ভবিষ্যৎ ইসলামের
ভবিষ্যৎ ইসলামের
আব্দুর রাকিব নাদভী
বর্তমানে আমরা যে যুগে শ্বাস নিচ্ছি , মানবতার ইতিহাসের সবচেয়ে মহিমান্বিত এবং বিপজ্জনক যুগ। মুসলিম বিশ্ব , বিশেষ করে যে দেশে মুসলমানরা সংখ্যালঘু, সেসব দেশের অবস্থার পর্যালোচনা আমাদের স্বরণ করিয়ে দেয় গাজওয়া খন্দকের বেদানাদায়ক পরিস্থিতি। ঐ সময়ে মুসলমানরা যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল, খুব দুঃখজনক ও বেদানাদায়ক।
পবিত্র আল কুরআনের পরিভাষায় মুসলমানদের প্রাণ ঠোঁটে এসেছিল।
মুসলমানদের ক্ষেত্রে বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতিও ঐ মত, আর বিশেষ কিছু কিছু জায়গায় তার চেয়েও বেশি ভয়ঙ্কর ও বিপজ্জনক। পৃথিবীর এক কোণ থেকে অন্য কোণে দৃষ্টিপাত করলেই আপনি দেখতে পাবেন যে, সমস্ত বিশ্ব প্রশস্ত থাকা সত্ত্বেও মুসলমানদের জন্য সংকীর্ণ এবং শ্বাসরুদ্ধকর হয়ে পড়েছে।
মুসলিম দেশ লিবিয়া জলন্ত অবস্থায়, মিশর অগ্নীকান্ডে নিমজ্জিত, সিরিয়ায় জনশূন্য ও মানুষের হাহাকার, য়ামান, ইরান, জলন্ত আগুনে, পাকিস্তান, আফগানিস্তানে বোমা-মর্টারের গর্জন এবং হৃদয় কেঁপে উঠছে। ইরাক বিধবাদের দেশে পরিণত হয়েছে। এমনকি তূরুস , ফিলিস্তিন, বর্মা, ভারতআগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ছে। পবিত্র আল কুরআনের ভাষায় সবচেয়ে নিরাপদ ও শান্তির ভূমি হল হারামাইন শরীফ অর্থাৎ মক্কা ও মদিনার ভূমি। কিন্তু দুঃখের বিষয় মক্কা মদিনার শান্তি ও শৃঙ্খলাকে নষ্ট করার উদ্দেশ্যে জোরালো এবং ব্যাপক আকারে ষড়যন্ত্র চলছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভবিষ্যৎবাণী বর্তমান যুগ এবং পরিস্থিতির সাথে হুবহু মিলে যাচ্ছে।
عن ثوبان، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يوشك الأمم أن تداعى عليكم كما تداعى الأكلة إلى قصعتها»، فقال قائل: ومِن قلة نحن يومئذ؟ قال: «بل أنتم يومئذٍ كثير، ولكنكم غثاء كغثاء السيل، ولينزعن الله من صدور عدوكم المهابة منكم، وليقذفن في قلوبكم الوهن»، فقال قائل: يا رسول الله وما الوهن ؟ قال: «حب الدنيا، وكراهية الموت
হযরত সাওবান রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
খাদ্য গ্রহণকারীরা যেভাবে খাদ্যর পাত্রের চতুর্দিকে একত্র হয় , অচিরেই শত্রুরা তোমাদের বিরুদ্ধে সেইভাবেই একত্রিত হয়ে আক্রমণ করবে। একজন সাহাবী বলে উঠলেন: আমরা কি সেদিন সংখ্যায় কম হবো? তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বললেন:
তোমরা বরং সেদিন সংখ্যাগরিষ্ঠ হবে। কিন্তু তোমরা হবে প্লাবনের স্রোতে ভেসে যাওয়া আবর্জনার মত।
আর আল্লাহ শত্রুদের অন্তর থেকে তোমাদের আতঙ্ক ও ভয় দূর করে দিবে। এবং তোমাদের অন্তরে ভীরুতা ভরে দেবে। একজন সাহাবী জিজ্ঞাসা করলেন হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভীরুতা কি? তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন: দুনিয়ার মোহ এবং মৃত্যুকে অপছন্দ করা।
(সুনান আবি দাউদ কিতাবুল মালাহিম হাদিস নং ৪২৯৯)
