كانَ عَلىٰ كُلِّ شَيءٍ شَهيدًا (৩৩)

[33] "আর আমি প্রত্যেকের জন্য কিছু ওয়ারিশ নির্ধারণ করেছি, যে (সম্পদ বন্টন) এর জন্য পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয় রেখে মারা যান, আর যাদের সাথে তোমাদের চুক্তি (লেনদেনের ওয়াদা) আছে, তাদেরকে তাদের অংশ দিয়ে দাও (উত্তরাধিকারের অংশ নয়, বরং আপসে লেনদেনের ওয়াদা কারীদের কে কিছু দিয়ে সাহায্য করে দাও), নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছুর উপর সাক্ষী রয়েছেন"।

الرِّجالُ قَوّٰمونَ عَلَى النِّساءِ بِما فَضَّلَ اللَّهُ بَعضَهُم عَلىٰ بَعضٍ وَبِما أَنفَقوا مِن أَموٰلِهِم ۚ فَالصّٰلِحٰتُ قٰنِتٰتٌ حٰفِظٰتٌ لِلغَيبِ بِما حَفِظَ اللَّهُ ۚ وَالّٰتى تَخافونَ نُشوزَهُنَّ فَعِظوهُنَّ وَاهجُروهُنَّ فِى المَضاجِعِ وَاضرِبوهُنَّ ۖ فَإِن أَطَعنَكُم فَلا تَبغوا عَلَيهِنَّ سَبيلًا ۗ إِنَّ اللَّهَ كانَ عَلِيًّا كَبيرًا (৩৪)

[34] " পুরুষরা নারীদের তত্ত্বাবধায়ক (দেখভাল কারী, হেফাজত কারী), আল্লাহ তাদের একজনকে অন্যের উপর মর্যাদা দিয়েছেন, কারণ পুরুষরা তাদের সম্পদ ব্যয় করে,  সুতরাং নেককার মহিলারা আল্লাহকে ভয় করে এবং তাদের স্বামীদের অনুপস্থিতিতে (সম্পদ এবং ইজ্জত ও সম্মান) এর হেফাজত করে, এবং যেসব মহিলাদের অবাধ্য হওয়ার তোমরা ভয় করো, তাদেরকে (প্রথমে) ভালোবাসা দিয়ে বুঝাও, এবং (যদি তারা না বুঝে তবে) তাদেরকে বিছানায় একা ছেড়ে দাও (বিছানায় তাদের থেকে আলাদা থাকো) এবং (তারপরও যদি তারা না বুঝে তবে) তাদেরকে (হাল্কা) মারো, অতঃপর যদি তারা তোমাদের কথা মেনে নেয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আর কিছু করো না, নিশ্চয়ই সবার থেকে আল্লাহ উচ্চ, সবার থেকে বড়"।

*অর্থ উপার্জনের দায়িত্ব আল্লাহ পুরুষের উপর রেখেছেন নারীদের উপর নয়: নারীরা হল ঘরের রানী, নারীরা ঘরে বসে ব্যবসা করতে চাইলে করতে পারে, আজকাল অনেক পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে, আজকাল কিছু লোক তাদের মেয়েদের উপার্জন খাচ্ছে এবং তাদের বিয়ে দিচ্ছেন না, আজকাল বাইরে কাজ করার কারণে  কিছু মহিলার পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে, এমনকি কখনো কখনো ইজ্জত ও সম্মান দায়ে পরে যায়,

নারীর উপার্জনের কারণে কিছু সংখ্যক পুরুষ অকেজো হয়েছে, কিছু মহিলা তো তার স্বামীকে কিছুই মনে করবে না, তারা তাদের উপার্জন নিয়ে খুব গর্বিত, স্বামী-স্ত্রীর মাঝে চাপ সৃষ্টি হয়, কিছু মহিলা এবং মেয়েরা তো তাদের মালিকদের দ্বারা নির্যাতিত হয়, মালিকেরা তাদের সাথে কুসম্পর্ক গড়ে তুলে, তাদের ইজ্জত লুন্ঠন করে, বেচারি মহিলা নিজেই ক্লান্ত, তবে সে কীভাবে তার স্বামী এবং সন্তানদের যত্ন নেবে? এবং এর পাশাপাশি আরও অনেক অসুবিধাও রয়েছে, তাই আল্লাহ উপার্জনের দায়িত্ব পুরুষের উপর রেখেছেন নারীদের ওপর নয়।

*আর (স্ত্রী তারপরও না বুঝে তব) তাকে (হাল্কা মার) মার: অবাধ্য স্ত্রীকে আগে ভালোবাসা দিয়ে বোঝানোর নির্দেশ, না মানলে বিছানা থেকে আলাদা করা, তবুও না মানলে হাল্কা মারার হুকুম দেওয়া হয়েছে, আদব শিক্ষা দেওয়ার জন্য মারতে হবে, মেরে হাত পা ভেঙ্গে দেওয়া যাবেনা, উর্দুতে প্রবাদ আছে: لاتون کے بھوت باتوں سے نہیں مانتے  অর্থ: মার প্রয়োজন হলে বুঝিয়ে লাভ হয় না, তাই কখনো কখনো মার প্রয়োজন আছে, পুলিশও মারে, শিক্ষকও মারে, সুতরাং এ কথা বলা যে কুরআন মহিলাদের মারার হুকুম দিচ্ছে সঠিক নয়, সর্বদা মারার হুকুম নেই, বরং একটি বিশেষ উদ্দেশ্যের জন্য হালকা মার মারার আদেশ রয়েছে। (আহসানুল বয়ান)।

وَإِن خِفتُم شِقاقَ بَينِهِما فَابعَثوا حَكَمًا مِن أَهلِهِ وَحَكَمًا مِن أَهلِها إِن يُريدا إِصلٰحًا يُوَفِّقِ اللَّهُ بَينَهُما ۗ إِنَّ اللَّهَ كانَ عَليمًا خَبيرًا (৩৫)

[35] "আর যদি তোমরা তাদের উভয় (স্বামী-স্ত্রীর) মধ্যে ইখতেলাফ (মনোমালিন্যের) ভয় (সমস্যা বেড়ে যাওয়ার ভয় হয়) তাহলে (স্বামী স্ত্রীর মধ্যে সমাধান করার জন্য)  একজন সালিস কারী পুরুষের আত্মীয়দের মধ্যে থেকে এবং একজন মহিলার আত্মীয়দের মধ্য থেকে নির্ধারিত কর) যদি তারা উভয়েই (স্বামী-স্ত্রী) সংশোধন (মিলাপ) চাই, তাহলে আল্লাহ উভয়ের (স্বামী স্ত্রীর) মধ্যে মহব্বত সৃষ্টি করে দিবেন ( এবং মিলন করে দিবেন), নিশ্চয়ই আল্লাহ সব কিছু জানেন এবং সবকিছুর খবর রাখেন"।

وَاعبُدُوا اللَّهَ وَلا تُشرِكوا بِهِ شَيـًٔا ۖ وَبِالوٰلِدَينِ إِحسٰنًا وَبِذِى القُربىٰ وَاليَتٰمىٰ وَالمَسٰكينِ وَالجارِ ذِى القُربىٰ وَالجارِ الجُنُبِ وَالصّاحِبِ بِالجَنبِ وَابنِ السَّبيلِ وَما مَلَكَت أَيمٰنُكُم ۗ إِنَّ اللَّهَ لا يُحِبُّ مَن كانَ مُختالًا فَخورًا(৩৬)

[36] "আর আল্লাহর ইবাদত কর, তাঁর সাথে কাউকে শরীক করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার কর এবং আত্মীয়-স্বজন, এতিম, মিসকীন, আত্মীয়-প্রতিবেশী, অআত্মীয়-প্রতিবেশী, এবং যারা তোমার পাশে বসে বা দাঁড়ায় (বন্ধু) এবং মুসাফির এবং দাস-দাসী ও উপপত্নীদের সাথেও (সদ্ব্যবহার) কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ অহংকারীদের ও যা নিজেকে বড় মনে করে তাদের কে পছন্দ করেন না (নিশ্চয়ই আল্লাহ অহংকারী এবং গর্বকারী দের ভালোবাসেন না)"।

 الَّذينَ يَبخَلونَ وَيَأمُرونَ النّاسَ بِالبُخلِ وَيَكتُمونَ ما ءاتىٰهُمُ اللَّهُ مِن فَضلِهِ ۗ وَأَعتَدنا لِلكٰفِرينَ عَذابًا مُهينًا (৩৭)

[37] "(আল্লাহ এমন লোকদের পছন্দ করেন না) যারা নিজেরা কৃপণ (কিপটে) এবং অন্যদেরকেও কৃপণ হতে আদেশ করে এবং যা (সম্পদ) আল্লাহ তাদেরকে নিজ অনুগ্রহে দিয়েছেন তা গোপন করে, এবং আমি কাফেরদের (অকৃতজ্ঞ দের) জন্য অপমানজনক (অসম্মানজনক)  আযাব তৈরী করে রেখেছি"।

وَالَّذينَ يُنفِقونَ أَموٰلَهُم رِئاءَ النّاسِ وَلا يُؤمِنونَ بِاللَّهِ وَلا بِاليَومِ الءاخِرِ ۗ وَمَن يَكُنِ الشَّيطٰنُ لَهُ قَرينًا فَساءَ قَرينًا (৩৮)

[38] "আর (আল্লাহ তাদের পছন্দ করেন না) যারা তাদের সম্পদ লোক দেখানোর জন্য খরচ করে এবং আল্লাহর প্রতি ও আখেরাতের দিনের প্রতি ঈমান রাখেনা, আর যার সাথী শয়তান হয়, সে হল বড় নিকৃষ্টতর সাথী"।

 وَماذا عَلَيهِم لَو ءامَنوا بِاللَّهِ وَاليَومِ الءاخِرِ وَأَنفَقوا مِمّا رَزَقَهُمُ اللَّهُ ۚ وَكانَ اللَّهُ بِهِم عَليمًا (৩৯)

[39] "আর তাদের (মুনাফিক, অস্বীকার কারীদের)

কিই বা ক্ষতি হত, যদি তারা আল্লাহর প্রতি ও আখেরাতের দিনের প্রতি ঈমান আনত এবং আল্লাহ তাদেরকে যা (সম্পদ) দিয়েছেন তা থেকে (আল্লাহর পথে) খরচ করত?  আর আল্লাহ এসব লোককে ভালো করেই জানেন"।

 إِنَّ اللَّهَ لا يَظلِمُ مِثقالَ ذَرَّةٍ ۖ وَإِن تَكُ حَسَنَةً يُضٰعِفها وَيُؤتِ مِن لَدُنهُ أَجرًا عَظيمًا (৪০)

[40] "নিঃসন্দেহে আল্লাহ বিন্দু পরিমানও কারো প্রতি জুলুম করেন না, আর যদি কারো কোনো নেকি থাকে তাহলে তিনি তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেন এবং নিজের পক্ষ থেকে তাকে বিরাট প্রতিদান দেন"।

فَكَيفَ إِذا جِئنا مِن كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهيدٍ وَجِئنا بِكَ عَلىٰ هٰؤُلاءِ شَهيدًا(৪১)

[41] "সেটা কি ধরনের দৃশ্য হবে?(কেয়ামতের দিন মানুষের কি অবস্থা হবে?), যখন আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্য থেকে একজন সাক্ষী আনব এবং আপনাকে (হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!) তাদের সবার উপর সাক্ষী হিসেবে নিয়ে আসব)"।

 يَومَئِذٍ يَوَدُّ الَّذينَ كَفَروا وَعَصَوُا الرَّسولَ لَو تُسَوّىٰ بِهِمُ الأَرضُ وَلا يَكتُمونَ اللَّهَ حَديثًا(৪২)

[42] "সেই (কিয়ামতের) দিন যারা অবিশ্বাসী (হক অস্বীকারকারী) এবং রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর অবাধ্য কারী (কথা অমান্যকারী) ছিল তারা কামনা করবে যে আফসোস! যদি তাদেরকে দফন করে জমিন বরাবর করে দেওয়া হত, এবং তারা আল্লাহর কাছে কিছু গোপন করতে পারে না"।

يٰأَيُّهَا الَّذينَ ءامَنوا لا تَقرَبُوا الصَّلوٰةَ وَأَنتُم سُكٰرىٰ حَتّىٰ تَعلَموا ما تَقولونَ وَلا جُنُبًا إِلّا عابِرى سَبيلٍ حَتّىٰ تَغتَسِلوا ۚ وَإِن كُنتُم مَرضىٰ أَو عَلىٰ سَفَرٍ أَو جاءَ أَحَدٌ مِنكُم مِنَ الغائِطِ أَو لٰمَستُمُ النِّساءَ فَلَم تَجِدوا ماءً فَتَيَمَّموا صَعيدًا طَيِّبًا فَامسَحوا بِوُجوهِكُم وَأَيديكُم ۗ إِنَّ اللَّهَ كانَ عَفُوًّا غَفورًا (৪৩)

[43] "হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় থাকো, তখন নামাযের কাছে যেও না, (নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামায পড়বে না) যতক্ষণ না তোমরা (নামাজে) যা পাঠ কর তা বুঝতে পারো, এবং জানাবত (অপবিত্র) অবস্থায়ও ( নামাজ পড়ো না) যতক্ষণ না গোসল করবে, হ্যাঁ যদি সফর থাক (এবং পানির অভাবে গোসল না করতে পারো, তাহলে তায়াম্মুম করে  নামাজ আদায় করবে), আর যদি তোমরা অসুস্থ হও, অথবা সফরে থাকো, অথবা তোমাদের মধ্যে কেউ প্রস্রাব-পায়খানা থেকে এসে থাকে

অথবা স্ত্রীদের স্পর্শ করে থাকো (স্ত্রীদের সাথে সহবাস ও মিলন করে থাকো) এবং পানি না পাওয়া যায় তাহলে পবিত্র মাটি দ্বারা "তায়াম্মুম" করে নাও(এভাবে যে) নিজের চেহারা এবং উভয় হাতের (উভয় হাতের তালুর) উপর মাসেহ কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ মাফ কারী, বড় ক্ষমাশীল "।

*ইসলামে আল-খামর - (মদ) হারাম:

 ইসলামে মদের নিষিদ্ধ ঘোষণা কুরআনে তিনটি স্থানে রয়েছে।  (1) প্রথম আয়াত সূরা বাকারার সূরা নং 2 আয়াত নম্বর:(219)। (2) দ্বিতীয় আয়াত সূরা নিসা সুরা নং 4 আয়াত নম্বর: (43)  (3) এবং শেষ আয়াত সূরা আল মায়েদা সুরা নং 5 আয়াত নম্বর: (90)

* ইসলামে আল খামর (মদ) কেন হারাম?:

ইসলামে মদ এ কারণে হারাম করা হয়েছে যে মদ  হল সমস্ত মন্দের মূল, এটি পান করার পর ব্যক্তির বিবেক কাম করা বন্ধ করে দেয়, মানুষ হালাল এবং হারামের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না, যার ফলে ধর্ষণ, চুরি, মারধর, গালিগালাজ এবং একাধিক অন্যায় সমাজে ছড়ায়, মদ পান করে গাড়ি ড্রাইভিং করার কারণে এক্সিডেন্ট হচ্ছে, মদ পান করার পর মা বাবা, স্ত্রী, মেয়ে এবং প্রতিবেশীর পার্থক্য শেষ হয়ে যায়, ব্যক্তি তার পিতা-মাতা, স্ত্রী সন্তান সন্ততি, বন্ধু এবং প্রতিবেশী কে মারধর করে, স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেই, কাউকে হত্যা করে, মদ পান করে রাস্তায় এবং নোংরা ড্রেনে বেহুশ অবস্থায় পড়ে থাকে, তাই ইসলামে মদ হারাম।

* তায়াম্মুম  এবং জানাবত এর গোসল (অপবিত্রতার গোসল):

নামাযের জন্য তাহারাত (পবিত্রতা) ফরজ, সাধারণ অবস্থায় অজু করলে তাহারাত (পবিত্রতা) অর্জন হয়ে যায় কিন্তু জুনবি (নাপাক) ব্যক্তির জন্য নামাজের পূর্বে গোসল করা ফরজ, এই আয়াত দ্বারা প্রমাণিত যে যদি কাউকে ওযুর জন্য অথবা জুনবি (নাপাক) ব্যক্তিকে গোসল করার জন্য পানি না পায়, অথবা কেউ এমন অসুস্থ হয় যাতে পানি ব্যবহার ক্ষতিকর, এসব অবস্থায় সে তায়াম্মুম করতে পারে। (তাইসিরুল কুরআন)।

* তায়াম্মুম এর পদ্ধতি:

উভয় হাত একত্রে পবিত্র মাটির উপর মারতে হবে, তারপর মুখমন্ডল এবং উভয় হাত (উভয় তালুর) উপর মাসেহ করবে। (তাইসিরুল কুরআন)।

* তায়াম্মুম: গোসল ও অযুর বদল:  অসুখে গোসলের পরিবর্তে এবং পানি না পাওয়া অবস্থায় তায়াম্মুম করতে হয়।

 أَلَم تَرَ إِلَى الَّذينَ أوتوا نَصيبًا مِنَ الكِتٰبِ يَشتَرونَ الضَّلٰلَةَ وَيُريدونَ أَن تَضِلُّوا السَّبيلَ (৪৪)

