স্বামী স্ত্রীর মধ্যে উজাড় ভালোবাসার পদ্ধতি (প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইবহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নতের আলোকে)

 

স্বামী স্ত্রীর মধ্যে উজাড় ভালোবাসার পদ্ধতি (প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইবহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নতের আলোকে)


স্ত্রী হচ্ছে ভালোবাসার প্রতীক। স্বামী স্ত্রীর ভালবাসা ও মাহাত্মককে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন লেবাসের তাতে তুলনা করে করেছেন। এই মর্মে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন

هُنَّ لِباسٌ لَكُم وَأَنتُم لِباسٌ لَهُنَّ

অর্থাৎ তারা হচ্ছে তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদ। (সুরা আল বাকারাহ আয়াত নং ১৮৭)

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আরো বলেন

وَمِن ءايٰتِهِ أَن خَلَقَ لَكُم مِن أَنفُسِكُم أَزوٰجًا لِتَسكُنوا إِلَيها وَجَعَلَ بَينَكُم مَوَدَّةً وَرَحمَةً ۚ إِنَّ فى ذٰلِكَ لَءايٰتٍ لِقَومٍ يَتَفَكَّرونَ

আর এক নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সংগিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাক এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে। (সুরা আল রূম আয়াত নং ২১)

একজন পুরুষ আর একজন নারী যখন বিবাহিত জীবনে আবদ্ধ হয়, তখন তাদের মধ্যে যে ভালোবাসা সৃষ্টি হয়, ওই ভালোবাসা নজির বিহীন। বিশ্বনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই মর্মে বলেন

عَنْ  ابْنِ  عَبَّاسٍ  قَالَ  قَالَ  رَسُولُ  اللهِ  صلى  الله  عليه  وسلم  لَمْ  نَرَ  لِلْمُتَحَابَّيْنِ  مِثْلَ  النِّكَاحِ

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, দু'জনের পারস্পরিক ভালবাসা স্থাপনের জন্য বিবাহের বিকল্প নেই। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ১৮৪৭ হাদিসের মান: সহিহ )

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন স্বামীর হৃদয়ে স্ত্রীর ভালোবাসা এবং স্ত্রীর হৃদয়ে স্বামীর ভালোবাসা প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছেন। স্বামী স্ত্রীর উভয়ের উচিত তাদের ভালবাসাকে মৃত্যু পর্যন্ত টিকিয়ে রাখা। নিম্নে বিশ্বনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনী থেকে কিছু সুন্নাহ বর্ণনা দেওয়া হয়েছে মানুষ যদি সে সুন্নাহ গুলো নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করে তবে  স্বামী স্ত্রী উভয়ের মধ্যে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা মৃত্যু পর্যন্ত টিকে থাকবে।

ইন-শা-আল্লাহ। যেমন:

১- স্বামীর করণীয় স্ত্রীকে সুন্দর নামে ডাকা। বিশ্বনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আম্মা আয়েশা রাযিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা কে আদরে হুমায়রা নামে ডাক দিতেন।

عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ: دَخَلَ الْحَبَشَةُ الْمَسْجِدَ يَلْعَبُونَ فَقَالَ لِي: يَا حُمَيْرَاءُ؛ أَتُحِبِّينَ أَنْ تَنْظُرِي إِلَيْهِمْ؟  فَقُلْتُ: نَعَمْ ، فَقَامَ بِالْبَابِ وَجِئْتُهُ فَوَضَعْتُ ذَقَنِي عَلَى عَاتِقَهُ فَأَسْنَدْتُ وَجْهِي إِلَى خَدِّه  قَالَتْ: وَمِنْ قَوْلِهِمْ يَوْمَئِذٍ أَبَا الْقَاسِمِ طَيِّبًا " فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: حَسْبُكِ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ لَا تَعْجَلْ ، فَقَامَ لِي ثُمَّ قَالَ:  حَسْبُكِ   فَقُلْتُ:" لَا تَعْجَلْ يَا رَسُولَ اللهِ " قَالَتْ: " وَمَا لِي حُبُّ النَّظَرِ إِلَيْهِمْ ، وَلَكِنِّي أَحْبَبْتُ أَنْ يَبْلُغَ النِّسَاءَ مَقَامُهُ لِي وَمَكَانِي مِنْهُ

