উসুলে হাদীস । আব্দুর রাকিব নাদভী

 

ভূমিকা







الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على رسوله النبي الكريم وعلى آله وصحبه أجمعين أمابعد:

পুস্তকাটি সংকলনের মূল কারণ হলো: ১৬ এপ্রিল ২০২৪ প্রধান শিক্ষক হিসেবে আল কাউসার অ্যারাবিক কলেজে আমার নিয়োগ হয়। সেখানে সর্ব প্রথম যে সমস্যার সম্মুখীন আমাকে হতে হয়েছে, সেটা হচ্ছে, কলেজের পাঠ্যক্রম বা সিলেবাস। আর আমরা অবগত যে পাঠ্যক্রম উন্নত না হলে, শিক্ষার মান উন্নত হয় না।

পক্ষান্তরে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে আমার সর্বপ্রথম কাজ হবে কলেজের পাঠ্যক্রম তৈরি করা। সিলেবাস প্রস্তুত করতে গিয়ে দেখলাম যে, পশ্চিমবাংলার মাটিতে বাংলা ভাষায় রচিত সিলেবাসের বই এর অভাব রয়েছে। যেহেতু আমাদের কলেজ পশ্চিমবাংলার অন্যান্য মাদ্রাসাগুলো থেকে ব্যতিক্রম, অন্যান্য মাদ্রাসাগুলো পশ্চিমবঙ্গ বাংলায় অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও সেখানে উর্দু মাধ্যমে পড়াশোনা হয়। আর  আমাদের কলেজের মাধ্যম হচ্ছে পুরোপুরি বাংলা ভাষা। এখানে পবিত্র আল-কোরআন, হাদিসের গ্রন্থাবলী সহ সিলেবাসের অন্যান্য সকল বই সমূহ বাংলা মাধ্যমেই পোড়ানো হয়। সিলেবাস প্রস্তুত করতে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। সহকর্মীদের পরামর্শের মাধ্যমে সিলেবাস এর কিছু বই নিজেই তৈরি করার উদ্যোগ নিলাম। আল্লাহর অশেষ রহমত ও দয়া এবং সহকর্মীদের পরামর্শ এবং সহযোগিতায় এই উদ্বেগের তৃতীয় ফল হিসেবে উসুলে হাদীস (প্রশ্ন- উত্তর) নামের উক্ত পুস্তিকাটি আপনাদের হস্তান্তরে সক্ষম হয়েছি। মানুষ বলতে ভুল হয়, তাই পুস্তিকাটির মধ্যে যদি কোন ভুল আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, তা সাদকা জারিয়া হিসেবে আমাকে ধরিয়ে দিবেন। আমাদের আপ্রাণ চেষ্টা হবে আগামী এডিশনে সেটা সংশোধন করে নেওয়া। ইন-শা-আল্লাহ।

বিশ্ব পালনকর্তা আল্লাহ রব্বুল আলামীনের কাছে দোয়া, হে আল্লাহ! তুমি আমার এই ক্ষুদ্র পরিশ্রমকে সাদরে গ্রহণ কর, আমার এবং আমার পিতা-মাতা এবং শিক্ষক মন্ডলীদের জন্য এটি নাজাতের মাধ্যম বানিয়ে দাও। আমীন।

وصلى الله على خيرخلقه محمد وآله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين

সংকলনে

                                                                   আব্দুর রাকিব নাদভী

                         সহ সভাপতি, জেলা জমিয়তে আহলে হাদীস, উত্তর দিনাজপুর।

                       প্রধান শিক্ষক, আল কাউসার অ্যারাবিক কলেজ, হুগলি।

ইলমে হাদীস এর মূলভিত্তি।

আল্লাহ রব্বুল আলামীন বলেন

 يٰأَيُّهَا الَّذينَ ءامَنوا إِن جاءَكُم فاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنوا أَن تُصيبوا قَومًا بِجَهٰلَةٍ فَتُصبِحوا عَلىٰ ما فَعَلتُم نٰدِمينَ

অর্থ: মুমিনগণ! যদি কোন পাপাচারী ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোন সংবাদ আনয়ন করে, তবে তোমরা পরীক্ষা করে দেখবে, যাতে অজ্ঞতাবশতঃ তোমরা কোন সম্প্রদায়ের ক্ষতিসাধনে প্রবৃত্ত না হও এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্যে অনুতপ্ত না হও। (সুরা আল হুজুরাত আয়াত নং ৬)

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন

عَنِ  الْمُغِيرَةِ  ـ  رضى  الله  عنه  ـ  قَالَ  سَمِعْتُ  النَّبِيَّ  صلى  الله  عليه  وسلم  يَقُولُ  ‏"‏  إِنَّ كَذِبًا  عَلَىَّ لَيْسَ كَكَذِبٍ  عَلَى  أَحَدٍ،  مَنْ  كَذَبَ  عَلَىَّ  مُتَعَمِّدًا  فَلْيَتَبَوَّأْ  مَقْعَدَهُ  مِنَ  النَّارِ 

মুগীরা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, আমার প্রতি মিথ্যারোপ করা অন্য কারো প্রতি মিথ্যারোপ করার মত নয়। যে ব্যক্তি আমার প্রতি মিথ্যারোপ করে সে যেন অবশ্যই তার ঠিকানা জাহান্নামে করে নেয়। (সহিহ বুখারী, হাদীস নং ১২৯১)

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন

 إِنَّا كُنَّا مَرَّةً إِذا سَمِعْنَا رَجُلًا يَقُولُ : قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلَّمَ ابْتَدَرَتهُ أَبْصَارُنَا وَأَصْغَيْنَا إِلَيْهِ بِأَذَائِنَا فَلَمَّا رَكِبَ النَّاسُ الصَّعْبَة والذلول لم نأخُذُ مِنَ النَّاسِ إِلَّا مَا نَعْرِفُ.

যখনই আমরা কোন ব্যক্তিকে দেখতাম যে, সে বলছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তখন আমরা চোখ-কান খাড়া করে তার কথা শুনতাম। কিন্তু যখন মানুষ ভাল-মন্দ মিশ্রিত করে বলতে লাগল, তখন আমরা আমাদের জ্ঞাত বিষয় ছাড়া গ্রহণ করতাম না।

মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন (৩৩-১১০ হিঃ) বলেন,

لَمْ يَكُونُوا يَسْأَلُونَ عَنِ الإِسْنَادِ فَلَمَّا وَقَعَتِ الْفِتْنَةُ قَالُوا سموا لَنَا رِجَالَكُمْ فَيُنظر إلى أهْلِ السُّنَّةِ فَيُؤْخَذْ حَدِيثُهُمْ وَيُنْظُرُ إلى أَهْلِ الْبِدَعِ فَلَا يُؤْخَذُ حَدِيثُهُم

জনগণ হাদীসের সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করত না। কিন্তু যখন ফিৎনা সৃষ্টি হল, তখন তারা বলতে লাগল, তোমরা হাদীসের বর্ণনাকারীদের পরিচয় বল। যদি লক্ষ্য করা যেত যে, তারা আহলে সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত, তাহলে তাদের হাদীস গ্রহণ করা হত। কিন্তু বিদ'আতীদের অন্তর্ভুক্ত হলে তাদের হাদীস গ্রহণ করা হত না।

মুহাম্মদ ইবনে সীরীন আরো বলেন

إن هذا العلم دين، فانظروا عمن تأخذون دينكم

নিশ্চয়ই সনদ দ্বীন এর অংশ, অতএব পরখ করে দেখ, কার থেকে তোমরা দ্বীন গ্রহণ করছ।

বিখ্যাত মুহাদ্দিস আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক বলেন

الإسناد من الدين ولولا الإسناد لقال من شاء ماشاء

সনদ দ্বীনের অংশ, যদি সনদ না থাকত তাহলে যে যা চাইত তা-ই বলত।

১. প্রশ্ন: উসুলে হাদীস এর সংজ্ঞা কি?