[44] "(হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি কি সেসব (ইহুদী) লোকদের দেখেননি যাদেরকে আল্লাহর কিতাব (তাওরাত) এর একটি অংশ দেওয়া হয়েছে, তারা (নিজেরা) কিভাবে গুমরাহী ক্রয় করছে এবং চায় যে তোমরাও (মুসলিমরা) সোজা রাস্তা থেকে বিভ্রান্ত হয়ে যাও (ইসলাম ত্যাগ করে দাও)"।

وَاللَّهُ أَعلَمُ بِأَعدائِكُم ۚ وَكَفىٰ بِاللَّهِ وَلِيًّا وَكَفىٰ بِاللَّهِ نَصيرًا (৪৫)

[45] "আর (হে মুসলমানগণ!) আল্লাহ তোমাদের শত্রুদের খুব ভালো করেই জানেন, বন্ধুত্ব (অভিভাবক) হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট এবং সাহায্যের জন্যেও আল্লাহই যথেষ্ট)"।

مِنَ الَّذينَ هادوا يُحَرِّفونَ الكَلِمَ عَن مَواضِعِهِ وَيَقولونَ سَمِعنا وَعَصَينا وَاسمَع غَيرَ مُسمَعٍ وَرٰعِنا لَيًّا بِأَلسِنَتِهِم وَطَعنًا فِى الدّينِ ۚ وَلَو أَنَّهُم قالوا سَمِعنا وَأَطَعنا وَاسمَع وَانظُرنا لَكانَ خَيرًا لَهُم وَأَقوَمَ وَلٰكِن لَعَنَهُمُ اللَّهُ بِكُفرِهِم فَلا يُؤمِنونَ إِلّا قَليلًا (৪৬)

[46] "ইহুদীদের মধ্যে কিছু লোক এমন আছে যারা (তাওরাতের) শব্দাবলী তাদের আসল অর্থ থেকে সরিয়ে দেয় এবং বলে: "আমরা শুনেছি এবং আমরা অমান্য করেছি এবং (হে মুহাম্মদ!) শোন! না শোনার মত, এবং আমাদের বিবেচনা কর, (তারা) তাদের জিহ্বা বাঁকানো এবং দ্বীনকে দোষারোপ করে (এমন বলে), এবং যদি তারা বলত: "আমরা শুনেছি এবং আমরা মেনেছি " এবং "শুনেন এবং আমাদের প্রতি লক্ষ্য রাখুন " তাহলে তাদের জন্য ভালো হত, কিন্তু আল্লাহ তাদের "কুফর " এর কারণে ইহুদীদের উপর লানত (ফটকার) করেছেন, তাই তারা খুব কম ঈমান আনে"।

يٰأَيُّهَا الَّذينَ أوتُوا الكِتٰبَ ءامِنوا بِما نَزَّلنا مُصَدِّقًا لِما مَعَكُم مِن قَبلِ أَن نَطمِسَ وُجوهًا فَنَرُدَّها عَلىٰ أَدبارِها أَو نَلعَنَهُم كَما لَعَنّا أَصحٰبَ السَّبتِ ۚ وَكانَ أَمرُ اللَّهِ مَفعولًا (৪৭)

[47] ""হে আহলে কিতাবগণ! (ইহুদী ও নাসারা!) আমি যা (কুরআন) নাযিল করেছি তার প্রতি ঈমান নিয়ে এসো, (কুরআন সেই কিতাব) এর তাসদিক করে ( সেই কিতাব কে সত্য বিশ্বাস করে) যেটি তোমাদের কাছে রয়েছে পূর্ব থেকেই, এমন হওয়ার আগেই যে আমি অনেকের মুখ বিকৃত করে তাদের পিঠে ফিরিয়ে দেব (চেহারা ঘাড়ের মত করে দেই), অথবা আমি তাদের উপর লানত (অভিশাপ) পাঠাই, যেমনটি শনিবারের দিন ওয়ালাদের (ইয়াহুদীদের) প্রতি লানত পাঠিয়েছি, (শনিবার ওয়ালাদের ইহুদীদের কে অপমানজনক বাঁদর বানিয়ে ছিলাম) আল্লাহর আদেশ সর্বদা পূরণ হয়েই থাকে (আল্লাহর ফয়সালা অটল)"।

إِنَّ اللَّهَ لا يَغفِرُ أَن يُشرَكَ بِهِ وَيَغفِرُ ما دونَ ذٰلِكَ لِمَن يَشاءُ ۚ وَمَن يُشرِك بِاللَّهِ فَقَدِ افتَرىٰ إِثمًا عَظيمًا (৪৮)

[48]"নিশ্চয়ই, আল্লাহ শিরক কখনো (বিনা তাওবা) মাফ করেন না, এবং শিরকের চেয়ে কম পর্যায়ের গুনাহ যার জন্য চান মাফ করে দেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরক করল (কাউকে আল্লাহর শরীর ও অংশীদার সাব্যস্ত করলো) তবে নিশ্চয়ই সে খুব বড় গুনাহ করল (অপবাদ, মিথ্যা আরোপ করল)"।

أَلَم تَرَ إِلَى الَّذينَ يُزَكّونَ أَنفُسَهُم ۚ بَلِ اللَّهُ يُزَكّى مَن يَشاءُ وَلا يُظلَمونَ فَتيلًا (৪৯)

[49] "(নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!) আপনি কি এই লোকদের দেখেননি?  যারা নিজেদেরকে শুদ্ধ (পবিত্র , পরিস্কার পরিচ্ছন্ন) বলে, কিন্তু আল্লাহ যাকে ইচ্ছা শুদ্ধ (পবিত্র , পরিস্কার পরিচ্ছন্ন) করেন এবং লোকদের প্রতি খেজুরের বীজ এর মধ্যে থাকা পাতল ঝাল পরিমাণও (বিন্দু পরিমাণও) জুলুম করা হবে না"।

 انظُر كَيفَ يَفتَرونَ عَلَى اللَّهِ الكَذِبَ ۖ وَكَفىٰ بِهِ إِثمًا مُبينًا (৫০)

[50] "(আপনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দেখুন! কিভাবে এরা (হক অস্বীকার কারীরা) আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করে? আর প্রকাশ্য গুনাহ হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট"।

أَلَم تَرَ إِلَى الَّذينَ أوتوا نَصيبًا مِنَ الكِتٰبِ يُؤمِنونَ بِالجِبتِ وَالطّٰغوتِ وَيَقولونَ لِلَّذينَ كَفَروا هٰؤُلاءِ أَهدىٰ مِنَ الَّذينَ ءامَنوا سَبيلًا(৫১)

[51] "আপনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)কি তাদেরকে দেখেননি যাদেরকে কিতাব (তাওরাতের ইলম ) এর একটি অংশ দেওয়া হয়েছে, সুতরাং তারা (কিভাবে) মূর্তি ও শয়তানের প্রতি ঈমান রাখে? এবং (এই ইহুদী ও নাসারাগণ) কাফেরদের সম্পর্কে বলে: এই কাফেররা (অস্বীকার কারীরা) ঈমানদার দের তুলনায় বেশি সঠিক পথের উপর রয়েছে"।

* আর জিবত"الجبت " এর অর্থ:

 মূর্তি, জৌতিষ, যাদুকর এবং প্রত্যেক ঐ সকল বস্তু আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে পুঁজা হয়।  (আহসানুল বায়ান)।

* আত তাগুত "الطاغوت " এর ব্যাখ্যা:

জ্যোতিষ, শয়তান এবং গুমরাহ কারী সকল বস্তু, ইয়াহুদীদের নেতৃবৃন্দ, এবং প্রত্যেক সেসব বস্তু আল্লাহ ছাড়া যাদের পুঁজা হয়। (আহসানুল বায়ান)।

 أُولٰئِكَ الَّذينَ لَعَنَهُمُ اللَّهُ ۖ وَمَن يَلعَنِ اللَّهُ فَلَن تَجِدَ لَهُ نَصيرًا (৫২)

[52] "এরা সেই (ইহুদী) সম্প্রদায় যাদের উপর আল্লাহ লানত (অভিশাপ) পাঠিয়েছেন এবং যাদের উপর আল্লাহ লানত পাঠান, আপনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের কোনো সাহায্যকারী খুঁজে পাবেন না"।

أَم لَهُم نَصيبٌ مِنَ المُلكِ فَإِذًا لا يُؤتونَ النّاسَ نَقيرًا(৫৩)

[53] "তারা (ইহুদীরা) কি আল্লাহর (রাজত্ব) (হুকুমত বা ধনভাণ্ডার) এর কোনো অংশ পেয়েছে?  তাহলে তো তারা জনগণকে খেজুরের বীজের তিল এর সমানও (বিন্দু পরিমাণও) কিছুই দেবে না, কৃপণতা ও কিপটামির কারণে ইহুদিরা কাউকে একটি খোটা পয়সাও দেবে না)"।

أَم يَحسُدونَ النّاسَ عَلىٰ ما ءاتىٰهُمُ اللَّهُ مِن فَضلِهِ ۖ فَقَد ءاتَينا ءالَ إِبرٰهيمَ الكِتٰبَ وَالحِكمَةَ وَءاتَينٰهُم مُلكًا عَظيمًا (৫৪)

[54] "অথবা আল্লাহ তাঁর "অনুগ্রহে" (যা নবুওয়াত, কুরআন এবং ইজ্জত ও সম্মান) মানুষকে দিয়েছেন (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মুসলমানদের দিয়েছেন), এতে এই (ইহুদি) লোকেরা হিংসা করে (জ্বলে), (হে ইহুদিরা!) আমি ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) এর পরিবারকেও কিতাব ও হিকমত দিয়েছিলাম, এবং তাঁদেরকে একটি বড় রাজত্ব (রাজ্য) দিয়েছিলাম"।

* হিংসা ইহুদীদের একটি নিন্দনীয় বৈশিষ্ট্য:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আগে ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম এর বংশধরদের মধ্যে থেকে আল্লাহ নবীগণ প্রেরণ করেছিলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম এর ছেলে ইসমাইল আলাইহিস সালাম এর বংশধর, এবং ইহুদীরা ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম এর ছেলে ইসহাক আলাইহিস সালাম এর বংশধর, যখন পিতা এবং দাদা একই  তাহলে আহলে কিতাব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং মুসলমানদের উপর হিংসা করে? (তাইসিরুল রহমান)।

فَمِنهُم مَن ءامَنَ بِهِ وَمِنهُم مَن صَدَّ عَنهُ ۚ وَكَفىٰ بِجَهَنَّمَ سَعيرًا (৫৫)

[55] "তাদের (বনি ইসরাঈলদের) মধ্যে কিছু এমন লোক আছে যারা (নবীগণ ও রাসুলদের) প্রতি ঈমান এনেছে, এবং কিছু লোক তাঁদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে (ঈমান আনেনি), আর তাদের (অস্বীকার কারীদের) জন্য জাহান্নামের জ্বলন্ত আগুনই যথেষ্ট"।

إِنَّ الَّذينَ كَفَروا بِـٔايٰتِنا سَوفَ نُصليهِم نارًا كُلَّما نَضِجَت جُلودُهُم بَدَّلنٰهُم جُلودًا غَيرَها لِيَذوقُوا العَذابَ ۗ إِنَّ اللَّهَ كانَ عَزيزًا حَكيمًا (৫৬)

[56] "নিশ্চয় যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে (ইসলামে মৃত্যু হয়নি), তবে অবশ্যই আমি তাদেরকে (জাহান্নামের) আগুনে প্রবেশ করাব, এবং যখনই তাদের চামড়া গলে (পুড়ে) যাবে, তখনই আমি তাদের উপর একটি নতুন চামড়া চড়িয়ে দিব, যাতে তারা (সর্বদা) আযাব এর স্বাদ গ্রহণ করতে পারে, নিশ্চয়ই আল্লাহ বড় পরাক্রমশালী (বড় ইজ্জত ওয়ালা), বড় হিকমত ওয়ালা "।

*চামড়া ব্যথা অনুভব করে বা ডিমাগ?: কিছু লোক বলে যে মস্তিষ্ক ব্যথা অনুভব করে, কিন্তু বিজ্ঞান বলে যে: "(Pain, Receptors) চামড়ায় ব্যথা অনুভূত হয়, আর কুরআনও বলে যে ব্যথা চামড়ায় হয়, যেমনটি এখানে কুরআনের সূরা নিসা সূরা নং 4 আয়াত নং 56 তে বলা হয়েছে যে "যখন চামড়া জ্বলে পুড়ে যাবে তখন আল্লাহ নতুন চামড়া চড়িয়ে দিবেন "এর উদ্দেশ্য হল হক অস্বীকার কারীদের কে কষ্ট ও ব্যাথা অনুভব করানো এবং আযাব বৃদ্ধি করা, তাই আল্লাহ বললেন আমি নতুন চামড়া চড়িয়ে দেব, কারণ ব্যথা চামড়ায় হয়, এবং ইনসাফ করার জন্য বারবার চামড়া জ্বলানো এবং আযাব দেওয়া আল্লাহর জন্য একেবারেই সহজ"।

* যদি কেউ মনে করে যে চামড়া পুড়ানোর পর আল্লাহ আবার নতুন চামড়া কিভাবে চড়াবেন?  তবে তাকে দেখা উচিত যখন একজন ব্যক্তির চামড়া পুড়ে যায় বা কেটে যায়, অতঃপর পুনরায় সেই জায়গায় ঘা শুকিয়ে যাওয়ার পর কীভাবে  নতুন চামড়া গজায়?

* যখন কেউ পুড়ে যায়, ডাক্তার পুড়া জায়গায় একটি সুই (Needle) ঢুকিয়ে দেখেন, ব্যথা থাকলে বোঝা যায় যে খুব বেশি ক্ষতি হয়নি, এবং ব্যথা অনুভব কারী (Pain, Receptors) নিরাপদ, এবং যদি ব্যথা না থাকে তবে পুড়ে যাওয়া ব্যক্তির অবস্থা খারাপ, এবং ব্যথার (Pain, Receptors) মরে গেছে।

* এই আয়াতটি কিছু বিজ্ঞানীকে হক কবুল করতে বাধ্য করেছে কারণ 1400 বছর আগে  কুরআনে চামড়ার ভিতরে ব্যথার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

وَالَّذينَ ءامَنوا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ سَنُدخِلُهُم جَنّٰتٍ تَجرى مِن تَحتِهَا الأَنهٰرُ خٰلِدينَ فيها أَبَدًا ۖ لَهُم فيها أَزوٰجٌ مُطَهَّرَةٌ ۖ وَنُدخِلُهُم ظِلًّا ظَليلًا(৫৭)

[57] " আর যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করে,  তাদেরকে আমি শীঘ্রই এমন জান্নাতে দাখিল করব, যার তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তাঁরা চিরকাল থাকবে, সেখানে তাঁদের জন্য রয়েছে (পবিত্র,পরিচ্ছন্ন) স্ত্রীগণ, এবং আমি তাদেরকে ঘন ছায়ায় প্রবেশ করাবো"।

 إِنَّ اللَّهَ يَأمُرُكُم أَن تُؤَدُّوا الأَمٰنٰتِ إِلىٰ أَهلِها وَإِذا حَكَمتُم بَينَ النّاسِ أَن تَحكُموا بِالعَدلِ ۚ إِنَّ اللَّهَ نِعِمّا يَعِظُكُم بِهِ ۗ إِنَّ اللَّهَ كانَ سَميعًا بَصيرًا (৫৮)

[58] "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের কে আদেশ দেয় আমানত সমুহ তাদের হকদারদের (মালিকদের) কাছে পৌঁছে দাও, এবং যখন লোকদের মাঝে ফায়সালা কর তখন ইনসাফের সাথে ফায়সালা করবে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের কে ভালো কথার নসিহত করেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু শুনেন এবং সব কিছুই দেখেন"।

يٰأَيُّهَا الَّذينَ ءامَنوا أَطيعُوا اللَّهَ وَأَطيعُوا الرَّسولَ وَأُولِى الأَمرِ مِنكُم ۖ فَإِن تَنٰزَعتُم فى شَيءٍ فَرُدّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسولِ إِن كُنتُم تُؤمِنونَ بِاللَّهِ وَاليَومِ الءاخِرِ ۚ ذٰلِكَ خَيرٌ وَأَحسَنُ تَأويلًا (৫৯)

[59] "হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর (আল্লাহর কথা মান্য কর), এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আনুগত্য কর (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কথা মেনে চল), এবং তোমাদের মধ্যে যারা ক্ষমতায় রয়েছেন (আলেম এবং ইসলামী আমীর) (তাদেরও কথা মেনে চল), তারপর যদি তোমাদের মধ্যে কোনো বিষয়ে ইখতেলাফ দেখা যায়, তাহলে তা আল্লাহ (অর্থাৎ কুরআন) এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অর্থাৎ হাদিস) এর দিকে ফেরত দাও, যদি আল্লাহর প্রতি এবং আখেরাতের দিনের প্রতি ঈমান রাখো, এর মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে, এবং এর পরিণতিও সর্বোত্তম রয়েছে"।

* আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দিকে ফিরে আসার মানে কি?:

আল্লাহর দিকে ফিরে আসার অর্থ: কুরআন, এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দিকে ফিরে যাওয়ার অর্থ: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদিস, পারস্পরিক মতপার্থক্যের অবসান ঘটাতে কুরআন ও হাদিসের সর্বোত্তম উপায়, এখান থেকে স্পষ্ট যে কোনো তৃতীয়র অনুসরণ ওয়াজিব নয়, কুরআন ও হাদিস থাকা অবস্থায় কোনো বুজরুগ অথবা ইমাম এর কথা মান্য করা যাবে না, কুরআন ও হাদিসের অনুসরণে আমাদের সফলতা রয়েছে।(আহসানুল বয়ান)।

