কুরআন শরীফের প্রথম বাংলা অনুবাদক কে ?
কুরআন শরীফের প্রথম বাংলা অনুবাদক কে ?
বাংলা ভাষাভাষীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচলিত আছে যে,কুরআন শরীফের প্রথম বাংলা অনুবাদক হল : গিরীশ চন্দ্র সেন । এমনকি ( Google ) গোগোল সাইটে আপনি যদি গিরীশ চন্দ্র সেনের জীবনী সার্চ করেন, সে খানেও লিপিবদ্ধ আছে, যে গিরীশ চন্দ্র সেন হলো একজন কুরআনের অনুবাদক। শুধু তাই নয়,লিপিবদ্ধ আছে,যে গিরীশ চন্দ্র সেন হলো পূর্ণাঙ্গ কুরআন শরীফের প্রথম বাংলা অনুবাদক।
এটি একটি ইতিহাসিক ভূল ও মিথ্যা কথা । গিরিশ চন্দ্র সেন কোরআন মাজিদের বাংলা অনুবাদক , বা প্রথম অনুবাদক নন,তিনি ছিলেন একজন প্রকাশক।
গিরিশ চন্দ্র সেনের জন্ম হয় ১৮৩৫ সালে এবং মৃত্যু ১৯১০ সালে। গিরিশ চন্দ্রের জন্মের প্রায় ২৭ বছর আগে অর্থাৎ ১৮০৮ সালে কুরআন শরীফের বাংলা অনুবাদের কাজ শুরু হয় ।অনুবাদের কাজ শুরু করেন মাওলানা আমীর উদ্দীন বসুনিয়া।
আর গিরিশ চন্দ্র সেনের জন্মের এক (১) বছর পর অর্থাৎ ১৮৩৬ সনে মৌলভী নাঈমুদ্দীন পূর্ণাঙ্গ কুরআন শরীফের বাংলা অনুবাদ সম্পন্ন করেন।
মূল কথা হলো :
গিরিশ চন্দ্র সেন কোরআন মাজিদের বাংলা অনুবাদক নন,তিনি ছিলেন একজন প্রকাশক।
সর্বপ্রথম ১৮০৮ সালে বাংলা ভাষায় কুরআন শরীফের আংশিক অনুবাদ হয় । অনুবাদক করেন মাওলানা আমীরুদ্দীন বসুনিয়া।
মাওলানা আমীরুদ্দীন বসুনিয়ার প্রায় ২৮ বছর পর বাংলা ভাষায় কুরআন শরীফের পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ করেন মৌলভী নাঈমুদ্দীন সাহেব ১৮৩৬ সালে।
গিরিশ চন্দ্র সেন উক্ত অনুবাদকে পুস্তক আকারে সন্নিবেশ করে,১৮৮৬ সালে প্রকাশক করেন । অর্থাৎ অনুবাদের প্রায় ৭৮ বছর পরে।
এটা কি করে হয় ? , একজন ব্যক্তি যে আরবি ভাষা জানে না, আরবি ব্যাকারন জানে না, কোন দিন পবিত্র আল কুরআন পাঠ করে নি, ইসলামী শরীয়তের জ্ঞান রাখেনা, সে কি করে পবিত্র আল কুরআনের অনুবাদক হতে পারে !?
সুতরাং কুরআন শরীফের প্রথম বাংলা অনুবাদক হিসেবে মুখস্থ বিদ্যায় এতদিন যা জেনে আসছি, তা ঠিক নয়। অর্থাৎ গিরীশ চন্দ্র নন, বরং মৌলভী নাঈমুদ্দীনই পূর্ণাঙ্গ কুরআন শরীফের প্রথম বাংলা অনুবাদক। আর মাওলানা আমীরুদ্দীন বসুনিয়া হলেন বাংলা ভাষায় প্রথম কুরআন শরীফের আংশিক অনুবাদক।
Comments
Post a Comment