 উত্তরঃ যে বিদ্যা ও জ্ঞান এর মাধ্যমে হাদীস সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়, বিশেষ করে হাদীসের সনদ এবং হাদীসের মতন এর গ্রহনযোগ্যতা ও অগ্রহনযোগ্যতা সম্পর্কে জানা যায়, তাকে উসুলে হাদীস বলা হয়।

২. প্রশ্ন:  উসুলে হাদীস এর আলোচ্য বিষয় কি?

উত্তরঃ উসুলে হাদীস এর আলোচ্য বিষয় হলো:  হাদীসের সনদ এবং হাদীসের মতন

৩. প্রশ্ন:  উসুলে হাদীস এর মূল উদ্দেশ্য কি?

উত্তরঃউসুলে হাদীসের মূল উদ্দেশ্য হলো: অগ্রহণযোগ্য বর্ণনাকে ত্যাগ করে গ্রহণযোগ্য বর্ণনার ভিত্তিতে আমাল করে পথভ্রষ্টতা থেকে নিজেকে হিফাযাত করা৷

৪. প্রশ্ন:  হাদীস (الحديث ) এর আভিধানিক অর্থ কি?

উত্তরঃ হাদীস এর আভিধানিক অর্থ: নতুন

৫. প্রশ্ন:  হাদীস (الحديث) কাকে বলে?

উত্তরঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামএর কথা, কাজ, সমর্থন - সম্মতীকে হাদীস বলে

৬. প্রশ্ন: হাদীস (الحديث) এর উৎস কি?

উত্তর: হাদীস এর উৎস ওহী।

৭. প্রশ্ন:  ওহী (الوحي) কাকে বলে?

উত্তর: ওহীর শব্দিক অর্থ: ইশারা, ইঙ্গিত, গোপন কথা, ঢেলে দেওয়া, ইলহাম তথা অন্তঃকরণে ভাব সৃষ্টি করা ইত্যাদি। আর পারিভাষিক অর্থে: আল্লাহর পক্ষ থেকে  হযরত জিবরাঈল (আঃ) এর মারফৎ যে বার্তা বিশ্ব নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পৌঁছেছে, তাকে ওহী বলে।

৮. প্রশ্ন: ওহী (الوحي) কয় প্রকার ও কি কি?

উত্তর: ওহী দুই প্রকার। যথা- ১) ওহী মাতলু (পঠিতব্য ওহী)। ২) ওহী গায়ের মাতলু (অপঠিতব্য ওহী)।

৯. প্রশ্ন: হাদীস ওহীর কোন প্রকারের অন্তর্গত?

উত্তর: হাদীস ওহী গায়ের মাতলু (অপঠিতব্য ওহী)।

১০. প্রশ্ন:  হাদীস কুদসী (الحديث القدسي) কাকে বলে?

উত্তরঃ হাদীস কুদসী ওই হাদীসকে বলা হয়, যে হাদীসটি  নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর তরফ থেকে রিওয়ায়াত করেছেন।

১১. প্রশ্ন:  পবিত্র আল কোরআন ও হাদীস কুদসির মধ্যে পার্থক্য কি?

উত্তরঃ পবিত্র আল কুরআনের শব্দ ও অর্থ উভয়টিই আল্লাহর নিকট থেকে প্রাপ্ত। কিন্তু হাদীস কুদসীর অর্থ আল্লাহর নিকট থেকে প্রাপ্ত আর শব্দ বা ভাষা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিজস্ব।

১২. প্রশ্ন: খবর (الخبر)এর সংজ্ঞা কি?

উত্তর: খবর এর আভিধানিক অর্থ: সংবাদ।  আর উসুলে হাদিস শাস্ত্রে পারিভাষিক অর্থে খবর সম্পর্কে তিনটি মত রয়েছে, যথা:

ক) খবর হাদীস এর সামর্থক শব্দ, হাদীস এবং খবর এর মধ্যে কোন পার্থক্য নেই, উভয় একই অর্থে ব্যবহার হয়।

খ) খবর হাদীস এর বিপরীতার্থক শব্দ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা বর্ণিত,  তাকে হাদীস বলে । আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  ছাড়া অন্যদের নিকট থেকে যা বর্ণিত তাকে খবর বলে।

গ) খবর হাদীস এর তুলনায় ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে যা বর্ণিত, তাকে হাদীস বলে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা বর্ণিত অথবা  অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ থেকে যা বর্ণিত তাকে খবর বলে।

১৩. প্রশ্ন: আসার (الأثر) কাকে বলে?

উত্তর: আসার এর আভিধানিক অর্থ: কোনো কিছুর অবশিষ্টাংশ। আর আসার এর পারিভাষিক অর্থ সম্পর্কে দুটি মত রয়েছে।

ক) আসার হাদীস এর সামর্থক শব্দ, আসার এবং খবর এর মধ্যে কোন পার্থক্য নেই, উভয় একই অর্থে ব্যবহার হয়।

খ) আসার হাদীস এর বিপরীতার্থক শব্দ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা বর্ণিত,  তাকে হাদীস বলে । আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  ছাড়া  সাহাবা ও তাবেঈদের নিকট থেকে যা বর্ণিত তাকে আসার বলে।

১৪. প্রশ্ন:   রাবী (الراوي) কাকে বলে?

উত্তরঃ যিনি হাদীস বর্ণনা করেন তাকে রাবী (বর্ণনাকারী) বলা হয়

১৫. প্রশ্ন: সনদ (السند) কি?

উত্তরঃ হাদীসের কথা টুকু যে সূত্রে পরস্পরায় গ্রন্থ সংকলনকারী পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে সনদ বলে।

১৬. প্রশ্ন: সনদ এর গুরুত্ব সম্পর্কে বিখ্যাত মুহাদ্দিসগণের কি বলেছেন? তাদের কয়েকটি উল্লেখ কর।

উত্তর: সনদ এর গুরুত্ব সম্পর্কে মুহাম্মদ ইবনে সীরীন বলেন

إن هذا العلم دين، فانظروا عمن تأخذون دينكم

নিশ্চয়ই সনদ দ্বীন এর অংশ, অতএব পরখ করে দেখ, কার থেকে তোমরা দ্বীন গ্রহণ করছ।

বিখ্যাত মুহাদ্দিস আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক বলেন

الإسناد من الدين ولولا الإسناد لقال من شاء ماشاء

সনদ দ্বীনের অংশ, যদি সনদ না থাকত তাহলে যে যা চাইত তা-ই বলত।

১৭. প্রশ্ন: সনদ (السند)কত প্রকার ও কি কি?

সনদ দু প্রকার। ১) আলি (উঁচু) সনদ (السند العالي)

২) নাযিল (নিচু বা নিম্নগামী) সনদ (السند النازل)

১৮. প্রশ্ন: আলি (উঁচু) সনদ কাকে বলে?

উত্তর: আলি (উঁচু) সনদ: কম রাবীর বিশিষ্ট সনদ কে আলী সনদ বলে। অর্থাৎ লেখক মুহাদ্দিস থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত সনদে যদি রাবীর সংখ্যা কম হয়, তবে ওই সনদ কে আলী সনদ বলে। যেমন - প্রসিদ্ধ মুয়াত্তা গ্রন্থে ইমাম মালিক বলেন

عن نافع عن ابن عمرعن النبي صلى الله عليه وسلم

১৯. প্রশ্ন: নাযিল (নিচু) সনদ এর সংজ্ঞা কি?

উত্তর: নাযিল (নিচু) সনদ। নাযিল এর আভিধানিক অর্থ: নিম্নগামী। আর পারিভাষিক অর্থে: ওই সনদকে নিম্নগামী বা নাযিল বলা হয়, যে সনদে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে রাবীর দূরত্ব অধিক।

২০. প্রশ্ন:   মতন (المتن)কাকে বলে?