الم تَرَ إِلَى الَّذينَ يَزعُمونَ أَنَّهُم ءامَنوا بِما أُنزِلَ إِلَيكَ وَما أُنزِلَ مِن قَبلِكَ يُريدونَ أَن يَتَحاكَموا إِلَى الطّٰغوتِ وَقَد أُمِروا أَن يَكفُروا بِهِ وَيُريدُ الشَّيطٰنُ أَن يُضِلَّهُم ضَلٰلًا بَعيدًا (৬০)

[60] " (হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!) আপনি কি সেই লোকদেরকে দেখেননি (সেই মুনাফিকদের দেখেননি) যাদের দাবি যা আপনার  প্রতি নাযিল হয়েছে এবং আপনার (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পূর্বে নাযিল ( কিতাবসমূহ) হয়েছে তাতে ঈমান এনেছে, কিন্তু তারা তাদের ফয়সালা " গাইরুল্লাহ" (আল্লাহ ব্যতীত অন্যদের) থেকে করাতে চায়, (জৌতিষ, কাফের, ইহুদি ও নাসারা ইত্যাদি দের নিকট থেকে করাতে চায়), অথচ তাদের কে এটি অস্বীকার করার আদেশ করা হয়েছে ( ফায়সালার জন্য তাদের কাছে যেতে বারণ করা হয়েছে), এবং শয়তান তাদের কে বিভ্রান্ত করে অনেক দূর নিয়ে যেতে চাই (শয়তান বড় গুমরাহী তে নিয়ে যেতে চাই)"।

وَإِذا قيلَ لَهُم تَعالَوا إِلىٰ ما أَنزَلَ اللَّهُ وَإِلَى الرَّسولِ رَأَيتَ المُنٰفِقينَ يَصُدّونَ عَنكَ صُدودًا (৬১)

[61] "আর যখন তাদের (মুনাফিকদের) বলা হয় আল্লাহর নাযিলকৃত কিতাব (কুরআন) এবং রাসূল (সাঃ) এর কাছে এসো, তখন আপনি ওই মুনাফিকদের দেখতে পাবেন যে তারা আপনার থেকে সম্পূর্ণরূপে ইতস্তত বোধ করে (মুখ ফিরিয়ে নেয়)"।

فَكَيفَ إِذا أَصٰبَتهُم مُصيبَةٌ بِما قَدَّمَت أَيديهِم ثُمَّ جاءوكَ يَحلِفونَ بِاللَّهِ إِن أَرَدنا إِلّا إِحسٰنًا وَتَوفيقًا (৬২)

[62] "তাহলে এটা কেমন কথা যে যখন তাদের (মুনাফিকদের) উপর তাদের খারাপ কাজের কারণে কোন বিপদ আসে, তখন আপনার (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে এসে আল্লাহর শপথ করে বলে যে আমাদের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র মঙ্গল এবং সমঝোতাই ছিল"।

 أُولٰئِكَ الَّذينَ يَعلَمُ اللَّهُ ما فى قُلوبِهِم فَأَعرِض عَنهُم وَعِظهُم وَقُل لَهُم فى أَنفُسِهِم قَولًا بَليغًا (৬৩)

[63] "এরা সেসব লোক যাদের অন্তরের সব কথা আল্লাহ খুব ভালোভাবেই জানেন,  সুতরাং (হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!) আপনি তাদেরকে উপেক্ষা করুন (তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন) এবং তাদেরকে নসিহত করুন এবং তাদের (মুনাফিকদের) কে তাদের সম্পর্কে হৃদয় স্পর্শ কথা বলুন"।

 وَما أَرسَلنا مِن رَسولٍ إِلّا لِيُطاعَ بِإِذنِ اللَّهِ ۚ وَلَو أَنَّهُم إِذ ظَلَموا أَنفُسَهُم جاءوكَ فَاستَغفَرُوا اللَّهَ وَاستَغفَرَ لَهُمُ الرَّسولُ لَوَجَدُوا اللَّهَ تَوّابًا رَحيمً (৬৪)

[64] "আর আমি প্রত্যেক রসূলকে শুধুমাত্র এ জন্যই পাঠিয়েছি যাতে আল্লাহর নির্দেশে তাঁর আনুগত্য করা হয় (তাঁর কথা মানা হয়) আর এই লোকেরা যখন নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল, অতঃপর আপনার (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে আসত,  আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করত (গুনাহের মাফী চাইত) এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও) তাদের জন্য মাগফিরাত প্রার্থনা করতেন (গুনাহের জন্য ক্ষমা চাইতেন), তাহলে আল্লাহ খুব তাওবা কবুলকারী (বড় ক্ষমাশীল), বড় মেহেরবান "।

*এই আয়াতটি কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কবরে গিয়ে নিজের গুনাহ মাফের জন্য দোয়া করা, অথবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ডাক দেওয়ার দলিল  হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক নয়, কিন্তু যারা এই আয়াত থেকে কবরের উপর গিয়ে মৃত ব্যক্তির নিকট থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করা সহিহ মনে করে, তারা ভুলে রয়েছে, বরং এটি হচ্ছে কুরআনে  " تحريف معنوي" অর্থাৎ কুরআনের আসল অর্থ এবং ব্যাখ্যা পরিবর্তন ও বিকৃতি করা।  (তাইসিরুল রহমান)।

*এই আয়াতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগের মুনাফিকদের "অপরাধ" এর কথা উল্লেখ হয়েছে যে, তারা বিচারের জন্য অন্যের কাছে যেত, তাই তাদের বলা হচ্ছে যে, আল্লাহর আযাব থেকে বাঁচার উপায় হল মুনাফিকি থেকে সত্যিকারে অন্তর থেকে তাওবা করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসো।  (তাইসিরুল রহমান)।

فَلا وَرَبِّكَ لا يُؤمِنونَ حَتّىٰ يُحَكِّموكَ فيما شَجَرَ بَينَهُم ثُمَّ لا يَجِدوا فى أَنفُسِهِم حَرَجًا مِمّا قَضَيتَ وَيُسَلِّموا تَسليمًا (৬৫)

[65] "(হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!) আপনার রবের কসম! তারা "মুমিন"  হতে পারে না, যতক্ষণ না তারা আপনাকে তাদের বিবাদের বিচারক হিসাবে মেনে নেবে, তারপর আপনার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তাদের হৃদয়ে কোন রকম ব্যথা (সংকীর্ণতা) অনুভব না করে এবং পুরোপুরি সেই সিদ্ধান্তকে মেনে নেয়"।

وَلَو أَنّا كَتَبنا عَلَيهِم أَنِ اقتُلوا أَنفُسَكُم أَوِ اخرُجوا مِن دِيٰرِكُم ما فَعَلوهُ إِلّا قَليلٌ مِنهُم ۖ وَلَو أَنَّهُم فَعَلوا ما يوعَظونَ بِهِ لَكانَ خَيرًا لَهُم وَأَشَدَّ تَثبيتًا(৬৬)

[66] "আর যদি আমি তাদের (তাওবা কারীদের) উপর জরুরি করে দিতাম যে তোমরা নিজেদের কে হত্যা কর বা তাদের বাড়িঘর ছেড়ে বেরিয়ে যাও, তবে তাদের মধ্যে অল্প সংখ্যকই তা অনুসরণ করত, যদি তারা তার উপর আমল করত যা তাদের নসিহত করা হয়েছিল, তবে তা তাদের জন্য বেশি ভালো হত এবং এটি (দ্বীনের ব্যাপারে) তাদেরকে আধিক শক্তিশালী করত"।

وَإِذًا لَءاتَينٰهُم مِن لَدُنّا أَجرًا عَظيمًا (৬৭)

[67] "এবং তখন আমি তাদেরকে আমার পক্ষ থেকে বিরাট বড় প্রতিদান দিতাম"।

وَلَهَدَينٰهُم صِرٰطًا مُستَقيمًا (৬৮)

[68] "এবং নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে (দুনিয়া ও আখেরাতে) সোজা রাস্তাও দেখাতাম"।

وَمَن يُطِعِ اللَّهَ وَالرَّسولَ فَأُولٰئِكَ مَعَ الَّذينَ أَنعَمَ اللَّهُ عَلَيهِم مِنَ النَّبِيّۦنَ وَالصِّدّيقينَ وَالشُّهَداءِ وَالصّٰلِحينَ ۚ وَحَسُنَ أُولٰئِكَ رَفيقًا (৬৯)

[69] "আর যারা আল্লাহ ও রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর (কথা মেনে) আমল করেন তাঁরা (জান্নাতে) আল্লাহর পুরষ্কারপ্রাপ্ত নবীগণ, সিদ্দিকীন (সত্যবাদী লোকগণ), শহীদগণ ও নেককার লোকদের সাথে থাকবেন, এবং এঁরা হবেন খুব ভালো সাথী"।

 ذٰلِكَ الفَضلُ مِنَ اللَّهِ ۚ وَكَفىٰ بِاللَّهِ عَليمًا(৭০)

[70] "(জান্নাতে নেক লোকদের নবীগণ, সিদ্দিকীন (সত্যবাদী লোকগণ), শহীদগণ এর সাথে স্থান পাওয়া) এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ ও রহমত, এবং আল্লাহই যথেষ্ট, আল্লাহ (সব কিছু) জানেন"।

يٰأَيُّهَا الَّذينَ ءامَنوا خُذوا حِذرَكُم فَانفِروا ثُباتٍ أَوِ انفِروا جَميعًا (৭১)

[71] "হে ঈমানদারগণ! (শত্রুদের মোকাবিলার সময়) নিজেদের সুরক্ষার জন্য সাথে অস্ত্র রাখ, তারপর (জিহাদের জন্য) সৈন্যদলে সাথে বের হও বা একসাথে বের হও (বলে দলে জিহাদের জন্য বের হও বা সবাই একসাথে মিলে বের হয়)"।

 

وَإِنَّ مِنكُم لَمَن لَيُبَطِّئَنَّ فَإِن أَصٰبَتكُم مُصيبَةٌ قالَ قَد أَنعَمَ اللَّهُ عَلَىَّ إِذ لَم أَكُن مَعَهُم شَهيدًا (৭২)

[72] "আর নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে কেউ এমনও আছে যে (জেনে বুঝে জিহাদে যেতে) অলসতা করে (এবং অন্যদেরও সাহস দুর্বল করে দেয়) অতঃপর যদি (জিহাদে) তোমাদের উপর কোন বিপদ আসলে, সে বলে: আল্লাহ আমার প্রতি অনেক অনুগ্রহ করেছেন যে অনেক পুরস্কার করেছেন যে আমি ঐ লোকদের সাথে উপস্থিত ছিলাম না"।

* মুনাফিকরা  নিফাকের কারণে জিহাদের বের হত না এবং অন্যদের হিম্মতও দুর্বল করত, নিফাকের সর্দার  আব্দুল্লাহ বিন উবাই বিন সুলুল অন্যদের হিম্মত দুর্বল করতে আগে আগে থাকতো, উহুদ যুদ্ধের সময় মুনাফিকদের একটি দল নিয়ে মদিনা ফিরিয়ে নিয়ে এসেছিল। (তাইসিরুল রহমান)।

 

وَلَئِن أَصٰبَكُم فَضلٌ مِنَ اللَّهِ لَيَقولَنَّ كَأَن لَم تَكُن بَينَكُم وَبَينَهُ مَوَدَّةٌ يٰلَيتَنى كُنتُ مَعَهُم فَأَفوزَ فَوزًا عَظيمًا (৭৩)

[73] "আর যদি তোমাদের উপর আল্লাহর ফজল হয় (যুদ্ধে বিজয়ী বা গনিমত অর্জন হয়) তখন সে (মুনাফিক) এভাবে কথা বলে: যেন তোমাদের এবং তার মধ্যে কখনোই কোনো বন্ধুত্ব ছিল না, (যেমন সে তোমাদের দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয় বরং  অপরিচিত, সেই মুনাফিক মুসলমানদের ভালোবাসায় নয় বরং শুধুমাত্র সম্পদের লোভে)  বলে: আফসোস! আমিও এই লোকদের সাথে থাকতাম তবে আমিও অনেক সাফল্য অর্জন করতাম (গনিমতের সম্পদ অর্জন করতাম, কিছু সম্পদ আমিও পেতাম)।

فَليُقٰتِل فى سَبيلِ اللَّهِ الَّذينَ يَشرونَ الحَيوٰةَ الدُّنيا بِالءاخِرَةِ ۚ وَمَن يُقٰتِل فى سَبيلِ اللَّهِ فَيُقتَل أَو يَغلِب فَسَوفَ نُؤتيهِ أَجرًا عَظيمًا (৭৪)

[74] "সুতরাং আল্লাহর রাস্তায় তাঁরাই জিহাদ করে যারা দুনিয়ার জীবনকে আখেরাতের জন্য বিক্রি করে দেয়, অতঃপর আল্লাহর রাস্তায় নিহত হন অথবা বিজয়ী হন (প্রত্যেক অবস্থায়) আমি শিঘ্রই তাকে বড় প্রতিদান (জান্নাত) দিব"।

وَما لَكُم لا تُقٰتِلونَ فى سَبيلِ اللَّهِ وَالمُستَضعَفينَ مِنَ الرِّجالِ وَالنِّساءِ وَالوِلدٰنِ الَّذينَ يَقولونَ رَبَّنا أَخرِجنا مِن هٰذِهِ القَريَةِ الظّالِمِ أَهلُها وَاجعَل لَنا مِن لَدُنكَ وَلِيًّا وَاجعَل لَنا مِن لَدُنكَ نَصيرًا (৭৫)

[75] "আর (হে মুসলমানগণ!) তোমাদের কি হয়েছে যে তোমরা সেই দুর্বল (অসহায়) পুরুষ, নারীগণ ও শিশুদের বাঁচাতে আল্লাহর পথে যুদ্ধ করছ না? (অসহায় মানুষরা) দোয়া করে: হে আমাদের রব!  আমাদেরকে সেই শহর থেকে বের করে দাও যার অধিবাসীরা অত্যাচারী, এবং আমাদেরকে তোমার পক্ষ থেকে হেফাজত কারী প্রদান কর এবং আমাদের জন্য তোমার পক্ষ থেকে কোনো সাহায্যকারী নির্ধারণ করে দাও"।

* ইসলামে জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ (আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ) এর অর্থ:

জালিমদের হাত রুখে দেওয়া, নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়ানো, এবং দুর্বল পুরুষ, মহিলা ও শিশুদের সাহায্য করা।  (আহসানুল-বায়ান)।

 الَّذينَ ءامَنوا يُقٰتِلونَ فى سَبيلِ اللَّهِ ۖ وَالَّذينَ كَفَروا يُقٰتِلونَ فى سَبيلِ الطّٰغوتِ فَقٰتِلوا أَولِياءَ الشَّيطٰنِ ۖ إِنَّ كَيدَ الشَّيطٰنِ كانَ ضَعيفًا (৭৬)

[76] "মুমিনরা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে, আর কাফের (হক অস্বীকারকারীরা) তাগুত (শয়তান) এর পথে লড়াই করে, অতএব (হে মুসলমানগণ!) তোমরা শয়তানের অনুসারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর, নিশ্চয়ই শয়তানের চক্রান্ত খুবই দুর্বল"।

أَلَم تَرَ إِلَى الَّذينَ قيلَ لَهُم كُفّوا أَيدِيَكُم وَأَقيمُوا الصَّلوٰةَ وَءاتُوا الزَّكوٰةَ فَلَمّا كُتِبَ عَلَيهِمُ القِتالُ إِذا فَريقٌ مِنهُم يَخشَونَ النّاسَ كَخَشيَةِ اللَّهِ أَو أَشَدَّ خَشيَةً ۚ وَقالوا رَبَّنا لِمَ كَتَبتَ عَلَينَا القِتالَ لَولا أَخَّرتَنا إِلىٰ أَجَلٍ قَريبٍ ۗ قُل مَتٰعُ الدُّنيا قَليلٌ وَالءاخِرَةُ خَيرٌ لِمَنِ اتَّقىٰ وَلا تُظلَمونَ فَتيلًا (৭৭)

[77] "( হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!) আপনি কি সেসব লোকদের দেখেননি?  যাদেরকে বলা হয়েছিল যে, তোমরা (মক্কার জীবনে যুদ্ধ থেকে) হাত কন্ট্রোল রাখ, নামায কায়েম কর এবং যাকাত দিতে থাক, অতঃপর যখন তাঁদের উপর জিহাদ ফরজ করা হল, তখন তাঁদের একদল (মুনাফিকদের দল) মানুষদেরকে (শত্রুদেরকে) এমনভাবে ভয় করতে শুরু করল যেন তারা আল্লাহকে ভয় করছে, বা আল্লাহর থেকেও বেশি (অন্যদেরকে) ভয় করতে লাগল এবং তারা বলল: হে আমাদের রব! তুমি আমাদের উপর কেন জিহাদ ফরজ করলে? কেন আমারা আরো কয়েকদিন অবকাশ পেলাম না? আপনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলুন:  দুনিয়ার লাভ সামান্য এবং (আল্লাহকে) ভয় কারীদের জন্য আখেরাত উত্তম, এবং তোমাদের উপর একটি সুতার পরিমাণও (বিন্দু পরিমানও) জুলুম করা হবে না"।

* শিং ওয়ালা ছাগল যদি শিংবিহীন ছাগলকে মেরেছে তবে তার থেকেও প্রতিশোধ নেওয়া হবে।  (সহীহ মুসলিম কিতাবুল বির ওয়াস সিলাহ,  হাদিস নম্বর: 2582)

 أَينَما تَكونوا يُدرِككُمُ المَوتُ وَلَو كُنتُم فى بُروجٍ مُشَيَّدَةٍ ۗ وَإِن تُصِبهُم حَسَنَةٌ يَقولوا هٰذِهِ مِن عِندِ اللَّهِ ۖ وَإِن تُصِبهُم سَيِّئَةٌ يَقولوا هٰذِهِ مِن عِندِكَ ۚ قُل كُلٌّ مِن عِندِ اللَّهِ ۖ فَمالِ هٰؤُلاءِ القَومِ لا يَكادونَ يَفقَهونَ حَديثًا (৭৮)

[78] "তোমরা যেখানেই থাকো না কেন মৃত্যু তোমাদের কাছে আসবেই, যদিও তুমি মজবুত দুর্গে থাকো, আর যদি তাদের (মুনাফিকদের) কোন মঙ্গল হলে তারা বলে, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যদি তাদের কোন অকল্যাণ হয় (কষ্ট হয়), তখন তারা বলে: এটা (হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) তোমর কারণে হয়েছে, আপনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: ভালো ও মন্দ এবং সমৃদ্ধি ও দুর্দশা) সবই আল্লাহর পক্ষ থেকেই হয়, তাদের কি হয়েছে যে তারা এটা বোঝে না?

