পর্দা সম্পর্কে যৌক্তিক বিতর্ক
পর্দা সম্পর্কে যৌক্তিক বিতর্ক
ডঃ জসিম আল মোতাওয়া
অনুবাদ: আব্দুর রাকিব নাদভী
আদিম যুগ থেকেই পোষাক সংস্কৃতিরপর্দা সম্পর্কে যৌক্তিক বিতর্ক ভাষা ও সংস্কৃতির মুখপাত্র হিসাবে বিবেচিত হয়েছে। তাই কোনো ব্যক্তি যদি তার পরিবেশ ও জাতীয় প্রতীক থেকে বিচ্যুত হয়ে অন্যের সংস্কৃতি ও পোশাক-আশাক অবলম্বন করে, তাহলে সে তার জাতীয় প্রতীক ও সংস্কৃতিকে শুধু নষ্ট নয় দফন করে ফেললো।
হিজাব ইস্যুটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা আমাদের জাতীয় ও মানবিক ঐতিহ্যের সাথে সম্পৃক্ত এবং যার বিষয়ে আল্লাহ রব্বুল আলামীন বিশেষ আয়াত অবতীর্ণ করেছেন । স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন:
يٰأَيُّهَا النَّبِىُّ قُل لِأَزوٰجِكَ وَبَناتِكَ وَنِساءِ المُؤمِنينَ يُدنينَ عَلَيهِنَّ مِن جَلٰبيبِهِنَّ ۚ ذٰلِكَ أَدنىٰ أَن يُعرَفنَ فَلا يُؤذَينَ ۗ وَكانَ اللَّهُ غَفورًا رَحيمًا ( سورة الاحزاب : 59
হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।
উক্ত আয়াতটি পর্দা সম্পর্কিত একটি মৌলিক আয়াত।এর আয়াতের মধ্যে পর্দার তাকিদি আদেশ করা হয়েছে। আল্লাহ আরো বলেনঃ
يٰأَيُّهَا الَّذينَ ءامَنوا لا تَدخُلوا بُيوتَ النَّبِىِّ إِلّا أَن يُؤذَنَ لَكُم إِلىٰ طَعامٍ غَيرَ نٰظِرينَ إِنىٰهُ وَلٰكِن إِذا دُعيتُم فَادخُلوا فَإِذا طَعِمتُم فَانتَشِروا وَلا مُستَـٔنِسينَ لِحَديثٍ ۚ إِنَّ ذٰلِكُم كانَ يُؤذِى النَّبِىَّ فَيَستَحيۦ مِنكُم ۖ وَاللَّهُ لا يَستَحيۦ مِنَ الحَقِّ ۚ وَإِذا سَأَلتُموهُنَّ مَتٰعًا فَسـَٔلوهُنَّ مِن وَراءِ حِجابٍ ۚ ذٰلِكُم أَطهَرُ لِقُلوبِكُم وَقُلوبِهِنَّ ۚ وَما كانَ لَكُم أَن تُؤذوا رَسولَ اللَّهِ وَلا أَن تَنكِحوا أَزوٰجَهُ مِن بَعدِهِ أَبَدًا ۚ إِنَّ ذٰلِكُم كانَ عِندَ اللَّهِ عَظيمًا
سورة الاحزاب : 53
হে মুমিনগণ! তোমাদেরকে অনুমতি দেয়া না হলে তোমরা খাওয়ার জন্য আহার্য রন্ধনের অপেক্ষা না করে নবীর গৃহে প্রবেশ করো না। তবে তোমরা আহুত হলে প্রবেশ করো, তবে অতঃপর খাওয়া শেষে আপনা আপনি চলে যেয়ো, কথাবার্তায় মশগুল হয়ে যেয়ো না। নিশ্চয় এটা নবীর জন্য কষ্টদায়ক। তিনি তোমাদের কাছে সংকোচ বোধ করেন; কিন্তু আল্লাহ সত্যকথা বলতে সংকোচ করেন না। তোমরা তাঁর পত্নীগণের কাছে কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটা তোমাদের অন্তরের জন্যে এবং তাঁদের অন্তরের জন্যে অধিকতর পবিত্রতার কারণ। আল্লাহর রাসূলকে কষ্ট দেয়া এবং তাঁর ওফাতের পর তাঁর পত্নীগণকে বিবাহ করা তোমাদের জন্য বৈধ নয়। আল্লাহর কাছে এটা গুরুতর অপরাধ।