উত্তরঃ হাদীসের মূলকথা ও তার শব্দ সমষ্টিকে মতন বলে।

২১.প্রশ্ন:সাহাবী (الصحابي)কাকে বলে?

উত্তরঃ সাহাবী বলা হয় ওই সকল সৌভাগ্যবান ব্যক্তিবর্গকে, যাঁরা ঈমানের সহিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  এর সাথে সাক্ষাত লাভ করেন এবং ঈমানের উপর অটল থেকে মৃত্যু বরণ করেছেন

২২.প্রশ্ন: তাবেয়ী (التابعي) কাকে বলে?

উত্তরঃ তাবেয়ী বলা হয় ওই সকল সৌভাগ্যবান ব্যক্তিবর্গকে, যাঁরা ঈমানের সহিত কোনো সাহাবী রা. কে অন্ততপক্ষে দেখেছেন এবং ঈমানের উপর অটল থেকে মৃত্যু বরণ করেছেন

২৩.প্রশ্ন: মারফূ হাদীস (الحديث المرفوع) কাকে বলে?

উত্তরঃ যে হাদিসের সনদ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে মারফু বলা হয়। অর্থাৎ যে হাদীসটি নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর কথা, কাজ বা সমর্থন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে তাকে মারফূ হাদীস বলে

২৪.প্রশ্ন: মাওকূফ হাদীস (الحديث الموقوف) কাকে বলে?

উত্তরঃ যে হাদিসের সনদ কোনো সাহাবা পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে মাকুফ বলা হয়। অর্থাৎ যে হাদীসটি কোন সাহাবীর কথা, কাজ বা সমর্থন বলে উল্লেখ করা হয়েছে, তাকে মাওকূফ হাদীস বলে।

২৫.প্রশ্ন: মাকতূ হাদীস (الحديث المقطوع) কাকে বলে?

উত্তরঃ যে হাদিসের সনদ কোন তাবেঈ পর্যন্ত পৌঁছেছি তাকে মাকতূ হাদিস বলা হয়। অর্থাৎ যে হাদীসটি কোন তাবেঈর কথা, কাজ বা সমর্থন বলে উল্লেখ করা হয়েছে, তাকে মাক্বতূ হাদীস বলে।

২৬.প্রশ্ন: আমাদের নিকট পৌঁছার দিক থেকে হাদিস কয় প্রকার ও কি কি?

উঃ আমাদের নিকট পৌঁছার দিক থেকে হাদিস দু প্রকার, তা হলো নিম্নরূপ:

১) মতাওয়াতির (متواتر)  ২) আহাদ

২৭.প্রশ্ন:মতাওয়াতির হাদীস এর সংজ্ঞা কি?

উত্তরঃ যে হাদিসের বর্ণনা কারীদের সংখ্যা এত বেশি যে তাঁদের মিথ্যার উপর ঐক্যমত্য হওয়ার ধারণা করা যায় না, এবং বর্ণনার এই ধারাবাহিকতা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বহাল থাকে।

২৮.প্রশ্ন:আহাদ (الآحاد)হাদীস কাকে বলে?

উত্তরঃ  প্রত্যেক যুগে এক, দুই অথবা তিন জন রাবি কর্তৃক বর্ণিত হাদিসকে আহাদ বলা হয়, এক কথায় যে রিওয়ায়াত  মুতাওয়াতির এর শর্তে উত্তীর্ণ নয়, তাকে আহাদ বলে।

২৯.প্রশ্ন:আহাদ হাদীস কত প্রকার ও কি কি?

উত্তরঃ আহাদ হাদীস তিন প্রকার, যথা: ১) মাশহুর ২) আজিজ ৩) গরীব

৩০.প্রশ্ন:মাশহুর (المشهور)হাদীস কাকে বলে?

উত্তরঃ প্রত্যেক যুগে অন্ততপক্ষে তিনজন রাবী বর্ণনা করেছেন এমন সহীহ হাদীস কে মাশহুর বলা হয়।

৩১.প্রশ্ন:আযীয (العزيز)হাদীস এর সংজ্ঞা কি?

উত্তরঃ যে সহীহ হাদীস প্রত্যেক যুগে অন্ততপক্ষে দুই জন রাবী বর্ণনা করেছেন তাকে আযীয বলা হয়।

৩২.প্রশ্ন:গরীব (الغريب)হাদীস কাকে বলে?

উত্তরঃ যে সহীহ হাদীস কোনো যুগে মাত্রও একজন রাবী বর্ণনা করেছেন, তাঁকে গরীব হাদীস বলা হয়।

৩৩.প্রশ্ন: গরীব হাদীস কয় ভাগে বিভক্ত?

উত্তরঃ গরীব হাদীস দুই ভাগে বিভক্ত,

১) গরীব মুতলাক (الغريب المطلق)

২) গরীব নিসবী (الغريب النسبي)

৩৪. প্রশ্ন: শক্তিশালী এবং দুর্বলতার দিক থেকে হাদীস কয় প্রকার ও কি কি?

উত্তরঃ শক্তিশালী এবং দুর্বলতার দিক থেকে হাদীসদুইপ্রকারঃ     

১) মাকবূল (গ্রহণযোগ্য) হাদীস (الحديث المقبول)          ২) মারদূদ (অগ্রহণযোগ্য) হাদীস (الحديث المردود)

৩৫. প্রশ্ন: মাকবূল হাদীস (الحديث المقبول) কত প্রকার?

উত্তরঃ মাকবূল হাদীস দুপ্রকারঃ                ১)সহীহ হাদীস                   ২) হাসান হাদীস

৩৬. প্রশ্ন: সহীহ  হাদীস (الحديث الصحيح) কয় প্রকার ও কি কি?

উত্তরঃ সহীহ হাদীস দুপ্রকারঃ  ১) সহীহ লিজাতিহি  (الصحيح لذاته)       ২) সহীহ লি গাইরিহি (الصحيح لغيره)

৩৭. প্রশ্ন: সহীহ লিজাতিহি  (الصحيح لذاته) কাকে বলে?

উত্তরঃ যে হাদীসটি নির্ভরযোগ্য ও পূর্ণ স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন, উহার সনদ পরস্পর সম্পৃক্ত, তার মধ্যে গোপন কোন ত্রুটি নেই এবং উহা শাযও (তথা অন্য কোন অধিকতর নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর বর্ণনার বিরোধী) নয় তাকে সহীহ লিজাতিহি বলে।

৩৮. প্রশ্ন: সহীহ লি যাতিহি  (الصحيح لذاته) হাদীস এর উদাহরণ দাও।

উত্তর: সহীহ লি যাতিহি হাদীস এর উদাহরণ:

قال الإمام محمد بن اسماعيل البخاري حَدَّثَنَا  عَبْدُ  اللَّهِ  بْنُ  يُوسُفَ،  قَالَ  أَخْبَرَنَا  مَالِكٌ،  عَنِ  ابْنِ  شِهَابٍ،  عَنْ  مُحَمَّدِ  بْنِ  جُبَيْرِ  بْنِ  مُطْعِمٍ،  عَنْ  أَبِيهِ،  قَالَ  سَمِعْتُ  رَسُولَ  اللَّهِ  صلى  الله  عليه  وسلم  قَرَأَ  فِي  الْمَغْرِبِ  بِالطُّورِ‏ (الصحيح للبخاري رقم الحديث ٧٦٥)

৩৯. প্রশ্ন: সহীহ লি গাইরিহি (الصحيح لغيره) এর সংজ্ঞা কি?

