বিশ্ব নবী صلى الله عليه و سلم কে কটূক্তি করা উন্মাদের কাজ।
বিশ্ব নবী صلى الله عليه و سلم কে কটূক্তি করা উন্মাদের কাজ।
আব্দুর রাকিব নাদভী
ن وَالْقَلَمِ وَمَا يَسْطُرُونَ * مَا أَنْتَ بِنِعْمَةِ رَبِّكَ بِمَجْنُونٍ * وَإِنَّ لَكَ لَأَجْرًا غَيْرَ مَمْنُونٍ *
وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ
অর্থ: নূন। শপথ কলমের এবং সেই বিষয়ের যা তারা লিপিবদ্ধ করে,আপনার পালনকর্তার অনুগ্রহে আপনি উম্মাদ নন।আপনার জন্যে অবশ্যই রয়েছে অশেষ পুরস্কার।আপনি অবশ্যই মহান চরিত্রের অধিকারী।( সুরা আল কলম আয়াত নং ১-৪)
সূরা আল-কলম মক্কায় অবতীর্ণ হয। এই সুরার় মাধ্যমে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর প্রতি কাফের মুশরিক ও বেধর্মীদের দোষারোপের জবাব দেওয়া হয়েছে । তাদের সর্বপ্রথম দোষারোপ ছিল এই যে, তারা আল্লাহর প্রেরিত পূর্ণ বুদ্ধিমান, জ্ঞানী ও সর্বগুণে গুণান্বিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উন্মাদ ও পাগল বলত। সুরার প্রথম আয়াতসমূহে তাদের ভ্রান্ত ধারণা, শপথ ও প্রমান সহকারে খন্ডন করা হয়েছে।
ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ: উক্ত আয়াতে কলম এবং কলম দ্বারা যা কিছু লেখা হয় তার শপথ করে আল্লাহ তায়ালা কাফের-মুশরিক ও বেধরমীদের দোষারোপ খন্ডন করে বলে : হে বিশ্ব নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনি আপনার পালনকর্তার অনুগ্রহ ও কৃপায় কখনও পাগল নন । এখানে بنعمة ربك যোগ করে দাবির স্বপক্ষে দলীল সহকারে বলা হয়েছে যে , বরং যারাই আপনাকে নিয়ে কটুক্তি করছে, তারাই হচ্ছে পাগল ও উন্মাদ। কারণ যার প্রতি স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর রব্বুল আলামীনের অনুগ্রহ ও কৃপা থাকে , সে কি রূপে পাগল হতে পারে ? তাকে পাগল বলা , দোষারোপ করা, মানে নিজেই পাগল। আল্লাহ আরো বলেনঃ
وان لك لأجراغير ممنون
হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম ! আপনার জন্য অশেষ পুরস্কার রয়েছে । অতঃপর আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে Certify করে বলেন : انك لعلى خلق عظيمহে নবী সাল্লাল্লাহু ইসলাম ! আপনি অবশ্যই একজন মহান চরিত্রের অধিকারী ।
একদা আম্মা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা কে জিজ্ঞাসা করা হল , আম্মাজান! বলেনতো , বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চরিত্র কেমন ছিল ? তিনি রাদিয়াল্লাহু আনহা উত্তরে বলেন:
فإن خلق نبي الله صلى الله عليه وسلم كان القرآن
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর চরিত্র ছিল স্বয়ং পবিত্র আল-কোরআনের চরিত্র। ) সহীহ মুসলিম হাদীস নং ১৭৭৩)
অর্থাৎ পবিত্র আল-কোরআন যে সব কর্ম ও চরিত্রের শিক্ষা দেয়, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন ঐসব কর্ম ও চরিত্রের বাস্তব নমুনা। তোমরা যদি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চরিত্র জানতে চাও, পবিত্র আল-কোরআন অনুধাবন কর, পবিত্র আল-কোরআন তোমাদের জন্য যথেষ্ট।