( সুরা আল আহযাব আয়াত নং ৫৩ )
হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম বলেন :
المرأة عورة
নারী হল পূর্ণ পর্দা।
( সুনান আত্ তিরমিযী , কিতাবুন্ নেকাহ হাদীস নং ১১৭৩ আল্লামা আল বানী রাঃ হাদীস টিকে সহি বলেছেন)
নারী হল পূর্ণ পর্দা। যেভাবে মানুষ নিজ লজ্জা স্হানকে অন্যের নযর থেকে ছূপয়ে রাখে, ঐরূপ নারীর উচিত সে যেন নিজেকে পর পুরুষ থেকে ছূপিয়ে রাখে। যেমন নিজ লজ্জা স্হানকে মানুষের সামনে উলোঙ্গ করা একটি জঘন্য , নোংরা ও অভদ্য কাজ, ঐরূপ নারীর পর পুরুষের সামনে উপস্থিত হওয়াও নোংরা ওঅভদ্য কাজ।
নিম্নর পর্দা সম্পর্কিত একটি কথোপকথন ( Dialogue ) লিপিবদ্ধ করা হলো, যেটি উপাস্হাপন হয় ডঃ জসিম আল-মুতাওয়া হিফাজতুল্লাহ এবং একজন ছাত্রীর মাঝে।
ডাইলোগ ( কথোপকথন ) টি আরম্ভ হয় নিম্নরূপ :
ছাত্রী বললঃ পবিত্র আল-কুরআনে কি এমন কোন আয়াত আছে ? , যা নির্দেশ করে যে, নারীর জন্য পর্দা করা অপরিহার্য ?
আমি বললাম: প্রথমে তুমি তোমার পরিচয় দাও। ছাত্রী বলল: আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইনাল ইয়ারের একজন ছাত্রী , এবং আমার জ্ঞান অনুযায়ী আমি বলি , আল্লাহ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন গ্রন্থ আল কুরআনে কোথাও পর্দার নির্দেশ দেননি, তাই আমি পর্দা পরিধান করি না। কিন্তু - الحمد لله - আমি পাঁচ ওয়াক্ত সঠিক সময় অনুযায়ী সালাত আদায় করি। আমি বললাম : ভালো কথা । আমি তোমাকে একটা প্রশ্ন করব।
ছাত্র বললঃ অবশ্যই ।
আমি বললাম: আমি যদি তোমাকে একটি কথা জন্য তিনটি ভিন্ন শব্দ ব্যবহার করি। তুমি ঐ শব্দগুলি থেকে কটি অর্থ বুঝবা ? আমি যদি তোমাকে বলি: বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি দেখান। আবার বললাম: আমাকে প্রমান কর, যে তুমি কলেজ পাশ করেছ।
তৃতীয়বার আমি তোমাকে বলি: নথিপত্র দেখাও যা প্রমাণ করে তুমি বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করেছ।
ছাত্রী বললঃ ঐ সমস্ত শব্দ ও বাক্যের অর্থ একটি, যে আমাকে কলেজের ডিগ্রী উপস্থাপন করতে বলা হচ্ছে। এবং আপনার শব্দ থেকে কোন ভুল অর্থ নেওয়ার প্রশ্নই আসে না, কারণ আপনি একই অর্থের জন্য একাধিক শব্দ ব্যবহার করেছেন।
ছাত্রী বললো: স্যার, কিন্তু হিজাবের সাথে এর কি সম্পর্ক?
আমি বললামঃ নারীর হিজাব বর্ণনা করার জন্য আল্লাহ রব্বুল আলামীন গ্রন্থ আল- কুরআনে তিনটি পরিভাষা ব্যবহার করেছেন।
ছাত্রীটি বিস্ময়ে আমার দিকে তাকিয়ে বললঃ তা কেমন?