ما أَصابَكَ مِن حَسَنَةٍ فَمِنَ اللَّهِ ۖ وَما أَصابَكَ مِن سَيِّئَةٍ فَمِن نَفسِكَ ۚ وَأَرسَلنٰكَ لِلنّاسِ رَسولًا ۚ وَكَفىٰ بِاللَّهِ شَهيدًا (৭৯)

[79] "(হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!) আপনার নিকট যা কিছু ভালো (সমৃদ্ধি) আসে তা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে, এবং যা কিছু অমঙ্গল (বেদনা) আসে তা সবই আপনার নিজের কারণে, এবং (হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!) আমি আপনাকে মানুষের জন্য রাসূল বানিয়ে পাঠিয়েছি, এবং আল্লাহ সাক্ষী হিসাবে একাই যথেষ্ট "।

 مَن يُطِعِ الرَّسولَ فَقَد أَطاعَ اللَّهَ ۖ وَمَن تَوَلّىٰ فَما أَرسَلنٰكَ عَلَيهِم حَفيظًا (৮০)

[80] "যে ব্যক্তি রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আনুগত্য করল (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা মেনে আমল করল) নিশ্চয়ই সে আল্লাহর আনুগত্য করল (আল্লাহর কথা মেনে আমল করল) আর যে অমান্য করল, তাহলে আমি আপনাকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের জন্য প্রহরী বানিয়ে (পাহারাদার ও দারোগা করে) পাঠাইনি"।

وَيَقولونَ طاعَةٌ فَإِذا بَرَزوا مِن عِندِكَ بَيَّتَ طائِفَةٌ مِنهُم غَيرَ الَّذى تَقولُ ۖ وَاللَّهُ يَكتُبُ ما يُبَيِّتونَ ۖ فَأَعرِض عَنهُم وَتَوَكَّل عَلَى اللَّهِ ۚ وَكَفىٰ بِاللَّهِ وَكيلًا (৮১)

[81] "আর তারা (মুনাফিকরা) সামনে বলে যে আমরা আনুগত্য করি (আমরা কথা মান্য করি), তারপর যখন সেসব লোকেরা আপনার নিকট থেকে চলে যায়, তাদের একটি দল রাতের বেলায় পরামর্শ করে, এবং রাত রাতের বেলায় যা পরামর্শ করে আল্লাহ সেসব লিখছেন, সুতরাং আপনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই লোকদের নিয়ে চিন্তা করবেন না এবং আল্লাহর উপর ভরসা করুন এবং আল্লাহই ভরসার জন্য যথেষ্ট"।

أَفَلا يَتَدَبَّرونَ القُرءانَ ۚ وَلَو كانَ مِن عِندِ غَيرِ اللَّهِ لَوَجَدوا فيهِ اختِلٰفًا كَثيرًا(৮২)

[82] "তারা কি কুরআনের মধ্যে চিন্তা করে না?  এই কুরআন যদি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো তাহলে তারা অবশ্যই এতে বহু ইখতেলাফ দেখতে পেত"।

 وَإِذا جاءَهُم أَمرٌ مِنَ الأَمنِ أَوِ الخَوفِ أَذاعوا بِهِ ۖ وَلَو رَدّوهُ إِلَى الرَّسولِ وَإِلىٰ أُولِى الأَمرِ مِنهُم لَعَلِمَهُ الَّذينَ يَستَنبِطونَهُ مِنهُم ۗ وَلَولا فَضلُ اللَّهِ عَلَيكُم وَرَحمَتُهُ لَاتَّبَعتُمُ الشَّيطٰنَ إِلّا قَليلًا(৮৩)

[83] "আর যখন তাদের কাছে শান্তি বা ভয় এর কোনো খবর পৌঁছায়, তবে এই লোকেরা তা ছড়িয়ে দিতে শুরু করে, এবং যদি এই লোকেরা এ (খবরটি) রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং দায়িত্বশীলদের কাছে উল্লেখ করত, তাহলে তাদের মধ্যে তাহক্বীক কারীগণ (গবেষকগণ এবং অনুসন্ধানকারীরা) সে খরবের তাহক্বীক করে সত্যতা যাচাই করেনিত (এই খবরের গভীর পর্যন্ত পৌঁছে যেত), এবং (হে মুসলিমগণ!) যদি তোমাদের প্রতি আল্লাহর ফজল না হত এবং তাঁর রহমত না হত তবে অল্প সংখ্যক লোক ছাড়া বাকি সব মানুষই শয়তানের অনুসরণ করতে শুরু করত"।

*এই আয়াত থেকে বোঝা যায় যে, মিডিয়ার উচিত গবেষণা করেই সংবাদ পরিবেশন করা, মানুষের অপবাদ দেওয়া উচিত নয়।

 

[84] فَقٰتِل فى سَبيلِ اللَّهِ لا تُكَلَّفُ إِلّا نَفسَكَ ۚ وَحَرِّضِ المُؤمِنينَ ۖ عَسَى اللَّهُ أَن يَكُفَّ بَأسَ الَّذينَ كَفَروا ۚ وَاللَّهُ أَشَدُّ بَأسًا وَأَشَدُّ تَنكيلًا (৮৪)

[84] "সুতরাং (হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!) আল্লাহর পথে জিহাদ কর, আপনি নিজের যিম্মাদার (কেউ আপনার আনুগত্য করুক বা না করুক) এবং ঈমানদার দের কে (জিহাদের জন্য) উৎসাহিত করতে থাকুন, আশা করা যায় যে আল্লাহ কাফেরদের লড়াইয়ের শক্তি ভেঙে দেবেন, এবং আল্লাহর ক্ষমতা (শক্তি) অত্যন্ত কঠোর, এবং (তাঁর) শাস্তিও অত্যন্ত কঠোর।

مَن يَشفَع شَفٰعَةً حَسَنَةً يَكُن لَهُ نَصيبٌ مِنها ۖ وَمَن يَشفَع شَفٰعَةً سَيِّئَةً يَكُن لَهُ كِفلٌ مِنها ۗ وَكانَ اللَّهُ عَلىٰ كُلِّ شَيءٍ مُقيتًا (৮৫)

[85] "যে কেউ কোনো ভালো সুপারিশ করবে, তাহলে তার (নেকির) একটি অংশ (ভালো সুপারিশকারী কেও) পাবে এবং যে কেউ মন্দ সুপারিশ করবে, তাহলে তার (মন্দের) একটি অংশ (মন্দ সুপারিশকারী কেও) পাবে এবং আল্লাহ সব কিছুর উপরে ক্ষমতা রাখেন (আল্লাহ প্রত্যেক জিনিসের উপর নজর রাখেন)"।

وَإِذا حُيّيتُم بِتَحِيَّةٍ فَحَيّوا بِأَحسَنَ مِنها أَو رُدّوها ۗ إِنَّ اللَّهَ كانَ عَلىٰ كُلِّ شَيءٍ حَسيبًا(৮৬)

[86] "আর (হে ঈমানদারগণ!) যখন তোমাদেরকে সালাম দেওয়া হয়, তখন ভালোভাবে উত্তর দাও অথবা (কমপক্ষে) একই কথা ফিরিয়ে দাও, নিশ্চয়ই আল্লাহ সব বিষয়ে হিসাব নিবেন"।

اللَّهُ لا إِلٰهَ إِلّا هُوَ ۚ لَيَجمَعَنَّكُم إِلىٰ يَومِ القِيٰمَةِ لا رَيبَ فيهِ ۗ وَمَن أَصدَقُ مِنَ اللَّهِ حَديثًا (৮৭)

[87] "আল্লাহ ছাড়া কোন (প্রকৃত ও সত্য) মাবুদ নেই, তিনি অবশ্যই তোমাদের সবাইকে কেয়ামতের দিন জমা করবেন, যার (আগমনে) কোন সন্দেহ নেই এবং আল্লাহর চেয়ে কার কথা বেশি সত্য হতে পারে? ( আল্লাহর চেয়ে কে বেশি সত্যবাদী হতে পারে?)"

فَما لَكُم فِى المُنٰفِقينَ فِئَتَينِ وَاللَّهُ أَركَسَهُم بِما كَسَبوا ۚ أَتُريدونَ أَن تَهدوا مَن أَضَلَّ اللَّهُ ۖ وَمَن يُضلِلِ اللَّهُ فَلَن تَجِدَ لَهُ سَبيلًا (৮৮)

[88] "(হে মুসলমান!) অতঃপর তোমাদের কি হয়েছে? যে (উহুদ যুদ্ধে যাওয়ার সময় রাস্তা থেকে ফিরে আসা) মুনাফিকদের ব্যাপারে দুই দলে বিভক্ত হয়েছ, (কিছু মুসলমান বলল না, তারা মুসলমান) অথচ আল্লাহ তাদের মন্দ কাজের (কর্মকাণ্ডের) কারণে তাদেরকে অন্ধ করে দিয়েছেন (তাদেরকে গুমরাহ করে দিয়েছেন),  আপনি কি তাকে পথ দেখাতে চান? আর আল্লাহ যাকে গুমরাহ করেছে, আল্লাহ যাকে গুমরাহ করেন তার জন্য তো আপনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কখনোই (কল্যাণের) কোনো পথ খুঁজে পাবেন না"।

 وَدّوا لَو تَكفُرونَ كَما كَفَروا فَتَكونونَ سَواءً ۖ فَلا تَتَّخِذوا مِنهُم أَولِياءَ حَتّىٰ يُهاجِروا فى سَبيلِ اللَّهِ ۚ فَإِن تَوَلَّوا فَخُذوهُم وَاقتُلوهُم حَيثُ وَجَدتُموهُم ۖ وَلا تَتَّخِذوا مِنهُم وَلِيًّا وَلا نَصيرًا (৮৯)

[89] "হে ঈমানদারগণ! তারা (মুনাফিকরা) চায় যে তাদের মত তোমরাও কাফের হয়ে যাও,যাতে তোমরা সবাই সমান হয়ে যাও, সুতরাং (হে ঈমানদারগণ!) তোমরা তাদের (মুনাফিকদের) মধ্যে কাউকে বন্ধু বানাবেন না, যতক্ষণ না তারা আল্লাহর পথে হিজরত করে, যদি তারা (হিজরত অথবা দ্বীন থেকে) ফিরে যায় তবে তাদের কে ( কাফেরদের সাথ দেওয়ার কারণে) পাকড়াও কর, এবং (যুদ্ধের ময়দানে) যেখানেই পাও তাদেরকে হত্যা কর এবং তাদের (মুনাফিকদের) কাউকেও নিজের বন্ধু ও সাহায্যকারী না বানাও"।

 

*এই আয়াতে সেসব মুনাফিকদের উল্লেখ করা হয়েছে যারা মদীনার আশেপাশে ছড়িয়ে থাকা কাফেরদের "গোত্রভুক্ত" ছিল  এবং সেসব মুনাফিকরা মুসলমানদের প্রতি সত্যিকারের ভালোবাসার দাবিও করত, কিন্তু তারা তাদের দেশ বাসী কাফেরদের সমর্থনও করত, এই মুনাফিকদের জন্য সময় নির্ধারিত করে দেওয়া হল যে তারা যদি হিজরত করে আপনার কাছে মদীনা চলে আসে তবে এই পরিস্থিতিতে তাদের সত্যবাদী বিবেচনা কর এবং সহানুভূতিশীল বিবেচনাও কর,  আর যদি তারা হিজরত করতে প্রস্তুত না হয় সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও, এবং তোমাদের শত্রুদের সাথে মিশে

যুদ্ধের ময়দানে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, তবে তোমরা ওই মুনাফিকিন দেরকে হত্যা করা থেকে পিছপা হবে না, এই আয়াতে মুনাফিকদের কথা বলা হয়েছে যারা হিজরত করে মদীনায় মুসলমানদের কাছে আসেনি।  (তাইসিরুল কুরআন)।

 

 إِلَّا الَّذينَ يَصِلونَ إِلىٰ قَومٍ بَينَكُم وَبَينَهُم ميثٰقٌ أَو جاءوكُم حَصِرَت صُدورُهُم أَن يُقٰتِلوكُم أَو يُقٰتِلوا قَومَهُم ۚ وَلَو شاءَ اللَّهُ لَسَلَّطَهُم عَلَيكُم فَلَقٰتَلوكُم ۚ فَإِنِ اعتَزَلوكُم فَلَم يُقٰتِلوكُم وَأَلقَوا إِلَيكُمُ السَّلَمَ فَما جَعَلَ اللَّهُ لَكُم عَلَيهِم سَبيلًا(৯০)

[90] " কিন্তু ( এমন মুনাফিকদের যেন বন্দি না করা হয় এবং না তাদের সাথে যুদ্ধ করা হয়) যারা এমন সম্প্রদায়ের সাথে মিলিত হয়েছে যাদের ও তোমাদের মধ্যে কোন (শান্তির) চুক্তি আছে (আপসে লেখাপড়া করে কোনো বিষয়ে ওয়াদা রয়েছে) বা (এমন মুনাফিক দেরও না বন্দী কর, আর না তাদের সাথে যুদ্ধ কর) যারা তোমাদের কাছে এভাবে আসে যে, তাদের অন্তর তোমাদের সাথে এবং স্বজাতির সাথেও যুদ্ধ করতে অনিচ্ছুক, (তারা সন্ধির কারণে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে ইচ্ছুক আর না মুসলমানদের সাথে মিলে স্বজাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে ইচ্ছুক) আল্লাহ ইচ্ছে করতেন, তাহলে তাদেরকে তোমাদের উপর প্রবল করে দিতেন, অতঃপর তারা অবশ্যই তোমাদের সাথে যুদ্ধ করত, যদি তারা তোমাদের থেকে দূরে থাকে তোমাদের সাথে যুদ্ধ না করে এবং তোমাদের সাথে সন্ধি করে (সন্ধির জন্য হাত এগিয়ে দেয়) তবে আল্লাহ তোমাদের কে তাদের বিরুদ্ধে  যুদ্ধ করার অনুমতি দেননি (কোনো কর্মের অধিকার দেয়নি)"।

سَتَجِدونَ ءاخَرينَ يُريدونَ أَن يَأمَنوكُم وَيَأمَنوا قَومَهُم كُلَّ ما رُدّوا إِلَى الفِتنَةِ أُركِسوا فيها ۚ فَإِن لَم يَعتَزِلوكُم وَيُلقوا إِلَيكُمُ السَّلَمَ وَيَكُفّوا أَيدِيَهُم فَخُذوهُم وَاقتُلوهُم حَيثُ ثَقِفتُموهُم ۚ وَأُولٰئِكُم جَعَلنا لَكُم عَلَيهِم سُلطٰنًا مُبينًا (৯১)

[91] "(শীঘ্রই মুনাফিকদের মধ্যে সব চেয়ে মন্দ) লোক আপনার সাথে দেখা করবে, তারা চায় আপনার সাথেও শান্তিতে (ইসলাম প্রকাশ করে তাদের জান, মাল ও সন্তানদের রক্ষা করতে) এবং তাদের লোকদের সাথেও শান্তিতে থাকতে চায়,

কিন্তু যখনই তাদেরকে ফিতনার দিকে ডাকা হয়, তখনই তারা তাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে, যদি এ লোকেরা আপনাকে (যুদ্ধ থেকে) দূরে না রাখে আপনাকে শান্তির প্রস্তাব না দেয় (সন্ধির জন্য হাত এগিয়ে না দেয়) এবং তাদের হাত যুদ্ধ থেকে সরিয়ে না রাখে, তাহলে তাদের পাকড়াও কর এবং যেখানেই পাবেন তাদের হত্যা কর এবং এই ধরনের লোকদের বিরুদ্ধে (হাত তোলার জন্য) আপনাকে প্রকাশ্য ক্ষমতা দিয়েছি (প্রকাশ্য অনুমতি দিয়েছি)"।

এই আয়াতে তৃতীয় "পাক্কা" নিকৃষ্ট প্রকারের মুনাফিকদের কথা বলা হয়েছে, যারা মুসলমানদের কাছে ইসলাম প্রকাশ করত যাতে মুসলমানদের পক্ষ থেকে তাদের ধন-সম্পদ, জান-মাল এবং তাদের সন্তান সন্ততি রক্ষা হয় এবং  কাফেরদের সাথেও বন্ধু রাখত এবং তাদের মূর্তি পূজাও করত, এই ধরনের মুনাফিকদের কে বন্দী  এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। (আহসানুল বয়ান)।