উত্তরঃ সহীহ লিগাইরিহি প্রকৃতপক্ষে ওই হাসান লিযাতিহি হাদীস কে বলা হয়, যা অনুরূপ আরো একটি সূত্রে, কিংবা তার চেয়ে অধিক শক্তিশালী সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। তবে যেহেতু এটি সনদ হিসেবে নয়, বরং অন্য একটি রিওয়ায়াত এর কারণে সহীহর মানে উন্নীত হয়েছে, তা একে সহীহ লিগাইরিহী (অন্যের কারণে সহীহ) বলা হয়।

৪০. প্রশ্ন: হাদীস সহীহ লি গাইরিহি (الصحيح لغيره)  এর উদাহরণ দাও।

উত্তর: হাদীস সহীহ লি গাইরিহি এর উদাহরণ:

قال الإمام أبو عيسى محمد بن عيسى الترمذي حَدَّثَنَا  أَبُو  كُرَيْبٍ،  حَدَّثَنَا  عَبْدَةُ  بْنُ  سُلَيْمَانَ،  عَنْ  مُحَمَّدِ  بْنِ  عَمْرٍو،  عَنْ  أَبِي  سَلَمَةَ،  عَنْ  أَبِي  هُرَيْرَةَ،  قَالَ  قَالَ  رَسُولُ  اللَّهِ  صلى  الله  عليه  وسلم    "‏  لَوْلاَ  أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي  لأَمَرْتُهُمْ  بِالسِّوَاكِ  عِنْدَ  كُلِّ  صَلاَةٍ  (السنن للترمذي رقم الحديث: ٢٢)

৪১. প্রশ্ন: হাসান  হাদীস (الحديث الحسن)কয় প্রকার ও কি কি?

উত্তরঃ হাসান হাদীস দুপ্রকারঃ   ১) হাসানলিজাতিহি  (الحسن لذاته)     ২) হাসান লি গাইরিহি (الحسن لغيره)

৪২. প্রশ্ন: হাসান লিজাতিহি (الحسن لذاته) এর সংজ্ঞা কি?

উত্তরঃ যার সনদ মুত্তাসিল (পরস্পর সম্পৃক্ত) সকল রাবি আদিল (নির্ভরযোগ্য) কিন্তু (خفيف الضبط) স্মৃতি শক্তি হালকা রাবী দ্বারা বর্ণিত এবং শায ও ইলাল মুক্ত,  তাকে হাসান লিজাতিহি বলা হয়

৪৩. প্রশ্ন: হাসান লি যাতিহি (الحسن لذاته) হাদীস এর উদাহরণ দাও।

উত্তর: হাসান লি যাতিহি হাদীস এর উদাহরণ:

قال الإمام أبو عيسى محمد بن عيسى الترمذي حَدَّثَنَا  قُتَيْبَةُ،  حَدَّثَنَا  جَعْفَرُ  بْنُ  سُلَيْمَانَ  الضُّبَعِيُّ،  عَنْ  أَبِي  عِمْرَانَ  الْجَوْنِيِّ،  عَنْ  أَبِي  بَكْرِ  بْنِ  أَبِي  مُوسَى  الأَشْعَرِيِّ،  قَالَ  سَمِعْتُ  أَبِي  بِحَضْرَةِ  الْعَدُوِّ،  يَقُولُ  قَالَ  رَسُولُ  اللَّهِ  صلى  الله  عليه  وسلم    "‏  إِنَّ  أَبْوَابَ  الْجَنَّةِ  تَحْتَ ظِلاَلِ السُّيُوفِ  (السنن للترمذي رقم الحديث: ١٦٥٩)

৪৪. প্রশ্ন: হাসান লি গাইরিহি  (الحسن لغيره) এর সংজ্ঞা কি?

উত্তরঃ হাসান লিগাইরিহি ওই যঈফ রিওয়ায়াত কে বলা হয়, যা বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু এর দুর্বলতার কারণ রাবীর ফিসক অথবা মিথ্যাচারিতা নয়।

আর হাদীস দুর্বল হওয়ার কারণ যদি হয় রাবির ফিসকঅথবা মিথ্যাচারিতা, তবে ওই দুর্বল হাদীস কখনো যঈফ এর স্তর থেকে হাসান লি গাইরিহি পর্যায়ে উন্নীত হবেনা।

৪৫. প্রশ্ন: হাদীস হাসান লি গাইরিহি  (الحسن لغيره) এর উদাহরণ দাও।

উত্তর: হাদীস হাসান লি গাইরিহি এর উদাহরণ:

قال الإمام أبو عيسى محمد بن عيسى الترمذي حَدَّثَنَا  مُحَمَّدُ  بْنُ  بَشَّارٍ،  حَدَّثَنَا  يَحْيَى  بْنُ  سَعِيدٍ،  وَعَبْدُ  الرَّحْمَنِ  بْنُ  مَهْدِيٍّ،  وَمُحَمَّدُ  بْنُ  جَعْفَرٍ،  قَالُوا  حَدَّثَنَا  شُعْبَةُ،  عَنْ  عَاصِمِ  بْنِ  عُبَيْدِ  اللَّهِ،  قَالَ  سَمِعْتُ  عَبْدَ  اللَّهِ  بْنَ  عَامِرِ  بْنِ  رَبِيعَةَ،  عَنْ  أَبِيهِ،  أَنَّ  امْرَأَةً،  مِنْ  بَنِي  فَزَارَةَ تَزَوَّجَتْ عَلَى نَعْلَيْنِ  فَقَالَ  رَسُولُ  اللَّهِ  صلى  الله  عليه  وسلم    "‏  أَرَضِيتِ  مِنْ  نَفْسِكِ  وَمَالِكِ  بِنَعْلَيْنِ  ‏"‏ .‏  قَالَتْ  نَعَمْ  ‏.‏  قَالَ  فَأَجَازَهُ  ‏.‏   (السنن للترمذي رقم الحديث: ١١١٣)

৪৬. প্রশ্ন: সহীহ হাদীস (الحديث الصحيح) কত স্তরে বিভক্ত?

উত্তর: সহীহ হাদীস সাত স্তরে বিভক্ত, যথা-

প্রথম স্তর: সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিম গ্রন্থে বর্ণিত হাদীস।

দ্বিতীয় স্তর: শুধু সহীহ আল বুখারী গ্রন্থে বর্ণিত হাদীস।

তৃতীয় স্তর: শুধু সহীহ মুসলিম গ্রন্থে বর্ণিত হাদীস।

চতুর্থ স্তর: সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিম এর শর্ত মোতাবেক হাদীস।

পঞ্চম স্তর: শুধু সহীহ আল বুখারী গ্রন্থের শর্ত মোতাবেক হাদীস।

ষষ্ঠ স্তর: শুধু সহীহ মুসলিম গ্রন্থের শর্ত মোতাবেক হাদীস।

সপ্তম স্তর: অন্যান্য মুহাদ্দিস এর শর্ত মোতাবেক সহীহ হাদীস।

৪৭. প্রশ্ন: যঈফ ও দুর্বল (الضعيف) রিওয়ায়াত কখন যঈফ থেকে হাসান লি গাইরিহি স্তরে উন্নীত হয়?

উত্তরঃ যঈফ (দুর্বল) রিওয়ায়াত নিম্নের দুটি কারণের যেকোনো একটির ভিত্তিতে যঈফ থেকে হাসান লি গাইরিহি স্তরে উন্নতি হতে পারে।

১) রিওয়ারাতটি ওই যঈফ সনদ ব্যতীত অনুরূপ অথবা তার চেয়ে শক্তিশালী এক বা একাধিক সূত্রে বর্ণিত হলে।

২) হাদীস দুর্বল হওয়ার কারণ যদি হয় রাবীর স্মৃতির শক্তি দুর্বলতা, কিংবা সনদ বিচ্ছিন্ন হওয়া, অথবা রাবী অপরিচিত হওয়া।

৪৮. প্রশ্ন: মারদূদ (অগ্রহণযোগ্য) হাদীস কত প্রকার ও কি কি?

উত্তরঃ দুপ্রকারঃ                 ১)যঈফ (দুর্বল) হাদীস         ২)জাল (বানোয়াট) হাদীস

৪৯. প্রশ্ন: কোনো হাদীস মারদূদ (অগ্রহনযোগ্য) হওয়ার কারণসমূহ মূলত কত ধরনের হয় ও কি কি?

