ফজরের সালাতের গুরুত্ব ও ফজিলত।
ফজরের সালাতের গুরুত্ব ও ফজিলত।
আব্দুর রাকিব
নাদভী
ইসলাম ধর্মে সালাতের গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম।
সালাত হচ্ছে ইসলাম ধর্মের দ্বিতীয় স্তম্ভ। সালাত একজন মুমিনের পরিচয়, সালাত মুমিন ও কাফেরদের মধ্যে পার্থক্যকারী, যাদের হৃদয় সালাতের জন্যে মসজিদে আটকে থাকে তাদের কে নবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভাষায় প্রলয়ের ( কিয়ামতের) দিন আরশে আযীমের
ছায়ার সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। সালাত এবাদতের মূল। কিয়ামতের মাঠে সর্ব প্রথম
প্রশ্ন সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। সালাত হচ্ছে মুমিনের অস্ত্র ও জান্নাতের
চাবি। এক কথায় সালাত ছাড়া কোন ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, এই মর্মে মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র
আল-কোরআন গ্রন্থে জান্নাত বাসীদের কথপোকথন নরক বাসীদের সাথে তুলে ধরে বলেন:
كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ رَهِينَةٌ* إلاّ أصْحَابَ اليَمِين* في جَنّاتٍ يتَساءلُون* عَنِ المُجْرِمين* مَا سَلَكَكُم فِي سَقَرْ* قَالُوا لَمْ نَكُ مِنَ المُصَلّين* وَلَمْ نَكُ نُطْعِمُ المِسْكِين* وكُنّا نَخُوضُ مَعَ الخَائِضِين، وكُنّا نُكَذِّبُ بِيَوْمِ الدّين* حتّى أتَانا اليَقِين
অর্থ:
প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃতকর্মের জন্য দায়ী, কিন্তু ডানদিকস্থরা, তারা থাকবে জান্নাতে এবং পরস্পরে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।
অপরাধীদের সম্পর্কে, বলবেঃ তোমাদেরকে
কিসে জাহান্নামে আনীত করেছে? তারা বলবেঃ আমরা নামায পড়তাম না, অভাবগ্রস্তকে আহার্য্য দিতাম না, আমরা সমালোচকদের সাথে সমালোচনা করতাম। এবং আমরা প্রতিফল দিবসকে অস্বীকার
করতাম। আমাদের মৃত্যু পর্যন্ত। (সুরা মুদ্দাস সির আয়াত নং ৩৮-৪৭)
আর সালাতের
মধ্যে ফজর ও আসর সালাতের গুরুত্ব ও ফজিলত
অনেক বেশি। নিম্নে ফজর সালাতের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা
হলো।
ফজর সালাত
হচ্ছে মুমিন ও মুনাফিক ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্যকারী। এই প্রসঙ্গে রাসূল
সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
عن أبي هريرة قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: ليس صلاة أثقل على المنافقين من الفجر والعشاء، ولو يعلمون ما فيهما لأتوهما ولو حبوا،
হযরত আবু হুরায়রা
রাদিয়াল্লাহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুনাফিক (কপট) দের উপর ফজর ও এশার নামায অপেক্ষা অধিক ভারী নামায আর নেই। যদি
তারা এর ফযীলত ও গুরুত্ব জানত, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে বা পাছার ভরে অবশ্যই (মসজিদে) উপস্থিত হত। ( সহীহ আল
বুখারী হাদীস নং ৬৫৭)
হযরত
যুনদুব বিন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) বলেন:
عن جُنْدَبَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ صَلَّى الصُّبْحَ فَهُوَ فِي ذِمَّةِ اللَّهِ
অর্থ: যে ব্যক্তি
ফজরের সালাত আদায় করে, সে ব্যক্তি ঐ দিন
আল্লাহর জিম্মায় চলে যায়। (সহীহ মুসলিম হাদীস নং ১৫২৫)
রাসূল
(সাঃ) বলেছেন, "যে ব্যক্তি ফজরের
সালাত আদায় করবে, আল্লাহর ফেরেশতাগন
আল্লাহর কাছে ঐ ব্যক্তির সালাতের সম্পর্কে সাক্ষী দিবে।
عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: يتعاقبون فيكم ملائكة بالليل وملائكة بالنهار ويجتمعون في صلاة الفجر وصلاة العصر ثم يعرج الذين باتوا فيكم فيسألهم ربهم وهو أعلم بهم كيف تركتم عبادي فيقولون تركناهم وهم يصلون وأتيناهم وهم يصلون
অর্থ:
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কাছে পালাক্রমে এক দল ফেরেশতা রাতে এবং এক দল
ফেরেশতা দিনে আসতে থাকেন এবং তারা- উভয় দল ফজর ও আসরের সালাতে একত্র হন। এরপর যারা
তোমাদের মাঝে রাত্রি যাপন করেছিলে তাঁরা ঊর্ধ্বলোকে চলে যান। এরপর তাঁদের
প্রতিপালক তাদেরকে প্রশ্ন করেন, অথচ তিনি তাঁদের চেয়ে অধিক জ্ঞাত- তোমরা আমার বান্দাদের কি অবস্থায় রেখে এলে? তখন তাঁরা বলেন আমরা যখন তাদেরকে রেখে আসি তখনও তারা সালাত
আদায় করছিলেন আর যখন তাদের কাছে গিয়েছিম তখনও তারা স্বলাত আদায় করছিলেন। (সহীহ মুসলিম
হাদীস নং ১৪৬৪)
ফজর সালাতের
গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে একাধিক হাদীস রয়েছে। এমনকি ফজরের দুই রাকাত সুন্নত সম্পর্কে
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
ركعتا الفجر خير من الدنيا وما فيها
অর্থ: ফজরের
দু রাকাত সুন্নত সালাত, দুনিয়া ও তার মাঝে যা কিছু আছে তারচেয়ে
উত্তম। (সুনান আত তিরমিযী হাদীস নং ৪১৮)
হে আল্লাহ! আমাদের সবাইকে
যথাযথভাবে ফজরের সালাত আদায় করার তৌফিক দান করুন। আমীন।
Comments
Post a Comment