وَما كانَ لِمُؤمِنٍ أَن يَقتُلَ مُؤمِنًا إِلّا خَطَـًٔا ۚ وَمَن قَتَلَ مُؤمِنًا خَطَـًٔا فَتَحريرُ رَقَبَةٍ مُؤمِنَةٍ وَدِيَةٌ مُسَلَّمَةٌ إِلىٰ أَهلِهِ إِلّا أَن يَصَّدَّقوا ۚ فَإِن كانَ مِن قَومٍ عَدُوٍّ لَكُم وَهُوَ مُؤمِنٌ فَتَحريرُ رَقَبَةٍ مُؤمِنَةٍ ۖ وَإِن كانَ مِن قَومٍ بَينَكُم وَبَينَهُم ميثٰقٌ فَدِيَةٌ مُسَلَّمَةٌ إِلىٰ أَهلِهِ وَتَحريرُ رَقَبَةٍ مُؤمِنَةٍ ۖ فَمَن لَم يَجِد فَصِيامُ شَهرَينِ مُتَتابِعَينِ تَوبَةً مِنَ اللَّهِ ۗ وَكانَ اللَّهُ عَليمًا حَكيمًا (৯২)

[92] "আর কোনো মুমিন এর জন্য হালাল নয় যে একজন মুমিনকে হত্যা করবে, তবে ভুলবশত (কেউ হত্যা হয়ে যায়), এবং যে ব্যক্তি কোনো মুমিনকে ভুলবশত হত্যা করেছে,(তার কাফফারা হল) যে সে একজন মুসলিমকে (দাস বা দাসীকে) মুক্ত করে, এবং তার বাড়ির লোকজন কে দিয়াত (রক্তক্ষয়ী হত্যার বিনিময়ে 100টি উট বা সমপরিমাণ নগদ ইত্যাদি) দেয়, হ্যাঁ, যদি সেই লোকেরা মাফ করে দেয় (এটা ভিন্ন কথা), আর যদি নিহত (যাকে হত্যা করা হয়েছে) তোমার শত্রু জাতির হয় এবং মুমিন হয়, তাহলে (তার কাফফারা হলো) একজন মুসলিম (দাস বা দাসী) মুক্ত করে দাও (এবং রক্তপাত দেওয়া ওয়াজিব নয়) এবং নিহত (যাকে হত্যা করা হয়েছে) যদি এমন কোন জাতির হয় যার সাথে (তোমাদের ও তাদের মধ্যে সন্ধি) চুক্তি আছে, (আপসে লেখা পড়া করে কোনো ওয়াদা থাকে) তবে তার ওয়ারিশদের (বাড়ির লোকদের) দিয়াত (রক্তপাত এর বিনিময়) দিতে হবে এবং এক মুসলমানকে (দাস বা ক্রীতদাস) মুক্ত করতে হবে, যদি তার (দাস বা ক্রীতদাসী) মুক্ত করার ক্ষমতা না থাকে তবে তাকে দুই মাস ধারাবাহিকতার সহিত রোজা রাখতে হবে, এ (কাফফারা) টি আল্লাহর পক্ষ গুনাহ থেকে তাওবার উপায়, আল্লাহ সবকিছু জানেন, বড় হিকমত ওয়ালা "।

وَمَن يَقتُل مُؤمِنًا مُتَعَمِّدًا فَجَزاؤُهُ جَهَنَّمُ خٰلِدًا فيها وَغَضِبَ اللَّهُ عَلَيهِ وَلَعَنَهُ وَأَعَدَّ لَهُ عَذابًا عَظيمًا (৯৩)

[93] "আর যে ব্যক্তি কোন মুমিন (মুসলিম) কে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করবে, তার শাস্তি জাহান্নাম, যেখানে সে চিরকাল থাকবে এবং তার উপর আল্লাহর গজব (আল্লাহর রাগ) এবং তার লানত (অভিশাপ) এবং (আল্লাহ) তার জন্য মহা শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন"।

* মুমিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যাকারী একজন মুমিনের তাওবা গ্রহণযোগ্য কি না?:

জমহুর আলেমগণ বলেন: হত্যাকারী যদি সত্য তাওবা করে এবং ভালো কাজ করতে থাকে, তাহলে আল্লাহ তার গুনাহ মাফ করে দেবেন এবং নিহত ব্যক্তিকে ( যাকে হত্যা করা হয়েছে) ভালো পুরস্কৃত করে খুশি করবেন। (তাইসিরুর রহমান)।

يٰأَيُّهَا الَّذينَ ءامَنوا إِذا ضَرَبتُم فى سَبيلِ اللَّهِ فَتَبَيَّنوا وَلا تَقولوا لِمَن أَلقىٰ إِلَيكُمُ السَّلٰمَ لَستَ مُؤمِنًا تَبتَغونَ عَرَضَ الحَيوٰةِ الدُّنيا فَعِندَ اللَّهِ مَغانِمُ كَثيرَةٌ ۚ كَذٰلِكَ كُنتُم مِن قَبلُ فَمَنَّ اللَّهُ عَلَيكُم فَتَبَيَّنوا ۚ إِنَّ اللَّهَ كانَ بِما تَعمَلونَ خَبيرًا (৯৪)

[94] "হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা আল্লাহর পথে সফরে যাও (জিহাদের জন্য বের হও), যদি কেউ আমাদেরকে "সালাম" করে তাহলে তাকে বলো না যে তুমি মুমিন নও, বরং তার সম্পর্কে তাহক্বীক করে নাও, আর যদি তোমরা পার্থিব জীবনের মাল চাও, তাহলে আল্লাহর কাছে অনেক  "গনিমত সম্পদের" ভান্ডার রয়েছে (যুদ্ধে পাওয়া মাল), ইতিপূর্বে তোমরা তো এমনি ছিলে, আল্লাহ আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, তাই তাহক্বীক করে নিও, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের কাজ কর্মের পুরো খবর রাখেন"।

* কালিমা" كلمة " পাঠকারী ব্যক্তি কে হত্যা না করা:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধের ময়দানে একজন হত্যার ব্যাপারে রাগান্বিত হয়ে বলেন:

أَفَلاَ شَقَقْتَ عَنْ قَلْبِهِ  حَتَّى  تَعْلَمَ  أَقَالَهَا  أَمْ  لاَ

তুমি তার অন্তর ছিঁড়ে দেখেছো, যাতে তুমি জানতে পারলে যে, সে এ কথাটি ভয়ে বলেছিল? (সহীহ মুসলিম কিতাবুল ঈমান হাদিস নং ৯৬)।

 لا يَستَوِى القٰعِدونَ مِنَ المُؤمِنينَ غَيرُ أُولِى الضَّرَرِ وَالمُجٰهِدونَ فى سَبيلِ اللَّهِ بِأَموٰلِهِم وَأَنفُسِهِم ۚ فَضَّلَ اللَّهُ المُجٰهِدينَ بِأَموٰلِهِم وَأَنفُسِهِم عَلَى القٰعِدينَ دَرَجَةً ۚ وَكُلًّا وَعَدَ اللَّهُ الحُسنىٰ ۚ وَفَضَّلَ اللَّهُ المُجٰهِدينَ عَلَى القٰعِدينَ أَجرًا عَظيمًا (৯৫)

[95] " বিনা কোনো সঠিক অজুহাতে (জিহাদ ত্যাগ করে) ঘরে বসে থাকা মুসলমান এবং আল্লাহর রাস্তায় নিজেদের জান-মাল দিয়ে জিহাদ কারীগণ সমান নয়, আল্লাহ জান-মাল দিয়ে জিহাদ কারীগণ দেরকে (ঘরে) বসে থাকা মুসলমান দের প্রতি ফজিলত দিয়েছেন, এবং আল্লাহ প্রত্যেক এর সাথেই কল্যাণ (জান্নাত) এর ওয়াদা করেছেন,  এবং আল্লাহ মুজাহিদীন (আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ কারীদের) কে (ঘরে) বসে থাকাদের উপর বড় ফজিলত দিয়ে বড় সাওয়াব (প্রতিদান) দিয়েছেন "।

دَرَجٰتٍ مِنهُ وَمَغفِرَةً وَرَحمَةً ۚ وَكانَ اللَّهُ غَفورًا رَحيمًا (৯৬)

[96] "(আল্লাহর পথে জিহাদ কারীদের জন্য) আল্লাহ পক্ষ থেকে রয়েছে মহান মর্যাদা, মাগফিরাত (গুনাহের মাফী) এবং রহমত, এবং  আল্লাহ ক্ষমাশীল, বড় মেহেরবান।"

إِنَّ الَّذينَ تَوَفّىٰهُمُ المَلٰئِكَةُ ظالِمى أَنفُسِهِم قالوا فيمَ كُنتُم ۖ قالوا كُنّا مُستَضعَفينَ فِى الأَرضِ ۚ قالوا أَلَم تَكُن أَرضُ اللَّهِ وٰسِعَةً فَتُهاجِروا فيها ۚ فَأُولٰئِكَ مَأوىٰهُم جَهَنَّمُ ۖ وَساءَت مَصيرًا (৯৭)

[97] "নিশ্চয়ই যেসব লোকেরা (মক্কা ও তার আশেপাশের জনপদ ছেড়ে মদীনায় হিজরত করেননি, শত্রুর অত্যাচার সহ্য করেন,  তারা) নিজেদের আত্মার ওপর জুলুম করেছিল, ফেরেশতা বর্গ তাদের রূপ বের করার সময় জিজ্ঞেস করেছিল: তোমরা এখানে কেন রয়েছ?   তখন তারা বলবে: আমরা এ ভূখন্ডে দুর্বল (অসহায়) ছিলাম?  সুতরাং ফেরেশতা বর্গ বলেন: আল্লাহর জমিন কি প্রশস্ত নয়, তোমরা হিজরত করতে? (আল্লাহর এবাদত স্বাধীন ভাবে করতে),   এ ধরনের লোকদের বাসস্থান হল জাহান্নাম, এবং এটা খুবই খারাপ জায়গা"।

 إِلَّا المُستَضعَفينَ مِنَ الرِّجالِ وَالنِّساءِ وَالوِلدٰنِ لا يَستَطيعونَ حيلَةً وَلا يَهتَدونَ سَبيلًا (৯৮)

[98] "কিন্তু যারা দুর্বল পুরুষ, নারী ও শিশু, যারা (হিজরতের) কোনো উপায় বের করতে পারে না (এবং অন্য কোন উপায়ও বের করতে পারে না) এবং না তাদের (এ স্থান থেকে বের হওয়ার) কোনো সহজ রাস্তা জানা আছে"।

فَأُولٰئِكَ عَسَى اللَّهُ أَن يَعفُوَ عَنهُم ۚ وَكانَ اللَّهُ عَفُوًّا غَفورًا (৯৯)

[99] "তাই পূর্ণ আশা আছে যে, আল্লাহ তাদের (এমন দুর্বল লোকদের) ক্ষমা করবেন এবং আল্লাহ বড় মাফ কারী, বড় ক্ষমাশীল"।

 وَمَن يُهاجِر فى سَبيلِ اللَّهِ يَجِد فِى الأَرضِ مُرٰغَمًا كَثيرًا وَسَعَةً ۚ وَمَن يَخرُج مِن بَيتِهِ مُهاجِرًا إِلَى اللَّهِ وَرَسولِهِ ثُمَّ يُدرِكهُ المَوتُ فَقَد وَقَعَ أَجرُهُ عَلَى اللَّهِ ۗ وَكانَ اللَّهُ غَفورًا رَحيمًا (১০০)

[100] "আর যে কেউ আল্লাহর রাস্তায় হিজরত করবে, সে জমিনে অনেক আশ্রয়ের (থাকার) জন্য বহু জায়গা ও উন্মুক্ত স্থান পাবে, আর যে কেউ আল্লাহ এবং তার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দিকে তার গৃহ থেকে হিজরতে বের হয়, অতঃপর (রাস্তায়) মৃত্যুবরণ করে, তাহলে আল্লাহর কাছে তার সাওয়াব (প্রতিদান) অবধারিত হয়ে যায় এবং আল্লাহ বড় ক্ষমাশীল, বড় রহমকারী"।

وَإِذا ضَرَبتُم فِى الأَرضِ فَلَيسَ عَلَيكُم جُناحٌ أَن تَقصُروا مِنَ الصَّلوٰةِ إِن خِفتُم أَن يَفتِنَكُمُ الَّذينَ كَفَروا ۚ إِنَّ الكٰفِرينَ كانوا لَكُم عَدُوًّا مُبينًا (১০১)

[101] "আর যখন তোমরা সফর কর, তখন তোমাদের উপর নামাজ কসর (চার রাকাতের জায়গায় দুই রাকাত পড়াতে) কোন গুনা নেই, যদি তোমরা ভয় করো যে কাফেররা তোমাদেরকে নির্যাতিত করবে (তোমাদের প্রতি আক্রমণ করবে), নিশ্চয়ই কাফের (হক অস্বীকার কারীরা) তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু"।

* ভয়ের অবস্থায় কসর করা (চার রাকাতের নামাজ দু রাকাত পড়া)  সেযুগের মুসলমানদের অবস্থা বর্ণনা করার জন্য বলা হয়েছে, অন্যথায় প্রতিটি সফরে কসর করা জায়েজ,  ভয় হোক বা না হোক। (আহসানুল বায়ান)।

وَإِذا كُنتَ فيهِم فَأَقَمتَ لَهُمُ الصَّلوٰةَ فَلتَقُم طائِفَةٌ مِنهُم مَعَكَ وَليَأخُذوا أَسلِحَتَهُم فَإِذا سَجَدوا فَليَكونوا مِن وَرائِكُم وَلتَأتِ طائِفَةٌ أُخرىٰ لَم يُصَلّوا فَليُصَلّوا مَعَكَ وَليَأخُذوا حِذرَهُم وَأَسلِحَتَهُم ۗ وَدَّ الَّذينَ كَفَروا لَو تَغفُلونَ عَن أَسلِحَتِكُم وَأَمتِعَتِكُم فَيَميلونَ عَلَيكُم مَيلَةً وٰحِدَةً ۚ وَلا جُناحَ عَلَيكُم إِن كانَ بِكُم أَذًى مِن مَطَرٍ أَو كُنتُم مَرضىٰ أَن تَضَعوا أَسلِحَتَكُم ۖ وَخُذوا حِذرَكُم ۗ إِنَّ اللَّهَ أَعَدَّ لِلكٰفِرينَ عَذابًا مُهينًا (১০২)

[102] "আর (হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি যখন তাদের (মুসলিমদের) সাথে থাকবেন এবং (যুদ্ধ অবস্থায়) তাদের নামাযের ইমামতি করার জন্য দাঁড়াবেন, তখন (এই সালাতুল খাউফ ভয় অবস্থায় নামাজ এর পদ্ধতি হচ্ছে) যে, মুসলমানদের একটি দল আপনার সাথে দাঁড়াবে এবং তাদের অস্ত্র নিয়ে থাকবে, অতঃপর যখন তারা (দল) সেজদা করে নিবে, তখন তাঁরা পিছনে চলে যাবে এবং অন্য দল যেটি এখনো নামাজ পড়েনি এগিয়ে আসবে, এবং আপনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সাথে নামাজ আদায় করবে, এবং তাঁদের সাথে তাঁদের হেফাজতের সরঞ্জাম এবং তাঁদের অস্ত্র থাকবে, (কারণ) কাফেররা চায় যে তোমরা  তোমাদের অস্ত্র এবং আপনার সরঞ্জাম সম্পর্কে গাফিল হও যাতে তারা একবারে তোমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, আর যদি তোমাদের বৃষ্টির কারণে কষ্ট হয় অথবা তোমারা অসুস্থ হও তাহলে তোমাদের উপর কোন গুনা নেই যে তোমরা তোমাদের অস্ত্র (নামিয়ে) রেখে দাও, (হ্যাঁ) নিজেদের হেফাজতের সমান সাথে নিয়ে থাক, নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফেরদের জন্য অপমানজনক আযাব প্রস্তুত করে রেখেছেন"।

* নামাযের গুরুত্ব এতটা যে, যুদ্ধের ময়দানেও নামায মাফ নয়:

 

[103] فَإِذا قَضَيتُمُ الصَّلوٰةَ فَاذكُرُوا اللَّهَ قِيٰمًا وَقُعودًا وَعَلىٰ جُنوبِكُم ۚ فَإِذَا اطمَأنَنتُم فَأَقيمُوا الصَّلوٰةَ ۚ إِنَّ الصَّلوٰةَ كانَت عَلَى المُؤمِنينَ كِتٰبًا مَوقوتًا

[103] "অতঃপর যখন তোমরা নামায শেষ কর তখন উঠে বসবে এবং (সর্বাবস্থায়) আল্লাহকে স্মরণ করতে থাক, অতঃপর যখন তোমরা (শত্রু থেকে) নিরাপদ হবে (যুদ্ধ শেষ হবে), তখন (আগের মতই) নামায কায়েম কর , নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের প্রতি সময়ের উপর ফরজ"।

* আল্লাহর নিকট সবচেয়ে উত্তম আমল সময় মত নামাজ আদায় করা:

 