প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এই মর্মে স্বয়ং বলেন:
انما بعثت لأتمم صالح الاخلاق
অর্থ: হে বিশ্ববাসী আমি উত্তম চরিত্র কে পূর্ণতা দান করার জন্য প্রেরিত হয়েছি। ( আল আদাব আল্ মুফরাদ লিল ঈমাম বুখারী, মূসনাদে আহমাদ, সুনান আল কুবরা লিল বাইহাকী, আল মুসতাদরাক লিল হাকিম, মূসনাদ আল বাযযার , আল্লামা নাসিরুদ্দিন আলবানী উক্ত হাদীস টিকে সহীহ বলেছেন।)
তাই সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রব্বুল আলামীন বিশ্ববাসীকে সম্বোধন করে বলেন
لقد كان لكم في رسول الله اسوة حسنة
হে বিশ্ববাসী ! নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মধ্যে উত্তম নমুনা রয়েছে। ( সুরা আল আহযাব আয়াত নং ২১) তারই জীবন কে অনুসরণ ও অনুধাবন করে তোমরা জীবন গড়ো। তাঁর জীবনই হচ্ছে তোমাদের জন্য আদর্শ।
এক কথায়: বিশ্ব নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চরিত্র ছিল পবিত্র। তিনার মত উত্তম ও মহান চরিত্রের মানুষ পৃথিবীর ইতিহাসে কেউ জন্ম নেই নি, এবং কিয়ামত পর্যন্ত আর কেউ জন্ম নিবেও না। তিনিই সারা বিশ্বের সমগ্র মানুষের জন্য একমাত্র আদর্শ। যারাই তিনাকে প্রকৃত অর্থে ও পূর্ণ রূপে অনুধাবন, অনুকরণ ও অনুসরণ করবে, তারাই হচ্ছে এক মাত্র সফল। আর যারা তিনাকে অনুসরণ করে জীবন গড়বে না, তারাই হচ্ছে
সত্তিকার রূপে ক্ষতিগ্রস্ত।
প্রিয় পাঠক! গত ২৭ মে ২০২২ আমরা শোসাল মিডিয়া ( Social Media) র মাধ্যমে দেখেছি বা জানতে পেরেছি যে, বর্তমান কেন্দ্র সরকারের মূখ্যপাত্র নপূর শর্মা টিভি (TV) চ্যানেলের পর্দায় এসে বিশ্ব নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর স্ত্রীদের কে নিয়ে কটুক্তি ও আপত্তি কর মন্তব্য করেছে। আমি নপূর শর্মা, নবীন জিন্দাল ও তাদের মত মানসিকতা ও মন্তব্য পোষণ কারী সমস্ত ব্যাক্তি দেরকে কোটি কোটি বার ধিক্কার ও নিন্দা জানাই।
প্রবন্ধের প্রথম স্তরে দলিল, ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে আমরা অবগত যে , বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন উত্তম চরিত্রের অধিকারী । এবং তিনার চরিত্র ও জীবনী হচ্ছে বিশ্বের সমগ্র মানুষের জন্য আদর্শ।
আজকে নুপুর শর্মা , নবীন জিন্দাল ও এই ধরনের মানসিকতা ও মন্তব্য পোষণকারী সমস্ত ব্যক্তিরা বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি কটূক্তি ও আপত্তিজনক মন্তব্য করে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদা কে আঘাত করেনি । বরং তারা নিজের অমানবিক চরিত্রকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছে। আজকে সারা বিশ্বজুড়ে তাদের অপমান এবং সারা বিশ্ববাসীর নিকট তারা অভিশাপ প্রাপ্ত।বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্পর্কে কটু কথা বলা , তাঁকে নিয়ে ব্যাঙ্গ করা বা তিনার সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করা, আর চাঁদের মুখে কাদা ছড়ানো সমতূল্য। আর এই কাজ তারাই করতে পারে যাদেরকে পবিত্র আল-কোরআনের ভাষায় (প্রমান: সূরা আল আরাফ আয়াত নম্বর ১৭৯) নিকৃষ্ট প্রাণী বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