আমি বললাম: মহান আল্লাহ নারীদের পোশাকের বিশেষণ (হিজাব, জিলবাব এবং খুমার) শব্দ দ্বারা করেছেন । অর্থাৎ একটি অর্থ বোঝাতে তিনটি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।
স্যারের যুক্তিসহ কথা শুনে ছাত্রী নীরব হয়ে গেলো। এবং বলে উঠলো , স্যার আপনার যুক্তির সামনে আর বিতর্ক করা যায় না।
আমি সূরা আল আহযাব আয়াত নং ৫৯ পাঠ করলাম:
يٰأَيُّهَا النَّبِىُّ قُل لِأَزوٰجِكَ وَبَناتِكَ وَنِساءِ المُؤمِنينَ يُدنينَ عَلَيهِنَّ مِن جَلٰبيبِهِنَّ ۚ ذٰلِكَ أَدنىٰ أَن يُعرَفنَ فَلا يُؤذَينَ ۗ وَكانَ اللَّهُ غَفورًا رَحيمًا ( سورة الاحزاب 59
হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।
আল্লাহ রব্বুল আলামীন আরো বলেন বলেন :
وَإِذا سَأَلتُموهُنَّ مَتٰعًا فَسـَٔلوهُنَّ مِن وَراءِ حِجابٍ ۚ
তোমরা তাঁর পত্নীগণের কাছে কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে।
( সূরা আল আহযাব আয়াত নং ৫৩ )
উক্ত আয়াতগুলো কি নারীদেরকে পর্দার আদেশ করে না ?
ছাত্রী উত্তর দিল : আপনিতো কথোপকথনের মাধ্যমে আমাকে বিস্ময়ে ফেলে দিয়েছেন ।
আমি বললাম: পবিত্র আল কুরআনের মধ্যে পর্দার ক্ষেত্রে যে তিনটি শব্দ জিলবাব ( جلباب ),হিজাব ( حجاب ) ও খেমার ( خمار ) ব্যবহার হয়েছে তার আমাকে ব্যাখ্যা করতে দাও।
জিলবাব বলা হয়, ঐ সমস্ত লম্বা ও চওড়া চাদরকে যার দ্বারা দুই হাত এবং মাথা ঢাকা সম্ভব।
খেমার : ঐ কাপড়কে খেমার বলা হয় , যে কাপড় দ্বারা মহিলা মাথা ঢাকে।
হিজাব: বলা হয় ঐ কাপড় কে যা দ্বারা পূর্ণ শরীর ঢাকা সম্ভব।
ছাত্রী বলল: উক্ত ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট ভাবে আমি বুঝতে পেরেছি যে, গ্রন্থ আল কুরআনে পর্দা সম্পর্কে ব্যবহৃত একাধিক শব্দের অর্থ একটি । তা হলো, নারীদেরকে পর্দা করতে হবে।
আমি বললাম: আরো শোনো, পোষাক হলো দুই প্রকার:
১) প্রথমটি হল ফরজ পোশাক যা শরীরকে ঢেকে রাখে ।
২) দ্বিতীয় হলো তাকেওয়ার পোশাক, যা মানুষের আত্মা ও হৃদয়ের ক্ষেত্রে পর্দার কাজ করে। এই মর্মে স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন:
يٰبَنى ءادَمَ قَد أَنزَلنا عَلَيكُم لِباسًا يُوٰرى سَوءٰتِكُم وَريشًا ۖ وَلِباسُ التَّقوىٰ ذٰلِكَ خَيرٌ ۚ ذٰلِكَ مِن ءايٰتِ اللَّهِ لَعَلَّهُم يَذَّكَّرونَ
( سورة الاعراف : 26
হে আদম - সন্তান আমি তোমাদের জন্যে পোশাক অবর্তীণ করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করে এবং অবর্তীণ করেছি সাজ সজ্জার বস্ত্র এবং পরহেযগারীর পোশাক, এটি সর্বোত্তম। এটি আল্লাহর কুদরতেরঅন্যতম নিদর্শন, যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।
