প্রাপ্ত বয়স (সাবালক) হলেই দাম্পত্য জীবনে আবদ্ধ হওয়া অপরিহার্য।

  



প্রাপ্ত বয়স হলেই দাম্পত্য জীবনে আবদ্ধ হওয়া অপরিহার্য। 

ছেলে হোক বা মেয়ে প্রাপ্ত বয়স ( সাবালক ) হয়ে গেলে তাড়াতাড়ি তাদেরকে দাম্পত্য জীবনে আবদ্ধ করা পিতা-মাতা ও অভিভাবকদের কর্তব্য ও দায়িত্ব। অভিভাবক যদি নিজ দায়িত্বে অনিহা বা অবহেলা করে, আর তাদের সন্তান যেনায় ( অশ্লীল কাজে) লিপ্ত হয়, তবে অভিভাবক পাপে অংশীদার হবে।

দুঃখজনক বিষয় বর্তমান দাজ্জালি সমাজ ও সভ্যতায় এই দায়িত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না । আজকের সমাজ বলে :  আগে প্রতিষ্ঠিত হও, তারপর বিয়ে করো। এটি হলো পশ্চিমা সভ্যতা ও দাজ্জালি ধারণা ।  ইসলাম কোন দিন এই ধারণা ও সভ্যতা কে সাপোর্ট করে না।

এই দাজ্জালি সমাজ আমাদের কে ভালকিছু দিতে চায়না, বরং আমাদের কে পাপের সাগরে ডুবাতে চায়। 

এইভাবে শেষ হয়ে যাচ্ছে আমাদের চরিত্র ও জীবনের পবিত্রতা । এই দাজ্জালি সংস্কৃতি, সভ্যতা ও ধারণার কারণে আমরা যুবক সমাজ নিজের যৌবনকে পবিত্র রাখতে ব্যার্থ।

কারণ !, যৌবন হচ্ছে এক ধরণের ক্ষুদা।ক্ষুদা লাগলে যেমন খাবারের দরকার হয়। ঠিক তেমন যৌবনের ক্ষুদা লাগলে বউ দরকার। আল্লাহ বলেন :

وَأَنكِحُوا الْأَيَامَى مِنكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَائِكُمْ إِن يَكُونُوا فُقَرَاء يُغْنِهِمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ

তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিবাহ সম্পাদন করে দাও এবং তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ন, তাদেরও বিবাহিত জীবনে আবদ্ধ কর। তারা যদি নিঃস্ব বা দরিদ্র হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে সচ্ছল করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।

                                      (সুরা নুর আয়াত নং ৩২)

অর্থাৎ তোমারা বিয়ে করো, প্রতিষ্ঠিত করার দায়িত্ব আমার। তোমরা অভাবে আছো ,আমি আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তোমাদের অভাব দূর করে দেব।

রাসুল (সা.) বলেছেন: 

 ثَلَاثَةٌ حَقٌّ عَلَى اللَّهِ عَوْنُه: المُجَاهِدُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، وَالمُكَاتَبُ الَّذِي يُرِيدُ الأَدَاءَ، وَالنَّاكِحُ الَّذِي يُرِيدُ العَفَافَ  

তিন ব্যক্তিকে সাহায্য করা আল্লাহ তায়ালা নিজের উপর ফরজ করেছেন।

১। আল্লাহর পথে জিহাদকারী ব্যক্তি। 

২। চুক্তিবদ্ধ গোলাম, চুক্তি অনুযায়ী যে তার মনিবকে  

অর্থ দিয়ে তার দাসত্ব থেকে মুক্ত হতে চায় । 

৩। ঐ ব্যক্তি যে সতী ও পবিত্র থাকার উদ্দেশ্যে বিয়ে করতে চায়।

(সুনানে তিরমিজি-১৬৫৫, সুনান নাসায়ি-৩২১৮, ৩১২০, সহিহ ইবনে হিব্বান-৪০৩০ )

খাবার না পেলে যেমন ক্ষুদার যন্ত্রনায় মানুষ হারাম খাদ্য ভক্ষণ করে ফেলে। ঠিক তেমনি বউ না থাকলে মানুষ যৌবনের ক্ষুদার তাড়নায় পর নারীর সাথে যিনায়  লিপ্ত হয়ে পরে।

তাই আমাদের দায়িত্ব বিয়েকে সহজ করা, এবং শরীয়তের বিধান অনুযায়ী একাধিক ( চার পর্যন্ত ) মহিলাকে বিয়ে করা। দেখবেন সমাজ থেকে জেনা,  ব্যাবিচার ও অশ্লীলতা উঠে যাবে।

দাম্পত্য জীবনে আবদ্ধ হওয়ার উপকারিতা নিম্নরূপ:-

১। বিয়ে করলে লজ্জা স্থানের হেফাজত হয়। 

২। বিবাহ চক্ষু নিচু করে। 

৩।  তাড়াতাড়ি ধনি হওয়া যায়।

৪।  ইমান পরিপূর্ণ হয়। 

৫।যৌবনের ক্ষুদা নিবারণ হয়।

৬। । মানসিক তৃপ্তি পাওয়া যায়।এমন তৃপ্তি যেটা শুধু নিজের বউয়ের কাছে পাবেন, যেনা করে তা পাওয়া যায় না । 

৭। দাম্পত্য জীবনে আবদ্ধ হওয়া , এক ধরনের এবাদত, ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের বড় মাধ্যম। ইত্যাদি। 


Comments

Popular posts from this blog

ভারত বর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে শেরশাহবাদি সম্প্রদায়ের অবদান। আব্দুর রাকিব নাদভী

শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ্বনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভূমিকা।

বাংলা ভাষায় ইসলামী সংস্কৃতির প্রভাব।