السنن الكبرى للنسائی رقم الحديث ٨٩٥١ شرح مشكل الاثار للطحاوي رقم الحديث ٢٩٢ وصححه ابن القطان في "أحكام النظر" (360)، والألباني في "السلسلة الصحيحة" (7/ 818)، وشعيب الأرناؤوط في "تخريج شرح مشكل الآثار" (292(

২- স্বামীর করণীয় স্ত্রীদের মন জয় করার জন্য তাদের প্রশংসা করা।

عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ مَا غِرْتُ عَلَى امْرَأَةٍ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَمَا غِرْتُ عَلَى خَدِيجَةَ، لِكَثْرَةِ ذِكْرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِيَّاهَا وَثَنَائِهِ عَلَيْهَا، وَقَدْ أُوحِيَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُبَشِّرَهَا بِبَيْتٍ لَهَا فِي الْجَنَّةِ مِنْ قَصَبٍ‏.

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর স্ত্রীগণের মধ্য থেকে খাদীজাহ (রাঃ) - এর চেয়ে অন্য কোন স্ত্রীর প্রতি অধিক হিংসা করিনি। কারণ, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রায় তাঁর কথা স্মরণ করতেন এবং তাঁর প্রশংসা  করতেন। তাছাড়াও রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - কে ওয়াহীর মাধ্যমে তাঁকে [খাদীজাহ (রাঃ)] - কে জান্নাতের মধ্যে একটি মতির প্রাসাদের সুসংবাদ দেবার জন্য জ্ঞাত করানো হয়েছিল।(সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫২২৯)

عَنْ أَبِي مُوسَى ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كَمَلَ مِنَ الرِّجَالِ كَثِيرٌ، وَلَمْ يَكْمُلْ مِنَ النِّسَاءِ إِلاَّ آسِيَةُ امْرَأَةُ فِرْعَوْنَ، وَمَرْيَمُ بِنْتُ عِمْرَانَ، وَإِنَّ فَضْلَ عَائِشَةَ عَلَى النِّسَاءِ كَفَضْلِ الثَّرِيدِ عَلَى سَائِرِ الطَّعَامِ

আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, পুরুষদের মধ্যে অনেকেই পূর্ণতা অর্জন করেছেন। কিন্তু মহিলাদের মধ্যে ফিরআউনের স্ত্রী আসিয়া এবং ইমরানের কন্যা মারইয়াম ব্যতীত আর কেউ পূর্ণতা অর্জনে সক্ষম হয়নি। তবে আয়িশার মর্যাদা সব মহিলার উপর এমন, যেমন সারীদের (গোশতের সুরুয়ায় ভিজা রুটির) মর্যাদা সকল প্রকার খাদ্যের উপর। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩৪১১)

৩-স্ত্রীর সাথে খেলাধুলা ও প্রয়োজন প্রতিযোগিতা করা। বিশ্বনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ইসলাম এর সাথে খেলাধুলা ও প্রতিযোগিতা করতেন।

عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ سَابَقَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَسَبَقْتُهُ

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার সাথে দৌড় প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হলে তাঁকে অতিক্রম করে যাই। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ১৯৭৯ হাদিসের মান: সহিহ )

عَنْ عَائِشَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَنَّهَا كَانَتْ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ قَالَتْ فَسَابَقْتُهُ فَسَبَقْتُهُ عَلَى رِجْلَىَّ فَلَمَّا حَمَلْتُ اللَّحْمَ سَابَقْتُهُ فَسَبَقَنِي فَقَالَ " هَذِهِ بِتِلْكَ السَّبْقَةِ " .

আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি এক সফরে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে ছিলেন। তিনি বলেন, আমি তাঁর সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করে তাঁর আগে চলে গেলাম। অতঃপর আমি মোটা হয়ে যাওয়ার পর তাঁর সাথে আবারো দৌড় প্রতিযোগিতা করলাম, এবার তিনি আমাকে পিছে ফেলে দিলেন বিজয়ী হলেন। তিনি বলেনঃ এই বিজয় সেই বিজয়ের বদলা। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২৫৭৮ হাদিসের মান: সহিহ)

 স্বামী স্ত্রী এক পাত্রে পানাহার করা। এমনকি স্ত্রীর ভালবাসায় পাত্রে যে স্থানে স্ত্রী মুখ লাগিয়েছে, ওই স্থানে মুখ লাগিয়ে পানাহার করা।

عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كُنْتُ أَشْرَبُ مِنَ الْقَدَحِ وَأَنَا حَائِضٌ فَأُنَاوِلُهُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَضَعُ فَاهُ عَلَى مَوْضِعِ فِيَّ فَيَشْرَبُ مِنْهُ، وَأَتَعَرَّقُ مِنَ الْعَرْقِ وَأَنَا حَائِضٌ فَأُنَاوِلَهُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَضَعُ فَاهُ عَلَى مَوْضِعِ فِيَّ

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমি পানপাত্র থেকে পান করতাম তখন আমি ছিলাম ঋতুমতি। তারপর আমি তা রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট প্রদান করতাম, তিনি আমার মুখের স্থানে তাঁর মুখ রেখে পান করতেন এবং ঋতুমতি অবস্থায় আমি গোস্তযুক্ত হাড় হতে গোস্ত চিবাতাম আর তা রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর হাতে প্রদান করতাম। তিনি আমার মুখ রাখার স্থানে নিজের মুখ রাখতেন। (সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ৩৮০ হাদিসের মান: সহিহ)

৪- স্ত্রীর মুখে লোকমা উঠিয়ে দেওয়া। এই মর্মে বিশ্ব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন

وَإِنَّكَ لَنْ تُنْفِقَ نَفَقَةً  تَبْتَغِي  بِهَا  وَجْهَ  اللَّهِ  إِلاَّ  أُجِرْتَ  بِهَا،  حَتَّى  مَا  تَجْعَلُ  فِي  فِي  امْرَأَتِكَ .

আর আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য তুমি যে কোন ব্যয় করো না কেন, তোমাকে তার বিনিময়ে প্রদান করা হবে। এমনকি যা তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে তুলে দিবে (তারও প্রতিদান পাবে)।  (সহি আল বুখারী হাদিস নং ১২৯৫)

৫- স্বামী স্ত্রী এক পাত্রের গোসল করা।

عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَالنَّبِيُّ، صلى الله عليه وسلم مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ مِنْ جَنَابَةٍ‏.

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমি ও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একই পাত্রের পানি নিয়ে জানাবাতের গোসল করতাম। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ২৬৩)

عَنْ  عَائِشَةَ،  قَالَتْ  كُنْتُ  أَتَعَرَّقُ  الْعَظْمَ  وَأَنَا  حَائِضٌ،  فَأُعْطِيهِ  النَّبِيَّ  صلى  الله  عليه  وسلم فَيَضَعُ فَمَهُ  فِي  الْمَوْضِعِ  الَّذِي  فِيهِ  وَضَعْتُهُ  وَأَشْرَبُ  الشَّرَابَ  فَأُنَاوِلُهُ فَيَضَعُ فَمَهُ  فِي  الْمَوْضِعِ  الَّذِي  كُنْتُ  أَشْرَبُ  مِنْهُ .

'আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি হায়িয অবস্থায় হাড় চুষে খেয়ে তা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে দিতাম। তিনিও তাঁর মুখ হাড়ের ঐ স্থানে লাগাতেন, যেখানে আমি লাগিয়েছি। আবার পানীয় দ্রব্য পান করে তাঁকে দিতাম। তিনি তখনও ঐ স্থান থেকে পান করতেন যেখানে মুখ লাগিয়ে আমি পান করেছি। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২৫৯ হাদিসের মান: সহিহ)

৬- স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়া বা সফরে সাথে রাখা।

عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَرَادَ سَفَرًا أَقْرَعَ بَيْنَ نِسَائِهِ، فَأَيَّتُهُنَّ خَرَجَ سَهْمُهَا خَرَجَ بِهَا مَعَهُ، وَكَانَ يَقْسِمُ لِكُلِّ امْرَأَةٍ مِنْهُنَّ يَوْمَهَا وَلَيْلَتَهَا، غَيْرَ أَنَّ سَوْدَةَ بِنْتَ زَمْعَةَ وَهَبَتْ يَوْمَهَا وَلَيْلَتَهَا، لِعَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم تَبْتَغِي بِذَلِكَ رِضَا رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‏.

