আলেমদের সম্মান ও মর্যাদা
আলেমদের সম্মান ও মর্যাদা
একজন আলেম দেশ ও জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ।
মূল্যবান সম্পদ হারিয়ে গেলে যেমন মানুষ দিশেহারা হয়ে যায়, তেমনি
কোনো আলেম মারা গেলে পুরো দেশ ও সমাজ দিশেহারা হয়ে যায়।
عَنْ هِشَامٍ، عَنِ الْحَسَنِ قَالَ: كَانُوا يَقُولُونَ: «مَوْتُ الْعَالِمِ ثُلْمَةٌ فِي الْإِسْلَامِ لَا يَسُدُّهَا شَيْءٌ مَا اخْتَلَفَ اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ
হযরত হিশাম হইতে বর্ণিত হাসান বাসারী রাহি.
বলেন: তারা বলতেন: “আলিমের মৃত্যু হলো ইসলামের মধ্যে এমন এক
শুন্যস্থান, যা কোন কিছুতেই পূরণ হবে না- যতদিন দিন-রাত
আবর্তিত হতে থাকবে (কিয়ামত পর্যন্ত)।(সুনান আদ দারেমী, হাদীস নং ৩৩৩, পরিচ্ছেদ
নং ৩২ ইলম ও আলেমদের মর্যাদা, হাদীসের সনদ সহীহ)
সমাজে আলেম-ওলামা না থাকলে মানুষ সঠিক পথ
দিকনির্দেশনা পাবে না। পৃথিবীর সব মানুষ মনুষ্যত্ব ভুলে গিয়ে চতুষ্পদ জন্তুতে
পরিণত হয়ে যাবে। তাই ইসলামে আলেম-ওলামাদের সম্মান ও মর্যাদা সর্বোচ্চ।
যারা প্রকৃত আলেম, তাদের
মর্যাদা আল্লাহর নিকট অতি উচ্চ। এমনকি
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর একত্ববাদের জন্য ফেরেশতা বর্গদের সাথে আলেমদেরকেও
সাক্ষ্য করেছেন। বিশ্ব সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন
شَهِدَ اللَّهُ أَنَّهُ لا إِلٰهَ إِلّا هُوَ وَالمَلٰئِكَةُ وَأُولُوا العِلمِ قائِمًا بِالقِسطِ ۚ لا إِلٰهَ إِلّا هُوَ العَزيزُ الحَكيمُ
অর্থাৎ আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তাঁকে
ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই। ফেরেশতাগণ এবং ন্যায়নিষ্ঠ জ্ঞানীগণও সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি
ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। তিনি পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়। (সুরা আল ইমরান আয়াত নং ১৮)
সাধারণ মানুষের মাঝে আলেমরা হলেন নক্ষত্রতুল্য।
এই মর্মে বিশ্বনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন
وَاِنَّ فَضْلَ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ عَلى سَائِرِ الْكَوَاكِبِ
অর্থাৎ আলিমদের মর্যাদা মূর্খ ‘ইবাদাতকারীর
চেয়ে অনেক বেশী। যেমন পূর্ণিমা চাঁদের মর্যাদা তারকারাজির উপর। (সুনানে আত তিরমিজি হাদীস নং
২৬৮২, হাদীসের মান: সহীহ লিগাইরিহি)।
আলেমরা আল্লাহর ওলি বা বন্ধু। যারা তাঁদের
সঙ্গে বিদ্বেষ ও শত্রুতা পোষণ করে, বিশ্ব
প্রতিপাল আল্লাহ রব্বুল আলামীন তাদের সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। হযরত আবু হুরায়রা
রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
إِنَّ اللهَ قَالَ مَنْ عَادَى لِي وَلِيًّا فَقَدْ آذَنْتُهُ بِالْحَرْبِ
অর্থাৎ আল্লাহ্ বলেন, যে
ব্যক্তি আমার কোনো ওলির বা বন্ধুর সঙ্গে শত্রুতা করবে আমি তার সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা
করলাম। (সহীহ আল বুখারি হাদীস নং ৬৫০২)
আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে সৃষ্টি করে ওহির জ্ঞান
সম্মানিত করেছেন। এই ওহির জ্ঞান মানবজাতির
নিকট পৌঁছানোর জন্য যুগে যুগে কালে কালে অসংখ্য নবী-রাসুল প্রেরণ করেন।
