ছোটদের বক্তব্য পর্ব ( ৬ ) বিষয় : কূরবানীর ফজিলত ও মর্যাদা

কূরবানীর ফজিলত ও মর্যাদা



 نحمده ، ونستعينه،  ونستغفره ، ونعوذ بالله من شرور انفسنا، ومن سيئات اعمالنا ، من يهده الله فلا مضل له ، ومن يضلل فلا هادي له ، ونشهد ان لا اله الا الله وحده لا شريك له ،ونشهد ان محمدا عبده ورسوله،  اما بعد:

 اعوذ بالله من الشيطان الرجيم،  بسم الله الرحمن الرحيم، لن ينال الله لحومها ولا دماؤها ولكن يناله التقوى منكم ( الحج  رقم الاية : 37 )

عن ابي هريره ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال : من كان له سعة ولم يضح فلا يقربن مصلانا 

( سنن ابن ماجه كتاب الاضاحي، رقم الحديث: 3242 )

সম্মানিত বিচারকমণ্ডলী, প্রিয় সহপাঠীগণ, বিশেষ অতিথি বৃন্দ,  দ্বীন দরদী ভাইসকল ! 

আজকে এই বাৎসরিক অনুষ্ঠানে আমার বিষয়বস্তু হলো "  কোরবানির ফজিলত ও মর্যাদা " 

 প্রিয় শ্রোতা ! 

কুরবানী একটি আরবি শব্দ যা  قرب ধাতু থেকে গঠিত,  যার শাব্দিক অর্থ হল নৈকট্য লাভ করা। এখান থেকে গৃহীত হয়েছে কূরবানী শব্দ। কুরবানী ঐ সমস্ত মাধ্যমকে বলা হয়,  যা দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়। 

 প্রিয় শ্রোতা ! 

এবার আসুন কুরবানীর ইতিহাস সম্পর্কে কিছু জ্ঞান অর্জন করি।পবিত্র আল কুরআনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী,  কুরবানীর বিধান আমাদের আদি পিতা , হযরত আদম আলাই সালাম এর যুগ থেকেই প্রচলিত। হযরত আদম আলাই সালাম এর দুই সন্তান হাবিল  ও কাবিল আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য, সর্বপ্রথম কুরবানী পেশ করেন।  এই মর্মে বিস্তারিত আলোচনা সূরা মায়েদায় আয়াত নং ২৭ এর মধ্যে করা হয়েছে।  আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন:

واتل عليهم نبا ابني ادم بالحق اذ قربا قربانا فتقبل من احدهما ولم يتقبل من الاخر قال لاقتلنك قال انما يتقبل الله من المتقين 

( المائدة رقم : 27 )

অর্থাৎ হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ! আপনি লোকজনকে আদম আলাই সালাম এর দুই পূত্র হাবিল ও কাবিলের ঘটনা যথাযথভাবে শুনিয়ে দাও। তারা উভয়ে কোরবানি করেছিল । একজনের কোরবানি গ্রহণ হয়,  এবং অন্যের কোরবানি গ্রহণ হয়নি।  তাই সে বলল : আমি তোমাকে অবশ্য হত্যা করব।  অপরজন বলল : শুনে রাখ ! আল্লাহ রব্বুল আলামিন শুধুমাত্র তাদের কুরবানী গ্রহণ করেন যারা মুক্তী, ও যাদের হৃদয়ের মধ্যে আল্লাহর ভয় রয়েছে।  প্রিয় শ্রোতা! 

 সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রব্বুল আলামীন পৃথিবীর প্রত্যেক সম্প্রদায় , জাতি ও গুষ্টিকে কুরবানী পেশ করার নির্দেশ করেন।  সূরা হজ আয়াত নং ৩৪ এর মধ্যে আল্লাহ বলেন:

ولكل امة جعلنا منسكا ليذكروا اسم الله على ما رزقهم من بهيمة الانعام فالهكم اله واحد فله اسلموا

(  الحج : 34 ) 

অর্থাৎ আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়কে কুরবানীর বিধান দিয়েছি , যাতে তারা , আমার প্রদান করা চতুষ্পদ পশু কুরবানী করার সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে।  তোমাদের উপাশ্য হলো একমাত্র আল্লাহ।  তোমরা তাঁরই নিকট আত্মসমর্পন কর ।

প্রিয় শ্রোতা! 