عن  عَبْدِ  اللَّهِ  قَالَ  سَأَلْتُ  النَّبِيَّ  صلى  الله  عليه  وسلم  أَىُّ  الْعَمَلِ  أَحَبُّ  إِلَى  اللَّهِ  قَالَ  ‏"‏ الصَّلاَةُ عَلَى وَقْتِهَا  ‏"‏‏.‏  قَالَ  ثُمَّ  أَىُّ  قَالَ  ‏"‏  ثُمَّ  بِرُّ  الْوَالِدَيْنِ  ‏"‏‏.‏  قَالَ  ثُمَّ  أَىُّ  قَالَ  ‏"‏  الْجِهَادُ  فِي  سَبِيلِ  اللَّهِ  ‏"‏‏.‏  قَالَ  حَدَّثَنِي  بِهِنَّ  وَلَوِ  اسْتَزَدْتُهُ  لَزَادَنِي‏.‏

আবদুল্লাহ্‌ ইবনু মাস’উদ রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলাম, কোন আমল আল্লাহ্‌র নিকট অধিক প্রিয় (পছন্দনীয়)? তিনি বললেন:  ‘যথা সময়ে সালাত আদায় করা, অতঃপর  জিজ্ঞেস করলেন: তারপর কোনটি? বললেন: পিতা মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করা, আবার জিজ্ঞেস করলেন তারপর কি? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা,

 ইবনু মাস’উদ রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সামনে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করলেন, যদি আমি আরো জিজ্ঞেস করতাম, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো অধিক বলতেন (কিন্তু আমি আদবের উদ্দেশ্যে চুপ রইলাম। (সহিহ বুখারী কিতাব মাওয়াকিতুস সালাত হাদিস নং 527)

وَلا تَهِنوا فِى ابتِغاءِ القَومِ ۖ إِن تَكونوا تَألَمونَ فَإِنَّهُم يَألَمونَ كَما تَألَمونَ ۖ وَتَرجونَ مِنَ اللَّهِ ما لا يَرجونَ ۗ وَكانَ اللَّهُ عَليمًا حَكيمًا (১০৪)

[104] "আর তোমরা শত্রুদের তাড়া করতে অলসতা (দুর্বলতা) দেখাবেন না, যদি তোমাদের আঘাত পৌঁছে তবে তারাও আঘাত পাবে, যেমন তোমরা আহত হও এবং তোমরা আল্লাহর কাছে  সাওয়াব (প্রতিদান) এর আশা কর, যা তারা (কাফেররা) আশা করে না এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ, বড় হিকমত ওয়ালা"।

إِنّا أَنزَلنا إِلَيكَ الكِتٰبَ بِالحَقِّ لِتَحكُمَ بَينَ النّاسِ بِما أَرىٰكَ اللَّهُ ۚ وَلا تَكُن لِلخائِنينَ خَصيمًا (১০৫)

[105] "(হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!) নিশ্চয়ই আমি  কিতাব (কুরআন) সত্য সহ আপনার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে আপনি (কুরআনের অনুসারে) মানুষের মধ্যে বিচার করতে পারেন, যা আল্লাহ আপনাকে বুঝিয়ে দিয়েছেন, এবং আপনি আমানতের খেয়ানত কারীদের পক্ষে হবেন না (খেয়ানত কারীদের পক্ষে  বিতর্ককারী হবেন না)"।

 * আয়াত নং 105 থেকে 113 পর্যন্ত আয়াতের শানে নযুল:

এই আয়াতের শানে নযুল সম্পর্কে একটি দুর্বল রেওয়ায়েত বর্নিত আছে যে, আনসার গোত্রের শাখ বনী যুফর এর একজন ব্যক্তি " طعمة " তুআমা অথবা "بشير بن ابيرق "  বাশির বিন উবাইরিক এক আনসারী ব্যক্তির বর্ম চুরি করেছিল, অতঃপর যখন সে বুঝতে পারলো যে তার চুরি প্রকাশ পেয়ে যাবে, তখন সে ঐ বর্মটি এক ইহুদীর বাড়িতে ছুঁড়ে ফেলে, এবং সে বাগ্মীতা দ্বারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলল যে চুরি ইহুদী করেছে, তার কথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে চুরির অভিযোগ থেকে খালাস দিয়ে ইহুদীকে চোর প্রমাণ করে দিতেন এমতাবস্থায় আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করেন। (আহসানুল বয়ান)।

وَاستَغفِرِ اللَّهَ ۖ إِنَّ اللَّهَ كانَ غَفورًا رَحيمًا (১০৬)

[106] "এবং (হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!) আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু"।

وَلا تُجٰدِل عَنِ الَّذينَ يَختانونَ أَنفُسَهُم ۚ إِنَّ اللَّهَ لا يُحِبُّ مَن كانَ خَوّانًا أَثيمًا (১০৭)

[107] "আর আপনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের কোন বিবাদে পক্ষ নিবেন না,

যারা স্বয়ং নিজেদের সাথে খেয়ানত করে, নিশ্চয়ই আল্লাহ (আমানতের মধ্যে) খেয়ানত কারী পাপীদের পছন্দ করেন না ( নিশ্চয়ই আল্লাহ আমানতে খেয়ানত কারী গুনাহগার দের সাথে মহব্বত করেন না)"।

يَستَخفونَ مِنَ النّاسِ وَلا يَستَخفونَ مِنَ اللَّهِ وَهُوَ مَعَهُم إِذ يُبَيِّتونَ ما لا يَرضىٰ مِنَ القَولِ ۚ وَكانَ اللَّهُ بِما يَعمَلونَ مُحيطًا (১০৮)

[108] "এরা (মন্দ কাজকারীরা তাদের মন্দ কাজগুলি) মানুষের কাছ থেকে গোপনে রাখে এবং আল্লাহ থেকে লুকায় না (এ মন্দ কাজকারীরা লোকেদের থেকে লজ্জা করে এবং আল্লাহ থেকে লজ্জা করে না), অথচ (আল্লাহ সেই সময়েও) তাদের সাথে থাকে, যখন তারা রাতে গোপনে এমন বিষয়ে কথাবার্তা (গোপন পরামর্শ) করে যা আল্লাহ কে পছন্দ নয় এবং আল্লাহ তাদের দোষারোপ করেন না, এবং আল্লাহ তাদের কাজকর্ম চারদিক থেকে ঘিরে রেখেছেন (আল্লাহ তাদের কাজ কর্মকে খুব ভালোভাবে জানেন "।

 

*এই আয়াতে " অথচ আল্লাহ তখনও এই লোকদের সাথে আছেন"  এর অর্থ:

আল্লাহ আরশের উপরে সমাসীন, পৃথিবীতে তার ইলম এবং ক্ষমতার বাইরে কোনো বস্তু নেই,

আল্লামা ইবনে তাইমিয়া রাহমাহুল্লাহ তাঁর কিতাব (শরহ হাদীস আল-নুজুল) গ্রন্থে লিখেছেন: (সাথে) আছেন এর অর্থ : আল্লাহ তাঁর ইলম (এবং ক্ষমতা) দ্বারা বান্দাদের সাথে আছেন "।

* কেউ দেখুক বা না দেখুক আল্লাহ দেখছেন:

 هٰأَنتُم هٰؤُلاءِ جٰدَلتُم عَنهُم فِى الحَيوٰةِ الدُّنيا فَمَن يُجٰدِلُ اللَّهَ عَنهُم يَومَ القِيٰمَةِ أَم مَن يَكونُ عَلَيهِم وَكيلًا (১০৯)

[109] "শোন!  তোমরাই এমন লোক যারা তাদের (অপরাধ কারী এবং আমানতের মধ্যে খেয়ানতকারীদের) পক্ষ নিয়ে দুনিয়ার জীবনে ঝগড়া করেছ, কিন্তু কেয়ামতের দিন আল্লাহর সাথে তাদের জন্য কে ঝগড়া করবে? অথবা তাদের উকিল হবেন কে?

 وَمَن يَعمَل سوءًا أَو يَظلِم نَفسَهُ ثُمَّ يَستَغفِرِ اللَّهَ يَجِدِ اللَّهَ غَفورًا رَحيمًا (১১০)

[110] "আর যে কেউ গুনাহ করে বা নিজের উপর জুলুম করে, তারপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়, সে আল্লাহকে বড় ক্ষমাশীল, বড় রহমকারী পাবে।"

وَمَن يَكسِب إِثمًا فَإِنَّما يَكسِبُهُ عَلىٰ نَفسِهِ ۚ وَكانَ اللَّهُ عَليمًا حَكيمًا(১১১)

[111] "আর যে কেউ গুনাহ করে, তবে নিশ্চয়ই তার (গুনাহের) বোঝা তার উপরই বর্তায় এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়"।

وَمَن يَكسِب خَطيـَٔةً أَو إِثمًا ثُمَّ يَرمِ بِهِ بَريـًٔا فَقَدِ احتَمَلَ بُهتٰنًا وَإِثمًا مُبينًا(১১২)

[112] যে কেউ ভুল কিংবা গুনাহ করে, অতঃপর তার অপবাদ কোন বেগুনাহ ব্যক্তির উপর আরোপ করে সে নিজের উপর বড় অপবাদ (মিথ্যা) এবং প্রকাশ্য গুনাহ বহন করে"।

وَلَولا فَضلُ اللَّهِ عَلَيكَ وَرَحمَتُهُ لَهَمَّت طائِفَةٌ مِنهُم أَن يُضِلّوكَ وَما يُضِلّونَ إِلّا أَنفُسَهُم ۖ وَما يَضُرّونَكَ مِن شَيءٍ ۚ وَأَنزَلَ اللَّهُ عَلَيكَ الكِتٰبَ وَالحِكمَةَ وَعَلَّمَكَ ما لَم تَكُن تَعلَمُ ۚ وَكانَ فَضلُ اللَّهِ عَلَيكَ عَظيمًا (১১৩)

[113] "আর (হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!) যদি আপনার প্রতি আল্লাহর ফজল না হত এবং ও রহমত না হত, তাহলে তাদের মধ্যে (চোর এবং আমানতের মধ্যে খেয়ানত কারী) একটি দল আপনাকে সরল পথ থেকে বিচ্যুত করতে চেয়েছিল, এবং (বাস্তবে) তারা কেবল নিজেদেরই পথভ্রষ্ট করছে, এবং আপনাকে বিন্দুমাত্র ক্ষতি পৌঁছাতে পারবে না, এবং আল্লাহ আপনার উপর কিতাব ও হিকমত নাযিল করেছেন এবং আপনাকে সে সব শিখিয়েছেন যা আপনি জানতেন না এবং আল্লাহর অনুগ্রহ আপনার উপর  অনেক রয়েছে"।

 لا خَيرَ فى كَثيرٍ مِن نَجوىٰهُم إِلّا مَن أَمَرَ بِصَدَقَةٍ أَو مَعروفٍ أَو إِصلٰحٍ بَينَ النّاسِ ۚ وَمَن يَفعَل ذٰلِكَ ابتِغاءَ مَرضاتِ اللَّهِ فَسَوفَ نُؤتيهِ أَجرًا عَظيمًا(১১৪)

[114] "মানুষের অধিকাংশ কানাফুসীতে (আপসে ধীরে ধীরে পরামর্শ করা) কোনো কল্যাণ নেই, হ্যাঁ!  কল্যাণ সেই ব্যক্তির ফিসফাস (গোপন পরামর্শের) মধ্যে রয়েছে, যে লোকদের মধ্যে দান বা কল্যাণ বা মানুষের মধ্যে ইসলাহ (সংস্কার) এর নির্দেশ দেয় এবং যে আল্লাহর সন্তুষ্টির (খুশির জন্য) তা করে, তাহলে আমি তাকে খুব বড় প্রতিদান (জান্নাত) দেব"।

 وَمَن يُشاقِقِ الرَّسولَ مِن بَعدِ ما تَبَيَّنَ لَهُ الهُدىٰ وَيَتَّبِع غَيرَ سَبيلِ المُؤمِنينَ نُوَلِّهِ ما تَوَلّىٰ وَنُصلِهِ جَهَنَّمَ ۖ وَساءَت مَصيرًا (১১৫)

[115] "আর যে কেউ সরল পথ সুস্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পরও রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর বিরোধিতা করে (কথা মান্য করে না) এবং মুমিনদের পথ ছেড়ে (ইসলাম ত্যাগ করে) অন্যের পথ অনুসরণ করবে, অতঃপর সে যেদিকে যেতে চাইবে, আমি সেদিকেই ফিরিয়ে দেব এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব এবং সেটা খুবই জঘন্যতম আবাস"।

إِنَّ اللَّهَ لا يَغفِرُ أَن يُشرَكَ بِهِ وَيَغفِرُ ما دونَ ذٰلِكَ لِمَن يَشاءُ ۚ وَمَن يُشرِك بِاللَّهِ فَقَد ضَلَّ ضَلٰلًا بَعيدًا (১১৬)

[116] "নিশ্চয়ই আল্লাহ শিরক (তাওবা ছাড়া কখনোই) ক্ষমা করেন না এবং শিরকের চেয়েও নিম্নস্তরের গুনাহ যার জন্য চান মাফ করে দেন, এবং যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরিক করল (কাউকে আল্লাহর শরিক, অংশীদার বানাল) নিশ্চয়ই সে পথভ্রষ্টতায় অনেক দূর চলে গেছে (গুমরাহীতে সে বাড়তেই থাকে)"।

إِن يَدعونَ مِن دونِهِ إِلّا إِنٰثًا وَإِن يَدعونَ إِلّا شَيطٰنًا مَريدًا (১১৭)

[117] "এ (মুশরিকরা) আল্লাহ ব্যতীত শুধু " নারীদের" কে ডাকে এবং আসলে এরা শয়তান মারদুদ (বিদ্রোহী শয়তান) কেই ডাকে"।

* ইনাসা " إناثا " (নারীদের) এর অর্থ:

 এমন মূর্তি যাদের (Female ) নাম ছিল যেমন: লাত, উযযা, মানাত এবং নায়েলা ইত্যাদি।  অথবা এর অর্থ: ফেরেশতাগণ কারণ আরবের মুশরিকরা ফেরেশতাদেরকে আল্লাহর কন্যা মনে করত এবং তাদের পূজা করত। (আহসানুল বায়ান)।

 

لعَنَهُ اللَّهُ ۘ وَقالَ لَأَتَّخِذَنَّ مِن عِبادِكَ نَصيبًا مَفروضًا(১১৮)

[118] "যে (শয়তানের) উপর আল্লাহর লানত (অভিশাপ) হয়েছে, সে (শয়তান) (আল্লাহকে) বলেছিল: "নিশ্চয়ই আমি তোমার বান্দাদের (ইবাদত থেকে) আমার নির্ধারিত অংশ বের করে নেব (অতএব তারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ইবাদত করবে, বা ইবাদত লোক দেখানোর জন্য করবে বা ইবাদতের পরে কুফর করবে"।

وَلَأُضِلَّنَّهُم وَلَأُمَنِّيَنَّهُم وَلَءامُرَنَّهُم فَلَيُبَتِّكُنَّ ءاذانَ الأَنعٰمِ وَلَءامُرَنَّهُم فَلَيُغَيِّرُنَّ خَلقَ اللَّهِ ۚ وَمَن يَتَّخِذِ الشَّيطٰنَ وَلِيًّا مِن دونِ اللَّهِ فَقَد خَسِرَ خُسرانًا مُبينًا (১১৯)

[119] "এবং নিশ্চয়ই আমি সেই লোকদের পথভ্রষ্ট করব এবং অবশ্যই আমি তাদের অনেক আশা দেব (বড় আশার মাধ্যমে বিভ্রান্ত করব), এবং আমি অবশ্যই তাদের আদেশ দেব যাতে তারা পশুদের কান ছিঁড়ে ফেলবে (বা হালাল পশুকে হারাম করবে) এবং আমি অবশ্যই তাদের আদেশ করব, তখন তারা আল্লাহর সৃষ্টি কে পরিবর্তন করবে  এবং যে ব্যক্তি আল্লাহ কে ছাড়া শয়তানকে বন্ধু বানাবে, সে প্রকাশ্য লোকসান (ক্ষতির) ব্যবসা করল"।

*আল্লাহর তাখলিক (আল্লাহর সৃষ্টি) পরিবর্তন করার অর্থ কি?:

এর অর্থ হল পশুদের কান কেটে ফেলা, সূর্য ও চন্দ্রের ইবাদত করা ইত্যাদি, অথচ আল্লাহ এই জিনিসগুলোকে অন্য উদ্দেশ্যে জন্য সৃষ্টি করেছেন, হালাল কে হারাম এবং হারামকে হালাল করা। (আহসানুল বায়ান)।

 يَعِدُهُم وَيُمَنّيهِم ۖ وَما يَعِدُهُمُ الشَّيطٰنُ إِلّا غُرورًا (১২০)

[120] "শয়তান মানুষকে ওয়াদা দেয়, এবং মানুষকে বড় "আশা" দেয় (বড় আশার মাধ্যমে তাদেরকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করে), এবং শয়তান মানুষকে কেবল মিথ্যা ওয়াদা দেয় (শয়তানের সমস্ত ওয়াদা কেবলমাত্র ধোঁকা আর ধোঁকা)"।

أُولٰئِكَ مَأوىٰهُم جَهَنَّمُ وَلا يَجِدونَ عَنها مَحيصًا (১২১)

[121] "( শয়তানের কথা অন্য কারী) এধরনের লোকদের ঠিকানা হল জাহান্নাম এবং তারা জাহান্নাম থেকে পালানোর কোনো জায়গা পাবে না (তাদেরকে কখনোই জাহান্নাম থেকে রেহাই দেওয়া হবে না)"।

