স্বাগতম ! মাহে রমজান।
স্বাগতম ! মাহে রমজান।
জাকী আহমাদ আল মাদানী
অনুবাদ : আব্দুর রাকিব নাদভী
আমরা পবিত্র রমজান মাসকে স্বাগত জানায়। স্বাগতম মাহে রমজান। এই মাসটি হলো বরকতময় এবং মর্যাদাময় মাস। সারা পৃথিবীর মুসলিম সম্প্রদায় এই মাসকে পেয়ে বেশ আনন্দিত ও আশান্বিত হয় । কারণ এই মাসের ফযিলতের মাধ্যমে সমগ্র পৃথিবীর মুসলিম সম্প্রদায় মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে থাকেন । এর প্রথম অংশটি হলো রহমতের অংশ , দ্বিতীয়টি ক্ষমা এবং মাগফেরাতের এবং তৃতীয়াংশ হলো জাহান্নাম থেকে মুক্তি বা নাজাতের অংশ। রমজান মাস প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন :
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِذَا جَاءَ رَمَضَانُ فُتِّحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ النَّارِ وَصُفِّدَتِ الشَّيَاطِينُ.
হযরত আবু হুরায়রা রাজিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যখন রমজান মাস শুরু হয় তখন জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয় এবং নরকের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানকে শিকল বন্দী করা হয়।
উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ:-
فتحت ابواب الجنة
উক্ত বাক্যটি বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থে বিভিন্ন শব্দে এসেছে যার অর্থ হলো মানুষদের স্বাগত জানাতে জান্নাতের দরজাসমুহ খুলে দেয়া হয় । অন্য হাদীসে এসেছে
فتحت ابواب السماء
অর্থাৎ আসমানের দরজা খুলে দেয়া হয়
فتحت ابواب الرحمة কারীদের জন্য দরজা খুলে দেওয়া হয় । অনুরূপ আরেকটি হাদিসে
বাক্য এসেছে যার অর্থ হলো সিয়াম পালনকারীদের জন্য রহমতের দরজা খুলে দেওয়া হয়। এক কথায় বলা যেতে পারে যে এই মাসে সৎকর্মের জন্য আসমানের দরজাসমুহ খুলে দেওয়া হয় এবং এই পবিত্র মাসে একজন মুমিন ঐ সব ইবাদতগুলো সম্পাদন করে যা সাধারণত অন্যান্য দিনে করেনা যেমন প্রতিদিন কুরআন তেলাওয়াত আল্লাহর স্মরণ সভা এবং ক্ষমা এবং
তাহাজ্জুদের নামাজ ইত্যাদি।
غلقت ابواب جهنم
অর্থাৎ জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিশিষ্ট ইসলামিক পন্ডিত ও আলেমগণ বলেন এর কারণ হচ্ছে এই বরকতময় মাসে মুমিনদের থেকে গুনাহ ও অবাধ্যতার সংখ্যা কমে যায় তাই জাহান্নামের দরজা বন্ধ হয়ে যায়।
আল্লামা মুনাবী রহ: বলেন :
হাদিসের উক্ত ব্যাক্য থেকে স্পষ্ট যে, এই পবিত্র মাসের সিয়াম পালনকারীর আত্মা বড় পাপ এবং নোংরামি থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয় এবং তাদের দ্বারা সংঘটিত ছোট ছোট গুনাহ রোজার বরকতে মুছে যায়।
وسلسلت الشياطين
। অর্থাৎ শয়তানকে শিকল বন্দি করা হয়
শায়েখ তাকিউদ্দিন ইবরাহীম ইবনে মুফলিহ রহ বলেন: হাদিসের প্রকাশ্য অর্থ অনুযায়ী রমজান মাসে শয়তানকে বেঁধে দেওয়া হয়। এটি আবু হাতেম ইবনে হিব্বান এবং অন্যান্য আলেমদের মত।
সুতরাং উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যা মোটেই এই নয় যে পবিত্র রমজান মাসে মন্দ কে সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা হয়েছে।
উক্ত হাদীস প্রমাণ করে যে উম্মতে
মুহাম্মদীর করণীয় রমজান মাসকে স্বাগত জানান। পবিত্র রমজান মাসের আগমনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুব আনন্দিত হতেন এবং বিশেষ করে এই মাসে এবাদতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন এবং সাহাবা কেরাম কে এই মাসের ফজিলত এবং মর্যাদা সম্পর্কে সচেতন বার্তা দিতেন এবং বেশি বেশি করে তওবা ইস্তেগফার করতেন।
রমজান মাসকে বরণ ও অভ্যর্থনার নামে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের থেকে তেমন কিছু নির্ধারিত কাজ ও কর্ম প্রমাণিত নেই। হ্যা এটা সত্য যে আপনি শা'বান মাসের দিনগুলিতে একাধিক রোজা রাখতেন। তারপর আপনি নিজেই এর হিকমত বর্ণনা করেছেন।
ওসামা বিন যায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! কি ব্যাপার শাবান মাস ব্যতীত অন্যান্য মাসে আপনাকে এত বেশি রোজা রাখতে কখন দেখিনাই। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
وذلك شهر يغفل الناس عنه بين رجب ورمضان وهو شهر ترفع فيه الاعمال الى رب العالمين فاحب ان يرفع عملي وانا صائم
এটা এমন একটি মাস যা সম্পর্কে মানুষ অবহেলা করে থাকে, এই মাসে মানুষের আমলসমূহ বিশ্বপালনকর্তার কাছে পেশ করা হয়। তাই আমি চাই আমার আমল রোজা অবস্থায় পেশ করা হোক।
অনুরূপভাবে, সহীহ বুখারী (1914) এবং সহীহ মুসলিম (1082) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
لا تقدموا رمضان بصوم يوم ولا يومين الا رجل كان يصوم صوما فليصمه
তোমরা কেউ রমযানের একদিন কিংবা দু’দিন আগে হতে সওম শুরু করবে না। তবে কেউ যদি এ সময় সিয়াম পালনে অভ্যস্ত থাকে তাহলে সে সেদিন সওম পালন করতে পারবে।
ইমাম আল-নওয়াবী (রহঃ) বলেন: উক্ত হাদীসে রমজান মাস আগমনের একদিন কিংবা দুদিন পূর্ব হতে সওম শুরু করার ব্যাপারে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
রমজান মাসকে স্বাগত জানাতে ইসলাম ধর্মে কোন নির্দিষ্ট কর্ম বা নির্দিষ্ট ইবাদত প্রমাণিত নেই। বিশ্বের সকল মমিন ব্যক্তির করণীয় এই মাসকে আন্তরিকতার সাথে স্বাগত জানানো, এবং এই মাসের ফযিলত ও মর্যাদা কে সামনে রেখে বেশি বেশি সৎ কর্ম করা, আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করা, সদ্ব্যবহার করা এবং বিভিন্ন ধরনের ইবাদতের আয়োজন করা।সে যেন তার প্রভুর সন্তুষ্টি কামনা করে।
মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে রমজানে উপলব্ধ মূল্যবান সময়ের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে এবং এই মাসটিকে দ্বীনি ও পার্থিব কল্যাণ ও নাজাতের উৎস করার তৌফিক দান করুন। আমীন
অনুবাদ : আব্দুর রাকিব নাদভী


Comments
Post a Comment