উত্তরঃ কোনো হাদীস মারদূদ (অগ্রহনযোগ্য) হওয়ার কারণসমূহ মূলত দুই ধরনের হয়ে থাকে,যথা: ১) সনদের দুর্বলতার কারণে মারদূদ (অগ্রহনযোগ্য)   

২) রাবীর দুর্বলতার কারণে মারদূদ (অগ্রহনযোগ্য)

৫০. প্রশ্ন:  সনদের দুর্বলতার কারণে মারদূদ (অগ্রহনযোগ্য)

উত্তরঃ যেমন: মুআল্লাক, মুরসাল, মুঈযল, মুনকাতি, মুদাল্লাস, মুআনআন ইত্যাদি।

৫১. প্রশ্ন:  মুআল্লাক (المعلق) হাদীস কাকে বলে?

উত্তরঃ সনদের মধ্যে ইনকিতা  (বিচ্ছিন্নতা) প্রথম দিকে হলে (অর্থাৎ সাহাবীর পর এক অথবা একাধিক রাবীর নাম বাদ পড়লে) তাকে মুআল্লাক বলা হয়।

৫২. প্রশ্ন:   মুরসাল (المرسل) হাদীস এর সংজ্ঞা কি?

উত্তরঃ যে হাদিসের সনদে বিচ্ছিন্নতা শেষের দিকে রয়েছে (অর্থাৎ রাবীর নাম বাদ পড়েছে এবং সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উল্লেখ করে হাদিস বর্ণনা করা হয়েছে) তাকে মুরসাল হাদীস বলে।

৫৩. প্রশ্ন: সাহাবীর মুরসাল (مرسل الصحابي) হাদীস এর হুকুম কি?

উত্তর: প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী সাহাবীর মুরসাল রিওয়ায়াত সহীহ এবং গ্রহণযোগ্য।

৫৪. প্রশ্ন: মুঈযল (الموضوع)হাদীস কাকে বলে

উত্তরঃ যে হাদীসের সনদে পরস্পর দুই অথবা একাধিক রাবী বিচ্ছিন্ন ও বাদ পড়েছে, তাকে মুঈযল হাদীস বলে?

৫৫. প্রশ্ন: মুনকাতি (المنقطع) হাদীস এর সংজ্ঞা কি?

উত্তরঃ মুনকাতে: যে হাদিসের সনদের ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয়নি, মাঝখানে কোন এক স্তরে কোন রাবির নাম বাদ পড়েছে, তাকে মুনকাতি হাদীস বলা হয়।

৫৬. প্রশ্ন:  মুদাল্লাস (المدلس) হাদীস কাকে বলে?

উত্তরঃ যে হাদিসের রাবি নিজেই প্রকৃত উস্তাদ এর নাম উল্লেখ না করে, তার উপরস্থ শিক্ষকের নামে এভাবে হাদীস বর্ণনা করেন, যাতে মনে হয় যে তিনি নিজেই উপরস্থ শিক্ষকের নিকট তা শুনেছেন, অথচ তিনি তাঁর নিকট হাদীস শুনেননি এই ধরনের হাদীসকে মুদাল্লাস হাদীস বলে।

৫৭. প্রশ্ন:  মুআনআন (المعنعن) হাদীস কাকে বলে?

উত্তরঃ যে হাদীসটি  عن فلان عن فلان শব্দ দ্বারা বর্ণনা করা হয়েছে। তাকে মুআন আন হাদীস বলে।

৫৮. প্রশ্ন:  রাবী অভিযুক্ত হওয়ার কারণসমূহ কয়টি ও কয় ভাগে বিভক্ত?

উত্তরঃ রাবী অভিযুক্ত হওয়ার কারণসমূহ ১০টি এবং দুই ভাগে বিভক্ত। ১) রাবীর আদালত (ন্যায়পরায়ণতা) সম্পৃক্ত। ২) রাবীর যবত (সংরক্ষণ শক্তি) সম্পৃক্ত।

৫৯. প্রশ্ন:  রাবী অভিযুক্ত হওয়ার ১০টি কারণসমূহ এর মধ্য থেকে রাবীর আদালত (ন্যায়পরায়ণতা) সম্পৃক্ত কারণসমূহ কয়টি ও কি কি?

উত্তরঃ পাঁচটি। তা নিম্নরূপ:

১)  الكذب : মিথ্যা বলা।

২)التهمة بالكذب মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়া।

৩) الفسق গুনাহর কাজ করা।

৪) البدعة বিদআতপন্থী হওয়া।

৫)الجهالة : অজ্ঞাত পরিচয় হওয়া।

৬০. প্রশ্ন:  রাবী অভিযুক্ত হওয়ার ১০টি কারণসমূহ এর মধ্য থেকে রাবীর যবত (সংরক্ষণ শক্তি) সম্পৃক্ত কারণসমূহ কয়টি ও কি কি?

উত্তরঃ পাঁচটি। তা নিম্নরূপ:

১)فحش الغلط অধিক ভুল ভ্রান্তি হওয়া।

২) سوء الحفظ : স্মৃতিশক্তি খারাপ হওয়া।

৩) الغفلة : অমনোযোগী হওয়া।

৪) كثرة الأوهام : অধিক সন্দেহ পরায়ণ হওয়া।

৫) مخالفة الثقات: সিকাহ রাবীদের বিপরীত রিওয়ায়াত করা।

৬১. প্রশ্ন: রাবীর দুর্বলতার কারণে মারদূদ (অগ্রহনযোগ্য) হাদীসের উদাহরণ দাও।

উত্তরঃ যেমন: মাওযু, মুনকার, মাতরুক ইত্যাদি।

৬২. প্রশ্ন:  মাওযু ও জাল (الموضوع) হাদীস কাকে বলে?

উত্তরঃ যে কথাটি মানুষ তৈরী করেছে, অতঃপর তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নামে চালিয়ে দেয়া হয়েছে, তাকে মাওযু (জাল)  হাদীস বলে

৬৩. প্রশ্ন: জাল হাদিস বর্ণনা করা অবৈধ।  কিন্তু কেউ যদি রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম এর পক্ষে জাল হাদীস রচনা করে, তবে কি বৈধ হবে?

উত্তর: জি, না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিরুদ্ধে ও পক্ষে উভয় ক্ষেত্রেই জাল হাদীস রচনা করা অবৈধ।

৬৪. প্রশ্ন: জাল বা মাওযূ হাদীস রচনার কয়েকটি কারণসমূহ বর্ননা কর।

উত্তর: জালবা মাওজু হাদিস রচনার একাধিক কারণ রয়েছে, এখানে কয়েকটি উল্লেখ করা হলো:

ক) আল্লাহর নৈকট্য অর্জন: লোকদেরকে নেক কাজে উৎসাহিত এবং খারাপ ও অশ্লীল কাজে ভয়-ভীত করা।

খ) বিশেষ দল, মাযহাব ও মত এর সমর্থনে।

গ) ইসলাম এর সমালোচনা ও শত্রুতা।

ঘ) শাসকদের নৈকট্য লাভ করা।

ঙ) অর্থ উপার্জন।

চ) প্রসিদ্ধি লাভের জন্য। ইত্যাদি।

৬৫. প্রশ্ন: জাল ( মাওযু) হাদীস চেনার পদ্ধতি কি? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর: সনদ ও মতন উভয় থেকে জাল হাদীস চেনা যায়। যেমন - খোদ হাদীস রচনাকারীর স্বীকারোক্তি।

খ) কোনো রাবীর জন্ম ও মৃত্যু ব্যবধান প্রমান করে তাদের সাক্ষাৎ অসম্ভব।

গ) সনদে মিথ্যা রাবীর উপস্থিতি। ইত্যাদি।

অনুরূপ মতন থেকেও হাদীস জাল  চেনা যায়। যথা - মুহাদ্দিসগণ অনেক সময় হাদীস এর শব্দ ও অর্থ দেখে জাল হাদীস নির্নয় করে থাকেন। যেমন- মতন পবিত্র আল কোরআন অথবা মুতাওয়াতির হাদীস অথবা ইজমা বিরোধী, অথবারাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগের ঐতিহাসিক বাস্তবতার বিপরীত অথবা ইসলামে স্বীকৃত নীতির বিরোধী হওয়া। ইত্যাদি।

৬৬. প্রশ্ন: মাতরুক (المتروك) হাদীস কাকে বলে?