 কুরবানী হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সাল্লাম এর আদর্শ।  এ ব্যাপারে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন স্বয়ং বলেন:

فلما بلغ معه السعي قال يا بني اني ارى في المنام اني اذبحك فانظر ماذا ترى قال يا ابت افعل ما تؤمر ستجدني ان شاء الله من الصابرين

( الصافات: 102 ) 

অর্থাৎ যখন হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম চলমান অবস্থায় পৌঁছালেন।  পিতা ইব্রাহিম আলাইহিস সাল্লাম তাকে বলল:  হে আমার সেন্হের পুত্র ! আমি স্বপ্নে দেখলাম , যে আমি তোমাকে জবাই করছি।  এই সম্পর্কে তোমার মত কি ? হযরত ইসমাইল আলাইহিস সালাম উত্তরে বললেন : আব্বু জান! আপনাকে যা নির্দেশ করা হয়েছে,  আপনি তা করে ফেলুন।  ইন শা আল্লাহ আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন।  যখন পিতা ও পুত্র আমার অনুগত্য পালন করল,  তখন আমি ডাক দিলাম: 

يا ابراهيم قد صدقت الرؤيا انا كذلك نجزي المحسنين ان هذا لهو البلاء المبين وفديناه بذبح عظيم وتركنا عليه في الاخرين سلام على ابراهيم كذلك نجزي المحسنين انه من عبادنا المؤمنين

( الصافات : 109)

হে ইব্রাহিম !  তুমি স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করেছ।  আমি,  আল্লাহ সৎকর্মীদের ফল দিয়ে থাকি।  এটা ছিল আমার পক্ষ থেকে এক ধরনের পরীক্ষা । আমি ইসমাইল আলাইহিস সালাম এর  পরিবর্তে জন্তূ পাঠিয়ে ইসমাইল আলাইহিস সালাম কে মুক্ত করলাম।  এবং এই কুরবানীকে পরবর্তী লোকদের মধ্যে স্মরণীয় করে দিলাম , যেন কেয়ামত পর্যন্ত হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এর প্রতি শান্তি অবতীর্ণ হতে থাকে।  প্রিয় ভাইসকল ! 

কুরবানীর হুকুম কি?  ওয়াজ বা সুন্নাত। এই মর্মে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে,  যারা বলে কোরবানী ওয়াজিব , তাদের দলিল হলো,  সূরা আল কাওসার আয়াত নং  2

فصل لربك و انحر 

(الكوثر: 2 ) 

অর্থাৎ আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে সালাত আদায় কর এবং কুরবানী কর। 

 কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস  সালামের জীবনী,  অধিকাংশ সাহাবা -  তাবেয়ী ও তাদের শিষ্যদের মতে,  কুরবানী হলো সুন্নাতে মুয়াক্কাদা,  তাকীদ প্রাপ্ত সুন্নাত।  যদি কোন ব্যক্তি আর্থিক ক্ষমতা থাকা সত্যেও করবেন না করে , কুরবানী সম্পর্কে অবহেলা ও অনীহা দেখায়, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সম্পর্কে কঠোর বাক্য উচ্চারণ করেছেন।  তিনি সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেন: 

من كان له سعة ولم يضح فلا يقربن مصلانا 

( سنن ابن ماجه رقم : 3242)

অর্থাৎ যে ব্যক্তি আর্থিক ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কুরবানী করল না, সে যেন ঈদগাহে উপস্থিত না হয়। 

 প্রিয় শ্রোতা উক্ত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দ্বারা স্পষ্ট ভাবে বুঝলাম যেকুরবানী হলো এক ধরনের এবাদত এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের বড় মাধ্যম।  কূরবানীর  মাংস ও রক্ত আল্লাহর নিকট পৌঁছে না । আল্লাহ শুধু মানব মা জাতীর অন্তর পরীক্ষা করেন: 

لن ينال الله لحومها ولا دماؤها ولكن يناله التقوى منكم (الحج : 37 ) 

অর্থাৎ আল্লাহর নিকট তোমাদের জবাই করা পশুর মাংস ও রক্ত পৌডছে না । শুধু তোমাদের অন্তর আল্লাহর পরীক্ষা করেন। 

প্রিয় শ্রোতা! 

 তাই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে সম্বোধন করে বলেন: 

قل ان صلاتي ونسكي ومحياي ومماتي لله رب العالمين 

( الانعام: 162) 

হে ইব্রাহিম তুমি বল:  আমার স্বলাত,  আমার কুরবানী,  আমার জীবন ও আমার মরণ,  সবকিছুই হলো বিশ্ব পালনকর্তা আল্লাহর জন্যই। 

 অবশেষে দোয়া করি ! হে আল্লাহ তুমি আমাদেরকে সঠিক পদ্ধতি অনুযায়ী কুরবানী করার তৌফিক দান কর। আমিন

وصلى الله على خير خلقه محمد واله وصحبه اجمعين والسلام عليكم ورحمه الله وبركاته


Comments

Popular posts from this blog

ভারত বর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে শেরশাহবাদি সম্প্রদায়ের অবদান। আব্দুর রাকিব নাদভী

শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ্বনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভূমিকা।

বাংলা ভাষায় ইসলামী সংস্কৃতির প্রভাব।