পৃথিবীর ইতিহাসে আমরা দেখেছি, যারাই বিশ্ব নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নিয়ে ব্যাঙ্গ করেছে, তাঁরা সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের গজবে ধ্বংস হয়েগেছে। আবু লাহাবের ঘটনা এই মর্মে উপদেশ গ্রহণের ক্ষেত্রে বিশ্ব বাসীদের জন্য যথেষ্ট। আবু লাহাব বিশ্ব নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সম্বোধন করে বলেছিল
فقال أبو لهب تبا لك أما جمعتنا إلا لهذا
অর্থ : العياذ بالله সে বলেছিল : হে মুহাম্মাদ! তুমি ধ্বংস হোক, ছি এই উদ্দেশ্যে তুমি আমাদের কে একিত্র করেছ। ( সহীহ মুসলিম হাদীস নং : ৫২৯)
আরশে আযীম থেকে আবু লাহাবের ধংসের বার্তা পৌঁছে গেল, স্বয়ং বিশ্ব সৃষ্টি কর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন:
تبت يدا ابي لهب وتب، ما اغنى عنه ماله وماكسب، سيصلى نارا ذات لهب
অর্থ: আবু লাহাবের হস্তদ্বয় ধ্বংস হোক এবং ধ্বংস হোক সে নিজে,কোন কাজে আসেনি তার ধন-সম্পদ ও যা সে উপার্জন করেছে। সত্বরই সে প্রবেশ করবে লেলিহান অগ্নিতে। ( সুরা আল লাহাব আয়াত নং ১-৩)
পবিত্র আল-কোরআনের সুরা আল আহযাব আয়াত নং ৫৭ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন:
إِنَّ الَّذينَ يُؤذونَ اللَّهَ وَرَسولَهُ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فِى الدُّنيا وَالاخِرَةِ وَأَعَدَّ لَهُم عَذابًا مُهينًا
অর্থ: যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাদের প্রতি ইহকালে ও পরকালে অভিসম্পাত করেন এবং তাদের জন্যে প্রস্তুত রেখেছেন অবমাননাকর শাস্তি।
উক্ত আয়াত থেকে প্রমানিত যে, যারাই বিশ্ব নবী, মানব কুলের শ্রেষ্ঠ মানুষ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নিয়ে ব্যাঙ্গ বা আপত্তিকর মন্তব্য করেছে ان شاء الله তাদেরকে আল্লাহর গজব গ্রাস করবে ।
বিশ্ব নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে অপমান করা মানে , সারা বিশ্বের সমস্ত মানব জাতির অপমান। এটি বড় ধরনের অপরাধ। যারা এই কাজে জড়িত পার্থিব জীবনে তাদের শাস্তি কি ? উত্তর হবে, হত্যা । কারণ তাঁরা পৃথিবীতে বেঁচে থাকার অধিকার হারিয়ে ফেলেছে।
এত বড় অপরাধ যে, হত্যা ব্যাতিত এর আর কোন শাস্তি নেই, যারাই এই কাজে জড়িত , তাঁরা পৃথিবীতে বেঁচে থাকার অধিকার হারিয়ে ফেলেছে।
উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ইমাম ইবনে জাওযী বলেন
لعنهم في الدنيا بالقتل او الطلاء وفي الآخرة بالنار ( تفسير زاد الميسر 3/483 )
অর্থাৎ পার্থিব জীবনে অভিশাপ এর অর্থ হল: হত্যা বা দেশ থেকে বিতাড়িত করা। আর প্রলয়ের দিন তাদের জন্য শাস্তি রয়েছে অগ্নিকাণ্ড ।

Comments
Post a Comment