ছোটদের বক্তব্য পর্ব (৭) বিষয়: কবর

কবর

 




نحمده ونصلي على رسوله الكريم اما بعد

اعوذ بالله من الشيطان الرجيم ، بسم الله الرحمن الرحيم

النار يعرضون عليها غدوا وعشيا ويوم تقوم الساعة ادخلوا ال فرعون اشد العذاب

(  الغافر: 46 ) 

عن عثمان بن عفان قال ان رسول الله قال ان القبر اول منازل الاخرة فان نجا منه فما بعده ايسر منه ، وان لم ينج منه فما بعده اشد منه

سنن الترمذيبرقم 2308 سنن ابن ماجه برقم : 4408 وحسنه الالباني

মাননীয় সভাপতি, বিচারকমণ্ডলী,  সহপাঠীগণ,  ও প্রিয় শ্রোতা! 

 আজকে এই সাপ্তাহিক অনুষ্ঠানে আমি যে বিষয় নিয়ে আপনাদের সামনে দাঁড় হয়েছি,  সেটি হলো "  কবর" 

 উপস্থিত দিনি ভাইসকল! 

 কবর, এমন এক স্থান,  যার নাম শুনলেই অধিকাংশ মানুষের হৃদয় কেঁপে উঠে । প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: 

فزوروا القبور فانها تذكر الموت 

( صحيح مسلم كتاب الجنائز برقم: 2304)

অর্থাৎ তোমরা কবর জিয়ারত করো, কারণ কবর জিয়ারত মরণকে স্মরণ করিয়ে দায়। 

প্রিয় শ্রোতা ! 

উক্ত হাদীস দ্বারা প্রমানিত যে , বেশি বেশি কবর জিয়ারত করলে মরণ স্মরণ হয় । এর অর্থ এই নয় , যে আমরা কবরকে প্রার্থনা ও সিজদা গাহে পরিণত করব।  সিজদা প্রার্থনার স্থান নয়, কেউ যদি কবরের সামনে মাথা নত করে,  বা কবরের কাছে প্রার্থনা করে,  তার প্রতি আল্লাহর অভিশাপ অবতরণ হয় । কারণ প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু ইসলাম বলেন: 

لعن الله اليهود والنصارى اتخذوا قبور انبيائهم مساجد (صحيح البخاري كتاب المغازيبرقم : 4441 مسلم كتاب المساجد برقم : 1214)

অর্থাৎ ইহুদী-খ্রিস্টানদের প্রতি আল্লাহর অভিশাপ অবতীর্ণ হোক, তারা তাদের  নবী ও রাসূলদের কবরকে সিজদা গৃহে  পরিণত করে নিয়েছে। 

 প্রিয় শ্রোতা ! 

কবর হলো প্রথম স্তর , মে ব্যাক্তি কবরের পরীক্ষায় পাশ হয়ে যাবে , সে ইন শা আল্লাহ পরকালের সব স্তর ও সব প্রকার পরীক্ষায় পাস হয়ে যাবে । এবং কেউ যদি এই স্তরে পাস না হয়,  তবে সে পরের সমস্ত স্তরের ফেল ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে । প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু ইসলাম বলেন: 

ان القبر اول منازل الاخره فان نجا منه فما بعده ايسر منه وان لم ينج منه فما بعده اشد منه 

(سنن الترمذي برقم : 2308 وحسنه الالباني سنن ابن ماجه برقم: 4408) 

অর্থাৎ কবর হলো পরকালের প্রথম স্তর,  যদি কেউ কবর থেকে মুক্তি পেয়ে যায়,  তার জন্য পরের সমস্ত স্তর সহজ হয়ে যাবে,  আর যদি কবর থেকে মুক্তি ও সফলতা অর্জন করতে না পারে , তবে পরের সমস্ত স্তর গুলি,  তার জন্য কষ্টকর ও ভয়াবহ হবে। 

 প্রিয় ভাই সকল! 

 কবর হল এক ভয়াবহ ও পীড়াদায়ক স্থান , যে রাজা-প্রজা,  ধনী ও গরিব , জ্ঞানী ও অজ্ঞ কাউকে চিনে না।  তার হাত থেকে রক্ষা পাবে একমাত্র  ঐ ব্যক্তি, যিনি আল্লাহ ভীরু ,  যার হৃদয়ের মধ্যে আল্লাহ ভয় আছে। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম সমগ্র উম্মতকে কবরের ভয়াবহতা থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর নিকট প্রার্থনা  ও আশ্রয় চাইতে আদেশ করেছেন।  তাই আমরা সকল মুসলিম,  স্বলাতের শেষ পর্যায়ে বলে থাকি

اللهم اني اعوذ بك من عذاب القبر

হে আল্লাহ  আমি তোমার নিকট , কবরের শাস্তি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি । তুমি আমাকে কবরের আজাব থেকে মুক্তি দাও। 

প্রিয় শ্রোতা! 

 পৃথিবীর বুকে এমন কিছু সংখ্যক লোক  রয়েছে যারা কবরের আজাব কে অস্বীকার করে।  তাদের মতে এর প্রমাণ পবিত্র আল-কুরআনে নেই । এটি একটি মিথ্যা অভিযোগ । কবরে আজাব হয় , তার স্পষ্ট প্রমাণ পবিত্র আল-কোরআন এর মধ্যে রয়েছে। পবিত্র আল-কোরআন থেকে প্রমাণিত , আল্লাহ রাব্বুল আলামিন অত্যাচারী শাসক ফেরাউন ও তার সৈন্যবাহিনী  সম্পর্কে বলেন: 

النار يعرضون عليها غدوا وعشيا ويوم تقوم الساعة ادخلوا ال فرعون اشد العذاب

( الغافر : 46 ) 

অর্থাৎ ফেরাউন ও তার সৈন্য বাহিনীর প্রতি সকাল ও সন্ধ্যা শাস্তি রূপে জাহান্নামের আগুন পেশ করা হয়,  আর প্রলয়েরদিন তাদেরকে এর  চেয়ে ভয়াবহ আযাবের নিক্ষেপ করা হবে । 

অবশেষে আল্লাহর কাছে দোয়া,  হে আল্লাহ তুমি আমাদেরকে কবরের শাস্তি থেকে মুক্তি প্রদান কর ।  আমিন

وصلى الله على خير خلقه محمد واله وصحبه اجمعين والسلام عليكم ورحمة الله وبركاته


Comments

Popular posts from this blog

ভারত বর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে শেরশাহবাদি সম্প্রদায়ের অবদান। আব্দুর রাকিব নাদভী

শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ্বনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভূমিকা।

বাংলা ভাষায় ইসলামী সংস্কৃতির প্রভাব।