وَالَّذينَ ءامَنوا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ سَنُدخِلُهُم جَنّٰتٍ تَجرى مِن تَحتِهَا الأَنهٰرُ خٰلِدينَ فيها أَبَدًا ۖ وَعدَ اللَّهِ حَقًّا ۚ وَمَن أَصدَقُ مِنَ اللَّهِ قيلًا (১২২)

[122] "আর যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করতে থাকে, আমি তাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাব, যার তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত, তারা সেখানে চিরকাল থাকবে, এটাই আল্লাহর সত্য ওয়াদা এবং আল্লাহর চেয়ে কথায় সত্যবাদী আর কে হতে পারে? (কেউ নয়)।

لَيسَ بِأَمانِيِّكُم وَلا أَمانِىِّ أَهلِ الكِتٰبِ ۗ مَن يَعمَل سوءًا يُجزَ بِهِ وَلا يَجِد لَهُ مِن دونِ اللَّهِ وَلِيًّا وَلا نَصيرًا (১২৩)

[123] "হে লোকসকল! আনজাতের দারো মাদার) তোমাদের ইচ্ছার উপর নয়, আর নাহি আহলে কিতাবদের (ইহুদী ও নাসারাদের) ইচ্ছার উপরও , (হে লোকসকল! তোমাদের শুধু ইচ্ছা ও আহলে কিতাবদের ইচ্ছা জান্নাতে প্রবেশের জন্য যথেষ্ট নয়), যে কেউ মন্দ কাজ করবে সে তার শাস্তি পাবে এবং সে আল্লাহ ছাড়া কাউকে তার বন্ধু ও সাহায্যকারী পাবে না"।

 وَمَن يَعمَل مِنَ الصّٰلِحٰتِ مِن ذَكَرٍ أَو أُنثىٰ وَهُوَ مُؤمِنٌ فَأُولٰئِكَ يَدخُلونَ الجَنَّةَ وَلا يُظلَمونَ نَقيرًا (১২৪)

[124] "আর যে কেউ নেক কাজ করবে, সে পুরুষ হোক বা নারী হোক, শর্ত হল সে মুমিন, তাহলে এমন লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাঁদের উপর খেজুরের বীজের ছিদ্র সমানও (কণ পরিমাণও) জুলুম করা হবে না"।

وَمَن أَحسَنُ دينًا مِمَّن أَسلَمَ وَجهَهُ لِلَّهِ وَهُوَ مُحسِنٌ وَاتَّبَعَ مِلَّةَ إِبرٰهيمَ حَنيفًا ۗ وَاتَّخَذَ اللَّهُ إِبرٰهيمَ خَليلًا (১২৫)

[125] "তার চেয়ে বেশি দ্বীনদার কে হবে? যে ব্যক্তি তার কপাল আল্লাহর সামনে নত করে, এবং তার আমলও ভাল, এবং সে খাঁটি, সত্য তৌহিদবাদী ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) এর দ্বীন অনুসরণ করে, এবং আল্লাহ ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)কে বন্ধু বানিয়েছেন"।

وَلِلَّهِ ما فِى السَّمٰوٰتِ وَما فِى الأَرضِ ۚ وَكانَ اللَّهُ بِكُلِّ شَيءٍ مُحيطًا (১২৬)

[126] " আর আকাশ সমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর এবং আল্লাহ সবকিছুকে ঘিরে আছেন"।

وَيَستَفتونَكَ فِى النِّساءِ ۖ قُلِ اللَّهُ يُفتيكُم فيهِنَّ وَما يُتلىٰ عَلَيكُم فِى الكِتٰبِ فى يَتٰمَى النِّساءِ الّٰتى لا تُؤتونَهُنَّ ما كُتِبَ لَهُنَّ وَتَرغَبونَ أَن تَنكِحوهُنَّ وَالمُستَضعَفينَ مِنَ الوِلدٰنِ وَأَن تَقوموا لِليَتٰمىٰ بِالقِسطِ ۚ وَما تَفعَلوا مِن خَيرٍ فَإِنَّ اللَّهَ كانَ بِهِ عَليمًا (১২৭)

[127] "(হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!) লোকেরা আপনার কাছে মহিলাদের (এতিম মেয়েদের) সম্পর্কে ফতোয়া জিজ্ঞেস করেন, আপনি বলুন: এ মহিলাদের (এতিম মেয়েদের) সম্পর্কে আল্লাহ নিজেই ফতোয়া (আদেশ) দিচ্ছেন এবং এ সম্পর্কে ও আয়াত সমূহও ফতোয়া দেয় যেগুলো মহিলাদের (এতিম মেয়েদের) সম্পর্কে কুরআনে পূর্বে তোমাদের কে শুনানো হয়েছে, সেই সব নারীদের (এতিম মেয়েদের) কে নির্ধারিত অধিকার (উত্তরাধিকার ইত্যাদি) তোমরা প্রদান করোনা এবং শুধু তাদের (শুধু সৌন্দর্যের কারণে) বিয়ে করতে চাও (এবং বিয়ে করে সম্পদ পেতে চাও), এবং দুর্বল ছেলেদের ব্যাপারেও (তোমাদের আদেশ করা হচ্ছে যে তাদের অংশ দিয়ে দাও) এবং এটাও আদেশ করা হচ্ছে যে এতিমদের সাথে ইনসাফ কর এবং তোমরা যা কিছু নেকি করবে তা আল্লাহ খুব ভালোভাবে জানেন"।

وَإِنِ امرَأَةٌ خافَت مِن بَعلِها نُشوزًا أَو إِعراضًا فَلا جُناحَ عَلَيهِما أَن يُصلِحا بَينَهُما صُلحًا ۚ وَالصُّلحُ خَيرٌ ۗ وَأُحضِرَتِ الأَنفُسُ الشُّحَّ ۚ وَإِن تُحسِنوا وَتَتَّقوا فَإِنَّ اللَّهَ كانَ بِما تَعمَلونَ خَبيرًا (১২৮)

[128] "আর যদি কোনো নারী তার স্বামীর কাছ থেকে ঘৃণা বা আনুগত্যের আশঙ্কা করে, তাহলে তাদের উভয়ের (স্বামী ও স্ত্রী) আপসে রাজি খুশি  (কিছু অধিকার কম বেশি করে) মিমাংসা করে নেওয়াতে কোনো দোষ নেই এবং মিমাংসা (বিচ্ছেদের চেয়ে) উত্তম, আর মানুষের অন্তরে (কিছু না কিছু) লোভ বসিয়ে দেওয়া হয়েছে, আর যদি তোমরা নেকি কর এবং আল্লাহকে ভয় কর, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের সব কাজ কর্মের পূর্ণ খবর রাখেন "।

 وَلَن تَستَطيعوا أَن تَعدِلوا بَينَ النِّساءِ وَلَو حَرَصتُم ۖ فَلا تَميلوا كُلَّ المَيلِ فَتَذَروها كَالمُعَلَّقَةِ ۚ وَإِن تُصلِحوا وَتَتَّقوا فَإِنَّ اللَّهَ كانَ غَفورًا رَحيمًا (১২৯)

[129] "তোমরা (যত চাও) তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে সম্পূর্ণ ন্যায়বিচার (সম্পূর্ণ সমতা) করতে পারবেন না (তোমাদের চাওয়া সত্ত্বেও স্ত্রীদের মাঝে তোমরা ইনসাফ করতে সক্ষম হবে না), তাই তোমরা (কোন এক স্ত্রীর দিকে) পূর্ণ না ঝুকে পড়ো, অন্যকে একেবারে মধ্যস্থলে লটকিয়ে রেখে দাও, এবং যদি তোমরা নিজেদের ইসলাহ (সংস্কার) করে নাও আল্লাহকে ভয় করতে থাক, তাহলে নিশ্চয়ই আল্লাহ বড় ক্ষমাশীল এবং বড় রহমকারী "।

 وَإِن يَتَفَرَّقا يُغنِ اللَّهُ كُلًّا مِن سَعَتِهِ ۚ وَكانَ اللَّهُ وٰسِعًا حَكيمًا (১৩০)

[130]"আর যদি দুজন (স্বামী-স্ত্রী) আলাদা হয়ে যায়, তাহলে আল্লাহ তাদের প্রত্যেককে স্বীয় পক্ষ থেকে উন্মুক্ততা (ফজল) দিয়ে একে অপরের থেকে স্বাধীন করে দেবেন,(তাদের উভয়ের জন্য ভালো সম্পর্কের ব্যবস্থা করে দিবেন, আল্লাহ বড় প্রশস্তশীল (বড় দাতা) , বড় হিকমত ওয়ালা "।

وَلِلَّهِ ما فِى السَّمٰوٰتِ وَما فِى الأَرضِ ۗ وَلَقَد وَصَّينَا الَّذينَ أوتُوا الكِتٰبَ مِن قَبلِكُم وَإِيّاكُم أَنِ اتَّقُوا اللَّهَ ۚ وَإِن تَكفُروا فَإِنَّ لِلَّهِ ما فِى السَّمٰوٰتِ وَما فِى الأَرضِ ۚ وَكانَ اللَّهُ غَنِيًّا حَميدًا (১৩১)

[131] "আর আকাশ সমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর এবং আমি যাদেরকে তোমাদের পূর্বে  কিতাব দিয়েছি এবং তাদেরকেও অসিয়ত দিয়েছি যে আল্লাহকে ভয় করতে থাক, আর যদি তোমরা কুফর কর (সত্যকে অস্বীকার কর), তাহলে আল্লাহর ক্ষতি কি? তাই আকাশ সমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর  এবং আল্লাহ সকলের থেকে স্বাধীন (তিনি কারও অপ্রয়োজনীয় নন, সকলেই তাঁর প্রয়োজন) এবং সকল প্রশংসার যোগ্য (বড় গুণাবলী ওয়ালা)"।

 

 وَلِلَّهِ ما فِى السَّمٰوٰتِ وَما فِى الأَرضِ ۚ وَكَفىٰ بِاللَّهِ وَكيلًا (১৩২)

[132] "আর আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর এবং কাম বানানোর জন্য একমাত্র আল্লাহই যথেষ্ট"।

 إِن يَشَأ يُذهِبكُم أَيُّهَا النّاسُ وَيَأتِ بِـٔاخَرينَ ۚ وَكانَ اللَّهُ عَلىٰ ذٰلِكَ قَديرًا (১৩৩)

[133] "হে লোকসকল ! আল্লাহ যদি ইচ্ছা করেন তোমাদের সবাইকে ধ্বংস করে দেবেন এবং  (তোমাদের জায়গায়) অন্যদের নিয়ে আসবেন এবং আল্লাহ তা করতে সম্পূর্ণ সক্ষম"।

مَن كانَ يُريدُ ثَوابَ الدُّنيا فَعِندَ اللَّهِ ثَوابُ الدُّنيا وَالءاخِرَةِ ۚ وَكانَ اللَّهُ سَميعًا بَصيرًا (১৩৪)

[134] "যে ব্যক্তি (শুধু ) দুনিয়াতে উত্তম প্রতিদান চায়, সে (যেন জেনে নেয় যে) আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখেরাত উভয়ে উত্তম প্রতিদান রয়েছে এবং আল্লাহ সবকিছু শুনেন এবং সব কিছু দেখেন"।

 يٰأَيُّهَا الَّذينَ ءامَنوا كونوا قَوّٰمينَ بِالقِسطِ شُهَداءَ لِلَّهِ وَلَو عَلىٰ أَنفُسِكُم أَوِ الوٰلِدَينِ وَالأَقرَبينَ ۚ إِن يَكُن غَنِيًّا أَو فَقيرًا فَاللَّهُ أَولىٰ بِهِما ۖ فَلا تَتَّبِعُوا الهَوىٰ أَن تَعدِلوا ۚ وَإِن تَلوۥا أَو تُعرِضوا فَإِنَّ اللَّهَ كانَ بِما تَعمَلونَ خَبيرًا (১৩৫)

[135] ""হে ঈমানদারগণ! ন্যায়বিচারের উপর অবিচল থাক, আল্লাহর জন্য সাক্ষ্য দাও, তা (সাক্ষ্য) নিজের বিরুদ্ধেই হোক, বা পিতামাতা ও আত্মীয়-স্বজনের বিরুদ্ধেই হোক, এবং (যার বিরুদ্ধে  সাক্ষ্য দিতে আদেশ করা হচ্ছে) সে ধনী হোক বা দরিদ্র (ধনী ব্যক্তির খুশি অর্জন করার জন্য অথবা তার ভয়ে সাধারণত মানুষ তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয় না, একইভাবে গরিব ব্যক্তির উপর রহম করেও মানুষ তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রদান করে না), আল্লাহ উভয় (ধনী হোক বা গরিব) এর প্রতিই তোমাদের চেয়ে অধিক কল্যাণ (ভালো) চান, তাই (নিজের স্বার্থ এবং আপসের শত্রুতার কারণে) আশা আকাঙ্ক্ষার পিছনে দৌড়িয়ে

ন্যায়বিচার পরিত্যাগ করবেন না, আর যদি বিকৃতভাবে কথা বল (অর্থাৎ মিথ্যা সাক্ষ্য দাও) অথবা (সত্য সাক্ষ্য দেওয়া থেকে) বিরত থাকো ( পিছনে থাকো) তাহলে সম্বরণ কর!) আল্লাহ তোমাদের কাজকর্ম ভালভাবেই খবর রাখেন"।

يٰأَيُّهَا الَّذينَ ءامَنوا ءامِنوا بِاللَّهِ وَرَسولِهِ وَالكِتٰبِ الَّذى نَزَّلَ عَلىٰ رَسولِهِ وَالكِتٰبِ الَّذى أَنزَلَ مِن قَبلُ ۚ وَمَن يَكفُر بِاللَّهِ وَمَلٰئِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَاليَومِ الءاخِرِ فَقَد ضَلَّ ضَلٰلًا بَعيدًا(১৩৬)

[136] "হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর প্রতি ও তাঁর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি এবং সেই কিতাব (কুরআন) এর প্রতি ঈমান আনয়ন কর যা তিনি (আল্লাহ) তাঁর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি নাযিল করেছেন এবং সেসব (আসমানী) কিতাবসমূহের প্রতিও (ঈমান নিয়ে এসো) যা আল্লাহ এর পূর্বে নাযিল করেছেন, আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ ও তাঁর রসূলগণকে এবং আখেরাতের দিনকে অস্বীকার করবে, সে পথভ্রষ্টতায় অনেক দূর গিয়ে পড়বে"।

إِنَّ الَّذينَ ءامَنوا ثُمَّ كَفَروا ثُمَّ ءامَنوا ثُمَّ كَفَروا ثُمَّ ازدادوا كُفرًا لَم يَكُنِ اللَّهُ لِيَغفِرَ لَهُم وَلا لِيَهدِيَهُم سَبيلًا (১৩৭)

[137] "নিশ্চয়ই (সত্য অস্বীকারকারী বা আহলে কিতাব বা মুনাফিক) যারা ঈমান এনেছে, তারপর কুফরী করেছে, তারপর পুনরায় ঈমান এনেছে, তারপর আবার কুফর করেছে, অতঃপর কুফরে বেড়ে চলেছে,( মৃত্যু সেই সন্দেহে এসেছে), তাহলে আল্লাহ কখনোই তাদেরকে মাফ করবেন না, আর নাহি তাদেরকে সরল পথ দেখাবেন"।

بَشِّرِ المُنٰفِقينَ بِأَنَّ لَهُم عَذابًا أَليمًا(১৩৮)

[138]"(হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!) মুনাফিকদেরকে সুসংবাদ দিন যে, তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব"।

الَّذينَ يَتَّخِذونَ الكٰفِرينَ أَولِياءَ مِن دونِ المُؤمِنينَ ۚ أَيَبتَغونَ عِندَهُمُ العِزَّةَ فَإِنَّ العِزَّةَ لِلَّهِ جَميعًا (১৩৯)

[139] "যারা মুমিনদের ছেড়ে কাফেরদের বন্ধু বানায়, তারা কি সেই কাফেরদের কাছে সম্মানের সন্ধানে যাচ্ছে? অথচ যাবতীয় সম্মান একমাত্র আল্লাহরই জন্য"।

* সম্পর্ক تعلقات তিন প্রকার:

(1) মুওয়ালাত"موالاة ":

অন্তর থেকে বন্ধুত্ব, সত্য বন্ধু, কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব করা নিষেধ, যেমন: বলা: তোমার উৎসবও ঠিক এবং তোমর ধর্মও সঠিক, সবকিছুই সঠিক,   কুরানের এই আয়াতে অনুরূপ বন্ধুত্ব নিষিদ্ধ।

(2) মুদারাত "مداراة":

ভালো ব্যবহার করা, মেহমান নাওয়াজি করা, মুসলিম বা অমুসলিম সকল অতিথির আপ্যায়ন করা, চাচা আবু তালিব মুসলিম হয়নি কিন্তু সারাজীবন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সমর্থন করেছিলেন, চাচা ভাতিজার মধ্যে খাওয়া-দাওয়ার নিমন্ত্রণ থাকতো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম ও মুসলিমদের নিমন্ত্রণ কবুল করেছেন। (সহিহ বুখারী কিতাবুল হিবা, হাদিস নম্বর 2617), এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অমুসলিম মেহমানদেরও মেহমানদারী করেছেন, এক অমুসলিম মেহমানকে ধারাবাহিক সাতটি ছাগলের দুধ পান করিয়েছিলেন, সে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আচরণ দেখে মুসলমান হয়ে ছিল। (সহি মুসলিম কিতাবুল আশরিবা হাদিস নম্বর:2063)

(3) মুয়াসাত "مواساة":

