উত্তম চরিত্রের আধার বিশ্ব নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

 উত্তম চরিত্রের আধার বিশ্ব নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

আব্দুর রাকিব নাদভী



সুলুল্লাহ সা. আদর্শ থেকে আজ মুসলিম সমাজ দিনের পর দিন দূরে চলে যাচ্ছে। অথচ সিরা-তুন-নবীই হল এই উম্মতের একমাত্র আদর্শ। এই মর্মে স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন: 

لَقَد كانَ لَكُم فى رَسولِ اللَّهِ أُسوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَن كانَ يَرجُوا اللَّهَ وَاليَومَ الءاخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثيرًا

অর্থ: যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্যে রসূলুল্লাহর মধ্যে উত্তম নমুনা রয়েছে। (সুরা আল আহযাব আয়াত নং ২১)

এই আদর্শ হল পরশ পাথর, যার পরশে মাটি হয় সোনা। যে আদর্শ ধারণ করে সাধারণ মানুষ হয় সর্বোৎকৃষ্ট মানব। যে আদর্শ চর্চার যুগ হয় ইতিহাসের সোনালি যুগ। আর সত্যিকারের মানুষ হওয়ার জন্য এই আদর্শের কোনও বিকল্প নেই। অতএব, নির্দিষ্ট দিন, মাসে এত আয়োজনের গতানুগতিকতা থেকে বের হয়ে নবী সা.-এর আদর্শকে নিজ জীবনে বাস্তবায়ন করাই সময়ের দাবি।

মানবজীবনের সব অঙ্গন, মূহুর্ত, ব্যক্তি-পরিবার, সমাজ-রাষ্ট্র সব ক্ষেত্রেই আছে নবী সা.-এর আদর্শ। প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণ থেকে নিয়ে রাষ্ট্রপরিচালনা ও  গুরুদায়িত্ব পালনেও রয়েছে তাঁর আদর্শ। যারা এই আদর্শ ধারণ করবে, নিজের জীবনে ও কাজে-কর্মে তা বাস্তবায়ন করবে, তারাই হবে আদর্শবান, তারাই হবে পৃথিবীর সেরা, শ্রেষ্ঠ ও সোনার মানুষ। পরপ্রজন্মের জন্য তারা হবে আদর্শ পূর্বসূরী। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন:

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:.........وَإِنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ تَفَرَّقَتْ عَلَى ثِنْتَيْنِ وَسَبْعِينَ مِلَّةً وَتَفْتَرِقُ أُمَّتِي عَلَى ثَلاَثٍ وَسَبْعِينَ مِلَّةً كُلُّهُمْ فِي النَّارِ إِلاَّ مِلَّةً وَاحِدَةً قَالُوا وَمَنْ هِيَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِي)). 

অর্থাৎ: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: নিশ্চয়ই বনি ইসরাইল বাহাত্তরটি দলে বিভক্ত হয়েছিল আর আমার উম্মত বিভক্ত হবে তিয়াত্তরটি দলে। তাদের একটি ছাড়া সবগুলোই হবে জাহান্নামি সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন ইয়া রাসূল্লালাহ্ সা.। সে দল কোনটি ? তিনি ইরশাদ করলেন যার ওপর আমি ও আমার সাহাবিরা প্রতিষ্ঠিত। )সুনানে আত তিরমিযী হাদীস নং ২৮৫৩)

অতএব, আমাদের উচিত জীবনের সব অঙ্গনে রাসূলুল্লাহ্ সা. আদর্শ অনুসরণ করা। আল্লাহতায়ালা আমাদের তাওফিক দান করুন। সিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল রাসূলুল্লাহ সা.-এর আখলাক ও চরিত্র। 

একদা হযরত কাতাদাহ উম্মুল মুমিনীন আম্মা আয়িশা রা.-কে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আখলাক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন :

قَالَ قَتَادَةُ .......فَقُلْتُ يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ أَنْبِئِينِي عَنْ خُلُقِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. 

