নেজামিয়া মাদ্রাসাগুলোতে একটি নতুন ফিতনার সূত্রপাত।

নেজামিয়া মাদ্রাসাগুলোতে একটি নতুন ফিতনার সূত্রপাত।
নেজামিয়া মাদ্রাসাগুলোতে একটি নতুন ফিতনার সূত্রপাত।

দুঃখের বিষয় নেজামীয়া মাদ্রাসাগুলো নিজ অস্তিত্ব, মর্যাদা, বৈশিষ্ট্য, গুনাবলী সম্পর্কে হতাশায় নিমজ্জিত রয়েছে। তাঁরা স্পষ্ট আকারে ছাত্রদের কে বুঝাতে চাচ্ছে যে, নেজামীয়া মাদ্রাসাগুলোতে ছাত্রদের ভবিষ্যত নেই, এই মাদ্রাসাগুলোতে পড়াশোনা করে দক্ষতা অর্জন করলেও তাঁরা ঐ মাদ্রাসাগুলোর দৃষ্টিতে মূল্যহীন। দক্ষতা অর্জন করার পরেও, যদি আমি ঐ মাদ্রাসাগুলোতে মূল্যহীন, পাঠদানের জন্য অযোগ্য ঘোষিত, তবে আমি কেন ঐ সকল নেজামীয়া মাদ্রাসাগুলোতে পড়াশোনা করবো??! 
ফিতনা টি হচ্ছে নেজামীয়া মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষক নিয়োগের সময় সাধারনত আমরা দেখে থাকি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়, ইদানিং কিছু নেজামীয়া মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট আকারে লেখা দেখে আমি বিস্মিত, লেখাটি হচ্ছে "  মাদানী অগ্রগণ্য "।  লেখাটি পড়ে একজন বিবিকবান ব্যক্তি কখনো উপেক্ষা করতে পারে না, সে শতবার ভাবতে বাধ্য যে, মাদ্রাসা কমিটিতে মূর্খতা কাজ করছে। নচিৎ  এ ধরনের কথা শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে কেমনে লিখতে পারে??? তাঁরা জানেনা যে,  শিক্ষকতা করতে হলে সার্টিফিকেট নয়, দক্ষতা প্রয়োজন হয়। কোনো বিশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত থাকলেই যে, বড় পন্ডিত। আর অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পড়াশোনা করলে মূল্যহীন, এমন কথা নয়, সব ক্ষেত্রে দক্ষতা, পন্ডিত্ব ও অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া দরকার, তবে সমাজের ভারসাম্য টিকে থাকবে, নচিৎ এই ফিতনা ধারাবাহিক চলতে থাকলে নেজামীয়া মাদ্রাসাগুলো ভবিষ্যতে নিজ অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলতে পারে। নিজ অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে, কখনো নিজের পরিচয় ভূলে যেতে নেই, টিকিয়ে রাখতে হয়। পিতা যদি নিজ সন্তানকে মূল্যায়ন না করে, ছেলে যতোই দক্ষ ও অভিজ্ঞতার অধিকারী থাকনা কেন, পৃথিবীবাসী তাকে কখনো মর্যাদা দেবে না, পৃথিবীবাসীর সামনে সেই থাকবে মূল্যহীন। ভারত বর্ষ আমাদের দেশ, এ দেশে একাধিক বিশ্ব বিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, এমনকি এখানকার শীর্ষরা আরব-আযম,  সারা বিশ্বে শিক্ষার ময়দানে নেতৃত্ব দিয়েছেন ও এখনো সারা বিশ্বে খেদমত করে যাচ্ছে। ভারত বর্ষের আলেমদের কে অবহেলা করা থেকে বিরত থাকুন, তাদের সম্মান করুন, মর্যাদা দিতে শিখুন। 
এই প্রসঙ্গে আরো একটি কথা বলি, কিছু কিছু মাদ্রাসা রয়েছে, সেখানে শিক্ষকদের বেতন নিয়েও বৈষম্য বিরাজমান, মাদানী হলে এতো বেতন, অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফারেগদের জন্য এতো বেতন। দক্ষতাকে সাধারণত অগ্রাধিকার দেওয়া হয় না। অনেক সময় দেখা যায়, ঐ মাদ্রাসায় যতগুলো সম্মানিত শিক্ষক মন্ডলী রয়েছেন, তাদের মধ্যে ভারত বর্ষের কোনো এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ফারেগ শিক্ষকের দক্ষতা ও যোগ্যতা বেশি, কিন্তু বেতন কম। কারণ সে সুযোগ সুবিধার অভাবে হোক অথবা আর কিছু কারণে আরব থেকে ডিগ্রি আনতে পারে নি। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দক্ষতাকে অগ্রাধিকার ও প্রধান্য না দেওয়া এক ধরণের অত্যাচার। দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও বেতনের মধ্যে বৈষম্য অন্যায়। হে আল্লাহ! তুমি আমাদের সকলকে সঠিক বুঝ দান কর। আমীন।

Comments

Popular posts from this blog

ভারত বর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে শেরশাহবাদি সম্প্রদায়ের অবদান। আব্দুর রাকিব নাদভী

শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ্বনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভূমিকা।

বাংলা ভাষায় ইসলামী সংস্কৃতির প্রভাব।