তাঁরা ছিলেন জগত্বাসীর জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে
বিশেষ ও বড় অনুগ্রহ এবং নিয়ামত।
আল্লাহর রহমতের এই নবুয়তি ধারা সর্বপ্রথম নবী, আমাদের
আদি পিতা হযরত আদম (আ.) থেকে শুরু হয়ে সমাপ্ত হয়েছে সর্ব শেষ নবী ও রাসূল হযরত
মুহাম্মদ (সা.)-এর মাধ্যমে। তিনিই শেষ নবী। তাঁর পর আর কোনো নবী এই দুনিয়াতে আগমন
করবেন না।এই মর্মে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন
ما كانَ مُحَمَّدٌ أَبا أَحَدٍ مِن رِجالِكُم وَلٰكِن رَسولَ اللَّهِ وَخاتَمَ النَّبِيّۦنَ ۗ وَكانَ اللَّهُ بِكُلِّ شَيءٍ عَليمًا
অর্থাৎ:মুহাম্মদ তোমাদের কোন ব্যক্তির পিতা
নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী। আল্লাহ সব
বিষয়ে জ্ঞাত। (সুরা আহযাব আয়াত নং ৪০)।
এবং প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ مَثَلِي وَمَثَلَ الأَنْبِيَاءِ مِنْ قَبْلِي كَمَثَلِ رَجُلٍ بَنَى بَيْتًا فَأَحْسَنَهُ وَأَجْمَلَهُ، إِلاَّ مَوْضِعَ لَبِنَةٍ مِنْ زَاوِيَةٍ، فَجَعَلَ النَّاسُ يَطُوفُونَ بِهِ وَيَعْجَبُونَ لَهُ، وَيَقُولُونَ هَلاَّ وُضِعَتْ هَذِهِ اللَّبِنَةُ قَالَ فَأَنَا اللَّبِنَةُ، وَأَنَا خَاتِمُ النَّبِيِّينَ ".
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, নবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি এবং আমার পূর্ববর্তী
নবীগণের অবস্থা এমন, এক ব্যক্তি যেন একটি গৃহ নির্মাণ করল, তাকে
সুশোভিত ও সুসজ্জিত করল, কিন্তু এক পাশে একটি ইটের
জায়গা খালি রয়ে গেল। অতঃপর লোকজন এর চারপাশে ঘুরে আশ্চর্য হয়ে বলতে লাগল ঐ
শূন্যস্থানের ইটটি লাগানো হল না কেন? নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি
ওয়া সাল্লাম) বলেন, আমিই সে ইট। আর আমিই সর্বশেষ নবী।(সহিহ
বুখারী,হাদিস নং ৩৫৩৫)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো
বলেন
وَأَنَا خَاتَمُ النَّبِيِّينَ لاَ نَبِيَّ بَعْدِي
অর্থাৎ: আমিই সর্বশেষ নবী এবং আমার পরে আর কোন
নবী আসবে না। (সুনানে আবু দাউদ হাদিস নং ৪২৫২ হাদীসের মান: সহীহ)
আর নবীদের উত্তরসূরী হচ্ছেন আলেমেরা। এই মর্মে
বিশ্বনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন
وَإِنَّ الْعُلَمَاءَ وَرَثَةُ الأَنْبِيَاءِ وَإِنَّ الأَنْبِيَاءَ لَمْ يُوَرِّثُوا دِينَارًا وَلاَ دِرْهَمًا وَرَّثُوا الْعِلْمَ فَمَنْ أَخَذَهُ أَخَذَ بِحَظٍّ وَافِرٍ "
অর্থাৎ: আলেমগণ হলেন নাবীদের উত্তরসূরি। নাবীগণ
কোন দীনার বা দিরহাম মীরাসরূপে রেখে যান না; তারা
উত্তরাধিকার সূত্রে রেখে যান শুধু ইল্ম। সুতরাং যে ইল্ম অর্জন করেছে সে পূর্ণ
অংশ গ্রহণ করেছে।(সুনানে আবু দাউদ হাদীস নং ৩৬৪১, হাদীসের
মান: সহীহ)
আলেমগণ নবীদের থেকে প্রাপ্ত জ্ঞানকে মানুষের মাঝে বিলিয়ে দিতে আপ্রাণ
চেষ্টা করেন, ছড়িয়ে দিয়েছেন বিশ্বের কোনায় কোনায়।
যাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে আজ আমাদের কাছে পৌঁছেছে তাফসির, হাদিস, ফিকহ
ও অন্যান্য ইসলামী শাস্ত্রের সুবিন্যস্ত বিশাল বিশাল গ্রন্থবলি। আল্লাহ রাব্বুল
আলামীন তাদেরকে এর বিনিময় জান্নাতুল ফিরদাউসে উঁচু মর্যাদা প্রদান করুক। আমীন।
আলেমদের কাছেই মানুষ লাভ করে কোরআন-সুন্নাহর
জ্ঞান। চিনতে শিখে নিজ প্রভুকে, শিখতে পারে আল্লাহর