কারো বিপদে কাজে আসা, মুসলিমদের সাথে সাথে অমুসলিমদের দুঃখ কষ্ট দূর করা, বিপদে সাহায্য করা আমাদের দায়িত্ব, অনুরূপ অমুসলিমদের নিকট কাজ করা, অমুসলিম দেরকেও কাজে রাখা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ ইয়াহুদী চাকর এর ইয়াদত করতে গিয়ে ছিলেন, তাকে দেখতে গিয়ে ইসলাম পেশ করেন, অবশেষে মুসলমান হয়। (সহি বুখারী কিতাবুল জানায়েজ হাদিস নম্বর 1356)

وَقَد نَزَّلَ عَلَيكُم فِى الكِتٰبِ أَن إِذا سَمِعتُم ءايٰتِ اللَّهِ يُكفَرُ بِها وَيُستَهزَأُ بِها فَلا تَقعُدوا مَعَهُم حَتّىٰ يَخوضوا فى حَديثٍ غَيرِهِ ۚ إِنَّكُم إِذًا مِثلُهُم ۗ إِنَّ اللَّهَ جامِعُ المُنٰفِقينَ وَالكٰفِرينَ فى جَهَنَّمَ جَميعًا (১৪০)

[140] "আর আল্লাহ কিতাব (কুরআন) তোমাদের জন্য নাযিল করেছেন, যখন তোমরা শুনবে যে, আল্লাহর আয়াতকে অস্বীকার করা হচ্ছে এবং তার সাথে ঠাট্টা করা হচ্ছে, তখন এমন লোকদের সাথে বসবেন না, যতক্ষণ না তারা (বিদ্রূপ কারীরা, হক অস্বীকারকারীরা) অন্য বিষয়ে কথা বলতে শুরু করে, অন্যথায় তোমরাও (হে ঈমানদারগণ!) তাদের মত হয়ে যাবে, নিশ্চয়ই আল্লাহ সকল মুনাফিক এবং কাফেরদের কে জাহান্নামে (জমা) করবেন "।

الَّذينَ يَتَرَبَّصونَ بِكُم فَإِن كانَ لَكُم فَتحٌ مِنَ اللَّهِ قالوا أَلَم نَكُن مَعَكُم وَإِن كانَ لِلكٰفِرينَ نَصيبٌ قالوا أَلَم نَستَحوِذ عَلَيكُم وَنَمنَعكُم مِنَ المُؤمِنينَ ۚ فَاللَّهُ يَحكُمُ بَينَكُم يَومَ القِيٰمَةِ ۗ وَلَن يَجعَلَ اللَّهُ لِلكٰفِرينَ عَلَى المُؤمِنينَ سَبيلًا (১৪১)

[141] "(হে মুসলমান!) এরা (মুনাফিক ও হক অস্বীকারকারী) লোক যারা সর্বদা আপনার আনজাম এর অপেক্ষায় বসে থাকে (আপনার বিজয় বা পরাজয়ের অপেক্ষায়), যদি তোমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে জয় আসে

তখন তারা বলে: আমরা কি তোমার সাথে ছিলাম না? আর যদি কাফেরদের জয় হয়? তাহলে (মুনাফিকরা কাফেরদের) বলে: আমরা কি তোমাদের উপর বিজয়ী হইনি? (আমাদের বিজয় পাক্কা ছিল, তবুও আমরা) তোমাদেরকে মুসলমানদের হাত থেকে রক্ষা করিনি? (আসলে আমরা তোমাদের মানুষকেই বাঁচিয়েছি), এখন আল্লাহই কেয়ামতের দিন তোমাদের মধ্যে ফয়সালা করবেন, আর আল্লাহ কাফেরদেরকে মুসলমানদের উপর কখনোই বিজয়ী দিবেননা"।

إِنَّ المُنٰفِقينَ يُخٰدِعونَ اللَّهَ وَهُوَ خٰدِعُهُم وَإِذا قاموا إِلَى الصَّلوٰةِ قاموا كُسالىٰ يُراءونَ النّاسَ وَلا يَذكُرونَ اللَّهَ إِلّا قَليلًا (১৪২)

[142] "নিশ্চয়ই মুনাফিকরা (যাদের অন্তরে কিছু এবং তাদের জিহ্বায় অন্য কিছু) আল্লাহকে ধোঁকা দিতে চায়, অথচ (আল্লাহই মুনাফিকদের) ধোঁকায়  রেখেছেন এবং যখন এরা (মুনাফিকরা) নামাযের জন্য দাঁড়ায় তখন তারা অবহেলা ও অলসতার সাথে দাঁড়ায়, মানুষকে দেখানোর জন্য করে, এবং আল্লাহকে অল্প স্মরণ করে"।

مُذَبذَبينَ بَينَ ذٰلِكَ لا إِلىٰ هٰؤُلاءِ وَلا إِلىٰ هٰؤُلاءِ ۚ وَمَن يُضلِلِ اللَّهُ فَلَن تَجِدَ لَهُ سَبيلًا (১৪৩)

[143] "এরা (মুনাফিকরা কুফর ও ঈমানের মধ্যে) সন্দেহে রয়েছে, না সম্পূর্ণরূপে তাদের (মুসলিমদের) পক্ষে রয়েছে আর না তাদের (কাফেরদের)পক্ষে রয়েছে, আর যাকে আল্লাহ গুমরাহ করেন, তার জন্য আপনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেদায়েতের) কোন পথ পাবেন না"।

يٰأَيُّهَا الَّذينَ ءامَنوا لا تَتَّخِذُوا الكٰفِرينَ أَولِياءَ مِن دونِ المُؤمِنينَ ۚ أَتُريدونَ أَن تَجعَلوا لِلَّهِ عَلَيكُم سُلطٰنًا مُبينًا (১৪৪)

[144] "হে ঈমানদারগণ! মুমিনদেরকে ছেড়ে কাফেরদেরকে বন্ধু বানাও না (তবে কাফেরদের সাথে সদাচরণ কর), তোমরা কি চাও (অবাধ্যদের সাথে বন্ধুত্ব করে) তোমাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর সুস্পষ্ট দলিল কায়েম করতে? (নাফারমানদের সাথে বন্ধুত্ব করে আল্লাহর শাস্তির যোগ্য হতে?)

 

* সম্পর্ক تعلقات তিন প্রকার:

(1) মুওয়ালাত"موالاة ":

অন্তর থেকে বন্ধুত্ব, সত্য বন্ধু, কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব করা নিষেধ, যেমন: বলা: তোমার উৎসবও ঠিক এবং তোমর ধর্মও সঠিক, সবকিছুই সঠিক,   কুরানের এই আয়াতে অনুরূপ বন্ধুত্ব নিষিদ্ধ।

(2) মুদারাত "مداراة":

ভালো ব্যবহার করা, মেহমান নাওয়াজি করা, মুসলিম বা অমুসলিম সকল অতিথির আপ্যায়ন করা, চাচা আবু তালিব মুসলিম হয়নি কিন্তু সারাজীবন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সমর্থন করেছিলেন, চাচা ভাতিজার মধ্যে খাওয়া-দাওয়ার নিমন্ত্রণ থাকতো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম ও মুসলিমদের নিমন্ত্রণ কবুল করেছেন। (সহিহ বুখারী কিতাবুল হিবা, হাদিস নম্বর 2617), এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অমুসলিম মেহমানদেরও মেহমানদারী করেছেন, এক অমুসলিম মেহমানকে ধারাবাহিক সাতটি ছাগলের দুধ পান করিয়েছিলেন, সে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আচরণ দেখে মুসলমান হয়ে ছিল। (সহি মুসলিম কিতাবুল আশরিবা হাদিস নম্বর:2063)

(3) মুয়াসাত "مواساة":

কারো বিপদে কাজে আসা, মুসলিমদের সাথে সাথে অমুসলিমদের দুঃখ কষ্ট দূর করা, বিপদে সাহায্য করা আমাদের দায়িত্ব, অনুরূপ অমুসলিমদের নিকট কাজ করা, অমুসলিম দেরকেও কাজে রাখা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ ইয়াহুদী চাকর এর ইয়াদত করতে গিয়ে ছিলেন, তাকে দেখতে গিয়ে ইসলাম পেশ করেন, অবশেষে মুসলমান হয়। (সহি বুখারী কিতাবুল জানায়েজ হাদিস নম্বর 1356)

[145] إِنَّ المُنٰفِقينَ فِى الدَّركِ الأَسفَلِ مِنَ النّارِ وَلَن تَجِدَ لَهُم نَصيرًا (১৪৫)

[145] "নিশ্চয়ই মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে (সর্বনিম্ন গর্তে, জাহান্নামে সবচেয়ে নিচে থাকবে)  এবং আপনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাউকে তাদের সাহায্যের জন্য  পাবেন না"।

 إِلَّا الَّذينَ تابوا وَأَصلَحوا وَاعتَصَموا بِاللَّهِ وَأَخلَصوا دينَهُم لِلَّهِ فَأُولٰئِكَ مَعَ المُؤمِنينَ ۖ وَسَوفَ يُؤتِ اللَّهُ المُؤمِنينَ أَجرًا عَظيمًا (১৪৬)

[146] "কিন্তু সেসব লোক (মুনাফিক ও সত্য অস্বীকারকারীরা) তওবা করেছে, এবং নিজেদেরকে ইসলাহ করেছে (নিজেদের সংশোধন করেছে), এবং আল্লাহর সাথে তাদের সম্পর্ক মজবুত করেছে, এবং তাদের দ্বীনকে আল্লাহর জন্য পরিশুদ্ধ করেছে, তাহলে তাঁরা মুমিনদের সাথেই থাকবে এবং আতি শীঘ্রই আল্লাহ ঈমানদারগণকে বড় সাওয়াব (জান্নাত) দেবেন।

ما يَفعَلُ اللَّهُ بِعَذابِكُم إِن شَكَرتُم وَءامَنتُم ۚ وَكانَ اللَّهُ شاكِرًا عَليمًا (১৪৭)

[147] "(হে লোকসকল!) যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় কর এবং (আল্লাহর প্রতি) ঈমান রাখ, তাহলে আল্লাহ তোমাদের আযাব দিয়ে কি করবেন? এবং আল্লাহ হচ্ছেন বড় কুদরত ওয়ালা (বড় সম্মান ওয়ালা), সর্বজ্ঞ"।

(পঞ্চম পারা (5) - প্রশ্ন এবং উত্তর)

(সূরা নিসা: সূরা নং: 4)

প্রশ্ন নং 1: ইসলামে মুতাহ নিকাহ হালাল নাকি হারাম?

উত্তরঃ এটা হারাম। (সূরা নিসা আয়াত নম্বর: 24)।প্রশ্ন নং 2: ব্যভিচারকারী ক্রীতদাসের শাস্তি কি পূর্ণ নাকি অর্ধেক?

উত্তর: অর্ধেক। (সূরা নিসা আয়াত নম্বর: 25)

প্রশ্ন নং 3: বড় গুনাহ থেকে বাঁচার উপকারিতা কি?উত্তরঃ ছোট ছোট গুনাহ মাফ হয়ে যায়। (সূরা নিসা আয়াত নম্বর: 31)

প্রশ্ন নং 4: সূরা নিসার 34 নং আয়াতের আলোকে একজন নেককার নারীর লক্ষণ কি কি ?

উত্তর: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের হুকুম পালন করে, স্বামীর অনুপস্থিতিতে  নিজের ইজ্জত ও আবরু হেফাজত করে। (সূরা নিসা আয়াত নম্বর: 34)

প্রশ্ন নং 5: যে স্ত্রী বোঝে না তাকে কিভাবে মারধর করা উচিত?

উত্তর: হালকা মার মারা উচিত। (সূরা নিসা আয়াত নং: 34)

প্রশ্ন নং 6: স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হলে কী করা উচিত?

উত্তর: উভয় পক্ষ থেকে একটি ইনসাফ কারী বসবে। (সূরা নিসা আয়াত নং: ৩৫)।

প্রশ্ন নং ৭: আল্লাহর ইবাদতের  ব্যাপারে কি পরিহার করা জরুরী?

উত্তরঃ শিরক (সূরা নিসা আয়াত নম্বর: 36)

প্রশ্ন নং ৮: আল্লাহ কাকে পছন্দ করেন না?

উত্তরঃ  অহংকারী ও গর্বকারীকে আল্লাহ পছন্দ করেন না। (সূরা নিসা আয়াত নং: 36)

প্রশ্ন নং 9 কোন অবস্থায় নামায পড়া হারাম?

উত্তরঃ নেশা ও জানাবাত (অপবিত্রতা) অবস্থায় নামায পড়া হারাম। (সূরা নিসা আয়াত নং: 43)।প্রশ্ন নং 10 আল্লাহ কি শিরকের গুনাহ ক্ষমা করেন?

উত্তর: তাওবা ছাড়া আল্লাহ  শিরকের গুনাহ ক্ষমা করেন না। (সূরা নিসা আয়াত নম্বর: 48)

প্রশ্ন নং 11: নিজের পবিত্রতা প্রকাশ করা কেমন?উত্তরঃ সঠিক নয়। (সূরা নিসা আয়াত নম্বর: 49)।প্রশ্ন নং 12 চামড়ায় কি ব্যাথা হয়?

উত্তরঃ হ্যাঁ, জাহান্নামীদের চামড়া পুড়ে গেলে আল্লাহ নতুন চামড়া দিবেন। (সূরা নিসা আয়াত নম্বর: 56)

প্রশ্ন নং 13: কোন মানুষদের জন্য জান্নাত হয়েছে?

উত্তরঃ যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে তাদের জন্য। (সূরা নিসা আয়াত নম্বর: 57)

প্রশ্ন নং 14: মতবিরোধের ক্ষেত্রে কার দিকে ফিরে যাওয়া উচিত?

উত্তরঃ আল্লাহর দিকে (অর্থাৎ কুরআন) এবং রাসূল (সাঃ) এর দিকে (অর্থাৎ হাদীস)। (সূরা নিসা আয়াত নম্বর: 59)

প্রশ্ন নং 15: আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আনুগত্য কারীরা কাদের সাথে থাকবেন?

উত্তর: নবীগণ, সত্যবাদী গণ, শহীদগণ এবং নেক ব্যক্তিদের সাথে। (সূরা নিসা আয়াত নম্বর: 69)।প্রশ্ন নং 16 ইসলামে জিহাদের কারণ কি?

উত্তর: দুর্বল পুরুষগণ, মহিলাদের এবং শিশুদের সাহায্য এবং হেফাজতের জন্য। (সূরা নিসা আয়াত নম্বর: 75)

প্রশ্ন নং 17 যে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আনুগত্য করল, সে কার আনুগত্য করল?

উত্তরঃ আল্লাহর। (সূরা নিসা আয়াত নং: 80)

প্রশ্ন নং 18:  ভাল সুপারিশের লাভ কি?

উত্তরঃ সুপারিশ কারীর কিছু অংশ পাবে। (সূরা নিসা আয়াত নম্বর: 85)

প্রশ্ন নং 19 উহুদ যুদ্ধে আসা মুনাফিকদের ব্যাপারে সাহাবীগণ কয়টি দলের মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়েছিলেন?

উত্তরঃ দুই দলে। (সূরা নিসা আয়াত নম্বর: 88)

প্রশ্ন নং 20: যারা জিহাদ করে এবং যারা ঘরে থাকে তারা উভয়েই কি সমান?

উত্তরঃ না। (সূরা নিসা আয়াত নম্বর: 95)

প্রশ্ন নং 21 কসর সালাত কখন হয়?

উত্তরঃ সফর ও যুদ্ধ অবস্থায়। (সূরা নিসা আয়াত নম্বর: 101 এবং 102)

প্রশ্ন নং 22 যুদ্ধে কি নামাজ মাফ আছে?

উত্তরঃ না। (সূরা নিসা আয়াত নম্বর: 102)

প্রশ্ন নং: 23: রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিরোধিতা কারীদের শাস্তি কি?উত্তরঃ জাহান্নাম। (সূরা নিসা আয়াত নম্বর: 115)।প্রশ্ন নং 24: আল্লাহ কি শিরক ক্ষমা করবেন?উত্তর: হ্যাঁ, তাওবা করলে, ক্ষমা করবেন। (সূরা নিসা আয়াত নম্বর: 116)

প্রশ্ন নং 25 নেক লোকদের পুরস্কার কি?

উত্তরঃ জান্নাত। (সূরা নিসা আয়াত নম্বর: 122)।প্রশ্ন নম্বর 26:  ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম কে ছিলেন?

উত্তরঃ খলিলুল্লাহ (আল্লাহর বন্ধু)। (সূরা নিসা আয়াত নম্বর: 125)

প্রশ্ন নং 27: মুনাফিকরা মুসলমানদের ব্যাপারে কিসের অপেক্ষায় থাকতো?

উত্তরঃ বিপদ আপদের জন্য অপেক্ষায় থাকতো। (সূরা নিসা আয়াত নম্বর: 141)

প্রশ্ন নং 28: মুনাফিকরা নামাজ কেন পড়ত?

উত্তরঃ দেখানোর জন্যে। (সূরা নিসা আয়াত নম্বর: 142)

প্রশ্ন নং ২৯: মুনাফিকরা জাহান্নামের কোন স্তরে থাকবে?

উত্তরঃ সর্বনিম্ন স্তরে। (সূরা নিসা আয়াত নম্বর: 145)

 

Comments

Popular posts from this blog

ভারত বর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে শেরশাহবাদি সম্প্রদায়ের অবদান। আব্দুর রাকিব নাদভী

শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ্বনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভূমিকা।

বাংলা ভাষায় ইসলামী সংস্কৃতির প্রভাব।