ফজরের দুই রাকাত সুন্নত।

 

ফজরের দুই রাকাত সুন্নত।


আমরা সকলেই অবগত যে, স্বলাত হচ্ছে একজন মুসলিমের জীবনে অবিচ্ছিন্ন আমল। ঈমানের পর প্রথম আমল হচ্ছে স্বলাত। স্বলাত ছাড়া কোনো ব্যক্তি প্রকৃত মুমিন থাকতে পারে না। স্বলাত হচ্ছে একজন মুমিনের পরিচয়। যার জীবনে স্বলাত নেই, সে প্রকৃত পক্ষে ঈমান হারা। স্বলাত ছাড়া জান্নাত লাভের আশা করাই ভূল। স্বলাত হচ্ছে জান্নাতের চাবি। যেমন চাবি ছাড়া তালা খুলা যায় না, সেই মতো স্বলাত ছাড়া জান্নাতে প্রবেশ করা অসম্ভব। ইসলাম ধর্মে স্বলাতের একাধিক গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। স্বলাত সাধারণত দুই প্রকার: ফরজ স্বলাত, নফল স্বলাত। নফল স্বলাতের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করে। এই মর্মে বিশ্ব নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন

عَنْ  أَبِي  هُرَيْرَةَ  قَالَ  قَالَ  رَسُولُ  اللهِ  صلى  الله  عليه  وسلم  إِنَّ  اللهَ  قَالَ  مَنْ  عَادَى  لِي  وَلِيًّا  فَقَدْ  آذَنْتُهُ  بِالْحَرْبِ  وَمَا  تَقَرَّبَ إِلَيَّ  عَبْدِي  بِشَيْءٍ  أَحَبَّ إِلَيَّ  مِمَّا  افْتَرَضْتُ  عَلَيْهِ  وَمَا  يَزَالُ  عَبْدِي يَتَقَرَّبُ إِلَيَّ بِالنَّوَافِلِ  حَتَّى  أُحِبَّهُ  فَإِذَا  أَحْبَبْتُهُ  كُنْتُ  سَمْعَهُ  الَّذِي  يَسْمَعُ  بِهِ  وَبَصَرَهُ  الَّذِي  يُبْصِرُ  بِهِ  وَيَدَهُ  الَّتِي  يَبْطِشُ  بِهَا  وَرِجْلَهُ  الَّتِي  يَمْشِي  بِهَا  وَإِنْ  سَأَلَنِي  لأُعْطِيَنَّهُ  وَلَئِنْ  اسْتَعَاذَنِي  لأعِيذَنَّهُ  وَمَا  تَرَدَّدْتُ  عَنْ  شَيْءٍ  أَنَا  فَاعِلُهُ  تَرَدُّدِي  عَنْ  نَفْسِ  الْمُؤْمِنِ  يَكْرَهُ  الْمَوْتَ  وَأَنَا  أَكْرَهُ  مَسَاءَتَهُ

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত,  তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  বলেছেনঃ আল্লাহ্‌ বলেন, যে ব্যক্তি আমার কোন ওলীর সঙ্গে দুশমনি রাখবে, আমি তার সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করব। আমি যা কিছু আমার বান্দার উপর ফরয করেছি, তা দ্বারা কেউ আমার নৈকট্য লাভ করবে না বরং আমার বান্দা সর্বদা নফল ইবাদাত দ্বারা আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকবে। এমন কি অবশেষে আমি তাকে আমার এমন প্রিয় পাত্র বানিয়ে নেই যে, আমিই তার কান হয়ে যাই, যা দিয়ে সে শুনে। আমিই তার চোখ হয়ে যাই, যা দিয়ে সে দেখে। আর আমিই তার হাত হয়ে যাই, যা দিয়ে সে ধরে। আমিই তার পা হয়ে যাই, যা দ্বারা সে চলে। সে যদি আমার কাছে কিছু চায়, তবে আমি নিশ্চয়ই তাকে তা দান করি। আর যদি সে আমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে অবশ্যই আমি তাকে আশ্রয় দেই। আমি কোন কাজ করতে চাইলে তা করতে কোন দ্বিধা করি-না, যতটা দ্বিধা করি মুমিন বান্দার প্রাণ নিতে। সে মৃত্যুকে অপছন্দ করে আর আমি তার বেঁচে থাকাকে অপছন্দ করি। (সহীহ আল বুখারী, হাদীস নং ৬৫০২)