উত্তরঃ কোন হাদিসের সনদে যদি মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত ( متهم بالكذب)  রাবী থাকে, ঐ হাদীসটিকে মাতরুক বলে।

৬৭. প্রশ্ন: মুনকার  (المنكر) হাদীস কাকে বলে?

উত্তরঃ যদি কোন যঈফ রাবির বর্ণিত হাদীস কোন মাকবুল (গ্রহণযোগ্য) রাবির বর্ণিত হাদীসের বিরোধী হয় তবে ঐ যঈফ রাবীর বর্ণিত হাদীসটিকে মুনকার হাদীস বলা হয়।

৬৮. প্রশ্ন: মারুফ (المعرووف) হাদীস কাকে বলে?

উত্তরঃ মারুফ ওই হাদিসকে বলা হয়, যে হাদীসটি সিকা রাবী যঈফ রাবীর বর্ণিত হাদিসের বিরোধী।

৬৯. প্রশ্ন:  শায (الشاذ) এর সংজ্ঞা কি?

উত্তর: শায এর আভিধানিক অর্থ: একাকী, বিচ্ছিন্ন, দলছুট ইত্যাদি। আর উসুলে হাদীস এর পারিভাষিক অর্থে:  একাধিক সেকাহ রাবীর বিপরীত একজন সেকাহ রাবীর বর্ণনা কে শায বলা হয়।

৭০. প্রশ্ন:  মাহফুজ (المحفوظ) হাদীস কাকে বলে?

উত্তর: অধিক সেকাহ রাবী অথবা একাধিক সেকাহ রাবী যদি কোনো সেকাহ রাবীর বিপরীত  বর্ণিত রিওয়ায়াত কে মাহফুজ বলা হয়।

৭১. প্রশ্ন: শায এবং মাহফুজ রিওয়ায়াত এর মধ্যে পার্থক্য কি?

উত্তর: একজন সেকাহ ( বিশ্বস্ত ব্যক্তি) যখন একাধিক সেকাহ (বিশ্বস্ত ব্যক্তিবর্গ) রাবীর বিপরীত বর্ণনা করে, তার এই বর্ণিত হাদীসকে শায বলা হয়। আর একাধিক সেকাহ (বিশ্বস্ত ব্যক্তিবর্গ) যখন কোনো একজন সেকাহ ( বিশ্বস্ত ব্যক্তি) র বিপরীত রিওয়ায়াত করে, তাদের বর্ণিত হাদীসকে মাহফুজ বলে। মাহফুজ রিওয়ায়াত মাকবুল (গ্রহণযোগ্য) এবং শায রিওয়ায়াত মাকবুল নয় (অগ্রহণযোগ্য)।

৭২. প্রশ্ন:  মুনকার এবং শায এর মধ্যে পার্থক্য কি?

উত্তর: মুনকার ও শাষ-এর পার্থক্য:-  গ্রহণীয় রাবী যদি তার চেয়েও অধিক শক্তিশালী রাবীর বিপরীত রিওয়ায়াত করে, তবে তাকে শায বলা হয়। আর সিকাহ্ রাবীর বিপরীতে যঈফ রাবীর রিওয়ায়াতকে বলা হয় মুনকার। সুতরাং বোঝা যাচ্ছে সিকাহ রাবীর বৈপরীত্যের ক্ষেত্রে উভয়ের মধ্যে মিল রয়েছে। উভয়ের মধ্যে পার্থক্য হলো: শাষ রিওয়ায়াত এর রাবী গ্রহণীয় আর মুনকার রিওয়ায়াতের রাবী দুর্বল।

৭৩. প্রশ্ন: মুআল্লাল (المعلل) কাকে বলে?

উত্তরঃ মুআল্লাল হাদীস: যে হাদীসের মধ্যে গোপন দোষ রয়েছে, কিন্তু উপর দোষমুক্ত। তাকে মুআল্লাল বলা হয়।

৭৪. প্রশ্ন: মুদরাজ (المدرج) দ্বারা কি বুঝায়?

উত্তরঃহাদীস এর সনদ অথবা মতনে বিনা কোনো পার্থক্যে রাবীর পক্ষ থেকে বৃদ্ধিকে মুদরাজ বলে।

৭৫. প্রশ্ন: যঈফ (দুর্বল) হাদীস কাকে বলে?

উত্তরঃ যঈফ (দুর্বল) ওই হাদীসকে বলা হয়, যে হাদীসটি সহীহ হাদীস এবং হাসান পর্যায়ের  হাদীসের গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্য থেকে নিম্ন স্তরে।

৭৬. প্রশ্ন: যঈফ (দুর্বল) হাদীসের উপর আমল করার হুকুম কি?

উত্তরঃ যঈফ (দুর্বল) হাদীসের উপর আমল করা উচিত নয়।

৭৭. প্রশ্ন: কোন হাদীস সহীহ লি যাতিহি (الصحيح لذاته) হওয়ার জন্য কয়টি শর্ত থাকা জরুরি?

উত্তরঃকোন হাদীস সহীহ হওয়ার জন্য মূলত পাঁচটি শর্ত থাকা জরুরী, যথা:

১) إتصال السند সনদ মুত্তাসিল (পরস্পর সম্পৃক্ত) হওয়া

২) عدالة الرواة রাবির আদিল (ন্যায়পরায়ণ) হওয়া।

৩) ضبط الرواة রাবি পূর্ণ সংরক্ষণ শক্তি সম্পন্ন হওয়া।

৪)  عدم العلة মুআল্লাল না হওয়া।

৫) عدم الشذوذ শায না হওয়া।

উল্লিখিত পাঁচটি শর্তের মধ্যে কোন একটি শর্ত যদি কোন হাদীসে অনুপস্থিত থাকে, তবে তাকে সহীহ লি যাতিহিহাদীস বলা যাবে না।

৭৮. প্রশ্ন: যাবত ضبط কত প্রকার ও কি কি?

উঃ যাবত মূলতঃ দু প্রকার হয়, যথা- ১) ضبط بالصدر স্মৃতি শক্তির যাবত ২) ضبط بالكتابة খাতায় লিখে যাবত।

৭৯. প্রশ্ন: মুতাবে (المتابع) কাকে বলে?

উত্তরঃ এক রাবির হাদিসের অনুরূপ (শব্দ ও অর্থ উভয়ে অথবা শুধু অর্থে) যদি অপর রাবীর কোন হাদিস পাওয়া যায়,  তবে দ্বিতীয় রাবীর হাদিসকে প্রথম রাবীর হাদিসের মুতাবি বলা হয়, যদি উভয় হাদিসের মূল রাবী অর্থাৎ সাহাবী একই ব্যক্তি হন।

৮০. প্রশ্ন: শাহিদ (الشاهد ) কাকে বলে?

উত্তরঃ এক রাবির হাদিসের অনুরূপ (শব্দ ও অর্থ উভয়ে অথবা শুধু অর্থে) যদি অপর রাবীর কোন হাদিস পাওয়া যায়,  তবে দ্বিতীয় রাবীর হাদিসকে প্রথম রাবীর হাদিসের শাহিদ বলা হয়, যদি উভয় হাদিসের মূল রাবী অর্থাৎ সাহাবী একই ব্যক্তি না হন।

৮১. প্রশ্ন: মুহকাম (المحكم) হাদীস এর সংজ্ঞা কি?