ছাত্রী বলে উঠলো : আমি মনে করতাম যে, কোরানে পর্দার উল্লেখ নেই ।
আমি বললাম : জি হ্যা, পর্দার উল্লেখ ও আদেশ পবিত্র কুরআনেও আছে এবং বহু সহি হাদিসেও রয়েছে। এবং পর্দা সম্পর্কে বিশ্বের সমস্ত আলেমগণ এক মত। বেপর্দা ও উলঙ্গ হলো শয়তানের চক্রান্ত ও অন্যতম লক্ষ্য । শয়তান মানুষকে বিভিন্ন কৌশলে উলঙ্গ ও বেপর্দা করতে চায়। আদম আঃ ওঃ ইলিশের ঘটনা সম্পর্কে আল্লাহ বলেন:
فَوَسوَسَ لَهُمَا الشَّيطٰنُ لِيُبدِىَ لَهُما ما وۥرِىَ عَنهُما مِن سَوءٰتِهِما وَقالَ ما نَهىٰكُما رَبُّكُما عَن هٰذِهِ الشَّجَرَةِ إِلّا أَن تَكونا مَلَكَينِ أَو تَكونا مِنَ الخٰلِدينَ وَقاسَمَهُما إِنّى لَكُما لَمِنَ النّٰصِحينَ فَدَلّىٰهُما بِغُرورٍ ۚ فَلَمّا ذاقَا الشَّجَرَةَ بَدَت لَهُما سَوءٰتُهُما وَطَفِقا يَخصِفانِ عَلَيهِما مِن وَرَقِ الجَنَّةِ ۖ وَنادىٰهُما رَبُّهُما أَلَم أَنهَكُما عَن تِلكُمَا الشَّجَرَةِ وَأَقُل لَكُما إِنَّ الشَّيطٰنَ لَكُما عَدُوٌّ مُبينٌ ( سورة الاعراف : 20 - 22 )
অতঃপর শয়তান উভয়কে প্ররোচিত করল, যাতে তাদের অঙ্গ, যা তাদের কাছে গোপন ছিল, তাদের সামনে প্রকাশ করে দেয়। সে বললঃ তোমাদের পালনকর্তা তোমাদেরকে এ বৃক্ষ থেকে নিষেধ করেননি; তবে তা এ কারণে যে, তোমরা না আবার ফেরেশতা হয়ে যাও-কিংবা হয়ে যাও চিরকাল বসবাসকারী। সে তাদের কাছে কসম খেয়ে বললঃ আমি অবশ্যই তোমাদের হিতাকাঙ্খী। অতঃপর প্রতারণাপূর্বক তাদেরকে সম্মত করে ফেলল। অনন্তর যখন তারা বৃক্ষ আস্বাদন করল, তখন তাদের লজ্জাস্থান তাদের সামনে খুলে গেল এবং তারা নিজের উপর বেহেশতের পাতা জড়াতে লাগল। তাদের প্রতিপালক তাদেরকে ডেকে বললেনঃ আমি কি তোমাদেরকে এ বৃক্ষ থেকে নিষেধ করিনি এবং বলিনি যে, শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।
আমি তাকে বললাম: তুমি "পোশাকের মনস্তত্ত্ব" বিষয়ক বইগুলি পড় । তবে পোশাকের গুরুত্ব ও মর্যাদা এবং মানুষের ব্যক্তিত্বের উপর এর প্রভাব কতটা ? জানতে পারবে ।
ছাত্রটি বললো : হিজাব এবং পোশাকের বিষয়টি যে এত গুরুত্বপূর্ণ তা আমি আগে নিশ্চিত ছিলাম না। আমি ঠাট্টা করে বললাম : তুমি কি অঙ্গীকার করছ, যে তুমি আজ থেকে হিজাব পরিধান করবে ? পর্দার বিধিমালা মেনে জীবন জাপন করবে ?
ছাত্রী মূচকি হেসে বলল: আমি বিযয়টা ভালো ভাবে বুঝতে সক্ষম হলাম। কিন্তু এখনতো আমি একজন তূরুণী, বয়স্ক বা বূড়ো অবস্থায় পৌঁছালে অবশ্যই পর্দা করব।
আমি বললাম : তোমার এই চিন্তাভাবনা একেবারে ইসলাম বিরোধী।
ছাত্রীঅবাক হয়ে বলল: কেন ?