উক্ত হাদীস থেকে স্পষ্ট যে, নফল এবাদতের একাধিক গুরুত্ব ও ফজিলত রয়েছে, মানুষ নফল এবাদতের মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এর নৈকট্য অর্জন করতে সক্ষম হয়। আর নফল এবাদতের মধ্যে নফল স্বলাতের গুরুত্ব অপরিসীম। আর নফল স্বলাতের মধ্যে ফজরের দুই রাকাত সুন্নত এর গুরুত্ব অনেক অনেক বেশি। এই প্রসঙ্গে বিশ্ব নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন

عَنْ  عَائِشَةَ،  عَنِ  النَّبِيِّ  صلى  الله  عليه  وسلم  قَالَ رَكْعَتَا الْفَجْرِ  خَيْرٌ  مِنَ  الدُّنْيَا  وَمَا  فِيهَا 

আয়িশাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ফাজ্‌রের দুরাকআত (সুন্নাত) সলাত দুন্‌ইয়া ও তার সব কিছুর থেকে উত্তম। ( সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১৫৭৩)

বিশ্ব নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গুরুত্ব সহকারে ফজরের দুই রাকাত সুন্নত আদায় করতেন। এই মর্মে আম্মা আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন

عَنْ  عَائِشَةَ  ـ  رضى  الله  عنها  ـ  قَالَتْ  كَانَ  النَّبِيُّ  صلى  الله  عليه  وسلم  يُصَلِّي  مِنَ  اللَّيْلِ  ثَلاَثَ  عَشْرَةَ  رَكْعَةً  مِنْهَا  الْوِتْرُ  وَرَكْعَتَا  الْفَجْرِ‏.‏

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাতের বেলা তের রাকআত সালাত আদায় করতেন, যার ভিতর আছে বিত্‌র এবং ফজ্‌রের দুরাকআত (সুন্নাত) (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১১৪০)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা সম্পর্কে বর্ণিত, যদি কোনো কারণ বসত ফজরের এই দুই রাকাত সুন্নত আদায় করতে না পারলে, তিনি (রাঃ) তা সুর্য উদয়ের পর কাযা আদায় করতেন।

عَنْ  مَالِك  أَنَّهُ  بَلَغَهُ  أَنَّ  عَبْدَ  اللهِ  بْنَ  عُمَرَ  فَاتَتْهُ رَكْعَتَا الْفَجْرِ  فَقَضَاهُمَا  بَعْدَ  أَنْ  طَلَعَتْ  الشَّمْسُ.

মালিক (র) থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) ফজরের দুরাকআত (সুন্নত) আদায় করতে পারেননি। তিনি উক্ত দুই রাকআত নামায সূর্যোদয়ের পর কাযা আদায় করলেন। (মুয়াত্তা ইমাম মালিক, হাদিস নং ২৭৮)

উক্ত ব্যখ্যা ও বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট যে, ফজরের দুই রাকাত সুন্নতের গুরুত্ব অপরিসীম। আমাদের উচিত গুরুত্ব সহকারে তা আদায় করা।

হে আল্লাহ, আমাদের রব! তুমি আমাদের সকলকে  নফল এবাদতের মাধ্যমে তোমার নৈকট্য অর্জন করার তৌফিক প্রদান কর। আমীন।

Comments

Popular posts from this blog

ভারত বর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে শেরশাহবাদি সম্প্রদায়ের অবদান। আব্দুর রাকিব নাদভী

শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ্বনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভূমিকা।

বাংলা ভাষায় ইসলামী সংস্কৃতির প্রভাব।