উঃ মুহকাম হাদীস এর আভিধানিক অর্থ: মযবুত। আর এর পারিভাষিক অর্থ: ওই মাকবুল (গ্রহণযোগ্য) হাদীস কে মুহকাম বলা হয়, যা অনুরূপ হাদীস এর বিরোধিতা থেকে মুক্ত।

৮২. প্রশ্ন: মুখতালাফুল হাদীস (مختلف الحديث) এর সংজ্ঞা কি?

উঃ ঐ মাকবুল হাদীস কে মুখতালাফুল হাদীস বলা হয়, যা অনুরূপ হাদীস এর সাথে শব্দ অথবা মর্মার্থের নিরিখে পারস্পরিক দ্বন্দ্বযুক্ত। তবে হাদিসের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা সম্ভব।

৮৩. প্রশ্ন: মাকলুব (المقلوب) কাকে বলে? মাকলুব কত প্রকার ও কি কি?

উত্তর: মাকলুব এর আভিধানিক অর্থ: উলটো।মাকলুব হাদীস মূলত দু প্রকার হয়। ১) সনদ এর মধ্যে কালব (উল্টো)। যদি সনদ এর মধ্যে উলট-পালট হয়ে থাকে তবে থাকে মাকলুবুস সনদ (مقلوب السند) বলে। ২) মতন এর মধ্যে কালব (উল্টো)। যদি হাদীস এর মতন এর মধ্যে উলট-পালট হয়ে থাকে তবে থাকে মাকলুবুল মতন (مقلوب المتن) বলে।

৮৪. প্রশ্ন: মুযতারিব (المضطرب) হাদীস কাকে বলে?

উত্তর: ইযতিরাব এর আভিধানিক অর্থ: অমিল ও ইখতিলাফ। আর পারিভাষিক অর্থে: সমান শক্তিশালী একাধিক সনদ অথবা মতন এর বৈপরীত্য বা অমিল কে উসুলে হাদীস এর পরিভাষায় ইযতিরাব বলা হয়। যেগুলোর মাঝে সমন্বয় করা কিংবা কোন একটিকে  প্রাধান্য দেওয়া সম্ভব নয়।

৮৫. প্রশ্ন: মুহাদ্দিস (المحدث) কাকে বলে?

উত্তরঃ যে ব্যক্তি হাদীস চর্চা করেন এবং বহু সংখ্যক হাদীসের সনদ ও মতন সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন তাকে মুহাদ্দিস বলে।

৮৬. প্রশ্ন: হাফিজ (الحافظ) কাকে বলে?

উত্তরঃ যিনি সনদ ও মতনের বৃত্তান্ত সহ ১ লাখ হাদিস আয়ত্ত করেছেন তাকে হাফেজ বলা হয়।

৮৭. প্রশ্ন: হুজ্জাত (الحجة) কাকে বলে?

উত্তরঃ যিনি সনদ ও মতনের বৃত্তান্ত সহ ৩ লক্ষ্য হাদিস আয়ত্ত করেছেন তাকে হুজ্জাত বলা হয়।

৮৮. প্রশ্ন: হাকিম (الحاكم) কাকে বলে?

উত্তরঃ যিনি সনদ ও মতনের বৃত্তান্ত সহ সকল হাদীস আয়ত্ত করেছেন।

৮৯. প্রশ্ন: সাহাবা রাযিয়াল্লাহু আনহুম দের মাঝে مكثرين في الحديث অধিক হাদীস রিওয়ায়াতকারী কয়জন সাহাবী ছিলেন এবং তাদের নাম কি?

উত্তরঃ সাহাবা রাযিয়াল্লাহু আনহুম দের মাঝে مكثرين في الحديث অধিক হাদীস রিওয়ায়াতকারী সাহাবীদের সংখ্যা ছিল ৬জন। তাদের নাম নিম্নরূপ:

১) আবু হুরাইরাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু

২) আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা

৩)আনাস ইবনে মালিক রাযিয়াল্লাহু আনহু

৪) আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা

৫) আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা

৬) জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাযিয়াল্লাহু আনহুমা

৯০. প্রশ্ন:  পুরুষদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী হাদীস বর্ণনাকারী কে?

উত্তরঃ হযরত আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু

৯১. প্রশ্ন:  মহিলাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী হাদীস বর্ণনা কে করেছেন ?

উত্তরঃ হযরত আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা

৯২. প্রশ্ন:  হযরত আবু হুরাইরাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা কত?

উত্তরঃ ৫৩৭৪টি

৯৩. প্রশ্ন:  আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা কত?

উত্তরঃ ২৬৩০টি

৯৪. প্রশ্ন:  হযরত আনাস ইবনে মালিক রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা কত?

উত্তরঃ ২২৮৬টি

৯৫. প্রশ্ন:  হযরত আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা কত?

উত্তরঃ ২২১০টি

৯৬. প্রশ্ন:  আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা কত?

উত্তরঃ ১৬৬০টি

৯৭. প্রশ্ন:  হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা কত? 

উত্তরঃ ১৫৪০টি।

৯৮. প্রশ্ন:  "আবাদিলা (العبادلة)"  বলতে সাহাবীদের মধ্যে কাদেরকে বুঝানো হয়?

উত্তরঃ উসুলে হাদিস শাস্ত্রে "আবাদিলা"  দ্বারা চারজন বিশিষ্ট সাহাবী কে বুঝানো হয়, তাঁরা হলেন:

১) আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাযিয়াল্লাহু আনহুমা।

২) আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা।

৩) আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা।

৪) আব্দুল্লাহ ইবনে আমর বিন আস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা।

৯৯. প্রশ্ন:  সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবা ছিলেন কারা?

উত্তরঃ ১) স্বাধীন পুরুষদের মধ্যে আবু বকর সিদ্দীক রাযিয়াল্লাহু আনহু

(২) বালকদের মধ্যে আলী ইবনে আবী তালিব রাযিয়াল্লাহু আনহু

৩) নারীদের মধ্যে উম্মুল মুমিনীন খাদীজাহ্ রাযিয়াল্লাহু আনহা)

৪) মুক্তি প্রাপ্ত দাসদের মধ্যে যাইদ ইবনে হারিসাহ (রা.)।

৫) দাসদের মধ্যে বিলাল ইবনে রাবাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু

১০০. প্রশ্ন:  মুখাযরাম (المخضرم) কাদেরকে বলা হয়?

উত্তরঃ মুখাযরাম বলা হয়, ঐ সকল ব্যক্তিবর্গকে, যারা জাহিলিয়্যাতের যুগও পেয়েছেন এবং নবী  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগও পেয়েছেন। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দর্শন লাভ করেননি।

বিশুদ্ধ মতানুযায়ী মুখাযরামগণ তাবিঈদের মধ্যে গণ্য। ইমাম মুসলিমের গণনা অনুযায়ী তাঁদের সংখ্যা বিশ। তবে সঠিক কথা হলো, তাঁদের সংখ্যা বিশ-এর অধিক।

১০১. প্রশ্ন:  হাদীস শাস্ত্রের সব থেকে পুরাতন গ্রন্থের নাম কি এবং তা কে সংকলন করেছে? 

উত্তর: হাদিস শাস্ত্রের সবথেকে পুরাতন গ্রন্থের নাম: আস্ সহীফাতুস্ সাদিকাহ (الصحيفة الصادقة)এর গ্রন্থের সংকলন কারী একজন বিখ্যাত সাহাবী: হযরত আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা।

১০২. প্রশ্ন:  আস্ সহীফাতুস্ সহীহা (الصحيفة الصحيحة) হাদীস গ্রন্থের সংকলক কে?

উত্তর: হযরত আবু হুরাইরাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু।

১০৩. প্রশ্ন: প্রসিদ্ধ হাদীস গ্রন্থ কয়টি ও কি কি?