আমি বললামঃ আল্লাহ তায়ালা বৃদ্ধা মহিলাদের জন্য পর্দা সম্পর্কে সহজ করে দিয়েছেন। আল্লাহ রব্বুল আলামীন বলেন:
وَالقَوٰعِدُ مِنَ النِّساءِ الّٰتى لا يَرجونَ نِكاحًا فَلَيسَ عَلَيهِنَّ جُناحٌ أَن يَضَعنَ ثِيابَهُنَّ غَيرَ مُتَبَرِّجٰتٍ بِزينَةٍ ۖ وَأَن يَستَعفِفنَ خَيرٌ لَهُنَّ ۗ وَاللَّهُ سَميعٌ عَليمٌ
বৃদ্ধা নারী, যারা বিবাহের আশা রাখে না, যদি তারা তাদের সৌন্দর্যø প্রকাশ না করে তাদের বস্ত্র খুলে রাখে। তাদের জন্যে দোষ নেই, তবে এ থেকে বিরত থাকাই তাদের জন্যে উত্তম। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। (সূরা আল-নূর: 60 )
যেসব বৃদ্ধা নারীদের কোন আশা নেই (এবং বিবাহের কোন আকাঙ্ক্ষা নেই) যদি তারা তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে, তবে তাদের পর্দার ব্যাপারে আল্লাহ পক্ষ থেকে হালকা ছাড় রয়েছে।
ছাত্রী বলে উঠলো: স্যার আল্লাহতায়ালা যখন বৃদ্ধ মহিলাদের জন্য হিজাব ( পর্দা ) সম্পর্কে কিছু সহজ করে করেছেন, তবে আমাদের মতো একজন যুবতীর জন্য এটি সর্বপ্রথম মেনে চলা উচিত।
আমি একটু মূচকি হেসে বললাম: মাশা - আল্লাহ তুমি তো একজন বুদ্ধিমান মেয়ে।
তারপর আমি জিজ্ঞেস করলাম : তুমি কথোপকথনের শুরুতে বলেছিলে তুমি নামায পড়ো ?
ছাত্রী উত্তর দিল : জি হ্যাঁ।
আমি আবার জিজ্ঞাসাবাদ করলাম: স্বলাতের সময় তুমি কি হিজাব পরিধান কর ?
ছাত্রী : জি হ্যাঁ।
আমি বললাম: কেন ? সালাত আদায়ের সময় হিজাব পরিধান কর কেন?
সে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললোঃ আমি জানি না। আমি মূচকি হেসে বললাম: তুমি কি বিশ্বাস কর, যে ইসলাম একজন মহিলাকে তার প্রভুর মুখোমুখি হওয়ার সময় একটি বিশেষ পোশাক পরার নির্দেশ দেবে এবং মানুষের মুখোমুখি হওয়ার সময় তাকে সবচেয়ে কম পর্দার পোশাক পরতে বলবে? সে আমার প্রশ্ন শুনে অবাক হয়ে গেলো। তারপর আমি বললাম: নামাজ হলো এক ধরনের ইবাদত এবং এটি আমাদের জীবনের একটি অংশ । একইভাবে আমাদের জীবন হলো আল্লাহর বিধি বিধান কে জীবন ঐতিব্যাহিত করা। আর পোশাক হচ্ছে জীবনের একটি অংশ। বেপর্দা বা পোশাক বিহীন মানুষ পশুর মতো ।
পরিশেষে আমি বলতে চাই যে, ইসলামের শত্রুরা বুঝতে পেরেছে যে, নগ্নতা ,অশ্লীলতা ও সাজ-সজ্জার চর্চা , বেপর্দা জীবন পদ্ধতি এমন একটি অস্ত্র যার দ্বারা মুসলমানদের পরিচয় বহুগুণ নষ্ট করা যায়। সুতরাং তারা তাদের কল্পিত উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করেছে। যেমন লা মাযহাবী পাঠ্যক্রম , কো - এডুকেশন এবং পূরুষ ও নারীর মধ্যে সাম্যের প্রতারণামূলক এবং আকর্ষণীয় স্লোগান দেওয়া হয়েছে। যা মানবতার ঊর্ধ্বগামী হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে।

Comments
Post a Comment