বর্তমানে বিশ্বের যত পরিস্থিতি খারাপ এবং বিপদজনক হওয়া সত্বেও যাদের অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস আছে, তারা এই ঘোর অন্ধকারেও আলোর রশ্মি দেখতে পায়। কারণ বিশ্বজগতের পালনকর্তার প্রতিশ্রুতির প্রতি তাঁদের অটল ও পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নিম্নলিখিত বাণী মুসলিমদের হৃদয়ের মধ্যে বারবার আল্লাহর প্রতিশ্রুতি জাগ্রত করে দেয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন:
يُريدونَ أَن يُطفِـٔوا نورَ اللَّهِ بِأَفوٰهِهِم وَيَأبَى اللَّهُ إِلّا أَن يُتِمَّ نورَهُ وَلَو كَرِهَ الكٰفِرونَ ، هُوَ الَّذى أَرسَلَ رَسولَهُ بِالهُدىٰ وَدينِ الحَقِّ لِيُظهِرَهُ عَلَى الدّينِ كُلِّهِ وَلَو كَرِهَ المُشرِكونَ
অর্থাৎ : তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূরকে নির্বাপিত করতে চায়। কিন্তু আল্লাহ অবশ্যই তাঁর নূরের পূর্ণতা বিধান করবেন, যদিও কাফেররা তা অপ্রীতিকর মনে করে। তিনিই প্রেরণ
করেছেন আপন রসূলকে হেদায়েত ও সত্য দ্বীন সহকারে, যেন এ দ্বীনকে অপরাপর দ্বীনের উপর জয়যুক্ত করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপ্রীতিকর মনে করে। ( সুরা আত তওবা আয়াত নং ৩২- ৩৩)
উক্ত আয়াত খুব স্পষ্ট যে, ভবিষ্যত হলো ইসলামের। অবশ্যই ইসলাম পৃথিবীর সকল ধর্মের উপর বিজয় লাভ করবে ও প্রাধান্য পাবে। কারণ এটি বিশ্ব সৃষ্টি কর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সিদ্ধান্ত । এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সিদ্ধান্ত অপরিবর্তনীয়। এই মর্মে আল্লাহ স্বয়ং বলেন:
تَجِدَ لِسُنَّةِ اللَّهِ تَبديلًا
যারা পূর্বে অতীত হয়ে গেছে, তাদের ব্যাপারে এটাই ছিল আল্লাহর রীতি। আপনি আল্লাহর রীতিতে কখনও পরিবর্তন পাবেন না। ( সুরা আল আহযাব আয়াত নং ৬২ , সুরা আল ফাতাহ আয়াত নং ৩২)
কেউ কেউ বলেন যে, সাইয়্যেদ না মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, খলিফা রাশেদীন ও শাহান সালিহীনের সময়ে ইসলামের প্রচলনের বিষয়টি পূর্ণ হয়েছে।এটা নিশ্চিত যে ঐশী প্রতিশ্রুতির একটি অংশ সেই সময়ে পূর্ণ হয়েছিল, যেমন হবে। নিম্নলিখিত ভবিষ্যদ্বাণীমূলক বাণী থেকে স্পষ্ট হয়:
ليَبْلُغن هذا الأمر ما بلغ اللَّيل والنَّهار، ولا يترك الله بيت مَدَرٍ ولا وَبَرٍ إلَّا أدخله اللهُ هذا الدِّين، بِعِزِّ عَزِيزٍ أو بِذُلِّ ذَليلٍ، عِزًّا يُعِزُّ الله به الإسلام، وذُلًّا يُذِلُّ الله به الكفر
অর্থাৎ এক সময় আসবে যখন ইসলাম ও পৃথিবীর ঐ সীমানা পর্যন্ত পৌঁছে যাবে, যতদূর রাত এবং দিন পৌঁছায়। পৃথিবীর কোন কাঁচা বা পাকা ঘর থাকবে না, সব স্থানেই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর এই দ্বীনকে পৌঁছাইয়া দিবেন দিবেন, সম্মানীয় ব্যক্তিকে সম্মানের সহিত এবং অপমানিত ব্যক্তিকে অপমানের সহিত, সম্মান যা দিয়ে আল্লাহ ইসলামকে মর্যাদা দেন, আর অপমান যার দ্বারা আল্লাহ অবিশ্বাসকে অপমান করেন। মুসনাদে আহমেদ, উক্ত হাদিস টিকে আল্লামা নাসিরুদ্দিন আলবানী রহঃ সহীহ বলেছেন)
মূল কথা: ভবিষ্যৎ ইসলামের। বর্তমানে মুসলিমদের বেদনাদায়ক অবস্থা ও খারাপ পরিস্থিতি দেখে নিরাশ হওয়া একেবারেই বৈধ হবে না। নিরাশ হওয়ার কোন ব্যাপার নয়, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সাথে রয়েছেন, ইন শা আল্লাহ ভবিষ্যৎ আমাদের। আমরাই জয়ী হয়ে, সম্মানের সাথে পৃথিবীতে জীবন যাপন করব



Comments
Post a Comment