বিধি-বিধান। বুঝতে পারে শরিয়ত। আলেমদের মাধ্যমেই মানুষ খুঁজে পায় নিজের আসল পরিচয়।
যাঁদের সংস্পর্শে এসে অন্ধকার জগতের মানুষগুলো সন্ধান পায় আলোকিত জীবনের। মৃত
হৃদয়গুলো হয় পুনর্জীবিত। তাঁরা পৃথিবীর জন্য রহমত। তাঁরা উম্মতের জন্য বরকত।পরম
হিতৈষী ও মঙ্গলকামী। আল-কোরআনে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্যের সঙ্গেই তাঁদের
আনুগত্যেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ
রাব্বুল আলামীন বলেন
يٰأَيُّهَا الَّذينَ ءامَنوا أَطيعُوا اللَّهَ وَأَطيعُوا الرَّسولَ وَأُولِى الأَمرِ مِنكُم ۖ فَإِن تَنٰزَعتُم فى شَيءٍ فَرُدّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسولِ إِن كُنتُم تُؤمِنونَ بِاللَّهِ وَاليَومِ الءاخِرِ ۚ ذٰلِكَ خَيرٌ وَأَحسَنُ تَأويلًا
অর্থ:হে ঈমানদারগণ!আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ
মান্য কর রসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা বিচারক (ন্যায়পরায়ণ শাসক ও আলেম) তাদের।
তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়, তাহলে
তা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর-যদি তোমরা আল্লাহ ও কেয়ামত দিবসের
উপর বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম।(সুরা: নিসা আয়াত : ৫৯)
আলেমরা হচ্ছে দ্বীনের অতন্দ্র প্রহরী। তাঁদের
কাছে ইসলাম সবার আগে। তাঁরা হলেন দ্বীন রক্ষার ঢাল ও সুদৃঢ় প্রাচীর। ইসলামের
বিরুদ্ধে সব ধরনের ষড়ষন্ত্রের মোকাবেলায় তাঁরা সর্বদা সচেষ্ট। তাঁরা নিজেদের
সর্বশক্তি ব্যয় করে সব ধরনের বাতিল মতবাদকে রুখে দেওয়ার জন্য সর্বদা অক্লান্ত
প্রয়াস চালিয়ে যান। তাঁরা হক কথা বলতে দ্বিধাবোধ করেন না। হক প্রতিষ্ঠার জন্য
নিজের জান-মাল ব্যয় করাটা গৌরব মনে করেন। বাতিলের মুখোশ উন্মোচন করতে কালক্ষেপণ
করেন না। তাঁদের হাতেই জিন্দা হয় সুন্নত। দূরীভূত হয় বিদআত। যেকোনো শরয়ি সমস্যা
নিরসনে তাঁদের দ্বারস্থ হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মহান আল্লাহ তাআলা নিজেই। এই মর্মে
বিশ্ব সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রব্বুল আলামীন বলেন
ۚ فَسـَٔلوا أَهلَ الذِّكرِ إِن كُنتُم لا تَعلَمونَ
অর্থ:অতএব আলেম-জ্ঞানীদের জিজ্ঞেস করো,যদি
তোমাদের জানা না থাকে। (সুরা:
নাহল: ৪৩)
এই মর্মে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেন
ليس منَّا مَنْ لم يُجِلَّ كبيرَنا ، ويرحمْ صغيرَنا، ويَعْرِفْ لعالِمِنا حقَّهُ
ওই ব্যক্তি আমার আদর্শের ওপর নাই, যে
আমাদের বড়দের সম্মান করে না, ছোটদের স্নেহ করে না এবং
আমাদের আলেমদের প্রাপ্য মর্যাদা প্রদান করে না।
(সহীহ আল জামে লিল আল বানী হাদীস নং ৫৪৪৩, হাদীসের
মান: হাসান)
عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ مِنْ إِجْلاَلِ اللَّهِ إِكْرَامَ ذِي الشَّيْبَةِ الْمُسْلِمِ وَحَامِلِ الْقُرْآنِ غَيْرِ الْغَالِي فِيهِ وَالْجَافِي عَنْهُ وَإِكْرَامَ ذِي السُّلْطَانِ الْمُقْسِطِ "
আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পাকা চুলওয়ালা বয়স্ক
মুসলিমের, কুরআন বাহক(হাফেয ও আলেম)-এর যে কুরআনের
ব্যাপারে অতিরঞ্জন ও অবজ্ঞাকারী নয় এবং ন্যায়পরায়ণ বাদশাহর সম্মান করা এক প্রকার