قَالَتْ أَلَسْتَ تَقْرَأُ الْقُرْآنَ قُلْتُ بَلَى. قَالَتْ فَإِنَّ خُلُقَ نَبِيِّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ الْقُرْآنَ.

অর্থাৎ: হযরত কাতাদাহ্ থেকে বর্ণিত....... এরপর আমি বললামঃ হে উন্মুল মুমিনীন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আখলাক সম্পর্কে আমাকে কিছু অবহিত করুন। এ কথা শুনে তিনি আমাকে বললেনঃ তুমি কি কুরআন পড় না? আমি বললাম- হ্যাঁ, পড়ি। তিনি বললেন, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আখলাক তো ছিল কুরআন। (সহীহ মুসলিম হাদীস নং ১৭৭৩) অর্থাৎ রাসূল সা.-এর গোটা জীবন ছিল কুরআন মাজিদের ব্যবহারিক তাফসির। এই প্রসঙ্গে স্বয়ং মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন: 

 ن ۚ وَالقَلَمِ وَما يَسطُرونَ  ما أَنتَ بِنِعمَةِ رَبِّكَ بِمَجنونٍ وَإِنَّ لَكَ لَأَجرًا غَيرَ ممنون وَإِنَّكَ لَعَلىٰ خُلُقٍ عَظيمٍ 

অর্থ: নূন। শপথ কলমের এবং সেই বিষয়ের যা তারা লিপিবদ্ধ করে, আপনার পালনকর্তার অনুগ্রহে আপনি উম্মাদ নন। আপনার জন্যে অবশ্যই রয়েছে অশেষ পুরস্কার। এবং  নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী। ( সুরা কলম আয়াত নং ১-৪)

নিম্নে উত্তম চরিত্রের কয়েকটি দিক সংক্ষেপে তুলে ধরা হল- 

• তাওয়াক্কুল তথা আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল:

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ((يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مِنْ أُمَّتِي سَبْعُونَ أَلْفًا بِغَيْرِ حِسَابٍ، هُمُ الَّذِينَ لاَ يَسْتَرْقُونَ، وَلاَ يَتَطَيَّرُونَ، وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ)).

 অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আমার উম্মতের মধ্যে সত্তর হাজার লোক বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে, যারা মন্ত্র-তন্ত্র ব্যবহার করে না, কুলক্ষণ গ্রহণ করে না এবং যারা প্রতিপালকের ওপর ভরসা রাখে ।' (সহিহ বুখারী হাদীস নং ৬৪৭২) 

عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ((لَوْ أَنَّكُمْ كُنْتُمْ تَوَكَّلُونَ عَلَى اللَّهِ حَقَّ تَوَكُّلِهِ لَرُزِقْتُمْ كَمَا تُرْزَقُ الطَّيْرُ تَغْدُو خِمَاصًا وَتَرُوحُ بِطَانًا)).

অর্থ: হযরত উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:  তোমরা যদি আল্লাহর ওপর যথাযথ ভরসা কর তাহলে তিনি তোমাদের পাখিদের মতো রিযিক দান করবেন। পাখিরা সকালে খালি পেটে বের হয় অথচ সন্ধ্যায় ফিরে আসে উদরপূর্তি হয়ে।” (সুনান আত্ তিরমিজি হাদীস নং ২৫১৫)

• ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতা : 

মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রব্বুল আলামীন বলেন: 

يٰأَيُّهَا الَّذينَ ءامَنُوا استَعينوا بِالصَّبرِ وَالصَّلوٰةِ ۚ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصّٰبِرينَ

 হে মুমিন গন! তোমরা ধৈর্য্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চিতই আল্লাহ ধৈর্য্যশীলদের সাথে রয়েছেন। ( সুরা আল বাকারাহ আয়াত নং ১৫৩)

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আরো বলেন: 

وَلَنَبلُوَنَّكُم بِشَيءٍ مِنَ الخَوفِ وَالجوعِ وَنَقصٍ مِنَ الأَموٰلِ وَالأَنفُسِ وَالثَّمَرٰتِ ۗ وَبَشِّرِ الصّٰبِرينَ

