সুরা ফাতিহা র অনুবাদ
(১) সূরা আল ফাতিহা মক্কী সুরা, আয়াত: ৭, রুকু: ১
(প্রথম পাড়া)
(প্রথম পাড়ায় (১৬) রুকু এবং (১৪৮) আয়াত)
সূরা ফাতিহা সম্পর্কে:
সূরা ফাতিহা সূরা নং (১), ওহীর ক্রম অনুসারে এটি পঞ্চম নং সূরা।
আল-ফাতিহা এর অর্থ: শুরু, আরম্ভ। فاتحة الكتاب: বইয়ের শুরু। আর কোরানের শুরু সূরা ‘ফাতিহা’ থেকে। সূরা আল ফাতিহা মাক্কী সুরা। হিজরতের পূর্বে মক্কায় এবং এর আশেপাশে অবতীর্ণ সুরা কে মাক্কী সুরা বলা হয়।
সূরা আল ফাতিহার মধ্যে (৭) আয়াত এবং (১) টি রুকু রয়েছে। সূরা ফাতিহার বিভিন্ন নাম: السبع المثاني: সাত বার বার পাঠ্যআয়াত। (সুরা হিজর, সুরা নং ১৫ আয়াত নং ৮৭)।
সূরা আল-ফাতিহা " القرآن العظيم " কুরআন আযীম " (সুরা হিজর, সুরা নং ১৫ আয়াত নং ৮৭)।
সূরা ফাতিহা " الرقية "আর রুকয়া " দম ও ঝাড়ফুঁক (সহীহ আল-বুখারী- কিতাব আল-ফাজায়েল আল-কুরআন, ফাতিহার ফজিলতের অধ্যায়, হাদিস নং (৫০০৭)।
সূরা আল-ফাতিহা- উম্মুল-কুরআন "কুরআনের মা। ( সহীহ মুসলিম কিতাবুস সালাত, অধ্যায় প্রত্যেক রাকাতে আল-ফাতিহা পড়া ওয়াজিব - হাদীস নং (৩৯৫)।
সূরা ফাতিহার ফজিলত:
(১) সুরা আল-ফাতিহা ও সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করলে উভয় সূরায় যে জিনিসগুলি চাওয়া হয়েছে তা পাঠকারী দের দেওয়া হবে।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ بَيْنَمَا جِبْرِيلُ قَاعِدٌ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم سَمِعَ نَقِيضًا مِنْ فَوْقِهِ فَرَفَعَ رَأْسَهُ فَقَالَ هَذَا بَابٌ مِنَ السَّمَاءِ فُتِحَ الْيَوْمَ لَمْ يُفْتَحْ قَطُّ إِلاَّ الْيَوْمَ فَنَزَلَ مِنْهُ مَلَكٌ فَقَالَ هَذَا مَلَكٌ نَزَلَ إِلَى الأَرْضِ لَمْ يَنْزِلْ قَطُّ إِلاَّ الْيَوْمَ فَسَلَّمَ وَقَالَ أَبْشِرْ بِنُورَيْنِ أُوتِيتَهُمَا لَمْ يُؤْتَهُمَا نَبِيٌّ قَبْلَكَ فَاتِحَةُ الْكِتَابِ وَخَوَاتِيمُ سُورَةِ الْبَقَرَةِ لَنْ تَقْرَأَ بِحَرْفٍ مِنْهُمَا إِلاَّ أُعْطِيتَهُ .
আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, একদিন জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বসেছিলেন। সে সময় তিনি উপর দিক থেকে দরজা খোলার একটা প্রচণ্ড আওয়াজ শুনতে পেয়ে মাথা উঠিয়ে বললেনঃ এটি আসমানের একটি দরজা। আজকেই এটি খোলা হ’ল- ইতোপূর্বে আর কখনো খোলা হয়নি। আর এ দরজা দিয়ে একজন ফেরেশতা পৃথিবীতে নেমে আসলেন। জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম বললেন: এই ফেরেশতা আজকের এ দিনের আগে আর কখনো তিনি পৃথিবীতে আসেননি। তারপর তিনি সালাম দিয়ে বললেনঃ আপনি (মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আপনাকে দেয়া দু’টি নূর ( আলোর) সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আপনার পূর্বে আর কোন নবীকে তা দেয়া হয়নি। আর ঐ দু’টি নূর হ’ল: (১) ফা-তিহাতুল কিতাব (২) সূরাহ আল বাক্বারার শেষ দুই আয়াত। এর যে কোন অক্ষর (হার্ফ) আপনি পড়বেন তার মধ্যকার প্রার্থিত বিষয় আপনাকে দেয়া হবে। (সহিহ মুসলিম, কিতাব ফাজায়িলে কুরআন, অধ্যায়:সুরা আল ফাতিহার ফজিলতের, হাদিস নং ৮০৬)।
২) যে ব্যক্তি নামাজে (ইমাম হোক অথবা মুক্তাদী) সূরা ফাতিহা পাঠ করল না, তার নামাজ সহীহ নয়।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ صَلَّى صَلاَةً لَمْ يَقْرَأْ فِيهَا بِأُمِّ الْقُرْآنِ فَهْىَ خِدَاجٌ - ثَلاَثًا - غَيْرُ تَمَامٍ " . فَقِيلَ لأَبِي هُرَيْرَةَ إِنَّا نَكُونُ وَرَاءَ الإِمَامِ . فَقَالَ اقْرَأْ بِهَا فِي نَفْسِكَ
আবূ হুরাইরাহ্ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলছেন: যে ব্যাক্তি নামাজে "কোরআনের মা" সুরা ফাতেহা পাঠ করল না তার নামাজ পূর্ণাঙ্গ আদায় হল না।তার নামাজ ত্রুটিপূর্ণ থেকে গেল। এ কথাটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনবার বলেছেন। আবূ হুরাইরাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু-কে জিজ্ঞেস করা হল, আমরা যখন ইমামের পিছনে সালাত আদায় করব তখন কী করব? তিনি বললেন, তোমারা চুপে চুপে তা পড়ে নাও। (সহীহ মুসলিম কিতাবুস সালাত, অধ্যায় প্রত্যেক রাকাতে আল-ফাতিহা পড়া ওয়াজিব - হাদীস নং (৩৯৫)।
সুরা ফাতিহা র সারমর্ম:
(১) সূরা ফাতিহার শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা করা হয়েছে। (২) ইবাদত হবে একমাত্র আল্লাহর এবং সাহায্য একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করা জায়েয নয় এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো কাছে সাহায্য চাওয়া জায়েয নয়। (৩) হেদায়েত এর উপর অবিচল থাকার দোয়া। (৪) নেক মানুষের পথ অনুসরণ করার দোয়া। (৫) দুষ্ট লোকদের পথ থেকে বিরত থাকার জন্য দোয়া।
بِسمِ اللَّهِ الرَّحمٰنِ الرَّحيمِ
শুরু করছি আল্লাহর নামে, যিনি বড় মেহেরবান, বড় দয়ালু।
الحَمدُ لِلَّهِ رَبِّ العٰلَمينَ
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্যেই, যিনি সকল জগতের প্রতিপালক।
الرَّحمٰنِ الرَّحيمِ
যিনি বড় মেহেরবান, বড় দয়ালু।
مٰلِكِ يَومِ الدّينِ
যিনি প্রতিদান দিনের (কিয়ামত) মালিক।
إِيّاكَ نَعبُدُ وَإِيّاكَ نَستَعينُ
(হে আল্লাহ!) আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং তোমার কাছেই সহায়তা চাই।
اهدِنَا الصِّرٰطَ المُستَقيمَ
(হে আল্লাহ!) আমাদেরকে সোজা রাস্তায় পরিচালিত কর।
صِرٰطَ الَّذينَ أَنعَمتَ عَلَيهِم غَيرِ المَغضوبِ عَلَيهِم وَلَا الضّالّينَ
তাঁদের (নবীগণ, সৎ ব্যক্তিবর্গ, শহীদগণ এবং নেককার লোকদের) রাস্তায় পরিচালিত কর, যাদের প্রতি তুমি ইনয়াম করেছ, তাদের (ইহুদি এবং তাদের মতো লোকদের) রাস্তায় পরিচালিত করো না (যারা ইচ্ছাকৃতভাবে গুমরাহ হয়েছে এবং) যাদের উপর তুমি অসন্তুষ্ট হয়েছ, এবং তাদের (খ্রিস্টান ও তাদের মতো লোকদের) রাস্তায় পরিচালিত করো না, যারা (সত্যকে জানার পর, তা অমান্য করার কারণে) সঠিক রাস্তা হারিয়েছে।
ইহুদি: যারা মুসা আলাইহিমুস্ সালামকে অনুসরণ করে তাদের কে ইহুদি বলা হয়।
ঈসায়ী: যারা ঈসা আলাইহিমুস্ সালামকে অনুসরণ করে তাদেরকে ঈসায়ী বলা হয়।
Comments
Post a Comment