বিস্ফোরণের বিরুদ্ধে সৌদি সুপ্রিম ওলামা কাউন্সিলের রেজুলেশন।

 বিস্ফোরণের বিরুদ্ধে সৌদি সুপ্রিম ওলামা কাউন্সিলের  রেজুলেশন।

অনুবাদক : আব্দুর রাকিব নাদভী



সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং শান্তি বর্ষিত হোক সেই ব্যক্তির উপর যার পরে কোন নবী নেই হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর ও তাঁর পবিত্র পরিবারের উপর এবং সাহাবা কেরামদের উপর।

  তারিখ ২০ জুমাদিউস্-সানি ১৪১৬ হিজরি রোজ সোমবার  রিয়াজ সৌদি আরবের উলিয়া মহল্লায় হাইওয়ে রাস্তার ধারে সকালের সময় বোমা বিস্ফোরণ হয়, এই বিস্ফোরনে নিষ্পাপ মানুষের প্রাণ যায় এবং কিছু সংখ্যক নিরীহ মানুষ নিহত হন, এবং শান্তি প্রিয় নাগরিক ও পথীকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

তাই পরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এ ধরনের হামলা পাপের কাজ এবং জঘন্যতম অপরাধ, রাষ্ট্রদ্রোহ ও বিশ্বাসঘাতকতা। এবং জীবন, সম্পত্তি ও শান্তি ও স্থিতিশীলতার সীমা লঙ্ঘন।  এমন কাজ কেবল একজন দুষ্ট পাপীচার ব্যক্তিই করতে পারে। যার বুক বিদ্বেষ, বিশ্বাসঘাতকতা, হিংসা, বিদ্রোহ, শত্রুতা এবং জীবনের ভালোর বিরুদ্ধে ঘৃণায় ভরা।  এ ধরনের ঘটনার অবৈধতা, এ অপরাধের জঘন্যতা এবং এর গুনাহের মাহাত্ম্য নিয়ে মুসলমানদের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই। পবিত্র আল কোরানের আয়াত সমূহ ও হাদিসের সকল গ্রন্থে এই ধরনের অপরাধ ও কর্মকাণ্ড কে অবৈধ ও হারাম ঘোষণা করা হয়েছে।

কাউন্সিল, এই অপরাধমূলক কাজকে অবৈধ ও হারাম নিশ্চিত করার সময়, আমাদেরকে মন্দ চিন্তা, দুর্নীতি এবং ধ্বংসাত্মক প্রবণতার পথ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেয়। 

এবংএকজন মানুষ যখন তাঁর আত্মার অনুকরণ করে, তখন আত্মা তাঁকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। এবং এরূপ পরিস্থিতিতে হিংসা-বিদ্বেষের অধিকারী ব্যক্তিরা তাঁদের লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষাকে সুন্দর আকারে উপস্থাপন করার সুযোগ পায়। তাই এই ধরনের মানসিকতা পোষণকারী ব্যক্তিদের সম্পর্কে জ্ঞাত থাকা ব্যক্তিদের উপর ওয়াজিব যে, তাঁদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা। যারা মন্দের দাওয়াত দেয় এবং পৃথিবীতে অশান্তি ছড়ায় তাদের সম্পর্কে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন: 

إِنَّما جَزٰؤُا۟ الَّذينَ يُحارِبونَ اللَّهَ وَرَسولَهُ وَيَسعَونَ فِى الأَرضِ فَسادًا أَن يُقَتَّلوا أَو يُصَلَّبوا أَو تُقَطَّعَ أَيديهِم وَأَرجُلُهُم مِن خِلٰفٍ أَو يُنفَوا مِنَ الأَرضِ ۚ ذٰلِكَ لَهُم خِزىٌ فِى الدُّنيا ۖ وَلَهُم فِى الءاخِرَةِ عَذابٌ عَظيمٌ

। "যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে সংগ্রাম করে এবং দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলীতে চড়ানো হবে অথবা তাদের হস্তপদসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে দেয়া হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। এটি হল তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি।(সুরা আল-মায়েদাহ আয়াত নং: ৩৩)। 

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আরো বলেন: 

وَمِنَ النّاسِ مَن يُعجِبُكَ قَولُهُ فِى الحَيوٰةِ الدُّنيا وَيُشهِدُ اللَّهَ عَلىٰ ما فى قَلبِهِ وَهُوَ أَلَدُّ الخِصامِ  وَإِذا تَوَلّىٰ سَعىٰ فِى الأَرضِ لِيُفسِدَ فيها وَيُهلِكَ الحَرثَ وَالنَّسلَ ۗ وَاللَّهُ لا يُحِبُّ الفَسادَ


অর্থ: আর এমন কিছু লোক রযেছে যাদের পার্থিব জীবনের কথাবার্তা তোমাকে চমৎকৃত করবে। আর তারা সাক্ষ্য স্থাপন করে আল্লাহকে নিজের মনের কথার ব্যাপারে। প্রকৃতপক্ষে তারা কঠিন ঝগড়াটে লোক। যখন ফিরে যায় তখন চেষ্টা করে যাতে সেখানে অকল্যাণ সৃষ্টি করতে পারে এবং শস্যক্ষেত্র ও প্রাণনাশ করতে পারে। আল্লাহ ফাসাদ ও দাঙ্গা-হাঙ্গামা পছন্দ করেন না। ( সুরা আল বাকারাহ আয়াত নং ২০৪ -২০৫)

দূআ  : হে আল্লাহর আমরা সকল মুসলিম তোমার কাছে প্রার্থনা করি যে , শান্তিতে বসবাসকারী জনগণের বিরুদ্ধে অত্যাচারী ও হানাদারদের সকল ষড়যন্ত্র ফাঁস করে দাও। এবং আমাদের হৃদয় থেকে ও সমস্ত মুসলমানদের অন্তর থেকে আতংক দূর কর। আমাদের এই দেশ এবং অন্যান্য সকল দেশকে সন্ত্রাস মুক্ত কর। রাষ্ট্রনেতাদের কে তৌফিক দাও তাঁরা যেন জনগণের স্বার্থে ভালো কাজ করতে পারে।

সুপ্রিম উলামা কাউন্সিল

সৌদি আরব


বিস্ফোরণের বিরুদ্ধে সৌদি সুপ্রিম ওলামা কাউন্সিলের  রেজুলেশন।

অনুবাদক : আব্দুর রাকিব নাদভী

Comments

Popular posts from this blog

ভারত বর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে শেরশাহবাদি সম্প্রদায়ের অবদান। আব্দুর রাকিব নাদভী

শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ্বনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভূমিকা।

বাংলা ভাষায় ইসলামী সংস্কৃতির প্রভাব।