অর্থ: এবং অবশ্যই আমি তোমাদিগকে পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে সুসংবাদ দাও সবরকারীদের। (সুরা আল বাকারাহ আয়াত নং ১৫৫)

একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য প্রসঙ্গে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন: 

لَيسَ البِرَّ أَن تُوَلّوا وُجوهَكُم قِبَلَ المَشرِقِ وَالمَغرِبِ وَلٰكِنَّ البِرَّ مَن ءامَنَ بِاللَّهِ وَاليَومِ الءاخِرِ وَالمَلٰئِكَةِ وَالكِتٰبِ وَالنَّبِيّۦنَ وَءاتَى المالَ عَلىٰ حُبِّهِ ذَوِى القُربىٰ وَاليَتٰمىٰ وَالمَسٰكينَ وَابنَ السَّبيلِ وَالسّائِلينَ وَفِى الرِّقابِ وَأَقامَ الصَّلوٰةَ وَءاتَى الزَّكوٰةَ وَالموفونَ بِعَهدِهِم إِذا عٰهَدوا ۖ وَالصّٰبِرينَ فِى البَأساءِ وَالضَّرّاءِ وَحينَ البَأسِ ۗ أُولٰئِكَ الَّذينَ صَدَقوا ۖ وَأُولٰئِكَ هُمُ المُتَّقونَ

অর্থ: সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে, বরং বড় সৎকাজ হল এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর উপর কিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাদের উপর এবং সমস্ত নবী-রসূলগণের উপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্নীয়-স্বজন, এতীম-মিসকীন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্যে। আর যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দান করে এবং যারা কৃত প্রতিজ্ঞা সম্পাদনকারী এবং অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য্য ধারণকারী তারাই হল সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই পরহেযগার।(সুরা আল বাকারাহ আয়াত নং ১৭৭)

 عَنْ صُهَيْبٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ((عَجَبًا لأَمْرِ الْمُؤْمِنِ إِنَّ أَمْرَهُ كُلَّهُ خَيْرٌ وَلَيْسَ ذَاكَ لأَحَدٍ إِلاَّ لِلْمُؤْمِنِ إِنْ أَصَابَتْهُ سَرَّاءُ شَكَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ وَإِنْ أَصَابَتْهُ ضَرَّاءُ صَبَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ)).

হযরত সোহাইব রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: , মুমিনের এই বিষয়টি খুবই আশ্চর্যজনক যে, সব অবস্থায়ই তার জন্য কল্যাণকর। আর এটি শুধু মুমিনেরই বৈশিষ্ট্য। সুখ ও আনন্দের কিছু হলে যে আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতা পেশ করে। ফলে এটি তার জন্য কল্যাণকর হয়। আর দুঃখ-কষ্ট এলে সে সবর ও ধৈর্য ধারণ করে, এটাও তার জন্য মঙ্গলজনক। (সহিহ মুসলিম হাদীস নং ৭৬৯২)

আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি রাসূল সা.কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন-