আল্লাহ তা‘আলাকে সম্মান করা।(সুনানে আবূ দাউদ হাদীস নং ৪৮৪৩ হাদীসের মান:
সহীহ)
আলেমরা হচ্ছে আল্লাহর ওলি বা বন্ধু। তাঁদের
সঙ্গে শত্রুতা ও বিদ্বেষ পোষণ করা আল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধ করা।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ اللهَ قَالَ مَنْ عَادَى لِي وَلِيًّا فَقَدْ آذَنْتُهُ بِالْحَرْبِ
হযরত আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু তা'আলা
আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন
যে ব্যক্তি আমার কোনো ওলির সঙ্গে শত্রুতা করবে আমি তার সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করলাম।
(সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৫০২)
মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করে, মৃত্যুর
সাথে সাথেই তাঁর সব প্রকার আমল বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু তিন প্রকার মানুষের আমল জারি
থাকে। তন্মধ্যে একজন আলেম, যে জীবিত অবস্থায় ইলম বিতরণ
করায়, অনেকেই তাঁর ইলম হইতে উপকৃত হয়েছে। তাঁর
মৃত্যুবরণ করার পরেও সে তাঁর ইলম বিতরণের
কারনে সওয়াব পেতে থাকবেন।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا مَاتَ الإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلاَّ مِنْ ثَلاَثَةٍ إِلاَّ مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ .
হযরত আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেন, মানুষ যখন মারা যায় তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায়। তবে
তিনটি উৎস থেকে তা অব্যাহত থাকে: সদকায়ে জারিয়া, উপকারী
ইলম ও নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।(সহীহ মুসলিম হাদীস নং ৪১১৫)
একজন আলেমের জন্য সমগ্র সৃষ্টি আল্লাহর দরবারে
ক্ষমা প্রার্থনা করে। এমনকি সমুদ্রের মাছ এবং গর্তে থাকা পিপীলিকাও। এই মর্মে
বিশ্বনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন
وَإِنَّ الْعَالِمَ لَيَسْتَغْفِرُ لَهُ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَمَنْ فِي الأَرْضِ وَالْحِيتَانُ فِي جَوْفِ الْمَاءِ
জ্ঞানীর জন্য আসমান ও যমীনের যারা আছে তারা
আল্লাহর নিকট ক্ষমা ও দু‘আ প্রার্থনা করে, এমনকি
পানির গভীরে বসবাসকারী মাছও। (সুনানে আবু দাউদ হাদীস নং ৩৬৪১ হাদীসের মান: সহীহ)
বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো
বলেন
إِنَّ اللَّهَ وَمَلاَئِكَتَهُ وَأَهْلَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ حَتَّى النَّمْلَةَ فِي جُحْرِهَا وَحَتَّى الْحُوتَ لَيُصَلُّونَ عَلَى مُعَلِّمِ النَّاسِ الْخَيْرَ "
নিশ্চয়ই আল্লাহ্, তাঁর
ফেরেশতাগণ এবং আসমান-যামীনের অধিবাসীরা, এমনকি গর্তের পিঁপড়া এবং
পানির মাছ পর্যন্ত সেই ব্যক্তির জন্য দু’আ করে যে মানুষকে কল্যাণকর
জ্ঞান শিক্ষা দেয়।(জামে
আত তিরমিযী হাদীস নং ২৬৮৫, হাদীসের মান:সহীহ)
সংক্ষেপে বলি, আলেম
সমাজ হচ্ছে নবী ও রাসূল আঃ দের ওয়ারিস ও তাঁদের প্রতিনিধি। আল্লাহ তাআলা তাঁদের
বিশেষ সম্মানে মনোনীত করেছেন। তাই আলেমদের সঙ্গে বিদ্বেষী মনোভাব পোষণ করা, তাঁদেরকে
ঠাট্টা ও বিদ্রুপ করা,গালি দেওয়া পরোক্ষভাবে ইসলামের নিদর্শন অসম্মান
করার অন্তর্ভুক্ত।
Comments
Post a Comment