উত্তরঃ ৬টি।    ১)সহীহ আল বুখারী             ২)সহীহ মুসলিম                 ৩)সুনান তিরমিযী                ৪)সুনান আবু দাউদ                       ৫)সুনান নাসাঈ                   ৬)সুনান ইবনে মাজাহ

১০৪. প্রশ্ন: সিহাহ সিত্তা (الصحاح الستة) বলতে কি বুঝায়? এবং সিহাহ সিত্তা বলার কারণ কি?

উত্তরঃ সিহাহ সিত্তা বলতে হাদীস গ্রন্থের ছয়টি গ্রন্থকে বুঝানো হয়, যথা:

১)সহীহ আল বুখারী             ২)সহীহ মুসলিম                 ৩)সুনান তিরমিযী               

৪)সুনান আবু দাউদ             ৫)সুনান নাসাঈ                   ৬)সুনান ইবনে মাজাহ
সিহাহ সিত্তা বলার কারণ: সহীহ আল বুখারী এবং সহীহ মুসলিম এর সকল হাদীস  সহীহ
, এই দুটি গ্রন্থ ছাড়া অন্য বাকী চারটি গ্রন্থের অধিকাংশ হাদীসগুলো বিশুদ্ধ, তাই এগুলোকে একসাথে সিহাহ সিত্তা বলা হয়।

১০৫. প্রশ্ন: মুত্তাফাকুন আলাইহে (متفق عليه) বলতে কি বুঝানো হয়?

উত্তরঃ যে হাদীসটি ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম উভয় নিজ নিজ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, সে হাদীসসমূহ কে সম্পর্কে বলা হয় মুত্তাফাকুন আলাইহে।

১০৬. প্রশ্ন: কোন দুটি হাদীস গ্রন্থকে সহীহায়ন বলা হয়?

উত্তরঃ সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিম।

১০৭. প্রশ্ন: আল্লাহর কুরআনের পর সর্বাধিক বিশুদ্ধতম গ্রন্থ কোনটি?

উত্তরঃ সহীহ আল বুখারী।

১০৮. প্রশ্ন: সুনান আরবাআ (السنن الأربعة) বলতে কি বুঝায়?

উত্তর: সুনান আরবাআ বলতে চারটি বিশেষ হাদীসগ্রন্থ  বুঝায় :  ১) সুনান আবু দাউদ। ২) সুনান তিরমিযী। ৩) সুনান নাসায়ী। ৪) সুনান ইবনে মাজাহ।

১০৯. প্রশ্ন: হাদীসের গ্রন্থ জগতে সর্বপ্রথম কোন কিতাবটি সংকলন করা হয়?

উত্তরঃ মুআত্ত্বা ইমাম মালেক (المؤطا للإمام مالك)এতে ১৭০০টি হাদীস সংকলন করা হয়েছে।

১১০. প্রশ্ন: হাদীস গ্রন্থগুলোর মধ্যে কোন কিতাবে সবচেয়ে বেশী হাদীস সংকলিত হয়েছে?

উত্তরঃ মুসনাদে আহমাদে।

১১১. প্রশ্ন: আমিরুল মুমিনীন ফিল হাদীস (হাদীস শাস্ত্রের সম্রাট) কাকে বলা হয়?

উত্তরঃ সহীহ আল বুখারীগ্রন্থের সংকলক আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আল বুখারী (রহ.)আমিরুল মুমিনীন ফিল হাদীস (হাদীস শাস্ত্রের সম্রাট) বলা হয়

১১২. প্রশ্ন: সহীহ আল বুখারীর  সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ভাষ্য (ব্যাখ্যা) গ্রন্থকোনটি?

উত্তরঃ হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী (রহঃ) প্রণীত ফাতহুল বারী (فتح الباري بشرح صحيح البخاري)।

১১৩. প্রশ্ন: সহীহ মুসলিম এর  সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ভাষ্য (ব্যাখ্যা) গ্রন্থের নাম কি?

উত্তরঃ ইমাম নববী (রহঃ) প্রণীত আল মিনহাজ বি শারহি সাহিহিল মুসলিম (المنهاج في شرح صحيح مسلم بن الحجاج)।

১১৪. প্রশ্ন: সুনান তিরমিযীর  প্রসিদ্ধ ভাষ্য (ব্যাখ্যা)গ্রন্থ কোনটি?

উত্তরঃ তুহফাতুল আহওয়াযী (تحفة الأحوذي بشرح جامع الترمذي)লেখকঃ আবদুর্‌ রহমান মুবারকপুরী (রহঃ)

১১৫. প্রশ্ন: সুনান আবু দাউদ এর  প্রসিদ্ধ ভাষ্য (ব্যাখ্যা) গ্রন্থের নাম উল্লেখ কর?

উত্তরঃ আউনুল মাবূদ (عون المعبود شرح سنن أبي داؤد) । লেখকঃ শামসূল হক আযীমাবাদী (রহঃ)

১১৬. প্রশ্ন: বর্তমান যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিসের নাম কি? এবং কত সালে তার মৃত্যু ?

উত্তরঃ শায়খ নাসেরুদ্দীন আলবানী (রহঃ) মৃত্যু ১৪২০ হিঃ।

১১৭. প্রশ্ন: উসুলে হাদীসের উপর রচিত প্রাথমিক স্তরের গ্রন্থাবলীর একটি তালিকা দাও।

উত্তর উসুলে হাদিসের উপর রচিত প্রাথমিক স্তরের গ্রন্থাবলীর সংক্ষিপ্ত একটি তালিকা:

১) كتاب الأم للإمام الشافعي

২) الرسالة للإمام الشافعي

৩) مقدمة الصحيح لمسلم

৪) العلل الصغيرللترمذي

৫) رسالة أبي داؤد إلى أهل مكة في وصف سننه

১১৮. প্রশ্ন: উসুলে হাদিসের সর্বপ্রথম স্বতন্ত্রভাবে রচনা কোনটি?

উত্তরঃ আল মুহাদ্দিসুল ফাসিল বাইনার রাবী ওয়াল ওয়ায়ী (المحدث الفاصل بين الراوي والواعي)

১১৯. প্রশ্ন: আল মুহাদ্দিসুল ফাসিল বাইনার রাবী ওয়াল ওয়ায়ী (المحدث الفاصل بين الراوي والواعي) গ্রন্থের লেখক কে?

উত্তরঃ কাযী আবু মুহাম্মদ আল হাসান ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে খাল্লাদ আল রামহুরমাযী (মৃত্যু: ৩৬০ হি. )

১২০. প্রশ্ন: উসুলে হাদীসের ওপর রচিত স্বতন্ত্র প্রসিদ্ধ রচনাবলীর একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা দাও।

উত্তরঃ উসুলে হাদীসের ওপর রচিত স্বতন্ত্র প্রসিদ্ধ রচনাবলীর একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা নিম্নরুপ:

১) المُحَدِّث الفاصل بين الراوي والواعي

২) معرفة علوم الحديث

৩) المُسْتَخْرج على معرفة علوم الحديث

৪) الكفاية في معرفة أصول الرواية

৫) الجامع لأخلاق الراوي وآداب السامع

৬) الإلْماع إلى معرفة أصول الرواية وتقييد السماع

৭) مالايَسَعُ المُحَدِّثَ جَهْلُه

৮) علوم الحديث أومقدمة ابن الصلاح

৯) التقريب والتيسيرلمعرفة سنن البشيرالنذير

১০) ) ( نظم الدررفي علم الأثر ( ألفية العراق

১১) تدريب الراو يفي شر حتقريب النواوي

১২) فتح المغيث بشرح ألفية الحديث

১৩) نخبة الفكرفي مصطلح أهل الأثر

১৪) المنظومة البيقونية

১৫) قواعد التحديث

Comments

Popular posts from this blog

ভারত বর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে শেরশাহবাদি সম্প্রদায়ের অবদান। আব্দুর রাকিব নাদভী

শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ্বনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভূমিকা।

বাংলা ভাষায় ইসলামী সংস্কৃতির প্রভাব।