هَلْ أَتَى عَلَيْكَ يَوْمٌ كَانَ أَشَدَّ مِنْ يَوْمِ أُحُدٍ، قَالَ : ” لَقَدْ لَقِيتُ مِنْ قَوْمِكِ مَا لَقِيتُ، وَكَانَ أَشَدَّ مَا لَقِيتُ مِنْهُمْ يَوْمَ العَقَبَةِ، إِذْ عَرَضْتُ نَفْسِي عَلَى ابْنِ عَبْدِ يَالِيلَ بْنِ عَبْدِ كُلاَلٍ، فَلَمْ يُجِبْنِي إِلَى مَا أَرَدْتُ، فَانْطَلَقْتُ وَأَنَا مَهْمُومٌ عَلَى وَجْهِي، فَلَمْ أَسْتَفِقْ إِلَّا وَأَنَا بِقَرْنِ الثَّعَالِبِ فَرَفَعْتُ رَأْسِي، فَإِذَا أَنَا بِسَحَابَةٍ قَدْ أَظَلَّتْنِي، فَنَظَرْتُ فَإِذَا فِيهَا جِبْرِيلُ، فَنَادَانِي فَقَالَ: إِنَّ اللَّهَ قَدْ سَمِعَ قَوْلَ قَوْمِكَ لَكَ، وَمَا رَدُّوا عَلَيْكَ، وَقَدْ بَعَثَ إِلَيْكَ مَلَكَ الجِبَالِ لِتَأْمُرَهُ بِمَا شِئْتَ فِيهِمْ، فَنَادَانِي مَلَكُ الجِبَالِ فَسَلَّمَ عَلَيَّ، ثُمَّ قَالَ: يَا مُحَمَّدُ، فَقَالَ، ذَلِكَ فِيمَا شِئْتَ، إِنْ شِئْتَ أَنْ أُطْبِقَ عَلَيْهِمُ الأَخْشَبَيْنِ؟ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: بَلْ أَرْجُو أَنْ يُخْرِجَ اللَّهُ مِنْ أَصْلاَبِهِمْ مَنْ يَعْبُدُ اللَّهَ وَحْدَهُ، لاَ يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا “


অর্থাৎ, আপনার কাছে কি এমন কোন দিন এসেছে যা উহুদের চেয়েও কঠিন দিন ছিল? রাসূল সা. বলেন: আমি তোমার কওম থেকে এমন অবস্থার সম্মুখীন হয়েছি যা বর্ণনাতীত। আর আকাবার দিন (তায়েফের ঘটনা) ছিল তাদের পক্ষ থেকে সবচেয়ে কঠিন অবস্থা!! আমি নিজেকে সমর্পণ করলাম ইবনে আবদি ইয়ালিল ইবনে আব্দি কুলাল গোত্রের কাছে; কিন্তু, তারা আমার ইচ্ছায় সাড়া দিল না। অতঃপর আমি চেহারায় দুঃখের ছাপ নিয়ে ফিরে আসছিলাম। আমি যখন সম্বিত ফিরে পেলাম তখন আমি ছিলাম- ‘কারনে সায়ালেব’ নামক স্থানে। আমি মাথা উপরের দিকে তুললাম। দেখলাম একখ- মেঘ আমাকে ছায়া দিয়েছে। সেখানে জিবরাইল (আ)-এর সাক্ষাৎ পেলাম। তিনি আমাকে ডেকে বললেন, আল্লাহ্ তায়ালা কওমের উদ্দেশে আপনার বক্তব্য ও তাদের জবাব শুনেছেন। তিনি আপনার কাছে পাহাড়ের ফেরেশতাকে পাঠিয়েছেন। তাদের ব্যাপারে আপনার যা খুশি তাকে নির্দেশ দেবেন। পাহাড়ের ফেরেশতা আমাকে ডেকে সালাম দিয়ে বললেন, হে মুহাম্মাদ সা.! আপনি যা চান তাই হবে। যদি আপনি বলেন তাহলে, আমি তাদের উপর পাহাড় দু’টি চাপিয়ে দেবো। রাসূল সা. বললেন: না! বরং, আমি চাই তাদের ঔরসজাত সন্তানদের মধ্য থেকে এমন কেউ বের হোক যে একমাত্র আল্লাহ্ তায়ালার ইবাদাত করবে তার সাথে কাউকে অংশীদার স্থাপন করবে না। (সহীহ আল বুখারি হাদীস নং ৩২৩১ ও সহীহ মুসলিম হাদীস নং ৪৭৫৪)


• অঙ্গীকার রক্ষা করা :

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ((آيَةُ الْمُنَافِقِ ثَلاَثٌ إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ، وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ، وَإِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ)). 

 হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: মুনাফিকের আলামত তিনটি—

ক. কথা বললে মিথ্যা বলা।

খ. অঙ্গীকার করলে তা রক্ষা না করা।

গ.আমানত রাখলে খে য়ানত করা।

 (সহিহ বুখারী হাদীস নং ৩৩ সহিহ মুসলিম হাদীস নং ২২০) 

• বিনয় ও তাওয়াজ্জো অবলম্বন করা : 

عن أبي هريرة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((ما نقصت صدقة من مال وما زاد الله عبدا بعفو إلا عزا وما تواضع أحد لله إلا رفعه الله)). 