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সফরের মনস্থ করলে স্ত্রীগণের মধ্যে কুরআর ব্যবস্থা করতেন। যার নাম আসত তিনি তাঁকে নিয়েই সফরে বের হতেন। এছাড়া প্রত্যেক স্ত্রীর জন্য একদিন একরাত নির্দিষ্ট করে দিতেন। তবে সাওদা বিনতে যামআহ (রাঃ) নিজের দিন ও রাত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী আয়িশা (রাঃ) -কে দান করেছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সন্তুষ্টি কামনা করতেন। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ২৫৯৩ হাদিসের মান: সহিহ)

৭- স্বামীর করণীয় স্ত্রীদেরকে মাল ধরে না করা। কোন ভুল হলে তাদেরকে সে সম্পর্কে নসিহত করা।

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ زَمْعَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لاَ يَجْلِدُ أَحَدُكُمْ امْرَأَتَهجَلْدَ الْعَبْدِ ثُمَّ يُجَامِعُهَا فِي آخِرِ الْيَوْمِ.

আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু যামআহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমরা কেউ নিজ স্ত্রীদেরকে গোলামের মত প্রহার করো না। কেননা, দিনের শেষে তার সঙ্গে তো মিলিত হবে। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫২০৪)

৮- স্ত্রীর কাজকর্মে সহযোগিতা করা। বিশ্বনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম গৃহ কাজে স্ত্রীদেরকে সহযোগিতা করতেন।

عَنِ الأَسْوَد قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ مَا كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُ فِي بَيْتِهِ قَالَتْ كَانَ يَكُونُ فِي مِهْنَةِ أَهْلِهِ ـ تَعْنِي خِدْمَةَ أَهْلِهِ ـ فَإِذَا حَضَرَتِ الصَّلاَةُ خَرَجَ إِلَى الصَّلاَةِ‏.

৯- স্ত্রীর রাগ অভিমান এবং মন বোঝার চেষ্টা করা। রাসূল () বলেন, হে আয়েশা!  তুমি আমার উপর রেগে থাকলে আমি তা বুঝতে পারি, আয়েশা (রাঃ) বলেন হে আল্লাহর রাসূল!  কিভাবে বোঝেন আপনি? রাসূল () বলেন তুমি যখন আমার উপর রেগে থাকো তখন বলো হে ঈবরাহিম (আঃ) এর প্রভুআল্লাহ কে এভাবে ডাকো, আর যখন খোশ মেজাজে থাকো তখন বলো, “হে মুহাম্মদ () এর প্রভুআল্লাহ কে এভাবে ডাকো।

عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنِّي لأَعْلَمُ إِذَا كُنْتِ عَنِّي رَاضِيَةً، وَإِذَا كُنْتِ عَلَىَّ غَضْبَى "‏‏. قَالَتْ فَقُلْتُ مِنْ أَيْنَ تَعْرِفُ ذَلِكَ فَقَالَ " أَمَّا إِذَا كُنْتِ عَنِّي رَاضِيَةً فَإِنَّكِ تَقُولِينَ لاَ وَرَبِّ مُحَمَّدٍ، وَإِذَا كُنْتِ غَضْبَى قُلْتِ لاَ وَرَبِّ إِبْرَاهِيمَ "‏‏. قَالَتْ قُلْتُ أَجَلْ وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا أَهْجُرُ إِلاَّ اسْمَكَ‏.

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃতিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন, “আমি জানি কখন তুমি আমার প্রতি খুশী থাক এবং কখন রাগান্বিত হও।আমি বললাম, কি করে আপনি তা বুঝতে সক্ষম হন? তিনি বললেন, তুমি প্রসন্ন থাকলে বল, না! মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর রব-এর কসম! কিন্তু তুমি আমার প্রতি নারাজ থাকলে বল, না! ইব্‌রাহীম আঃ- এর রব-এর কসম! শুনে আমি বললাম, আপনি ঠিকই বলেছেন। আল্লাহ্‌র কসম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! সে ক্ষেত্রে শুধু আপনার নাম উচ্চারণ করা থেকেই বিরত থাকি। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫২২৮)

হে আল্লাহ!  আমাদের রব বিশ্বের সকল স্বামী স্ত্রীর হৃদয়ে এক অপরের ভালোবাসা প্রতিষ্ঠা করে দাও।  আমীন ।

Comments

Popular posts from this blog

ভারত বর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে শেরশাহবাদি সম্প্রদায়ের অবদান। আব্দুর রাকিব নাদভী

শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ্বনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভূমিকা।

বাংলা ভাষায় ইসলামী সংস্কৃতির প্রভাব।