সৎকর্মর মাধ্যমে পাপ মোচন
সৎকর্মর মাধ্যমে পাপ মোচন
ডঃ জিল্লুর রহমান তাইমী
অনুবাদক: আব্দুর রাকিব নাদভী
যদি কেউ বিষ খেয়ে ফেলে বা তাকে বিষের ইনফেকশন হয়ে যায় ,তাহলে তাকে সাথে সাথে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। ডাক্তারবাবু তার ট্রিটমেন্ট করেন এবং বিষের প্রভাব ও জ্বালা আস্তে আস্তে শেষ হয়ে যায় এবং মানুষ সুস্থ হয়ে উঠে ।এভাবে আল্লাহর কৃপায় ঐ ব্যক্তি কষ্ট থেকে মুক্তি পায় এবং তার জীবনে সুখ ফিরে আসে।
ঠিক একইভাবে আমরা যখন কোন পাপ করি, বা আল্লাহর কোন আদেশ অমান্য করি তখন আমাদের আধ্যাত্মিক অবস্থাও সংক্রমিত হয় এবং আমাদের ঈমান দুর্বল হয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিক আমাদের করণীয় , আমরা ওই পাপের প্রতি লজ্জিত হয় এবং আল্লাহর কাছে তাওবা করি , এবং এমন সৎ কর্মের দিকে ধাবিত হয় , যে কাজ অতীতের পাপের কাফফারা ও ক্ষমার মাধ্যম হয়ে উঠবে।
মহানবী (সা.) হযরত আবু যার ( রাঃ ) কে সম্বোধন করে বলেন বলেন :
اتق الله حيثما كنت واتبع السيئة الحسنة تمحها وخالق الناس بخلق حسن
( সুনান তিরমিজি : ১৯৮৭)
উক্ত প্রেসক্রিপশনটি অবলম্বন করলে মানুষ পাপ থেকে বিরত থাকবে এবং খারাপ কাজ থেকে নিরাপদ হয়।
মহানবী (সা.) এর উক্ত উপদেশে বলেন : তাকওয়া অবলম্বন কর, মন্দকে নির্মূল করার জন্য সৎকাজ কর , এবং সর্বদা সৎ কাজ কর । বাস্তব জীবনে এমন কিছু সময় আসে, যখন মানুষ ধার্মিক হওয়া সত্ত্বেও, তার পা পিছলে যায়, সে পাপে লিপ্ত হয়ে পড়ে, ইশ্বরিক আদেশ পালনে ব্যর্থ হয়। এই ক্ষেত্রে সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়ালা নির্বাপিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেনঃ
وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ وَمَن يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا اللَّهُ وَلَمْ يُصِرُّوا عَلَىٰ مَا فَعَلُوا وَهُمْ يَعْلَمُونَ
তারা যখন কোন অশ্লীল কাজ করে বা কোন পাপ করে, তখনই তারা আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তাদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।আসলে মহান আল্লাহ ছাড়া কে পাপ ক্ষমা করতে পারে? এবং তারা তাদের জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও খারাপ কাজ করে না।” (আল-ইমরান: 1)
অনুরূপভাবে, যদি কোন ব্যক্তি ভুল শব্দ উচ্চারণ করে, তবে তাকে অবিলম্বে তার ভাষা সংশোধন করা উচিত এবং ভাল শব্দ উচ্চারণ করা উচিত যা তাকে নিরাময় করতে পারে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
من حلف فقال في حلفه باللات والعزى فليقل لا اله الا الله ومن قال لصاحبه تعال اقامرك فليتصدق
যে ব্যাক্তি তার সপতের সময় লাত ও উজ্জার কসম খেলো, সে যেন لا اله الا الله পাঠ করে,আর কোন ব্যক্তি যদি তার সঙ্গীকে বলে, যে আসো আমরা এক সাথে জুয়া খেলি, সে যেন দান করে।
তাই ভুলবশত কারো মুখ থেকে বিদআত ও শিরকের কথা বের হলে, সাথে সাথে তাওহীদের শব্দ উচ্চারণ করতে হবে । আর কোন ব্যক্তি যদি তার ভাই, আত্মীয়স্বজন ও তার অধীনস্থ কাউকে অভিশাপ দিলে , তার কর্তব্য হবে, সে যেন তাদের জন্য রহমতের দূয়া করে ।
মানুষ যখন সৎ কাজ করে তার অসৎ আমলের পাপ গুলি মোচন হয়ে যায়। এই মর্মে সহী আল- বুখারী ও সহীহ আল - মুসলিম গ্রন্থে লিপিবদ্ধ আছে । হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদা এক জন লোক এসে বললো: আমি মদিনার শেষ প্রান্তে এক মহিলাকে চুমু দিয়েছি । সুতরাং (এখন আমি আপনার সামনে , আপনি আমার সম্পর্কে যা চান তা আপনি সিদ্ধান্ত নিন) তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে কোনো উত্তর না দিয়ে নিম্ন আয়াত তেলাওয়াত করেন।
أقم الصلاة طرفي النهار وزلفا من الليل إن الحسنات يذهبن السيئات ذلك ذكرى للذاكرين}. قال الرجل ألي هذه قال: ((لمن عمل بها من أمتي)).
আর স্বলাত কায়েম কর দিনের দুই প্রান্তে , আর রাতের প্রথমাংশে। শুভকাজ নিশ্চয়ই মন্দ কাজকে দূর করে দেয়। এটি এক স্মরণীয় উপদেশ তাদের জন্য যারা স্মরণকারী। ঐ ব্যক্তি বলো: হে আল্লাহর নবী! এটা কি তাঁর জন্য বিশেষ? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন : এটা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ।
(বুখারি: 503 মুসলিম: 2763)
মুসলিম উম্মাহর কর্তব্য দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত স্বলাত আদায় করা, কারণ স্বলাত গুনাহ মোচনের একটি বড় মাধ্যম । সকল প্রকার পাপ ও ত্রুটি পরিপূর্ণভাবে পরিহার করা। অনুশোচনা করার সময়, তার জন্য আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হওয়া উচিত এবং এটি পুনরাবৃত্তি না করার সংকল্প করা উচিত। আমাদের প্রতি মহান আল্লাহর বড় দয়া ও রহমত, যে তিনি নেক আমলকে গুনাহের কাফফারা করেছেন।

Comments
Post a Comment