অর্থ: হযরত আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সাদাকা করাতে সম্পদের হ্রাস হয় না। যে ব্যক্তি ক্ষমা করে আল্লাহ তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। আর কেউ আল্লাহর সম্ভষ্টি লাভে বিনীত হলে তিনি তার মর্যাদা সমুন্নত করে দেন। ( সহীহ মুসলিম হাদীস নং ৬৭৫৭)


- সত্যবাদিতা : 

মহান স্রষ্টা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন স্বয়ং বলেন: 

يٰأَيُّهَا الَّذينَ ءامَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكونوا مَعَ الصّٰدِقينَ

হে ঈমানদারগণ, আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সাথে থাক। (সুরা তাওবা আয়াত নং ১১৯)

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ((عَلَيْكُمْ بِالصِّدْقِ فَإِنَّ الصِّدْقَ يَهْدِي إِلَى الْبِرِّ وَإِنَّ الْبِرَّ يَهْدِي إِلَى الْجَنَّةِ وَمَا يَزَالُ الرَّجُلُ يَصْدُقُ وَيَتَحَرَّى الصِّدْقَ حَتَّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللَّهِ صِدِّيقًا وَإِيَّاكُمْ وَالْكَذِبَ فَإِنَّ الْكَذِبَ يَهْدِي إِلَى الْفُجُورِ وَإِنَّ الْفُجُورَ يَهْدِي إِلَى النَّارِ وَمَا يَزَالُ الرَّجُلُ يَكْذِبُ وَيَتَحَرَّى الْكَذِبَ حَتَّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللَّهِ كَذَّابًا)).

আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের সত্যানুসারী হওয়া উচিত। কেননা সত্যবাদিতা পুণ্যের দিকে পথপ্রদর্শন করে, আর পুণ্য জানণাতের দিকে পথপ্রদর্শন করে। যে ব্যক্তি সর্বদা সত্য কথা বলে এবং সত্য বলতে চেষ্টা করে, আল্লাহ তা’আলার দরবারে তাকে সত্যবাদী বলে লেখা হয়। তোমরা মিথ্যাচার থেকে বেঁচে থাকো। মিথ্যা পাপাচারের পথ দেখায়, আর পাপ জাহান্নামের দিকে পথ দেখায়। যে ব্যক্তি সর্বদা মিথ্যা কথা বলে এবং মিথ্যা বলতে সচেষ্ট থাকে, আল্লাহ তা’আলার দরবারে তাকে বড় মিথ্যুক বলে লেখা হয়। ( সহীহ আল বুখারী হাদীস নং ৬০৯৪, সহীহ মুসলিম হাদীস নং ৬৮০৫ শব্দাবলি সহীহ মুসলিম গ্রন্থের)।

• লজ্জাশীলতা : 

عن عِمْرَانَ بْنَ حُصَيْنٍ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ((الْحَيَاءُ لاَ يَأْتِي إِلاَّ بِخَيْرٍ)).

ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লজ্জাশীলতা কল্যাণ ছাড়া কোন কিছুই নিয়ে আনে না। (সহীহ আল বুখারী হাদীস নং ৬১১৭, সহীহ মুসলিম হাদীস নং ১৬৫)

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا مَرَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى رَجُلٍ وَهْوَ يُعَاتَبُ فِي الْحَيَاءِ يَقُولُ إِنَّكَ لَتَسْتَحْيِي. حَتَّى كَأَنَّهُ يَقُولُ قَدْ أَضَرَّ بِكَ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ((دَعْهُ فَإِنَّ الْحَيَاءَ مِنَ الإِيمَانِ)). 

আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। একদা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক আনসারীর পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। তিনি তাঁর ভাইকে তখন (অধিক) লজ্জা ত্যাগের জন্য নাসীহাত করছিলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ ওকে ছেড়ে দাও। কারণ লজ্জা ঈমানের অঙ্গ। (সহীহ আল বুখারী হাদীস নং ৬১১৮, সহীহ মুসলিম হাদীস নং ১৬৩)

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ((إِنَّ لِكُلِّ دِينٍ خُلُقًا وَإِنَّ خُلُقَ الإِسْلاَمِ الْحَيَاءُ)). 

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: প্রতিটি ধর্মের একটি বিশেষ স্বভাব আছে। আর ইসলাম ধর্মের বিশেষ স্বভাব হলো লজ্জা (সুনান ইবনে মাযাহ হাদীস নং ৪৩২২ মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস নং৩৩৫৯ , উক্ত হাদিসটিকে ইমাম আলবানী রহঃ সহীহ ইবনে মাযাহ গ্রন্থে হাদীস নং৩৩৯০ হাসান বলেছেন )।

• নম্রতা :

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্বোধন করে বলেন: 

فَبِمَا رَحْمَةٍ مِّنَ اللَّهِ لِنتَ لَهُمْ ۖ وَلَوْ كُنتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ ۖ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ ۖ فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِينَ


(হে নবী!) এটা আল্লাহর বড়ই অনুগ্রহ যে, তোমার ব্যবহার তাদের প্রতি বড়ই কোমল। নয়তো যদি তুমি রুক্ষ স্বভাবের বা কঠোরচিত্ত হতে, তাহলে তারা সবাই তোমার চার পাশ থেকে সরে যেতো। তাদের ত্রুটি ক্ষমা করে দাও। তাদের জন্য মাগফিরাতে দোয়া করো এবং দীনের ব্যাপারে বিভিন্ন পরামর্শে তাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করো। তারপর যখন কোন মতের ভিত্তিতে তোমরা স্থির সংকল্প হবে তখন আল্লাহর ওপর ভরসা করো। আল্লাহ তাদেরকে পছন্দ করেন যারা তাঁর ওপর ভরসা করে কাজ করে। (সূরা আলে ইমরান: ১৫৯)


عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتِ

فَقَالَ: ((يَا عَائِشَةُ إِنَّ اللَّهَ رَفِيقٌ يُحِبُّ الرِّفْقَ فِي الأَمْرِ كُلِّهِ)). 

আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ কৃপাময়। তিনি সকল বিষয়ে নম্রতা ও কৃপা পছন্দ করেন। (সহীহ আল বুখারী হাদীস নং ৬৯২৭)

عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ((يَا عَائِشَةُ إِنَّ اللَّهَ رَفِيقٌ يُحِبُّ الرِّفْقَ وَيُعْطِي عَلَى الرِّفْقِ مَا لاَ يُعْطِي عَلَى الْعُنْفِ وَمَا لاَ يُعْطِي عَلَى مَا سِوَاهُ)).

 নিশ্চয় আল্লাহ কৃপাময়। তিনি নম্রতা পছন্দ করেন। আর নম্রতার উপর যা প্রদান করেন তা কঠোরতার উপর বরং এ ব্যতীত অন্য কিছুর উপর প্রদান করেন না। (সহীহ মুসলিম হাদীস নং ৬৭৬৬)

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  আরো বলেন

عَنْ جَرِيرٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ((مَنْ يُحْرَمِ الرِّفْقَ يُحْرَمِ الْخَيْرَ)). 

জারীর (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ 'যে ব্যক্তি নম্রতা থেকে বঞ্চিত যে অনেক কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত। ( সহীহ মুসলিম হাদীস নং ৬৭৬৩)


• অন্যের প্রতি দয়া :

عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ((لاَ يَرْحَمُ اللَّهُ مَنْ لاَ يَرْحَمُ النَّاسَ)). 

 হযরত জারির বিন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : যে ব্যক্তি

মানুষের ওপর দয়া করে না, আল্লাহ তার প্রতি দয়া করেন না। (সহিহ আল বুখারী হাদীস নং৭৩৭৬)


• বদান্যতা ও দানশীলতা : 

মুহাম্মাদ সা.-এর দানশীলতা ছিল দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী। তিনি নিজের কাছে কিছু থাকলে কাউকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিতেন না। 

عَنْ مُوسَى بْنِ أَنَسٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ مَا سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الإِسْلاَمِ شَيْئًا إِلاَّ أَعْطَاهُ- قَالَ- فَجَاءَهُ رَجُلٌ فَأَعْطَاهُ غَنَمًا بَيْنَ جَبَلَيْنِ فَرَجَعَ إِلَى قَوْمِهِ فَقَالَ يَا قَوْمِ أَسْلِمُوا فَإِنَّ مُحَمَّدًا يُعْطِي عَطَاءً لاَ يَخْشَى الْفَاقَةَ. 

হযরত আনাস থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে কেউ কিছু চাইলেই তিনি তা দিয়ে দিতেন। একবার একজন লোক তার কাছে এসে ছাগল চাইলে তিনি তাকে প্রচুর পরিমাণ ছাগল দিয়েছিলেন, যা দুই পাহাড়ের মধ্যকার স্থান পূর্ণ করে ফেলবে। এরপর লোকটা নিজ সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে গিয়ে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা ইসলাম গ্রহণ কর। আল্লাহর কসম! মুহাম্মাদ সা. এত বেশি পরিমাণে দান করেন যে কখনও দরিদ্রতার ভয় করেন না। (সহীহ মুসলিম হাদীস নং৬১৬০)


• পরোপকার :

‬فعن عبد الله بن عمر رضي‮ ‬الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال‮: «‬أحب الناس إلى الله أنفعهم للناس، ‬وأحب الأعمال إلى الله عز وجل سرور تدخله على مسلم،‮ ‬أو تكشف عنه كربة،‮ ‬أو تقضي‮ ‬عنه دينا،‮ ‬أو تطرد عنه جوعا.....)المعجم للطبراني : 13468صححه الألباني الأحاديث الصحيحة رقم (906)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ররাযিয়াল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়তম লোক হল ঐ ব্যক্তি যে মানুষের সবচেয়ে বেশি উপকারী। আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়তম আমল হল, একজন মুসলিমের হৃদয়কে খুশীতে পরিপূর্ণ করা অথবা তার কোন কষ্ট দূর করে দেওয়া অথবা তার পক্ষ থেকে তার ঋণ আদায় করে দেওয়া অথবা  তার নিকট থেকে তার ক্ষুধা দূর করে দেওয়া। 

(ত্বাবারানী হাদীস নং ১৩৪৬৮, সিল সিলাতুস্ সহীহা হাদীস নং ৯০৬)

মূল কথা

নবী করিম সা.-এর জীবনে মানব কল্যাণ, মানুষের মুক্তির চিন্তা, বিবাদ মীমাংসা, সত্যবাদিতা, আমানতদারিতা, বন্ধু বৎসলতা, উদার মানসিকতা, মানুষের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক মুক্তি, সামাজিক নিরাপত্তা, সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা, অশান্তি বিলোপসাধন, নারীমুক্তি, দাসমুক্তি, মানুষের মাঝে সাম্য-ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠাসহ সকল ধরনের গুণাবলীর সমাবেশ ঘটেছিলো তার জীবনে। এ জন্য মহান আল্লাহ তার চরিত্রের সার্টিফিকেট প্রদান করেছন সূরা আল আহজাবের ২১ নম্বর আয়াতে। মহান আল্লাহ বলেন- لَّقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَن كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا আসলে তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে একটি উত্তম আদর্শ, এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য যে আল্লাহ ও শেষ দিনের আকাঙ্ক্ষী এবং বেশি করে আল্লাহকে স্মরণ করে। 

দূয়া: হে আল্লাহ তুমি আমাদের সকলকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদর্শ মেনে জীবন যাপন করার তৌফিক প্রদান কর। আমীন।

Comments

Popular posts from this blog

ভারত বর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে শেরশাহবাদি সম্প্রদায়ের অবদান। আব্দুর রাকিব নাদভী

শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ্বনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভূমিকা।

বাংলা ভাষায় ইসলামী সংস্কৃতির প্রভাব।